<

Faruk Ahmed Roni's Posts (25)

কবিতার উচ্চারণের সাথে সাথে জাগতিক বিষয় ভুলে বসেছিলেন কবি ও কবিতাপ্রেমীরা। কবিতার শব্দে নির্মিত হচছিলো কাব্যকলার নান্দনিক...

Posted by Faruk Ahmed Roni on Tuesday, 2 June 2015
Read more…

গত ৯ ডিসেম্বর আমাদের বাংলা ব্লগার ফোরামের মাসিক আড্ডার শুরুতে আমাদের বাংলার বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে তার সাফল্য, সার্থকতা ও ব্যর্থতা নিয়ে আলোকপাত করা হয় । আলোচনার সারসংক্ষেপ বলতে সকলের একমত অবস্থান হচ্ছে অনুষ্ঠানটি যথার্থ সফল এবং গতানুগতিক ধারা থেকে ভিন্নতর একটি ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনা ছিলো।  বিশেষ করে পঞ্চকবির কবিতাও গান নিয়ে পর্বটি দর্শকদের বিমোহিত করেছে, যারজন্য প্রশংসা করা হয় পর্বটির গ্রন্থনা, সঞ্চালক ও সকল শিল্পীদের।  তাছাড়াও কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা, আপ্যায়ন, আহমদ হোসেন বাবলু রচিত গানের সিডি ও স্মারকগ্রন্থ নিয়েও আলোচনা হয় আরো প্রশংসা করা হয়  শিল্পী আবদুস সামাদের ষ্টেজের শিল্পময় কাজটি জন্য।

উক্ত আড্ডায় ঘোষণা দেয়া হয়, আগামী ১১ জানুয়ারি ২০১৫, রবিবার বিকল ৫ টায় অনুষ্ঠিত হবে আমাদের বাংলা ব্লগের কবিদের সংকলিত কবিতা নিয়ে একটি বিশেষ আবৃত্তি সন্ধ্যা । অবশ্যই কবিতাগুলো ব্লগ থেকে সংগ্রহ করা হবে এবং ব্লগের বাহিরের কোন কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানে পাঠযোগ্য বলে বিবেচিত হবেনা। তাই ব্লগের সকল কবিদের তাদের পছন্দের কবিতাটি ব্লগে পোষ্ট দিতে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের আহবায়ক কবি গোলাম কবির, ময়নুর রহমান বাবুল, আবু মকসুদ, মজিবুল হক মনি, ফারুক আহমদ রনি, আবু তাহের, ইকবাল হোসেন বুলবুল, সাগর রাহমান, আহমদ হোসেন বাবলু, মুনিরা পারভিন, হেলাল আহমদ, নজমুল ইসলাম, সাজিয়া স্নিগ্ধা, জাকির পারভেজ, আরাফাত তানিম, মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া ও সাহেদ চৌধুরী। সর্বশেষে আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিলো জাকির হোসেন পারভেজের সৌজন্যে।

Read more…

আমাদের বাংলা' ব্লগের এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম এবং একমাত্র বাংলা সাহিত্যের ব্লগ হিসাবে আমাদের বাংলার যাত্রা শুরু হয়েছিল, এযাবৎ ব্লগটি তার এক বছর পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে। উক্ত ব্লগকে সামনে রেখে ব্লগের লেখক, সাহিত্যিকদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে আমাদের বাংলা ব্লগার ফোরাম। নেয়া হয়েছে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ের উপর নানা রকম কর্ম তৎপরতা এবং তারই ধারাবাহিকতায় গত এক বছর যাবত ফোরামটি প্রতি মাসে সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করে আসছে।

'আমাদের বাংলার এক বছর' শিরোনামে অনুষ্ঠিত হলো তার এক বছর পূর্তি। অনুষ্ঠানের শুরুতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি ফারুক আহমেদ রনি, কবি আবু মকসুদ, কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের, কবি মুজিবুল হক মনি, সাংবাদিক ইসহাক কাজল ও আমাদেরবাংলা ব্লগ ফোরামের আহবায়ক কবি গোলাম কবির। আলোচনা পর্বটি উপস্থাপনা করেন কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল।

