<

আপনার পাতায় লিখুন

          রোমন্থনে কষ্ট বাড়ে

                       

                 

                ‘‘  পুরানো সেই দিনের কথা
                    ভুলবি কিরে হায়
                    ও সেই চোখের দেখা
                    প্রাণের কথা সে কি ভোলা যায়..”

 

খুব ছোটো বেলার কথা মনে পড়ে, তখন জীবন অনেক সহজ ছিল , সবকিছু ছিল , সবাই ছিল , হাসি ছিল, আনন্দ ছিল ।
''দাঁড়ায়ে-দাঁড়ায়ে সব দেখেছি যে,-মনে হয় যেন সেই দিন!''

  • এখন জীবন অনেক কঠিন , অনেক জটিল , সবকিছু কেমন জানি নিস্প্রাণ , আমিও আনন্দ জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখন সাদা-কালো ।
    তবুও সময় গড়ায় , সকালটা শেষ হয় , প্রতিদিন , একইভাবে । আমি বুঝি সময় চলে যাচ্ছে , কিন্তু কিছু করার নেই আর , এখন আর কিছু গড়ার নেই নতুন করে ,মনের মতো করে ভাবারও নেই ।

 পুরানো দিনের কথা মনে হলেই নিজের অজান্তেই স্মৃতিরা উঁকি দেয় মনের অলিতে গলিতে,

মনটা হারিয়ে যায় সেই সোনালী অতীতে। ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে মন, হারিয়ে যাওয়ার বেদনায় । ইট কাঠ পাথরে ঠাসা এই শহর ছেঁড়ে  মনটা চলে যায় সেই চির চেনা গ্রামীন সম্রাজ্যে, আর আমি নস্টালজিক হয়ে যাই। ছবির মত সুন্দর বলতে যা বোঝায় ঠিক সে রকম সবুজ বনানী ঘেরা শষ্য শ্যামলা একটি গ্রামে আমার কেটেছে ছেলেবেলাটা 

                     বাবা মা ভাই বোনদের নিয়ে  সুখে দুঃখে মিলে মিশে থাকা এ এক ভালো লাগার যার পর নাই সুখানুভূতি । গাঁয়ের ধুলো মাটি মেখে বড় হয়ে ওঠা গ্রাম্য সংস্কৃতির সকল উপভোগ্য  আচার অনুষ্টানে ছোট্ট ছোট্ট ছেলে মেয়েদের সাথে একত্রিত হয়ে মন উজাড় করা হৈ চৈ এর মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠা মন প্রাণ আজ স্মৃতির রোমন্থনে চনমন করে ।  সেই সব  বন্ধুরা আজ আর ধারে কাছে নেই । যার যার কাজে নিজেরা আত্মকেন্দ্রীক হয়ে অনেকেই সংসারে নিমগ্ন চলতে চলতে কারো কারো সাথে কখনো বা দেখা হয় , সামান্য কুশল বিনিময় ছাড়া স্মৃতি নিয়ে তেমন নাড়াছাড়া হয় না ।

কেনো বয়স  বাড়লে ছোট্টো বেলার বন্ধুরা হারিয়ে যায় ? কেন হারিয়ে যায় সব, বেড়ে যায় ভীড় , হারানোর তালিকায় ? কিছু কিছু শুন্যতা, কখনো পূরণ হয় না.....কিছু চাওয়া পাওয়া , সব সময় অপূর্ণই থেকে যায়.....আর কিছু অনাকাঙ্খিত স্বপ্ন, নীরবে ফেলে হতাশার দীর্ঘশ্বাস...হায় জীবন,হায় সংসার! 

গোটা গ্রামের  মাঝখান দিয়ে বহে গেছে একটি ছড়া , এখন দেখতে অনেকটা নদীর মতোতার দুই তীরে গ্রাম্য জনপদ । বলতে গেলে সবাই কৃষক । গ্রামের  নাম মাছলী ছড়া ছড়া নামক নদীটা সর্পিল গতিতে এঁকেবেঁকে গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে। জোৎস্না রাতে নদীর জলে যখন চাঁদের আলো পড়ত, অদ্ভুত মায়াময় এক পরিবেশ তৈরি হত। কৈশোরের সেই স্মৃতি আমার মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, আজও তাই শহুরে জোৎস্না দেখলেই  মনটা চলে যায় সেই স্মৃতি বিজড়িত নদীর পাড়ে। 

