<

Moynur Rahman Babul's Posts (109)

তেল মারা

পেঁয়াজের দাম বাড়ে বাড়ুক
তেলের যেন না বাড়ে
দ্রব্যমূল্যের এই উর্দ্ধগতি
সুখী ঘরের শান্তি কাড়ে।

লবণ মরিচ চাল ডাল সব
দামে যদি হয় খুব চড়া
তাতে কি আর যায় আসে
মানুষ খাবে কচুর বড়া।

যা কিছুর দাম বাড়ে বাড়ুক
মরবে নাহয় সর্বহারা
তেলের দাম বেড়ে গেলেই
কঠিন হবে তেলমারা।

পিচ্ছিল এ কাজ বন্ধ হলে
কেমনে চলবে দেশ ?
নেতার পাছায় তেল না দিলে
সবই তো হবে শেষ।

চলবে মোদের দেশটি ভালো
ভাত মাছ সব ছাড়া
আটকে যাবে সবকিছুই
যদি না হয় তেলমারা।
***

Read more…

ভয়

      

 

 

অনেক কথা ছড়ায় ছড়ায়

বলিতে পারিনা খুলে

কিজানি মারে, পুলিশ ধরে

মামলার খড়গ ঝুলে ।

 

মোল্লার কথা বলিব কিছু

কিন্তু ধর্মে ভয়

দেবতার বলি ঠাকুরের কাজে

তবু পুরোহিত রয় ।

 

নেতার খেলাপ যদি বলা হয়

আমার ছড়ায় কিছু

হয়তো নেবে তার হুকুমে

চেলাচামুণ্ডা পিছু ।

 

পুলিশের কথা বলিব কি আর

বৃটিশ আমল থেকে

নালিশ ছাড়াই পরওয়ানা ঝুলে

আইন যায় বেঁকে ।

 

ব্যবসায়ী আজ ধান্ধাবাজ

প্রকাশ্য মজুদদার

বঞ্চিত সব, পায় কিছু লোক

সুফল স্বাধীনতার ।

 

মুখে পিঠা দেয়া, বলতে মানা

আমার ভীষণ ভয়

নির্ঘাত একদিন সবহারাদের

হবেইতো জয় ।

         *** 

Read more…

মা’কে হারিয়েছি বছর সাতেক আগে
স্বদেশ ছেড়ে আসার বছরতো চলে গেলো
মা-ও নাই, দেশও নাই, একাকী আমি;
উত্তাপ আর বিদ্রোহ বিপ্লব ছাড়া যেন
অসহায় মনে হয় চারিদিক-চতুঃপাশ।

শহরের রাস্তা মুখরিত করা শ্লোগান
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে
নিত্যদিনের কর্মসূচি পথসভা, বৈঠক
জনগণ-জনতাকে সারিতে সারিতে সাজানো
স্থগিত সকল তৎপরতা, বছরতো হলো।

দেরি করে বাড়ি ফেরা হলে শাসন হতো কঠোর।
পুত্রধনের ঘরে ফেরার প্রতীক্ষায় থেকে যে মা
অনিদ্রায় কাটাতো সারারাত পায়চারী করে,
চোখের জলতো আাঁচলে মুছে দেয়না সে মা
বেহায়া ডানপিঠে বৃদ্ধ ছেলের শ্মশ্রƒমন্ডিত গালে
খায়না চুমুর পরে চুমু, সে তো সাত বছর।

বন্যা-প্লাবনে ভেসে যাওয়া গ্রাম-গ্রামান্তর
খরায় ফেটে যাওয়া মৌসুমী ফসলের প্রশস্ত মাঠ,
মামুলী কৃষিঋণে জর্জরিত কৃষকশ্রেণী
অথচ কোটি টাকা মওকুপ হয়ে যায় তোষামোদীর।
তেলা মাথায় তেল পড়া নীতি আজও
স্বাধীন গণতন্ত্রের (?) দেশে বন্ধ হলোনা।

নীতিহীন আইন প্রয়োগকারী খাকি পোষাকধারী
ধর্মহীন লেবাসে ‘গলাকাটা-রগকাটা’
অন্যায়কে পুষে ন্যায়কে কঠোর হস্তে দমন
রাজার পরে রাজা আর রাণীর পরে রাণী আসে
মুক্তিতো আসেনা মা অসহায় জনগণের।

অথচ এখানেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয় অনেক,
অনেক মরে যায় বসনিয়ার মতো অনাহারে।
ন্যুনতম মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত যে ভূখন্ডে
আমিতো সেই দ্বীপের পলাতক নাগরিক
স্বেচ্ছায় বাস্তুত্যাগী বছরকাল ধরে
যন্ত্রণা অনেক, ভয়ও অনেক, তবুওতো
স্বদেশ আমার মা আমার।
***

Read more…

এও তো প্রেম

আমি মানুষটা আসলেই একটু হিসেবী। নাঃ, এই হিসেবীর অর্থ কীপ্টা নয়। কৃপণ হবো কেন ? আমার কীসের অভাব ? আসলে আমার হিসাব মিলাতে হয় অন্যখানে। আমার যেকোন কৃতকর্মে আমি একেবারেই ব্যর্থ হতে চাইনা। হইও না। এটা আমার ধাতে নেই। কুষ্ঠিতে নেই। যা করি, যে টুকু করি অর্থাৎ যে কাজটি করি, তা ভেবে চিন্তেই করি। আর আমার দ্বারা কৃত কাজ কোনটাই শতভাগতো নয়ই ফিফটি ফিফটি ব্যর্থতাও আমি মেনে নিতে পারিনা। হয়ওনা। অতএব জীবনে আমি একজন সফল মানুষ। আর এটাকেই আমি আখ্যায়িত করি আমি একজন হিসেবী মানুষ হিসাবে।

আপাদমস্তক সফল একজন মানুষ মানেই সব কাজে সফল। অতএব প্রেমেতো অবশ্যই। বয়সকালে সর্বমোট কতটি প্রেম করেছি, কতো মেয়ের সাথে যোগ পরিচয় হয়েছে তা বলতে গেলে সময় দীর্ঘ লাগবে। মুখ্যগুলোই অনেক বেশী। আমার সাথে যে আড্ডা দিলো, পামতলায় গিয়ে বসলো, বাদাম চানাচুর খেলো, রেস্তোরায় চাইনিজ কিংবা পিৎজ্জা খেলো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা নাটক থিয়েটারের দর্শক কাতারে প্রথম সারিতে আমার পাশে বসলো। ভরাট কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি কিংবা দরাজ গলায় গান গেয়ে আমাকে সময় সময় উদ্দীপীত করলো। সুন্দর সুন্দর পর্যটন স্থানগুলোতে বেড়াতে গেলো। এমনকি দাবী আদায়ের আন্দোলনে আমার সাথে মিছিলে মিছিলে, শ্লোগানে শ্লোগানে রাজপথ কাঁপালো। স্বৈরাচারের কারাগারে আমি যখন রাজবন্দী। তখন প্রতিনিয়তই কারাগারে আমার জন্য খাবার বা ফল-মুল নিয়ে গেলো। বিপ্লবী কবিতা কিংবা মার্কস লেনিনের জীবনী বই পৌঁছে দিলো। আমার অসুস্থতার খবর শুনে রাত-বিরাতে, আমাকে দেখতে গেলো, সেবা-শশ্রুষা করলো। এহেন সবগুলো বিষয়েই আমার সাথে যৌথ থাকলো। অবশেষে যদি একদিন কোন বিপনী বিতানে হঠাৎ তাকে অন্য কোন পুরুষের সাথে হাটতে দেখি। অথবা তার বা তার বান্ধবী কিংবা ননদ জা কারো না কারো সাথে সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে মার্কেটে সপিং করতে দেখি। অথবা আমার সাথে ঘুরলো বেড়ালো, অনেকদিন ধরে মন দেয়া নেয়া হলো। আমার গাড়িতে কিংবা সাইকেল বা মোটর সাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়ালো, সে যদি একদিন নিজে এসে অথবা ডাকযোগে আমাকে তার বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র পাঠায়। আমি কখনো বিচলিত হইনা। নার্ভাস ফীল করিনা কিংবা ব্যর্থতার গ্লানী মনে করে বিমর্ষও হইনা। আমি তার বিয়ের তারিখ ক্ষণ স্থান আমার ডায়রীতে লিখে রাখি অথবা কার্ডখানা টেবিলের উপরে চোখের ধারেকাছে রাখি। নির্দিষ্ট দিনে ঠিকই সেখানে নিমন্ত্রণ খেতে যাই। খাই দাই স্ফূর্তি করি। চোখে পড়ার মতো করে উপহারও দিয়ে আসি। হয়তো কখনো কখনো সে সব কোন বিয়ের আসরেই অন্য কারো সাথে দেখা হয়, পরিচয় হয়। নতুন যোগাযোগও শুরু হয়। আমি ব্যর্থ মনে করিনা। এটা ব্যর্থতা নয়। কারণ আমি গোড়া প্রেমিক বা প্রেমের ক্ষেত্রে মৌলধারণায় আটকে থাকার মানুষ নয়। প্রেম বা ভালোবাসার সম্পর্ক হলে তাকেই বিয়ে করতে হবে। সে ই সারা জীবন লেপ্টে থাকতে হবে আমার সাথে বা আমি তার সাথে। এমনতো কোন কথা নয়। অন্য কারো জন্য সে হারাম হয়ে যাবে, এ তো অনেক আদি চিন্তা চেতনা বা ভাবনা। অন্য কারো সাথে তার বিয়ে হয়ে গেলেই সে হারিয়ে গেলো, তাকে আমি হারিয়ে ফেলেছি। আমি ব্যর্থ, ইত্যাদি এমন কথা আমি ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবতে পারিনা। আমার সাথে কোন সম্পর্কই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি। চিরতরে আমি আমার কোন ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে ফেলিনি। তিন চার সন্তানের জননী হয়েও আমার খোঁজ খবর নেয়। আমিও। ভালোবাসা তো কর্পূর নয় যে, তা বাতাসে মিলিয়ে যাবে।