স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করেন ব্লগের কবিদের মধ্যে কবি আতাউর রহমান মিলাদ, ময়নুর রহমান বাবুল, মুজিবুল হক মনি, মাজেদ বিশ্বাস, আবু মকসুদ, আশিষ মিত্র, দিলু নাসের, সাগর রাহমান, ইকবাল হোসেন বাল্মিকী,আনোয়ারুল ইসলাম অভি, মোসাইদ খান, উদয় শংকর দুর্জয়, আহমদ হোসেন বাবলু, জাকির হোসেন পারভেজ সহ অনেকে। কবিতা পাঠের পর্বটি উপস্থাপনা করেন কবি ও ছড়াকার রেজুয়ান মারুফ ।

অনুষ্ঠানের ৩য় পর্বে ছিল ব্লগার আহমদ হোসেন বাবলু রচিত গানের সিডি 'এক আষাঢ়ের বৃষ্টি ও আমাদের বাংলার ব্লগের লেখকদের লেখা নিয়ে 'আমাদের বাংলা' স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন। উক্ত পর্বটি উপস্থাপনায় ছিলেন কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি।

অনুষ্ঠানের সর্বশেষ ও আকর্ষণীয় কর্মসূচী হিসাবে ছিল বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবিদের রচনা নিয়ে পঞ্চকবির কবিতা ও গানের বিশেষ অনুষ্ঠান ' শুনাও তোমার অমৃত বাণী'। গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা করেন ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক ইয়াসমিন মাঝি, সাজিয়া স্নিগ্ধা, আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করেন মুনিরা পারভিন ও রেজুয়ান মারুফ। সংগীত পরিবেশন করেন কন্ঠশিল্পী মিতা তাহের, বিনায়ক দেব জয়, তনুশ্রী গুহ, সাদিয়া আফরোজ চৌধুরী প্রমুখ।

ষ্টেজ পরিকল্পনা ও ডিজাইন করেছেন চারুশিল্পী আবদুস সামাদ ও কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি, পলল সংগঠনের সৌজন্যে।

Read more…

বাংলা সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ আর তাগিদ নিয়েই যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা ব্লগ হিসাবে আমাদের বাংলার যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং এযাবৎ ব্লগটি তার এক বছর পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে। উক্ত ব্লগকে সামনে রেখে ব্লগের লেখক, সাহিত্যিকদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে আমাদের বাংলা ব্লগার ফোরাম। নেয়া হয়েছে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ের উপর নানা রকম কর্ম তৎপরতা এবং তারই ধারাবাহিকতায় গত এক বছর যাবত ফোরামটি প্রতি মাসে সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করে আসছে।

গত ১৯ নভেম্বর আমাদের বাংলা ব্লগার ফোরামের মাসিক আড্ডা ও আমাদের বাংলা ব্লগের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত সভায় যথারীতি আড্ডা শেষে বর্ষপূর্তি নিয়ে মুল আলোচনার মধ্যে ছিল তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণ, অনুষ্ঠানের কর্মসূচী ও বিবিধ বিষয়। এতে আগামী ৩০ নভেম্বর, রবিবার বিকাল ৪টায় ব্লগের বর্ষপূর্তি উদযাপনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের কর্মসূচী হিসাবে থাকবে আমাদের বাংলা ব্লগের কবিদের কবিতা পাঠ, আলোচনা, আমাদের বাংলা প্রকাশনা ও ব্লগার আহমেদ হোসেন বাবলু রচিত গানের সিডি'র মোড়ক উন্মোচন। সাথে সাথে থাকছে বিশেষ আকর্ষণ বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবিদের রচনা নিয়ে পঞ্চকবির কবিতা ও গানের বিশেষ অনুষ্ঠান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কবি গোলাম কবির, মজিবুল হক মনি, ময়নুর রহমান বাবুল, ফারুক আহমেদ রনি, আবু তাহের, ইয়াসমিন মাঝি পলিন, সাগর রাহমান, হেলাল আহমদ, ইকবাল হোসেন বাল্মীকি, আহমেদ হোসেন বাবলু, সাজিয়া স্নিগ্ধা ও জাকির হোসেন পারভেজ ।

আমাদের বাংলার পক্ষ থেকে আগামী ৩০ নভেম্বর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। 