ভরা বরষায় চারিদিক বন্যার জলে  থৈ থৈ করত। ফসলি জমি সব তলিয়ে যেত, চারিদিকে 
শাপলা শালুকের মেলা বসতো। বন্ধুরা মিলে কলা গাছের ভেলা বানিয়ে চলে যেতাম দূরে, বহু দূরে। কত যে জোঁকের কামড় খেয়েছি তাঁর হিসেব নেই । আহা! কি চমৎকার দিন ছিল সে সব ! দুরন্ত, বাঁধন হারা। 
ঘরের চালে ঝুম ঝুম বৃষ্টির শব্দ অপূর্ব সুরের মূর্ছনা তুলত। এইসব ছোট ছোট স্মৃতিগুলো মনের কোণে হানা দেয় যখন তখন। আমাদের পূবের টীলায় গগনচুম্বী একটা কদম গাছ ছিলো ।গাছটায় কি সুন্দর হলুদ ফুল ফুটত ! থোকা থোকা !  কদম গাছটির নীচে ভৈরব তলী । তার সাথেই একটি শেওড়া গাছ সেখানে রূপসী পূজা হতো ।  মানত করে মা ভৈরবকেও পূজো দিতেন । এখন তেমন একটা পূজো টুজো হয় না ।


বৃষ্টিতে ভেজা ছিল দৈনন্দিন ব্যাপার, ঘরের চালে টুপ টাপ আম পড়লেই হল, দে 
ছুট ! এক ছূটে আমতলায়, ভাই বোনদের সাথে কাড়াকাড়ি করে কখনো ভাগাভাগি করে 
খাওয়ার আনন্দটা আজও মনে ভাসে।  প্রচুর কাঁঠাল গাছ ছিল বাগানে ।  বিভিন্ন নামের বিভিন্ন জাতের ।  তখন কাঠাঁল প্রিয় ছিলাম । আমার এক ভাই ( অনিল)  কাঠাঁল গাছে বসে বসেই কাঠাঁল খেতো । স্কুল ছুটির পর দল বেধেঁ চুরি করে লুকলুকি ঠেকুরই খেতাম , কত না শিহরন কত না মজা হত , বুঝানোর ভাষা নেই ।  রাত হলে ব্যাঙ ডাকা কিংবা ঝিঁঝিঁ পোকার 
একটানা শব্দ মনে অপূর্ব সুরের আবেশ জাগাত- এসব এখন কেবলি অতীত। মনে মনে ভাবি ইস! যদি আবার ফিরে পেতাম মনের মধ্যে সযত্নে লালিত সোনা ঝড়া দিনগুলি আমার ! রবি ঠাকুরের গান তাই তো আজ জীবনের এক অবিচ্ছ্যেদ্য অংশ, কখন যে নিজের মনে গেয়ে উঠি - দিন গুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না, সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি...

শীতের সকালে কুয়াশায় ঢাকা গ্রামটাকে অচেনা লাগতো। শিশির মাখা দূর্বা ঘাসের 
উপর দিয়ে খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার আমেজটাই ছিল অন্যরকম! ঝোপের পাশে ফুটে 
থাকত থোকা থোকা লজ্জাবতী ফুল, একটু ছুঁয়ে দিলেই নব বধূর মত লজ্জায় নিজেকে 
গুটিয়ে নিত। রাস্তার পাশে ফুটে থাকা নানা রকম ঘাস ফুল কিংবা স্বর্ণলতা - এর
সবই এখনো আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে। শীতের সময় আখের রস ছিল অন্যতম 
আকর্ষণ। নদীর পাড়ে আমাদের আখ ক্ষেত । নদীতে স্নানের আগে একটার পর একটা আখ ক্ষেতে বসে বসেই ভেঙ্গে ভেঙ্গে খেতাম। আখের রসের পায়েসের  স্বাদ কতকাল পাইনা ! 