বয়স এবং সময়ের সাথে সব কিছুই সমভাবে চলে। কিশোর বয়সে পাঠশালা, খেলাধূলা। ক্রমে তা বিদ্যালয় উচ্চবিদ্যালয় মহাবিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যেমন ধাপে ধাপে গড়ায়। তেমনি প্রেম ভালোবাসা বিয়ে সংসার সন্তান সব কিছুই সময়ের ¯ স্রোতের সাথে তাল মিলিয়েই প্রবাহিত হয়। 

বয়স এবং নিজের অবস্থান যখন খুব পাকা-পোক্ত, দৃঢ়। ঠিক তখনই পারিবারিক ভাবে শুরু হলো পীড়পিীড়ি। বয়সও হয়েছে। একেবারে উপযুক্ত। অবশ্য আমার কোন পরিচয় জানাজানি অথবা সম্পর্ক থেকে থাকলে তা জানালে সেখানেই অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে অভিবাবক পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলো। কিন্তু আমার কাছে এ ব্যাপারেতো ভালো কোন তথ্য ছিলোনা, কী দেব ? যদিও তখনো হাতে কয়েকজনই অবশিষ্ট ছিলো। লক্ষী বিমলা পরিমা কিংবা জয়া। আর কালো নয় ঠিক, একটু রঙ ময়লা বলা যেতে পারে, অনেকটা যেন শ্যামলা; সেই মেয়েটার কথা। না থাক। তার নাম বলছিনা। নাঃ। অন্য কোন কারনে বা লুকোবার জন্য নয়। ওর আসলে নাম কয়েকটা। সব ক’টি নামেই আমি ডাকতাম। তাদের বাসায় প্রায় রোজই যেতাম। খেতাম। কখনো থাকতামও। তার মা বাবা অবশ্য ভিন্ন নামে না ডেকে তাকে তারা তাদের নির্বাচিত অবশ্য ভিন্ন দু’টো নামে ডাকতেন। আমি যখন শেষ-মেষ তাকেই বিয়ে করবো বলে স্থীর করলাম। তখন একজন হিসেবী মানুষ হিসাবে তাকে একটু বাঝিয়ে বা ঝালিয়ে নিতে চাইলাম। আর এই হলো আমার কাল ! না ঠিক দূর্ভাগ্য গোছের তেমন কিছু নয়। তার সাথে আমার আর ঘর বাঁধা হলোনা, এই আরকি ! যখন মনোস্থীর করলাম অভিবাবক মহলে এই মেয়েটির কথা জানাবো যে তাকে তারা চাইলে আনতে পারেন। ঠিক তার আগে আমি নিজেই একদিন তাকে বিয়ের প্রস্থাব দিলাম। সেও মাথা নাড়া গোছের মৃদু সমর্থনও দিলো। যেন ভাবখানা এরকম যে, প্রথমেই তুমি যখন প্রস্থাব দিচ্ছ তাই আমি রাজি। আগ্রহ আমার প্রবল হলেও আগবাড়িয়ে তুমিই যখন নিচ্ছ তাই ভবিষ্যতে কখনো প্রয়োজনে বলতে পারবো ‘‘বিয়ের প্রস্থাবতো তুমিই করেছো’’। যদিও আমি তার মাথা দোলানোর ভঙ্গিতে মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা-বিশ্লেষনে তাই বুঝলাম। তবু পরেরদিন একটা কাগজে কতোগুলো বিষয়ের তালিকা লিখে তার হাতে দিলাম। সে যেন পড়ে বুঝে প্রয়োজনে আমার সাথে আলোচনা করে তার সিদ্ধান্তটা জানায়।

তালিকায় মূখ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিলো ঃ বিয়ের পর আমি হয়তো খুব ভালো ভাবে খাবার কাপড় গহনা বা সখ মেটানোর মতো তেমন কিচু দিতে পারবোনা। যেহেতু আমি একজন মধ্যবিত্ত্ব এবং নিতান্তই কম আয়ের মানুষ তাই বৈষয়িক ভাবে হয়তো খুব একটা লাভবান হওয়া যাবেনা। হয়তো কষ্টের জীবন চালাতে হতেও পারে, ইত্যাদি। আবার যা দিতে পারবো এবং খুব বেশী করে দেয়ার নিশ্চয়তা বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলাম তা হলোঃ প্রেম। ভালোবাসা আমি কানায় কানায় দিতে পারবো বলে নিশ্চয়তা দিয়েছিলাম। আর এটাই হলো আমার কাল। হীতে বিপরীত। দু’দিন গেলো। তিনদিন গেলো। সে আমাকে কিছু বলছেনা দেখে আমি নিজেই বিষয়টা উত্থাপন করলাম। তার মাথা দুলিয়ে ইতোপূর্বে দেয়া সমর্থন সম্মতি যেন আজ সে প্রত্যাহার করে নিলো। বললঃ এতো শর্ত দিয়ে আবার বিয়ে হয় নাকি !

প্রেম ভালোবাসার বিয়ে যেমন হচ্ছেনা। তেমনি আত্মীয় স্বজনের খোঁজ করা অথবা ঘটকদের নিয়েআসা প্রস্থাবগুলোতে যখন বিয়ে হচ্ছেনা, Ñসন্মন্ধ করা যাচ্ছেনা। এমন সময় আমার বন্ধু রণজিৎ একটা মেয়ের খবর নিয়ে এলো। সুন্দরী, অর্থ বিত্ত্ব, উচ্চ বংশ, ভদ্র শিক্ষত পরিবার অর্থাৎ মেয়ের পক্ষে তার বর্ণনা শুনে আমি ততক্ষণে ইহজগতে আছি না বেহেস্তে আছি তা বুঝার জন্য নিজের গায়ে কতেক চিমটি কেঁটে দেখি। নাঃ, আমিতো বেঁচেই আছি, জেগেই আছি এবং ইহজগতে বহাল তবিয়তেই আছি। আর যা হোক রণজিৎ তার প্রস্থাবিত মেয়েটির সুন্দরের যে বর্ণনা দিলো তাতে আশে পাশে ভগবান থাকলে মনে হয় লজ্জাই পেতেন। বেহেস্তে হুরপরী নিশ্চয়ই এর থেকে সুন্দরী নয়। অথচ এই হুর সম্পর্কে বলে এতোকাল মানুষকে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। আসলে রণজিৎও গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে বেড়াচ্ছে। আমার যে কালো বা রঙময়লা মেয়েই পছন্দ তা সে আমার বন্ধু হয়ে এতো দিনেও বুঝতে পারেনি।

এখন এসব ক্ষেত্রে অবশ্য আমার বউ খুবই চৌকস। আমার নাড়ি নক্ষত্র সবই তার নখদর্পনে। তার জানা হয়েগেছে সবকিছুই। আজকাল প্রায়ই আমাকে কথা প্রসঙ্গে বলে থাকেনঃ তুমিতো আমাকে বিয়ে করে খুবই ঠকেছ। তোমার জন্য আমার দুঃখ হয়। এতো বাছাবাছি করলে, কিন্তু ভাগ্যে তোমার ঝুটলোনা রূপালী ইলিশ ! তোমার এতো শক্ত জাল ফুঁটো করে সব ভালো-রসালোগুলো তো বেরিয়ে গেলো ! এতোগুলো মেয়ে হাতে পেয়েও...