Read more…

ব্লগ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বার বার আহতবোধ করছি। ব্লগ নিয়ে বাংলাদেশে বা বাঙালি মানসে যে বিতর্কের অবস্থান নিয়েছে সেটা রীতিমত অপরিহারযোগ্য একটি বিষয়। ব্লগ কি বা কেন? সে বিষয়টা যাদের কাছে এখনো পরিষ্কার না, তাদের জন্য ব্লগ বা ব্লগার মানে নাস্তিকতাবাদ! দুঃখের বিষয় হচ্ছে এটা কেবলমাত্র আমাদের বাংলাদেশেই সম্ভব হচ্ছে কারণ আমাদের ক্ষুদ্র মন-মানসিকতা, মুক্তচিন্তার অভাবই এমন একটি কঠিন অবস্থানের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা আসলেই কি ব্লগ নিয়ে সচেতন?

২০০৫ সালের আগেও বাঙালি লেখক বা পাঠকের কাছে বস্নগ বা ব্লগার সম্পর্কে তেমন কোন ধারনা ছিলনা। তাছাড়া ব্লগের আদর্শগত বা মৌলিক বিষয় নিয়ে আমাদের কখনও মাথাব্যথা বা জানার কোন সুযোগও হয়ে ওঠেনি। যদিও বস্নগের জন্মটা ছিল একানত্মই ইউনিভার্সিটিতে কিছু রিসার্চ কাজ বা গ্রুপ ফোরাম হিসাবে ওয়েবসাইটে একক বা গ্রুপের কাজগুলো প্রকাশের মাধ্যমে শেয়ার করা হতো। যাকে web log বলা হতো, যার উচ্চারণ (web log) হিসাবে প্রচলিত। ক্রমান্বয়ে তার সম্পাদিত রূপ নেয় নষড়ম হিসাবে এবং ওয়েবলগ্‌ সম্পাদনা করেন এবং লিখেন এমন লেখককেই বস্নগার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে আসছে। বস্নগ হচ্ছে নিজের কথা, মক্তচিন্তা বা  ব্যক্তিগত মত প্রকাশের একটি মাধ্যম বলা যায়।- "In a sense who you are has always been a story that you told to yourself. Now your self is a story that you tell to others"

জাস্টিন হল সোয়ার্থমোর কলেজে অধ্যয়ন কালে ১৯৯৪ সালে তার নিজের লেখা বা জার্নাল ওয়েবলগ করার মাধ্যমে তার ব্লগার হিসাবে যাত্রা শুরু এবং তিনি আদি ব্লগাদের একজন হিসাবে বিবেচিত। তাছাড়াও ব্লগ লেখক হিসাবে ৯০-এর দশকের আরো কিছু পরিচিত weblogger দের মধ্যে ক্যামেরুন বারেট- এর ক্যামওয়ার্ল্ড, ১৯৯৮ সালে  ব্রুস আবেলসন তার ওপেন ডায়রি প্রকাশনা, বা রেবেকা ব্লাড-এর যার যাত্রা শুরু হয় রেবেকাস্‌ পকেট নামে একক ব্লগ এবং ব্র্যাড ফিটজপ্যাট্রিক শুরু করেন তার লাইভ জার্নাল লেখার মাধ্যমে।

মূলত তারা বস্নগে (বিনষড়ম) নিজের লেখা প্রবন্ধ, বা পছন্দের বিভিন্ন বিষয় ও তাতে মনত্মব্য বা প্রতিনত্মব্য প্রকাশের সহজ মাধ্যম সংম্পৃক্তকরনের কারণেই একজন সাধারণ পাঠক বা লেখকের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে। বস্নগকে সহজতরভাবে ব্যাখা করা যায়, যেমন-

“…the first journalistic model that actually harnesses rather than merely exploits the true democratic nature of the web. It’s a new medium finally finding a unique voice.”