চামকাঠাঁল গাছে ঝুলন্ত বাবুই পাখির বাসার নিখুঁত শিল্পায়ন আমাকে বিমোহিত করে 
রাখতো। কতদিন আম গাছের ডাল থেকে পাখির ছানা পেড়ে আনতে গিয়ে বাবার বকুনি 
খেয়েছি ! একদিন তো পাখির কামড় খেয়ে হাতের অনেকটা কেটেই গেল, সেই স্মৃতি 
চিহ্নে যখনি হাত বুলাই অন্য রকম অনুভূতি হয়। এ রকম কত স্মৃতি আসে মনে ! 
বাড়ীর নীচে ছড়ার পারে  শিমুলের গাছ দেখে মনে হত যেন আগুন লেগেছ। 
টকটকে লাল ফুলে ফুলে ছেয়ে যেত সারা গাছ। 

পৌষ পার্বনে নদীর চরে পিকনিক ছিল আমাদের প্রতি বছরের বিনোদন।  এ সবই এখন শুধুই অতীত। আজ ক্ষণে ক্ষণে মন চলে যায় নদীর সেই ধু ধু বালু চরে, যেখানে ছিল সাদা সাদা বকের ঝাঁক আর বালি হাঁসদের নিত্য আনাগোনা। 

গাঁয়ে বৈশাখ আসতো নতুন বারতা নিয়ে, চৈতী  মেলা তথা চড়ক মেলার নানা আয়োজনে মত্ত থাকত গ্রামের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা । দূর দূরান্ত থেকে দোকানীরা আসতো রকমারি খাবারের
পসরা নিয়ে, শিশু কিশোরদের জন্য খেলনা আর থাকত আকর্ষণীয় সব খেলা আরও কত কি ! 

আমাদের বাড়ির অদূরে বহু বছরের পুরনো বিশাল ভুবি গাছটা আজ আর নেই, ওই গাছটাকে ঘিরে  কত স্মৃতি ! গাছতলাটাই ছিল আমাদের হেড কোয়ার্টার, যতসবদুষ্টুমির প্ল্যান হত ওইখানেই। কি গাছ ছিল না সেখানে! আম, জামডেউয়া, আমড়া, পেয়ারা, সফেদা,ভুবি,লুকলুকি ইত্যাদি আরও কত কি ! লুকিয়ে গাছে উঠে লুকলুকি খেতে গিয়ে কতদিন যে ‘ঝাড়ুর মার’ তাড়া খেয়েছি , তার ইয়ত্তা নেই ! 

সারাদিন শেষে সন্ধ্যা নামে। বাঁশ বনে পাখ-পাখালীর যেন হাট বসে, নানা রকম  পাখীদের কিঁচির মিঁচির শব্দে কান ঝালা পালা হয়ে যেত। বয়স্করা বিরক্ত হলেও আমি যেন এই ক্ষণটির অপেক্ষায় থাকতাম। আঁধার নামলে জোনাকিরা ভিড় জমাতোতাদের মিটি মিটি আলোয় নিঃস্তব্দ আঁধারে প্রানের সঞ্চার হত। ভেসে আসতো শেফালী ফুলের মাতাল করা গন্ধ। 


সময় বদলের সাথে প্রকৃতি তার রং বদলায়, বদলাতে চায় তার কিছু রীতিনীতি কিন্তু অমোঘ বিধানের নিয়মে বাঁধা পড়ে সে।  নিষ্ঠুর সময় অবাধ্য প্রকৃতির অনেক কিছুই পাল্টাতে পারেনি। গতিময় স্রোত আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাবে ঠিকই কিন্তু এই গতিময়তা তার ব্যাখ্যা সেখানে নেয়। এইরকম অনুভূতিহীন গতিময় কিছু অস্থিরতা সবসময় আমাকে যন্ত্রনা দেয় ,মনটাকে পোড়ায়। নিজে থেকে পুড়ে তো আর খাঁটি হওয়া যায়না , তা কেবল খাঁটি হলেই বোঝা যায়, ‘আমি অনেক পুড়েছি’।