যৌবনে যারা যারা বন্ধু ছিলো। ভালোবাসার নিখুঁত সুন্দর ঘরে আমার সাথে ছিলো। এখন এ বয়সেও যারা যারা এখনো বেঁচে আছেন তারা আমার সাথে সম্পর্ক রাখেন, যোগাযোগ রাখেন। কোনায় ফুল তোলা নামলেখা রুমালে এখনো আমাকে জড়িয়ে ধরেন। খোঁজ নেন। আমার কীর্তি নিয়ে মাতেন, আলোচনা করেন। এমনকি আমার স্ত্রী সন্তানের খোঁজ খবর পর্যন্ত রাখেন। আমিও পারত পক্ষে তাই করি। আমার সেই ভালোবাসার চাদর দিয়ে জড়িয়ে রাখি...

ভালো যোগাযোগ হয় সে মেয়েটির সাথেও। তারও নিজের অগ্রসরমান জীবন এবং ঘর সংসার সুখের বাগান নিয়ে সে ব্যস্ত দিনকাল পার করে। তবু আমার খোঁজ খবর প্রায় প্রতি নিয়তই নেয়। আমারও তাই। কৃপণ হবো কেন ? আমিও করি। কোন হিসাব মিলাইনা। আগ-পীছ করিনা। প্রাণ খুলেই সব করি। খবরাখবর নেই, ভালোবাসি।

দুজনে দুই শহরে থাকি। দূরে দূরে। জীবনের তাগিদে। একদিন তার শহরে একটা কাজে যখন গেলাম। এমনি কাকতালীয়ভাবে আমাকে ফোন দিলো। কথা হলো। জানতে চাইলো বরাবরের মতো আমার সব খবরাখবর এবং কুশলাদি। এক সময় কথা প্রসঙ্গে আমি যখন তার শহরে এসেছি তা জানালাম, সে যেন লাফিয়ে উঠলো। মনেকরি তার অনেক দিনের না ফোটা কলি পাপড়ি মেলতে শুরু করলো। সে কেমন যেন অস্থীর হয়ে উঠলো। আমি কোথায় উঠেছি, কবে এসেছি, এখন কোথায় আছি ইত্যাদি প্রশ্নের পর প্রশ্ন। আমি শহরের নামকরা একটা ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরে তখন কিছু কেনাকাটা করছিলাম। বলে দিলাম সে স্থানটির কথা। ঘটনাচক্রে অনেকটা কাকতালীয়ভাবেই সে এর কাছাকাছি একটা টেইলারিং দোকানে বা কাপড়ের দোকানে কেনাকাটা করছিলো। জানতে চাইলো আমি কতক্ষণ আছি সেখানে। এইতো, যতক্ষণ কেনাকাটা করতে সময় লাগে টাইপের জবাব দিলাম। ভালোমন্দ আরো দু’চারটে কথা শেষে উভয়েই ফোন রাখলাম।

এর কিছু সময় পরেই আবার আমার মুটোফোন বেজে উঠলো।
-কই ? আপনি এখন কোথায়?
-আমিতো বাসায়।
-আপনি মিথ্যা বলেছেন কেন ?
-নাঃ। মিথ্যা নয়।
-আপনি এতো তাড়াতাড়ি দোকান থেকে চলে গেলেন ?
-হ্যাঁ, কিছু ক্রয় করতে গিয়েছিলাম। তা করেইতো ফিরলাম। তোমার সাথে তখনতো কথাও হলো।
-হ্যাঁ বাবা হ্যাঁ। এজন্যইতো আমি তাড়াহুড়ো করে ঐ দোকানে আসলাম আপনাকে দেখবো বলে। অনেকদিন দেখিনি আপনাকে।

অনেকদিন আগের সেই স্মৃতি আমার তখন মনে উঁকি দিলো। তাকে আমি বিয়ের প্রস্থাবের সময় যে শর্তের ফর্দ লিখে দিয়েছিলাম। তাতে প্রচুর প্রেম এবং বুকভরা শতভাগ ভালোবাসা দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়া থকলেও ঠিকমতো খানি-কাপড় দেবার প্রতিশ্রুতি ছিলোনা। তাই আগ্রহ থাকা সত্বেও সে আমার সাথে এমন দূরুহ কঠিন পথ চলতে অপারগতা দেখিয়ে ছিলো। সতর্ক হরিণীর মতো আজও সে সেরকম আছে বলেই আমার কাছে মনে হলো। এমূহুর্তে তার কাছাকাছি আমার অবস্থান বা উপস্থিতি। এজন্য সে আমাকে অন্ততঃ একনজর দেখতে চায়...

দেখতে চেয়েছিলো ঠিকই। কিন্তু সামনা সামনি হয়ে নয়। ঐ দোকানের কথা শোনে তার বাইরে থেকে অথবা নির্দিষ্ট কোন দূরত্ব থেকে শুধু একতরফা নিজেই দেখতে চাইছিলো আমাকে। এতো বছর পর দেখতে কেমন আছি, কীরকম আছি ? সেরকম উৎসুক্য থেকে। আসলে এও তো এক ধরণের প্রেম।
***

Read more…

অভিসার

পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকে
লক্ষি আর বিমলা
রনজিৎ তার বিপরীতে
একদম একেলা।

রোজদিন যেতে আসতে
চোখাচোখি হয়
ভদ্রতায় খাতির করে
হ্যায় হ্যালো কয়।

লোডশেডিং প্রতিদিন
হয় দুই ফ্ল্যাটে
সেসময় বিমলারা
বারান্দায় হাটে।

খোলা চুলে হাটাহাটি
রনজিৎ দেখে
বের হয় চাদর গায়ে
খুসবো মেখে।

খুসবোতে মাতোয়ারা
হয় চারিদিক
রনজিৎ আজ যেন
চাঁদের ঝিলিক।

খুসবোতে চুল দোলে
লক্ষি আর বিমলার
চাঁদের আলোতে হয়
তাদের অভিসার।
***

Read more…

চড়া দামে ছড়া

কলম ঘষে সুকুমার
লিখে যান ছড়া
মাসুল তাকে দিতে হয়
বড় বেশী চড়া।

ছড়ায় লিখা ভাষাগুলো
লিখা হয় কড়া
পুলিশ র‌্যাব খোঁজে তারে
নিয়ে হাতকড়া।

তেল মারার নীতি নাই
লেখা সব ছড়া
সত্যকথায় ছন্দগুলো
চোখ ছানাবড়া।

কড়া ভাষা সুকুমারের
ছন্দঘর গড়া
লেখা জোখায় দিতে হয়
দাম তার চড়া।

চড়া দামের ছড়া লিখে
প্রচেষ্ঠা তাহার
ভুল পথের চলা এই
সমাজ ভাঙ্গার।

যত মাসুল দিতে হোক
লিখে দিতে ছড়া
লিখে যাবেই সুকুমার
যদি হয় পড়া।
***

Read more…

ধূলিময় গোধূলী

পঁচিশ বছর আগের স্মৃতি আজও মনে পড়ে-
প্রতিদিন গোধূলী বেলায় তুমি
ধূলিমাখা পথ ধরে
ধূলার বেষ্টনীতে ধোঁয়ারঙে মিশে
উত্তর মুলাইমের কাঁচাপথে হেঁটে যেতে...