২০০৫ সালে সর্বপ্রথম বাংলাবস্নগ হিসাবে বস্নগের আদর্শ নিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সামওয়্যারইনব্লগ। তারপর ২০০৭ সালে সচলায়তন, ২০০৮ সাথে প্রথম আলোবস্নগ ছাড়াও ধীরে ধীরে বাংলা ব্লগের জন্ম হতে থাকে ক্রমান্বয়ে। প্রথম দিকে বাংলা বস্নগে লেখালেখি শুরু করেন এমন পরিচিত লেখক কবির সংখ্যা খুবই অল্প ছিলো কিন' তার বিসত্মার শুরম্ন হয় বলতে গেলে ২০০৮ সাল থেকে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৯ তারিখে বাংলা বস্নগ দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

 

ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালে যুদ্ধাপোরাধী কাদের মোলস্নার ফাঁসির রায়ের পক্ষে শাহবাগে আন্দোলনকে সামনে নিয়ে বাংলা বস্নগ বা বস্নগার সম্পর্কে রাতারাতি বাংলাদেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষসহ সাধারণ মানুষের কাছে নতুনমাত্রা যোগ হয়। যার ফলশ্রুতিতে গণজাগরন মঞ্চ বা প্রজন্ম চত্বরের অবতারণা যার উত্তোরন স্বাধীনতা ও প্রগতিশীলতার পক্ষের শক্তি হিসাবে। ঠিক সেই সময়ই আন্দোলনকারী বস্নগার রাজীব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বস্নগে লেখালেখির কারণে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি খুন হন। রাজিবকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার অপশক্তির পক্ষপাতিত্বের বিষয়টিও পরিষ্কার হয়ে যায় মানুষের কাছে। সেই মামলার অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, ইসলামধর্ম সম্পর্কে বস্নগে বাজে মনত্মব্য করার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। যার সূত্রধরে লাইমলাইটে আসে হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠনটি। যাদের দাবি বস্নগার মানে নাসিত্মক এবং তারা নাসিত্মক মুরতাদ ফতোয়া দিয়ে বস্নগারদের বিরুদ্ধে ফাঁসির দাবি নিয়ে রাসত্মায় নেমে আসে। বাংলাদেশের এক শ্রেণীর প্রতিক্রিয়াশীল লোকজন তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে এরকম একটি সংকটময় সময়ের জন্ম দিয়েছে যাতে প্রগতি ও প্রতিক্রিয়াশীলদের নামে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। বস্নগের মত সুন্দর এবং স্বচ্ছ পস্নাটফর্ম এবং বস্নগারদের নিয়ে শুরু হয় বিবেকবর্ধিত সমালোচনার ঝড়। বস্নগারদের নাসিত্মক ও মুরতাদ আখ্যায়িত করার স্পর্ধা দেখাতে পেরেছে একমাত্র অল্পকিছু ধর্ম সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াশীল ব্লগারদের কারণে, যারা ধর্ম বিদ্বেষী কিছু কটূক্তির মাধ্যমে মুক্তচিনত্মাকে কাজে লাগিয়েছেন। সাথে সাথে তারা অবশ্যই ব্লগের মর্যাদাকেও ক্ষুন্ন করেছেন। কারণ ব্লগ মুক্তচিন্তার সুযোগ করে দিয়েছে ঠিকই কিন' কোন ধর্ম, বর্ণ, জাতি বিদ্বেষী কটাক্ষ করার সুযোগ শুধু বস্নগে কেন পৃথিবীর গণতান্ত্রিক সমাজে এবং মানবাধিকার আইনেরও পরিপন্থী। একই ভাবে একক বা কোন ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে বস্নগারদের সরাসরি নাসিত্মক বা মুরতাদ অপবাদ দেয়া মারাত্মক রকমের মানবতা বিরোধী অপরাধ। অবশ্যই মনে রাখতে হবে আজকে যারা ফেইসবুক ব্যবহারকারী তারাও ব্লগার, সেড়্গেত্রে প্রতিক্রিয়াশীলদের দেয়া ফতোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আপনিও একজন নাস্তিক! তাই ফতোয়া দেয়ার আগে জেনে নিন আপনার পরিবারে কতজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী, আপনার এবং আপনার সংগঠনের কার্যকলাপ কতটা ব্লগে প্রকাশ এবং প্রচারিত হচ্ছে। বস্নগে যেমন রয়েছে মুক্তচিনত্মা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার ব্যাপক সুযোগ তেমনি প্রতিটি বস্নগের নীতিগত কিছু কাঠামো রয়েছে, তাছাড়াও সার্বিকভাবে বস্নগের যথারীতি নিয়মতান্ত্রিক আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তাই ব্লগারদের সেক্ষেত্রে সব সময় নিশ্চিত থাকা বাঞ্ছনীয়।