সেই মাছলী আর আর মাছলীতে নেই । যা যা ছিলো তার অনেক কিছুই আজ আর নেই । যা যা ছিলো না  আজ প্রায় সবই হাতের নাগালে । সময়ের আবর্তনে প্রয়োজনের আকাঙ্ক্ষায় পরিবেশ পরিস্তিতি জীবন মান সবই উন্নততর । তাই অতীতকেও যেমন ধরে রাখা যায় না আবার  বর্তমানকেও ঠেলে দেওয়া যায় না । ভাবি আর ভাবি , কেন ছিটকে গেলাম স্বপ্নে ঘেরা আমার প্রিয় গ্রাম থেকে । আমি নিজেই বা তার জন্য কতটুকু দায়ী ! যে মাটি প্রথম স্পর্শ করেছিলাম , যে জলে প্রথম আবাহন করেছিলাম , আলো বাতাস পেয়ে পুলকিত হয়ছিলাম , যেখানে আমার প্রথম প্রেম ভালবাসা , সেখানে আজ আর আমি নেই , সবই বিস্মৃতি । ভাবি আর ভাবি । এভাবে কান্না হচ্ছে  আমার তপ্ত শ্বাসের শেষ পর্যায়ের সান্ত্বনা।

ঝড় তো আর কম গেলো না এই  সীমাবদ্ব জীবনে । পঠন পাঠনের সামান্য স্কুল জীবন শেষ করে ,আর্থিক অনটনের মধ্যেই নেমে পড়লাম খোলা রাজনীতির ময়দানে। সে সামান্য কটা দিন মাত্র । পরিবারে তখন আমরা ভাই বোন মা বাবা মিলে ৯ জন। সামান্য ক্ষেত কৃষি , বাবা আর ছোট ভাইয়ের কায়িক শ্রম আর আমার সামান্য ক’টা টিউশনির টাকা,মাঝে মধ্যে চড়া সুদে ধার ,এই চলতে থাকে সংসার। তদানীন্তন পাকিস্থান থেকে ছিন্নমূল উদ্বাস্তু হয়ে আসা কপর্দকহীন বাবা মা আমাদেরকে সীমাহীন পরিশ্রম করে অফুরন্ত আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্য দিয়ে বড় করে তুলে ছিলেন । যোগ্যতায় তো আর সব সময় কাজ পাওয়া যায় না । আমার তেমন যোগ্যতাও ছিলো না । তবুও রাজনীতির বদান্যতায় ১৯৭৯ সালের ১৮ ই মে ত্রিপুরা সরকারের তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হিসাবে  পঞ্চায়েত দপ্তরে পেয়ে গেলাম নিয়োগ পত্র । একটু সাশ্রয়  মিললো বটে , ঠানা পোড়েন মিটলো না । তিন বৎসর যেতে না যেতেই আমি ঘোরতর অসুস্থ হলাম , বাবা গতর খেটে খেটে গত হলেন । শুরু হল আমার সংসারে তীব্র জীবন সংগ্রাম। পাশাপাশি কর্মচারী আন্দোলনেও ।

 

বাবার অবর্তমানে সংসারের যাবতীয় নৈতিক গুরুদায়ীত্ব গুলি নিলাম নিজের হাতে । একে একে সব সম্পন্ন  করে আজ যেখানে এসে দাঁড়িয়েছি  , তাতে মনে হয় , পৃথিবীতে এমন কোনো কাজ নেই যা করলে জীবন ব্যর্থ হয়। জীবন এতই বড় ব্যাপার যে একে ব্যর্থ করা খুবই কঠিন.....দুঃখ কষ্ট সংসারে থাকেই । দুঃখ কষ্ট নিয়েই বাঁচতে হয় । মাঝখানে সব কিছুর মধ্যে আনন্দ বিনোদনেরও তো মোটেই কৃপণতা থাকে না বলে মনে । জীবনে পেয়েছি খুবই কম, কিন্তু দিয়েছি বা দিতে চেয়েছি অনেক ।  জানিনা কেন আমাকে কেউ বুঝতে চায়নি । আমি কি এতটাই জটিল!!! –

আজ এই ব্যস্ত সময়ের সামান্য অবসরে কিংবা কোন বর্ষণ মুখর সন্ধ্যায় মনটা 
হারিয়ে যায় সুদূর অতীতে। মন পবনের নাওয়ে রঙ্গিন পাল তূলে দেই, ভাবনাগুলো 
ডানা মেলে নীল আকাশে । চেনা মাটির গন্ধ মনকে ব্যাকুল করে দেয়, মন চায় এখুনি
ছুটে যাই সেই ছেলেবেলায়। গাছে গাছে হরেক রকম পাখির কিঁচির মিঁচির অথবা 
ছড়ার  জলে হাঁসদের জলকেলি আমার চিন্তা চেতনাকে এলোমেলো করে দেয়। আকাশে 
রঙ্গিন ঘুড়ি, প্রজাপতি, ঘাস ফড়িঙের উড়া উড়ি -সব, সব মনে পড়ে। ঝিঁঝিঁ 
পোকাদের একটানা সুরের মুর্ছনা কিংবা টুপ করে ডোবার  জলে ডুব দিয়ে মাছ তূলে
নেওয়া মাছরাঙ্গাটা হাতছানি নেয়। আরও হাতছানি দেয় উদাসী দুপুর, রাঙ্গা 
গোধূলি কিংবা বিষণ্ণ বিকেলে অবিরাম রিমঝিম বৃষ্টির শব্দ। অবচেতন মন তাই গুন
গুন করে গেয়ে ওঠে ...