আমার নানাবাড়ী উত্তরমুলাইম গ্রাম
জন্মে বাবার মুখ দেখবোনা বলে
গর্ভে নিয়েই মা চলে এসেছিলেন তার বাবার আলয়ে
জন্ম, তারপর শিশু কিশোরী এবং আরও পরে-
বয়স বাঁক নিলো ভরা শরীরে
চৈত্রের খা খা খরায়, ধূলি ওড়া বিকেলে
তোমার যাওয়ার পথ চেয়ে চেয়ে
আমার সূর্য ডুবতো কাউয়া দিঘির জলে।

বেনু আমার মামাতো ভাই,
থাকতো সাত সমুদ্র তেরনদীর ওপারে
সেবছর হেমন্তে বাড়ি এলো
নানা ধূমধামে আমার একটা গতি করলেন
তার ছেলের পো’র সাথে আমাকে
লালশাড়ী পেচিয়ে পরবাসে পাঠালেন...

আমার চলে আসার পথ ধরে তুমিও
আরেক শাড়ীর আঁচল ধরে চলে এলে
আমার পথচাওয়া গড়ালো-
ধূলিমাখা মনুর পাড় ঘেষা পথ থেকে
বরফগলা টেমসের শিতল জল ছুঁয়া পিচঢালা পথে
এখন বয়সকাল ঠেকেছে আধেক শতকে
চুলে পাঁক, দাঁতে ফাঁক, চিবুকে ভাঁজ
তবু সেই বুকে এখনও শুনি
ধূকপুক ধ্বনি, দীর্ঘশ্বাসের বিলাপ
সব নদী সাগরে মিশে, অবশেষে
আমার নদীতে কেন উজান স্রোত
আর পড়ে থাকে খরাময় চৈত্র মাসে ?

সূর্য উঠা ভোর, দুপুর যেমন কূয়াশায় ছিলো ঢাকা
তেমনি গোধূলীও ধূলিময় থেকে গেলো ঝাপসা, ফাঁকা।
***

Read more…

চিহ্ন

তোমার সাথে আমার হলোনা ঘর বাঁধা
বাঁশী বাজলো তবু হলামনা কৃষ্ণ রাধা
ভোর হলে দোর খোলে তুমি
দিলে দু’টি শশ্রুভরা গাল চুমি
হলোনা দুটো জীবনে সুখের সুর সাধা।

বন্ধু ভেবে টেনেছ তোমার উষ্ণ-কমল বুকে
জীবনসাথী না হয়েও থাকেছো সুখে-দুঃখে
সূর্যহীন রুদেলা দিনে চলা দু’জনের
চৈত্র খরায় ফাঁটে মাঠ দুই মনের
তারচেয়ে ঢের ভালো ছিলো ল্যাটা যদি যেতো চুকে।

জীবন সঙ্গী আর সরব আড্ডার বন্ধু তালিকা থেকে
ছুড়ে ফেলে দিলে, যেমন ছিলে, তেমনি রইলে বেঁকে
লক্ষীছাড়া আমার পোড়া কপাল
শক্তহাতে, এখনো ছাড়িনি হাল
রেখেছি গাঢ়রঙে তোমার চিহ্ন হৃদয়েতে এঁকে।

*** 

Read more…

চুপ

অন্ধ হয়েছি পুরোটা এখন
দেখিনা দুই চোখে
মুখেতে কূলুপ দিয়েছি এঁটে
কথা ফুটেনা মুখে।

লাটিম ঘুরে তারা-ই ঘুরান
ডাইনে কিংবা বাঁয়ে
চলতে গেলে বেড়ি পরান
আমার দু’টি পায়ে।

বধির এখন আস্ত আমি
কানে দিয়েছি তুলো
অন্ধ বধির বোবা যে সব
দেশের মানুষ গুলো।

গুম খুনটা নিত্য দিনের
ধর্ষন এখন ডালভাত
রায়টা লিখে বিচারপতি
হয়েছেন কুপোকাত।

আইন হয়েছে শক্ত বলে
আর হবেনা ক্যু
বিচার বিভাগ হলো এখন
জ্বী হুজুরের পো।

পুলিশ শুধু লাঠি ঘুরোয়
মশা নিধন কাজে
তাইতো কেবল চারদিকেতে
উন্নয়নের সানাই বাঝে।

নাক কান বন্ধ সবার
জ্বলবে শুধু ধূপ
লেখা দেখা বন্ধ করো
একদম চুপ।
***

Read more…

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু আহাদ আকন্দ। তিনবছর আগে নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদন্ধীতায়। জমির শেখকে ভয় ভীতি দেখিয়ে তার ছেলেকে নিজের সাঙ্গপাঙ্গ দিয়ে লুকিয়ে রেখে নির্বাচনে প্রতিদন্ধীতা থেকে বিরত রাখেন। মুন্সি করিম প্রাক্তন চেয়ারম্যান ছিলেন। তাকে ম্যানেজ করা হয়েছে বেশ মোটা অংকের একটা অর্থের মাধ্যমে দফারফা করে। আকন্দ বাহিনীর নানা অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন তরুন সমাজকর্মী বাদশা তালুকদার। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কর্মকর্তাগণকেও হাতকরার পদ্ধতি আবু আহাদ আকন্দ ভালোই জানেন বলে বিনা প্রতিদন্ধীতায় চেয়ারম্যান ঘোষিত হন খুব সহজ ভাবেই।

নিজের ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন প্রাচীনতম এবং ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী চেয়ারম্যান পুত্রের চোখের তীর এড়াতে পারেননা। বিদ্যালয়ে আসার পথে মোটরসাইকেলে পথ আগলে তাকে তুলে নিয়ে যান নিজের নায়েব বন্ধুর সাহায্যে। খবরটা রাষ্ট্র হয় সারা এলাকা জুড়ে। শুরু হয় মিছিল, প্রতিবাদ। আশপাশ সকল স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীগণ মিলে এর প্রতিকার চেয়ে শুরু করেন আন্দোলন। আন্দোলনের তীব্রতায় চেয়ারম্যানপুত্র ছাত্রীটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন অবশেষে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অত্র এলাকার একজন গণ্যমান্য ব্যাক্তি। এ অঞ্চলের সালিশ বিচারকও। তারই স্কুলের ছাত্রীকে অপমান করায় সালিশ বিচারের জন্য বৈঠক ডাকেন ছাত্রীর পিতার অনুরোধে। সাত গ্রামের মুরব্বীদের উপস্থিতি এবং এ অঞ্চলের স্কুল সমূহের শিক্ষক অভিবাবকগণের উপস্থিতিতে সালিশ বিচার হয়। বিচারে চেয়ারম্যান পুত্রের এই অপকর্মের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষনা করা হয়। সব কিছুতেই নেতৃত্ব দেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। এতে চেয়ারম্যান সাহেব সভাপতির উপর খুব নাখোশ হন। এরকম সরাসরি বিচারটা না করে ভিন্নভাবে কিছু একটা করে বিষয়টা অন্যখাতে প্রবাহিত করার জন্য চেয়ারম্যানের গোপন অনুরোধ উপেক্ষা করে সভাপতি যে কাজটি করলেন, তা চেয়ারম্যান কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেননা। কিন্তু আন্দোলনের তীব্রতা আর উত্থাল অবস্থায় কিছু করার বা বলার আশ্রয় না নিয়ে, নিজের খুব পেট ব্যাথার অযুহাত দেখিয়ে বৈঠকস্থল থেকে চলে গেলেন।

চেয়ারম্যানপুত্রকে জণসম্মূখে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হলো। বিচারকার্য শেষে সবাই যে যার চলে গেলেন। প্রতিবাদী জনতা সন্তুষ্ট চিত্ত্বে বাড়ি ফিরলেন।