 

গোটা বিশ্বের প্রচার এবং প্রকাশনা মাধ্যম এখন হাতের আঙুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ, ডায়রি বা জার্নাল প্রকাশনার মাধ্যম হিসাবে যে ব্লগের জন্ম হয়েছিল সেটাই আজ চরম বাসত্মবতা নিয়ে আমাদের সামনে ফেইসবুক বা টুইটারে প্রতিফলিত। আজ ফেইসবুকে বা টুইটারে প্রতিদিন যে পরিমান স্ট্যাটাস আসে তার বেশিরভাগই আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিজ্ঞান, সাহিত্য, রাজনীতি বা সামাজিক অবস্থান এবং কর্মতৎপরতা নিয়েই প্রকাশ হয়ে হয়ে আসছে। যার ফলশ্রুতিতে অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক জীবনে নানা রকম প্রভাবও ফেলছে। তাছাড়াও ব্যক্তিগত জীবনে ব্লগিং মানুষের মসিত্মস্কের ক্লান্তি, বিষণ্নতা এবং হতাশা মুক্তির জন্য যথেষ্ট সহায়ক। অনেকের মতে শরীরের উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধোক হিসাবেও সাহায্য করে, যেমন প্রাশ্চাত্যের একজন লেখক ব্লগিং সর্ম্পকে লিখতে গিয়ে বলেন;

"During my difficult time, blogging allowed me to connect with people in ways that lifted me out of the darkness. And I found that the act of blogging lowered my blood pressure during a very stressful period. Writing every day was an important part of healing both my mind and body."

আমার বিশ্বাস এতে কোন রকম সন্ধেহ নেই। মুলত আজকের এই গ্লোবালাইজ জীবনে পৃথিবীর যে কোন দেশের একানত্মই নুন্যতম শিক্ষিত মানুষও ব্লগের প্রতি দুর্বল, কমবেশি সবাই লিখতে চেষ্টা করছে এবং সবাই বস্নগার হিসাবে দাবী রাখতে পারে। বস্নগিং আত্মতৃপ্তি শুধু নয় আত্মজ্ঞানেও পরিশুদ্ধ্‌ করতে সহায়ক। 

সাথে সাথে বস্নগ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরম্নত্বপূর্ণ এবং সর্বশেষ নেটওয়ার্কিং মার্কেটিং প্রন্থা‌ও বলা যেতে পারে, যার মাধ্যমে কোটী কোটী পাউন্ড ডলার আয়ের সোর্স হিসাবে কাজ করছে ইন্টারনেট সার্ভিসগুলো, যেমন গুগল, ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদি সর্বচ্চ অর্থনেতিক মুনাফা লুফে নিচ্ছে আর তা কেবলই সম্ভব হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের ব্লগিং এর মাধ্যমে। এরকম প্রতিদিনই বস্নগিং থেকে এক শ্রেনীর ছোট ছোট ব্যবসায়ীরাও অর্থনৈতিক ভাবে সহজভাবে লাভবান হচ্ছে। একসময় নেটওয়ার্কিং মার্কেটিংকে সোশ্যাল এবং মানবিকশক্তির সাইকোপ্যাথপ্রযুক্তি হিসাবে সহজভাবে উপার্জনের একটি উত্তমপন'া বিবেচিত হয়েছিল, যাকে আমরা ফরমুলায় যদি বলি: One percent of 100 people's efforts are better than 100 percent of your own effort. অর্থাৎ একজনের শতভাগ প্রচেষ্টা বা পরিশ্রমের বদলে শতভাগ লোকের এক একভাগ প্রচেষ্টায় লাভবান হবার যে পদ্ধতি সেটা ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্টারনেটের আয়ের উৎস হিসাবে। যেমন ফেইসবুক, গুগুল, মাইপেস্নস বা টুইটারের মত বস্নগ পস্নাটফর্মগুলোতে আমাদের প্রত্যেকের অংশগ্রহণ তাদের রাতারাতি আকাশছুঁয়া বাণিজ্যের পাহাড় করে তুলছে।