                     ‘‘ উঠোনটা আজ পুকুর যেন
                      মনে পড়ে শীল কুড়োনো
                      পা ডুবিয়ে হাটুজলে
                      খুঁজি সেদিন নতুন করে...”

 

কোথায় যেন শুনেছিলাম, মন খারাপ হলে কষ্টের গান শুনতে হয়। গানের কষ্টে, মনের কষ্টে কাটাকাটি হয়ে যায়।

 

 

 

 

মন ভালো নেই। মন ভালো নেই। কেন যেন মন ভালো নেই। মন ভালো হচ্ছে না। দিন গুলো সব ক্লান্ত আর বিষন্ন। রাত গুলো হয়ে উঠছে স্বপ্ন হীন। চেষ্টা করছি মন ভালো করার, হচ্ছে না । কোথায় যেন কি একটা থাকার কথা ছিলো, নেই। নিজেকে কেমন যেন আশ্রয় হীন, অসহায় একজন মানুষ মনে হচ্ছে। পুরো পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন। অথচ মন খারাপ করে থাকতে ভালো লাগে না আমার। কক্ষনো না।

                                 “ নদী মরে যায় শুকোলেই
                                   এমন তো কোনো কথা নেই
                                   আবার শ্রাবণ এসে ভরে দিয়ে যায়
                                   তৃষিত নদীর বুক
                                   আলো নেভে দিন ফুরোলেই
                                   এমন তো কোনো কথা নেই
                                   জোনাকি প্রদীপ হয়ে জ্বেলে দিয়ে যায়
                                   তিমির রাতের মুখ ।’’
 ‘বছর শেষ হলেও দোকানীরা তাদের সব হিসাব মেলাতে পারে না কাঙ্ক্ষিত অনেক কিছুই বাকী রাখতে হয়, তবু কি তারা শুভ হালখাতা উদযাপন করে না’?
‘যেখানে আশার সাগরে সব ঢেউই নিরাশার,আবার ঢেউগুলোর বসবাস আশার বুকে’।সময়ের সাথে সাথে জীবনের ঝামেলা গুলো আরো বেশি করে খুঁজে নেবে । নিস্তার নেই একদমই। তাই আমাকেই খুঁজে নিতে হবে আনন্দ গুলোকে।

                     “ ঝড়ের হাওয়ার শেষে ক্ষীণ বাতাসের মতো বয়ে,
                      আগুন জ্বলিয়া গেলে অঙ্গারের মতো তবু জ্বলে, ব
                      আমাদের এ জীবন! — জীবনের বিহ্বলতা সয়ে
                      আমাদের দিন চলে — আমাদের রাত্রি তবু চলে;
                      তার ছিঁড়ে গেছে — তবু তাহারে বীণার মতো করে
                      বাজাই, যে প্রেম চলিয়া গেছে তারই হাত ধরে! ’’

   এখন দুপুর , একটু পর বিকেল হবে , তারপর সন্ধ্যা নামবে , রাত আসবে।      

          আজ আমার মন ভালো নেই । বসছে না মন কিছুতেই ।
                            =============

Email me when people comment –

You need to be a member of আমাদের বাংলা to add comments!