কিন্তু বিপত্তি দেখা দিল সভাপতিকে নিয়ে। সভাস্থল ছেড়ে নিজের বাড়ি যাবার পথে কে বা কারা ক’জন মিলে সভাপতিকে পথ আটকিয়ে খাদে ফেলে তার পরনের পাজামা পাঞ্জাবি গেঞ্জী সবই খুলে নিয়ে গেল।

কোন উপায়ন্তর না দেখে সভাপতি একহাত সামনে পেটের নিচে, আরেক হাত পিছনের দিক ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা করতে করতে রাস্তার পাশের ঝুপ জঙ্গলের আড়ালে আড়ালে বাড়ি পৌঁছেই পুকুরে ঝাঁপ দিলেন। এতো পথ অতিক্রমে তার মুখে কোন শোরগোল শোনা গেলনা। রা ও বেরুলো না।

চেয়ারম্যানপুত্র বাড়ি পৌঁছে দেখলো, প্রিয় পিতা তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘরের বারান্দায় পায়চারি করছেন। ছেলেকে দেখেই বলে উঠেনঃ আয় বাবা, আয়। তোরে বাঁচাতে না পারলেও বিচারকের বিচার ঠিকই হয়েছে। তিনি ঠিক বিচারটিই পেয়েছেন।আয়রে বাবা, আমার বুকে আয়।
***

Read more…

মহান নেতা

 

মুজিব মানে মুক্ত আকাশ
শোষণের দিন শেষ 
স্বাধীন স্বদেশ মুক্ত বাতাস
আমার বাংলাদেশ।

মুজিব মানে তর্জনী উঁচানো 
বীর বাঙালি নেতা
শোষিত জাতির দুঃখ ঘুচানো 
বাঙালি জাতির পিতা।

টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম তাঁহার 
বিশ্ব নেতা এক
মুজিব মানে লক্ষ হাজার
সত্য ন্যায়ের বিবেক।

মুজিব মানে রক্তে রাঙানো 
লাল সবুজ পতাকা
হৃদ-আঙিনায় থাকে টাঙ্গানো 
দেশের ছবি আঁকা।

মুজিব বাঁচেন বুকে হেথা
দেশ জনতার
বজ্র-কণ্ঠের মহান নেতা
শোষিত সর্বহারার।

*** 

Read more…

১৫ই আগস্ট থেকে বনে আর
সিংহ রাজার গর্জন শুনিনা
সেদিন থেকে পাতায় পঞ্জিকার
সুখের দিবসগুলো গুনিনা।

নেকড়ের দল বেসামাল হয়
রাজার কেশরে দেয় হাত
নির্মম সেই বিশ্বাস ঘাতকতায়
রাজা দেন অভিসম্পাত।

ধূষর চাদরে ঢাকা পড়ে বন
শ্যামল রূপের হয় অবসান
তারাই বেশী ভোগে বিড়ম্বনায়
যে জাতি পিতারে দেয়না মান

বন্ধ হয়ে যায় প্রগতির চাকা
পথচলা হয়ে যায় রুদ্ধ
মিথ্যার পঙ্কিলে সত্য পড়ে ঢাকা
পতিতরা হয় ফের উদ্বুদ্ধ।

সেই থেকে আজোবধি এখানে
সুখের স্বপ্ন আর দেখিনা
বুকভরা কষ্ট-জ্বালা নিয়ে মনে
কাব্য-কথা আর লেখিনা।
***

Read more…

আমার ঠিকানা

বাঙলা টাউন ছেড়েই সুরমা টাউন সামনে রেখে

আরো সামনে এগুলেই একটু দূরে
ইস্টইন্ডিয়া ডকরোড ধরে
এগুতে হবে আরো সামনে...

পপলার একটি বৃক্ষের নাম হলেও
তার নামে নাম রাখা হয়েছে আমার এলাকার
মূল রাস্তা থেকে বাঁয়ে মোড় নিয়েই
সামনে যেতে হবে - আরো কিছু সামনে
তারপর গুনতে হবে বাঁয়ের পথ
ডানে রণির ঘর আর একটা মসজিদ ফেলেই
এক, দুই অবশেষে তৃতীয় বাঁয়ে মোড় নিয়ে
সামনে ভাঙ্গা গীর্জার ধ্বংসাবশেষ ..

কখনো ডানে নয়, সব মোড় বাঁয়ে
খুব সতর্কতার সাথে বাঁয়ে বাঁয়ে এগুলেই
পেয়ে যাবে আমার ঠিকানা
এক কোঠরিতে বসবাস
বাঁয়েই পরম শান্তি, আর
সেখানেই আমার আবাস
***

Read more…

প্রবল জীবন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে মানুষ শুরু থেকে শেষাবধি পায়ে পায়ে এগিয়ে যায়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষনই মানুষ একটা প্রচন্ড সংগ্রামের মধ্যদিয়ে সময় পারাপার করে। জীবনের এই নিরন্তর সংগ্রামের একত্রিত ফিরিস্তিই ইতিহাস। এককথায় কর্মী মানুষের ক্ষুদ্র বৃহৎ কর্মযজ্ঞের একত্রিত কাহিনী নিয়েই সৃষ্টিহয় ইতিহাস। জীবনের সকল কৃতকর্ম তসবিহদানার মতো একত্রিত গেঁথে গেঁথে তৈরী হয় জীবনের বাস্তবচিত্র Ñ ঘটনা সমষ্টির একত্রিত সন্নিবেশইতো ইতিহাস।

বাঙালি আর বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন, মুক্তি সংগ্রামের সুবিস্তৃত এমনি এক ইতিহাস রয়েছে। যার প্রধান পৃষ্ঠাগুলো জোড়ে রয়েছে এ জাতির জনক, বঙ্গবন্ধুর নাম। আর বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণের, তাঁর কর্মের বা জীবনীতিহাসের কথা বলতে গেলেই বীরদর্পে, আপন গৌরবে একটি নাম চলে আসে। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। যাঁর ডাকনাম ছিল রেণু। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণাদাত্রী, চালিকা শক্তি, উৎসাহদাত্রী, মুজিব পরিবারের যুধিষ্ঠীর এবং গন্তব্যের দিকে সর্বক্ষনিক নজর রাখা বেগম ফজিলাতুন্নেছা। শেখ মুজিবের সেই রেণু।

১৯৩০ সালের ৮ই আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেণু। বাবা শেখ জহুরুল হক। মা হোসনে আরা বেগম। জন্মের মাত্র তিন বছরের মাথায় বাবা মারা যান। তখন তার দাদা শেখ কাশেম তাকে নিজের ভাইয়ের ছেলে শেখ লুৎফুর রহমানের ছেলে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে বিবাহ রেজিষ্ট্রি করান। তখন তাঁদের উভযের বয়স ছিল যথাক্রমে তিন এবং তের (প্রায়)। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে রেণু মাতৃহারা হন। তারপর তার সাতবছর বয়সে দাদাকেও হারান। এরপর তিনি লালিত পালিত হন নিজের শাশুড়ি তথা শেখ মুজিবুর রহমানের মায়ের কাছে একই পরিবারে।

১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ মধুমতী বিধৌত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম গ্রহন করেন শেখ মুজিবুর রহমানও। তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফুর রহমান আর মা সাহেরা খাতুন। বলতে গেলে প্রায় একই পরিবার। উভয়ের দাদারা ছিলেন পরস্পর দুই ভাই। মধ্যে মাত্র দুই হাত ব্যবধানে পাশাপাশি ঘরেই রেণু এবং শেখ মুজিবুর রহমান-এর ঘর ছিল।

ছোটবেলা থেকেই মাতৃ¯েœহের পরশে নিজের শাশুড়ির কাছে থেকে একই পরিবারে অন্যান্য ভাইবোনদের সাথে বড় হয়ে উঠেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেণু। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহন করেন। তখনকার তাদের পারিবারিক নিয়ম অনুযায়ী একজন মেয়ে হিসাবে আর বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না নিলেও বাড়িতে মৌলবী ও গৃহশিক্ষকের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা আরবী এবং বাংলা অংক ইংরেজি শিক্ষা নেন। নির্ধারিত শিক্ষা গ্রহনের পাশাপাশি তিনি নিজের আগ্রহেই অনেক শিক্ষা ও জ্ঞান ভিত্তিক বই পুস্তক পড়তেন।