অবশ্যই আমরাও প্রত্যেকেই ব্লগিং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারি কিন্ত সেটা কেমন করে, বিষয়টি কেবলমাত্র জানার অপেক্ষা মাত্র। যাহা নিয়ে আমরা না ভাবলেও পশ্চিমা দেশগুলো ঠিকই অর্থনৈতিক ভাবেও সুযোগ সুবিধা নিতে পারছে।

 

বাংলাদেশে বস্নগকে যতটাই আমরা বির্তকিত করিনা কেন, ব্লগ হচ্ছে মুনত্মচিন্তা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শুধু নয়, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসাবে কাজ করছে এবং সাথে সাথে অর্থনৈতিক মুক্তির পথেও একটি যুগপযোগী বিপ্লব বলা যেতে পারে।

 

আসুন আমরা ব্লগকে সৃজনশীল ও প্রগতির মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করি এবং প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীকে প্রতিহত করি, যারা ব্লগ এবং ব্লগারদের নিয়ে বির্তকের পথে অবস'ান নিচ্ছে। সবশেষে আমার একটি মাত্র প্রত্যাশা বস্নগ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নান্দনিক পস্নাটফর্ম হিসাবে কাজ করুক, ব্লগ মানুষের প্রতিদিনের চিন্তাশক্তি ও বিবেকের প্রতিনিধিত্ব করুক। 

জয় হোক ব্লগ ও ব্লগবাসীদের ।

Read more…

কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা পৃথিবীকে ঘিরে
অমীমাংসিত চুক্তি হয় মানুষের রক্তের বিনিময়ে।
জ্বলে বিশ্বায়নের সুশৃঙ্খল স্থিতির দশদিগন্ত,
জ্বলে গাজা উপত্যকার কোমল নারী ও শিশুরা!

আজো ক্রুশেবিদ্ধ যিশুর রক্তের দাগ শুকায়নি
আজো জেরুজালেমে, নিকৃষ্ট জালেমদেরই
অস্ত্রের মহড়ায় কম্পিত যীশুর বক্ষ!
আজো ফোঁটা ফোঁটা রক্ত বাতাসে বাতাসে
প্যালেস্টাইন আর জেরুজালেমের আকাশ প্রদক্ষিণ করে।

রক্তাক্ত আজ আরব সাগরের স্বচ্ছজল
প্রতিশোধের পীড়িত বিষক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করে
মানবতার সর্বশেষ প্রভাবটুকুও।
মানুষের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের এমন বিষাদময় প্রবণতা
কেবলই লূ-হাওয়ায় প্রতিশ্রুত হয়।

আমাদের পৃথিবী, একান্তই কামনার সুশীতল আবাসভূমি
আজ ধীরে ধীরে অস্পৃহ হয়ে যাচ্ছে;
বিষাক্ত বাতাসে উড়ছে বেঁচে থাকার শেষ ইচ্ছেটুকু
অন্ধকারে কালো আবরণে বিলুপ্ত হচ্ছে প্যালেস্টাইনের আকাশ!

কিসের আয়োজনে সীমানা বর্ধিত হয় রক্তের বিনিময়ে!
মানুষের বিরুদ্ধে হিংসার বৈরী সহিংসতা
পুড়ে নিপুণ বিশ্বাসের আঙিনা, রক্তাক্ত হয়
মরুভূমির চিক চিক বালুকণা।
শিশু-কিশোর কলম ফেলে বুক পেতে রাখে তাক করা
অস্ত্রের মুখে।
বিষাক্ত কার্বনিক ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস গ্রহণে
মৃত্যুর ওপারে জীবনের স্বাদ নিতে আয়ুষ্মান হয়!

যিহোবা অথবা ঈশ্বর কি দেখছেন?
আজ বিশ্বাস বিন্যাস্ত হচ্ছে, ধর্মীয় মহিমা দ্বিধান্বিত!
তবে কি গাজার মানুষের রক্তের সাথে
যিশুর রক্তের কোন মিল নেই?
ঈশ্বর তোমাকেই জবাব দিতে হবে আজ।
যিহোবা যেমন করে উঠিয়ে নিয়েছিলে যিশুকে
আবার ফিরিয়ে দাও, আজ আবার যিশুকেই
ফিরিয়ে দিতে হবে গাজা উপত্যাকায়।