Join আমাদের বাংলা

তুলসী মালা

 আজ অবসর গ্রহণ করলাম ।   সরকারি বাসস্থান ছেড়ে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই রেলওয়ে ষ্টেশনে বিকেল বেলা বসে কলকাতাগামী মেলের অপেক্ষায় । ভাবছিলাম- নিজের শহরে ফিরে যাচ্ছি, দীর্ঘ দিন নিজের বাড়ি ঘর ছেড়ে চাকরি সূত্রে বাইরে বাইরে কাটালাম, পরকে আপন করলাম আর…

Read more…
Comments: 0
চুপ করো -কেন মিছে এত কথা কও?কাছে এসো -আরো আরো কাছেভালোবাসো আরোআরো আরো কর গো আদর ।শুষ্ক মরুভূমিতে বইয়ে দাওতুমি নির্ঝর ,তৃষিত এ প্রাণে ফেরউঠুক লহর ॥আনন্দে পাল তুলে ভাসাও তরণী ।নিশীথ রজনী থাকো সাথ সাথ ,রাখো হাতে হাত ,চলো যাই ভেসে যাইদূরে আরো…
Read more…
Comments: 0

"বাসনা "

"বাসনা"- - - - - - - - - - - - - - - - - - -পীযূষ কান্তি দাস- -:- - - - - - - - -- - - - - - - - -নাও রে আমায় আল্লা-রসুল তোমার সন্নিকটে ,আর কতকাল বইসা রইবো দুঃখনদীর তটে ?"আইসি" বইল্যা সেই যে বন্ধু গেল আমায় ফেলে ,দিন গেল মাস বছর গেল তাঁর না দেখা মেলে…
Read more…
Comments: 0

"অভিমান"

"অভিমান "- - - - - - - - - - - -পীযূষ কান্তি দাস- - - - - -- -:- - - - - - - - - - - -তোমার ভালোবাসাহীন বাড়িয়ে দেওয়া হাতআর ছুঁতে ইচ্ছে করে না আজকাল ।অভ্যেসবশে অনেক কিছুই করি ,যেমন সকালে উঠি ব্রাশ করি -দাড়ি সেভ করি প্রত্যহ স্নানের আগেকিন্তু ঔষধ খেতে…
Read more…
Comments: 0

তেল মারা

পেঁয়াজের দাম বাড়ে বাড়ুক
তেলের যেন না বাড়ে
দ্রব্যমূল্যের এই উর্দ্ধগতি
সুখী ঘরের শান্তি কাড়ে।

লবণ মরিচ চাল ডাল সব
দামে যদি হয় খুব চড়া
তাতে কি আর যায় আসে
মানুষ খাবে কচুর বড়া।

যা কিছুর দাম বাড়ে…

Read more…
Comments: 0

ভয়

      

 

 

অনেক কথা ছড়ায় ছড়ায়

বলিতে পারিনা খুলে

কিজানি মারে, পুলিশ ধরে

মামলার খড়গ ঝুলে ।

 

মোল্লার কথা বলিব কিছু

কিন্তু ধর্মে ভয়

দেবতার বলি ঠাকুরের কাজে

তবু পুরোহিত রয়…

Read more…
Comments: 0

মা’কে হারিয়েছি বছর সাতেক আগে
স্বদেশ ছেড়ে আসার বছরতো চলে গেলো
মা-ও নাই, দেশও নাই, একাকী আমি;
উত্তাপ আর বিদ্রোহ বিপ্লব ছাড়া যেন
অসহায় মনে হয় চারিদিক-চতুঃপাশ।

শহরের রাস্তা মুখরিত করা শ্লোগান
অন্যায়ের বিরুদ্ধে…

Read more…
Comments: 0

এও তো প্রেম

আমি মানুষটা আসলেই একটু হিসেবী। নাঃ, এই হিসেবীর অর্থ কীপ্টা নয়। কৃপণ হবো কেন ? আমার কীসের অভাব ? আসলে আমার হিসাব মিলাতে হয় অন্যখানে। আমার যেকোন কৃতকর্মে আমি একেবারেই ব্যর্থ হতে চাইনা। হইও না। এটা আমার ধাতে নেই। কুষ্ঠিতে নেই। যা করি, যে টুকু করি…