প্রখর স্মরণ শক্তি, বুদ্ধিমত্তার অধিকারি ছিলেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেণু। ধর্য্য, সাহস, শৃঙ্খলাবোধ এবং কর্মট ও প্রত্যয়ী রেণু, ক্রমশ: একজন আদর্শ মহিলা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ, দৃঢ়তার জন্য তিনি কঠিন প্রতিকুল পরিবেশেও সাহস নিয়েই সফলতার দিকে নিজেকে, পরিবারকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আর এটুকু করতে গিয়ে তিনি একজন মহান নেতার সহধর্মীনীর পাশাপাশি নেপথ্যের সহযোগী আর সাহসের যোগানদাতা হিসাবে কঠিনতম সময়েও প্রচন্ড দৃঢ়তার সাথে পথ অতিক্রম করেছেন এবং করতে সাহসও অনুপ্রেরণা যোগিয়েছেন বলেই সেই নেতা একটি জাতির কঠিনতম সময়গুলোতে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন। আর এসব কারনেই ইতিহাসে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একজন মহান নেতা বা রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মীনীই শুধু নন Ñ বাঙালীর মুক্তিসংগ্রাম এবং স্বাধীকার আদায়ের সংগ্রামের একজন অতি উল্লেখযোগ্য প্রেরণাদাত্রী, সহযোগী।

বাঙালির সুদীর্ঘ স্বাধীকার আন্দোলন, মুক্তির ডাক পৌঁছানো আর সংগঠন রাজনীতি নিয়ে নিজেকে এ জাতির জন্য নিবেদিত করে দিয়ে যে নেতা ইতিহাসে অমর। যার সারা জীবন নিবেদিত ছিল বাঙালা আর বাঙালির জন্য। রাজনীতির বৃহৎ পরিসরে যিনি নিজের কর্মনিষ্ঠা একগ্রতা দিয়ে শেখ মুজিব থেকে আস্তে আস্তে মহান নেতা, বঙ্গবন্ধু এবং জাতির পিতা হিসাবে বাঙালির হৃদয়ে স্থানলাভ করেন। সে নেতা যখন সমস্ত জাতির কথা চিন্তা করতেন তখন যিনি শক্ত হাতে তার পরিবারের হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ছাড়াও বিশেষ কঠিন মুহুর্তগুলোতে বঙ্গবন্ধুকে সাহস, প্রেরণা এবং নিজের জ্ঞানদীপ্ত বা প্রাজ্ঞ মতামত দিয়েও সহযোগীতা করতেন, তিনিই বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয় রেণু।

১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর বেগম ফজিলাতুন্নেছার কোলে জন্ম নেন তাঁদের প্রথম সন্তান শেখ হাসিনা। যদিও ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁর এক ছেলে সন্তান জন্ম নিয়ে মারাযান। শেখ হাসিনার জন্মের প্রায় দু’বছর পর ১৯৪৯ সালের ৫ই আগস্ট তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান শেখ কামাল এবং ১৯৫৪ সালের ২৮শে এপ্রিল তৃতীয় সন্তান শেখ জামাল জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৫৭ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর শেখ রেহানা এবং তাঁদের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেল জন্ম নেন ১৯৬৪ সালের ১৮ই অক্টোবর।

দেশ জাতি আর আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে যখন বঙ্গবন্ধু মহাব্যস্ত। তিনি যখন বার বার জেল জুলুম নির্যাতন মাথায় নিয়েও জাতির ভাগ্য নির্ধারনে কাজ করে যাচ্ছেন, ঠিক এমনি কঠিন সময়েও নিজের সংসার ছেলে মেয়েকে বড়করা এবং লেখাপড়াসহ সার্বিক দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে পালন করে গেছেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা। ১৯৬৭ সালের ১৭ই নভেম্বর তাঁর প্রথম মেয়ে শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী)-র বিবাহ, বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ড.ওয়াজেদ মিয়ার সাথে তারই তত্বাবধানে সুসম্পন্ন হয়।

শুধু নিজের পরিবার এবং সংসার নিয়েই নয়। এই দানশীল উদারহস্ত মহিয়সী মহিলা অন্য যেকোন গরীব অসহায়কে নানাভাবে সাহায্য সহযোগীতা করতেন। আওয়ামী লীগের যেকোন নেতা কর্মী বা সমর্থক জেলে থাকলে তাদের পরিবারকে দেখাশোনা বা যেকোন রকমের সাহায্য সহযোগীতা করা ছিল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের একটা প্রধান কাজের অন্যতম। নির্যাতীতা বা কন্যাদায়গ্রস্থদের আর্থিক বা অন্যান্য সাহায্য, রোগী বা অসহায়দের চিকিৎসা ও সাহায্য করা ছিল যেন তাঁর ধর্ম।

জেলে থকাকালিন শেখ মুজিবুর রহমানের মামলাগুলোর তদারকি এবং এগুলো চালানোর জন্য উকিল মোক্তার, কোর্ট কাছারি পর্যন্ত ব্যবস্থাদি তিনি নিজে করতেন। জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের স্বামী তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নানাভাবে তাঁর নিজের মতামত বা পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করতেন। বিশেষ করে আগরতলা মামলায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা নিজের দূরদর্শীতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি নেয়ার বিপক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ইতিহাসে এক অতি দূরদর্শী ও প্রশংসিত বিষয় হিসাবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।

পৈত্রিক সূত্রে বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেণু নিজে অনেক সম্পত্তির মালিক ছিলেন। ছোটবেলায় বা ছাত্রজীবনে কলকাতা থাকাকালিন অথবা এর পরবর্তীতেও স্বামী শেখ মুজিবুর রহমান যখন রাজনৈতিক কাজে বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়াতেন। তখন বাড়িতে নিজের পারিবারিক আয় থেকে অর্থ জমিয়ে তা স্বামীকে দিতেন। অনেকদিন পর পর যখন পারিবারের সকলের সাথে দেখা করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান বাড়িতে আসতেন। তখন আবার চলে যাওয়ার সময় স্বামীর বিদায়কালে নিজের জমানো টাকা কড়ি তাঁর হাতে তুলে দিতেন। স্বামীর বিদায়বেলা তথা বাইরে যাত্রাকালে কখনো কেঁদে কেঁদে ‘অমঙ্গল অশ্রুস্বজল’ হয়ে সামনে দাঁড়াতেন না।

উত্থাল উনসত্তর এবং বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের কঠিনতম সময় ১৯৭১ সালের যুদ্ধপূর্ব এবং পরবর্তী সময়ে বেগম ফজিলাতুন্নেছার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষন বিনির্মানে, ইয়াহইয়া ভূট্টো চক্রের সাথে বৈঠক এবং ঐ সময়ের দ্রুতপরিবর্তনশীল ঘটনা প্রবাহে তাঁর দৃঢ় সিদ্ধান্তসমূহ, প্রাজ্ঞ এবং দূর-দৃষ্ঠি সম্পন্ন ধ্যান ধারণা ও চিন্তা আর নেপথ্য দিক নির্দেশনা, সহযোগীতা ও পরামর্শ বঙ্গবন্ধুকে অনেক সফল ভূমিকা বা জ্ঞানগর্ব সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল। জাতির জনকের পাশে থেকে তখন তিনি তার দূরদর্শীতা দিয়ে, গভীর চিন্তা ও জ্ঞান দিয়ে শুধু সহযোগীতা আর সাহসই দিলেন তা নয়। তাঁর কর্মযজ্ঞ দক্ষতা আর ত্যাগদিয়ে বাঙালির স্বাধীকার আদায় এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিও বঙ্গমাতা হয়ে বেঁচে রইলেন।

ইতিহাসে সহমরনপ্রথা সম্ভবত: রাজা রামমোহন রায়ের আমলেই বাতিল হয়েছিল। তবু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বারে কুখ্যাত ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে যখন স্বপরিবারে নিহত হলেন জাতির জনক, তখন যেন স্বেচ্চায় সহমরনকেই বরণ করে নিলেন ইতিহাসের এই নেপথ্য মহিয়সী নারী, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেণু।
*** 

Read more…

ভেজা খাম

        

যখন আমার এ চিঠিখানা তুমি পাবে

হরহর করে ডাকহরকরা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে

পৌঁছে দেবে, ভেজা খামখানা তোমার হাতে।

প্রেমাতুর হাতে খুলবে তুমি, আলতো হাতে,  

যেন ছিঁড়ে না যায়, আমার দেয়া চিঠি খানি।

 

এখন ভরা বরষা, চারদিকে থৈ থৈ জল,

জলেতে ডুবেছে বসত বাড়ি, পথ ঘাট

হরিদের নলকূপ, গৌরীদের পাঠশালা

এটুকুন কবরের জায়গাও নাই বলে-  

জলে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে ওপাড়ার রমিজের লাশ।

 

অজোর ধারায় গড়ায় বৃষ্টি, পড়ে টাপুর টুপুর

এ যেন ঘাঢ় আঁধারে বাঁঝে কারো পায়ের নুপুর

সারা অঞ্চল, বানে ভাসা সব এলাকার নদী ও পুকুর

চারিদিকে হাহাকার, দিশেহারা মানুষ কাঁদিছে যন্ত্রণায়।

 

এ ভেজা খাম, ভিজেনি বৃষ্টিতে বরষার  

ভাদরের বরিষণের মতো আমার দু’চোখে   

অঝোর ধারায় নেমে আসা নোনাজল

ভিজিয়ে দিয়েছে খাম, এই চিঠি, এই লেখা।  

 

গলাডুবা জলে দুবেছে সব তাল নারিকেল

ঝড়ের ঝাপটায় আর বানের স্রোতে

সুপারি গাছের মাথায় ধর্ষিতার চুলের নমুনা

ফোটা ফুল কদমের হয়েছে সলিল সমাধি

নিষ্ঠুর স্রোতে ভেসে গেছে সব লালপদ্ম 

স্থলচর প্রাণীগুলো ভাসছে অথৈ জলে...

 

এমন বানতাড়িত হাহাকার সময়েও এ অঞ্চলে

নেতা আসে, ক্যামেরার ফ্ল্যাশগুলো বারবার হাসে

ভোরের পত্রিকার প্রথম পাতায় তাদের ডাউস রঙিনছবি

আর ভিক্ষা-বিতরনের খবর সযত্নে ছাপা হয়,

কিন্তু ছাপা হয়না কৈতরির জলে ডুবে লাশ হওয়ার

কিংবা অনাহারে আত্মহত্যা করা শিউলির খবর,

বানের আগে নদিভাঙ্গনে মথুর নাথের বাড়ী হারাবার

কিংবা আগাম অতিবৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া ফসলের কথা, 

বড়লোকের খবরের ভিড়ে বানভাসা পরী মৌরিদের খবর

আমার এ ভেজা খামখানা খুলে তুমি জেনে নিও...

                      *** 

Read more…


                         

মানুষ মরণশীল। ‘জন্মিলে মরিতে হইবে’ এ কথাটি চিরন্তন। খুবই সত্য এবং বাস্তব। এই মৃত্যু হয়তো ভিন্ন নিয়মে, ভিন্ন কারনে অথবা ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় হতে পারে। স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা জনিত কিংবা হত্যাজনিত মৃত্যু। মৃত্যু যেভাবেই হোক না কেন তা কারো কাম্য নয়। অভিপ্রেত নয় – প্রত্যাশিতও নয়। অথচ একমাত্র মৃত্যুই সবচেয়ে সত্য, বাস্তব, চিরন্তন। মৃত্যু হবেই, মৃত্যু অনিবার্য।

 

কিছু কিছু মৃত্যু আমরা বুঝতে পারি – যা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসাবে বিবেচিত। যেমন একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর অথবা বার্ধক্য জনিত কারনে মৃত্যু। কিন্তু দুর্ঘটনা জনিত কিংবা অকাল মৃত্যু আমাদেরকে খুব কষ্ট দেয়। মানসিক ভাবে অপ্রস্তুত এসব মৃত্যু আমাদেরে যেন তড়িতাহত করে।

 

এমনি এক দুর্ঘটনা ঘটে গত ১৪ই জুন ২০১৭ মধ্যরাতে। পশ্চিম লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে। ২৪তলা উঁচু এই ভবনে শতাধিক ফ্ল্যাট ছিল। টাওয়ারটিতে লোক বসতি ছিল প্রায় ছয় শতাধিক। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নীচ থেকে সর্বোচ্চ ফ্লোর পর্যন্ত পুড়ে ছাই হয়। দুর্ঘটনার সাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়ে থাকে পোড়া বিল্ডিং এর কালো রঙের কঙ্কাল। আর এ দুর্ঘটনায় জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শ’তের কাছাকাছি মানুষ। প্রাণপণ চেষ্টায় অনেকেই বেঁচে গেলেন ঠিকই। কিন্তু দেহে ও মনে আহতের চিহ্ন তারা হয়তো বয়ে বেড়াবেন বাকী জীবন। কেউ কেউ অলৌকিক ভাবে বেঁচে গেলেন। এরকম দুর্ঘটনায় এরকম আশ্চর্যজনক ভাবে, ভিন্ন ভিন্ন গল্পের জন্ম দিয়ে অনেকেই বাঁচে। আমরা যাকে বলি অলৌকিক ভাবে বাঁচা। দশতলা উঁচু থেকে মা তার ছোট্ট সন্তানকে ফেলে দেন নিচে। বেঁচে যায় সন্তানটি অলৌকিকভাবে। একই কক্ষে অবস্থানকারী স্বামী-স্ত্রী। অথচ স্বামী বেঁচেবর্তে চলে এসেছেন বাইরে – স্ত্রী মৃত্যুকে করেছেন বরণ। কেউ পোষা কুকুরকে নিয়ে আসতে পারেননি বলে নিজেও আসেননি। ফলে মৃত্যু। আবার কেউ প্রানের ভয়ে সিরিয়া থেকে এসেছিলো প্রাণ বাঁচাবার জন্যে। অথচ এই অগ্নিকাণ্ডে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেলেন।... সে তো অনেক কথা, অনেক ঘটনা, অনেক কাহিনী।

 

আমি বলছি কমরু মিয়া (৮২), রাবেয়া(৬০) দম্পতি এবং তাদের তিন সন্তান, হামিদ(২৯) হানিফ(২৬) আর হুসনা(২২) এর কথা। তারা থাকতেন এই বিল্ডিং এর ১৭তলায়। মধ্যরাতে আগুন লাগার পর তারা অনেক্ষন ধরে ফোনে কথা বলেছেন তাদের নিকট আত্মীয়দের সাথে। আগুনের লেলিহান শিখা নীচ থাকে উপরের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলো । তারা তাদের চোখের সামনে নিশ্চিত মৃত্যুকে দেখছিলেন। মৃত্যু ভয়াবহ জেনেও মানুষ কখন সে মৃত্যুকে বরণ করতে পারে ? নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও মানুষ কখনো কখনো মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে ! সে হয়তো দেশপ্রেমে উদ্ভোদ্ধ হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বা দেশের কাজে। কিন্তু কমরু মিয়ার তিন ছেলে মেয়ে মৃত্যুকে মেনে নিলেন অন্য আরেক ভাবে, অন্য এক কারনে। বাবা ৮২ বছর বয়সের। অসুস্থ। চলন ক্ষমতাহীন। মা ও বয়স্কা। ১৭তলার উপর থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামা তাদের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়। সন্তানরাও এ মুহূর্তে কোলে কাঁধে বয়ে নিয়ে নামানো অসম্ভব। এতো উঁচু। ছোট্ট সিঁড়ি। তার উপর আগুনের লেলিহান শিখা, ঘন কালো ধোঁয়া, ভয় ইত্যাদি এই অসম্ভবের প্রধান কারন। হামিদ হানিফ আর মেয়ে হুসনাকে হয়তো বাবা মা বার বার তাগিদ দিয়েছেন বেরিয়ে যেতে। মা বাবারা সাধারণত তা ই করেন। নিজের সন্তানের নিরাপত্তাটা আগে দেখেন, চিন্তা করেন। কিন্তু বাবা মা কে নিশ্চিৎ মৃত্যুর মুখোমুখি রেখে চলে যাবে এমন সন্তান তো তারা নয়। যদিও জগতের সচরাচর একটা নিয়ম হলো, সন্তানদেরই কম দয়ামায়া থাকে মা বাবার প্রতি। তুলনামুলক ভাবে মা বাবাই সন্তানদের জন্য সব কিছু করেন। প্রয়োজনে নিজের প্রাণ দিয়েও সন্তানের জীবন রক্ষা করেন। নিজের আঘাতে যতটুকু ব্যথিত হন, সন্তানের কষ্টে তার চেয়ে বেশী কুণ্ঠিত হন। নিজের গা কেটে গেলেও সন্তাকে কোলে কাঁধে বুকের পাঁজরে নিরাপদ রাখেন সকল মা বাবাই। অর্থাৎ তুলনা মূলক সন্তানরাই মা বাবাকে কম গুরুত্ব দেয়, যদিও এরও বহু ব্যতিক্রম রয়েছ।