Read more…
Comments: 1

মন্তব্য

Avijit Roy liked Avijit Roy's blog post চিহ্ন
Monday
Avijit Roy liked Avijit Roy's blog post তুলসী মালা
Apr 14
Sarwar-E Alam updated their profile photo
Feb 13
পীযূষ কান্তি দাস commented on Moynur Rahman Babul's blog post এও তো প্রেম
"সুন্দর গল্প ।
ভালো লাগলো ।"
Jan 17
পীযূষ কান্তি দাস commented on বকুল দেব's blog post সে তুমি , আমার বাবা
"বাবা তুমি জ্বেলেছিলে
সত্যের আগুন এই মনে ,
তোমার আলোয় ভাসছি আমি
প্রতিদিন আর প্রতিক্ষণে ।
এই ভাবে পারি যেন
থাকতে অবিচল ,
প্রনাম জেনো লক্ষ -কোটি
আশীর্বাদে পাই বল ॥"
Jan 17
পীযূষ কান্তি দাস liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "অভিমান"
Jan 16
Moynur Rahman Babul liked Moynur Rahman Babul's blog post এও তো প্রেম
Jan 15
পীযূষ কান্তি দাস commented on ইকবাল হোসেন বাল্মীকি's blog post ক্ষুদে গল্পঃ-১, কিছু সত্যকাণ্ড শুনে লঙ্কাকাণ্ড করিবার ইচ্ছা হয় - ইউ এন ও সমাচারঃ
"বা বা ভালা লাগল"
Jan 15
GAUTAM NATH updated their profile photo
Dec 8, 2017
এস ইসলাম updated their profile photo
Nov 17, 2017
sayeem Mohammad shoab shared their blog post on Facebook
Oct 9, 2017
sayeem Mohammad shoab updated their profile photo
Oct 9, 2017
Moynur Rahman Babul commented on Asad Mannan's blog post যদি কোনিদন নির্বাচন হয়
"''কেননা একদা একটি স্বপ্নের জন্য আমরা দু'জন
একই শয্যায় একই ঘুমে সারারাত ঘুমিয়েছিলাম
এবং সে ছিল আমাদের প্রথম ও শেষ স্বপ্ন...'' 
একটি সাম্যের পৃথিবী, ভালোবাসার পৃথিবী, সুখ শান্তি ও আনন্দময় পৃথিবীর স্বপ্ন। আমরা আনাদিকাল পর্যন্ত সে সপ্নই দেখে যাব। একটা ন…"
Aug 4, 2017
Asad Mannan commented on Asad Mannan's blog post যদি কোনিদন নির্বাচন হয়
"ধন্যবাদ"
Aug 3, 2017
Asad Mannan commented on Asad Mannan's blog post যদি কোনিদন নির্বাচন হয়
"ধন্যবাদ"
Aug 3, 2017
Asad Mannan commented on Asad Mannan's blog post যদি কোনিদন নির্বাচন হয়
"ধন্যবাদ"
Aug 3, 2017
Moynur Rahman Babul commented on Asad Mannan's blog post খোলা চিঠি
"আপনার খোলা চিঠি আর ভাবনা আমাদেরকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে। না কবি, আপনি লিখবেন আমাদের বাংলায় প্রাণ সঞ্চার করবেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কিছুদিন আমাদের বাংলা সচল ছিলোনা কিছু অনিবার্য কারনে। এজন্য আমরা দুঃখিত, ক্ষমা প্রার্থীও। সাময়িক অসুবিধা হয়েছে বৈকি। আসুন…"
Jul 28, 2017
Moynur Rahman Babul commented on Moynur Rahman Babul's blog post তোমাকেই
"আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
এরকম লেখালেখি আর পড়া ও মতামতের মাধ্যমে আবার আমাদের বাংলা সচল সতেজ হয়ে উঠবে। "
Jul 28, 2017
কৌশিক commented on KHALID's blog post পৃথিবী চেনেনি একেবারে
"ভাল লাগলো। কবিতায় ত্যাগই হচ্ছে বড় কথা। নিজকে উৎসর্গ করে দিন। শুভেচ্ছা।"
Jul 27, 2017
কৌশিক commented on Asad Mannan's blog post খোলা চিঠি
"কবি আপনার অভিমানের সাথে আমারও কিঞ্চিত যোগ করে দিলে খারাপ হবেনা। তবে ফেইসবুক পেয়ে আর লাইক কমেন্ট পেয়ে হুজুগে কবিরা বেশ ভালই আছেন, অথচ সেদিনতো দুরেনা, বড় মাপের কবিরাও কবিতার চেয়ে দীর্ঘ চিঠি লিখে সম্পাদককে খুশি করতে ব্যস্ত থাকতেন আহা.. যদি কবিতাখানি…"
Jul 27, 2017
More…