 

এইতো মাত্র সপ্তাহ দুয়েক হলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সংবাদপত্র ইত্যাদিতে অনেকেরই হয়তো একটি বীভৎস সংবাদ চোখে পড়েছে। এক বাবা মৃত্যুবরণ করেছেন হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার শিল্পপতি এক ছেলেকে এ খবর জানিয়ে ফোন করেছেন। উত্তরে ছেলে বলেছেন, তিনি এখন প্রয়োজনীয় মিটিং এ ব্যস্ত আছেন। লাশ যেন আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কাছে দিয়ে দেয়া হয়। এই বাবার আরো দুই প্রতিষ্ঠিত ছেলে আছেন। তারাও বাবার মৃত্যু সংবাদে কবর দেয়া দাপন-কাপন করা দূরে থাক, লাশ দেখতেও আসেনি! যদিও এটাও এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

 

২৯শে জুলাই তারিখে কমরু মিয়ার মেয়ে হুসনার বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা ছিলো। সানাই বাজবে। বিয়ের হল রিজার্ভ করা হয়েছে। নিমন্ত্রনপত্র ছাপানো হয়েছে। দাওয়াত দেওয়াও শুরু হয়েছে। পান-চিনি, এঙ্গেজমেন্টও হয়েছে। কাপড় চোপড় গহনাপত্র কেনাকাটা হয়েছে, হচ্ছে। লন্ডনে এখন বছর ছয়মাস পূর্ব থেকেই বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বিয়ের লেহেঙ্গা অর্ডার দিলে তা বোম্বে থেকে তৈরি হয়ে আসে। গহনা আসে কলকাতা দিল্লি কিংবা মধপ্রাচ্য থেকে। অতএব হুসনার বেলায়ও হয়তো এর তেমন ব্যতিক্রম হয়নি। বিয়ের পরে অন্য কোন দেশে হানিমুনে না গিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে যাবে – মা বাবাসহ সপরিবারে। তাও নির্ধারিত ছিলো।

 

২৯ শে জুলাই হুসনার বিয়ের সানাই বাজবে। হাতে গায়ে মেহেদী হলুদের রঙ লাগবে তার আগেই। সামনে কতো স্বপ্ন। রচিত হবে কতো গল্প। বিয়ে মানেই নতুন কিছু। আনন্দ আহ্লাদ কৌতূহলে পরিপূর্ণ। আশার সাথে আশঙ্কারও যেন শেষ নাই। কিন্তু তার আর দরকার হলোনা। তার আর অপেক্ষা করতে হলোনা। তার মাসাধিক আগেই তা নিভে গেল। আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিলো টাওয়ারের লেলিহান আগুনের শিখা। গ্রেনফেল টাওয়ারের ১৪৪ নং ফ্ল্যাটে আজ সানাই বাঁজার কথা ছিলো। সানাইয়ের আনন্দঘন মাতালকরা মিষ্টি সুরে সারা টাওয়ারের প্রতিটি ফ্ল্যাটে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু গ্রেনফেল টাওয়ারের কালো ছাই রঙের কংকালের ফাঁকে ফাঁকে আজ যেন বিউগলের সুর বাজছে। বিউগলে বাজছে আজ বিয়ের সানাই। করুন এই সুরে আমরা বারবার ঝাপসা চোখে এক হুসনাকে দেখি – মা বাবার প্রিয় এক সন্তান হাতে মেহেদী, গায়ে হলুদ, চোখে রঙিন স্বপ্ন – সামনে নতুন এক পুরুষ মানুষ – নতুন এক জীবন। বেশ কিছু আশা... । অথচ বাবা মাকে নিশ্চিৎ মৃত্যুর জিম্মায় রেখে স্বার্থপরের মতো নিজে না বেঁচে মা বাবার সাথে সহমরণ বরণ করা এক নির্ভীক নির্লোভ সন্তান হুসনা আজ অপূর্ব সুন্দরী কন্যা আর বউ সাজে আমাদের প্লাবিত চোখের সামনে এসে দাঁড়ায়! বাজুক সানাইয়ে বিউগলের করুণ সুর। তবু এমন সন্তান নিয়ে আমরা গর্বিতই হই। যেন গর্ব নিয়েই বাঁচি...

                                        *** 

Read more…

তোমাকেই

তোমাকে বার বার কবিতায় তুলে আনি
অথবা উঠে আসো তুমি আমার কবিতায়।
মনের কুঠরীতে লুকিয়ে রাখি
তবু বেরিয়ে আসো বারবার।

তোমাকে লুকোতে আমার কবিতায়
উল্টো করে লিখি তোমার নাম
কবিতা প্রেমিক পাঠক, কেমন যেন
বুঝে নেয় আমার চালাকি Ñ
তারা ঠিক নামটি পড়ে নেয় গল্পে কবিতায়,
জীবন্ত তুমি কথা বলো অবিরাম
পাঠকও হাসে, মাতে, তোমার সাথে
যতই লুকোতে চাই, রাখতে চাই গহীন বুকে
ততই বেরিয়ে আসো তুমি
ততই প্রকাশ করি তোমাকে।
***

Read more…

ফিদেল

       

 জলপাই রং পোশাক তোমার 

স্যালুট তোলা হাত

দেখে দেখে লিখি আমার

জীবনের ধারাপাত।

 

গোঁফ শশ্রু তেজদীপ্ত

সৌম্য মূর্তি তোমার

পাথর ভেঙ্গে বারুদ জ্বালাও

বুকেতে সর্বহারার।

 

বিপ্লবেই মুক্তি আনে

মুক্তিতে সম্মান

তোমার স্মৃতি প্রেরণা যোগাবে

চেতনাতে অম্লান।

         *** 

Read more…

স্মৃতি

কতো আর মনে রাখি !

ষাট পেরুবার আছে মাস চারেক বাকী

এখন বসে বসে ঝিমুই, আর

তোমার চলে যাবার পথের পীঠে-

আলতারাঙা পদরেখাগুলোর দিকে চেয়ে থাকি।

বিরহী কোকিল কাঁন্দে শিমুলের ডালে

খরায় ভরা চৈত্র দিনে,  

কোকিল কাঁদে তোমায় কুহু নামে ডাকি

নোনাজল ভেজায় শুধু আমার দুটি আঁখি... 

Read more…

দেশটা এখন

চলছেরে হরিলুট
কে নেবে আগে আয়
ঠ্যাংগুলো ভেঙ্গে দেবে
যদি র‍্যাব বাগে পায়।

চর আর হল দখল
লাইসেন্স ব্যবসায়
গরীবের নাভিশ্বাস
ধনী আরো ধন চায়।

বর্তমান গনতন্ত্র
লাগেনা দেয়া ভোট
সূর্য্যালোকে দিন দুপুরে
ভোটগুলো হয় লুট।

চারদশক চলেগেল
আমার এই দেশটা
নাই সমতা গনতন্ত্র
সুখ-শান্তির লেশটা।
***

Read more…