স্বর্গের সিঁড়িতে বসে বিধাতা হাসেন;
তিনি দেখছেন, তাঁর দৃষ্টি স্ফীত হয়না!
নৃপতি, তিনি পরিত্রাণ খুঁজেন বিগ্রহ নিসর্গে।
বিকলাঙ্গ সভ্যতা, জরাগ্রস্ত মনুষ্যালয়!
মানবতা মানে আবাবিলের প্রত্যাশায়
আর করজোড়ে মহাশূন্যে দু’হাত উত্তোলন
করবেনা।

বিধাতা, তুমি স্বর্গের প্রাসাদে বসে
জীবনের বিনিময়ে জীবন নিয়ন্ত্রণ করো
তুমি উচ্চাসনে আসীন সর্বশক্তিমান
আমি তোমার শক্তির পরীক্ষায় নতজানু,
প্রকম্পিত বিস্ফোরণের আতংকে তুমিও
আতংকিত হও, মানুষের রক্তে স্বর্গের দেয়ালে
অঙ্কিত হোক- 'শ্বেত ঘরের' শক্তিধর প্রতিচ্ছবি।

Read more…

একদিন আমি সংসার বিতাড়িত হবো

তাই আমার অঙ্গিকার লিপিবদ্ধ থাকুক

কীর্তিমায়ার সুরভিত প্রত্যাশায়।

ঘাসফড়িঙয়ের মমত্ববোধ শিল্পিত হোক

বিধ্বস্ত পৃথিবীর দ্বৈরথ বন্ধনে।

আমাকে আবিষ্কার করবে এমন

প্রতিশ্রুত বোহেমিন পথিক কবে

আর্বিভুত হবে? যখন আমার হাড্ডিসার

গাত্র অবলোকন করবে কীট-পতঙ্গ!

 

একদিন আমি সংসার বিতাড়িত হবো

মেঘলোকে আমার ক্ষুদ্রকার শরীর

প্রদক্ষিণ হবে..

সরল বিষয় নিয়ে মনস্তাপে আক্রান্ত হবেন

পবন দেবতা আর

ভ্রান্ত পথের সীমানা তৈরি করবে

বিধ্বস্ত আয়োজন।

Read more…

তোমার অসুখ, প্রচণ্ড তাপে বিগলিত হচ্ছে দেহশিরা

নির্ঘুম বিষাদে উপচে পড়ছে উত্তপ্ত নি:শ্বাস

থমকে গেছে গেরস্থালী, ক্লান্তির কাফেলা ফেরি করছে

তোমাকে ঘিরে।

 

তোমার অসুখ, কাল রাত্রিতে ঝড় নেমেছিল শহরে,

প্রবল বৈশাখী ঝড়, সে ঝড়ে তুমি শুদ্ধতা খুঁজেছো

আলো ছিলনা কোথাও, ব্লাকআউট রাত্রির শরীরজুড়ে

কেবলই তোমার গোঙানি প্রহর বিদীর্ণ করেছে।

 

সযত্নে লালিত দেহের ভাজে পুলকিত বিস্ময় নিয়ে

তুমি অপেক্ষা করেছিলে আমার জন্য,

মধ্যরাতের চিবুক স্পর্শ করে অসহায় ম্লান জ্যোৎস্না

তোমার বুকের জানালায় আছড়ে পড়েছিল

আর নি:সঙ্গ বেদনায় ছটফটে হৃদয়টা

লাফিয়ে উঠেছিল বারবার।

 

তোমার অসুখ, প্রচণ্ড জ্বরে পুড়ছিল তোমার শরীর

শুকনো ঠোঁটে উত্তাল ঢেউ, পুলকিত দুচোখ যেন

প্রশান্ত দীঘি যার অতল গহ্বরে ডুবুরী হয়ে

নেমেছিলাম মায়াপথের খোঁজে;

তুমি কি টের পেয়েছিলে আমার ভালবাসার ক্ষমতা?

 

কাল সারারাত তুমি উদাসীন ইন্দ্রিয় বেদনায়

পুলকিত ছিলে, মায়াবী বিশ্বাসে বিন্যাস্ত ছিলে।

তোমার অসুখ, প্রবল উত্তাপে তুমি উষ্ণ কাতর

আর আমি অনুভবে তোমাকে স্পর্শ করে

বিতাড়িত করেছি আমার স্বপ্নময় প্রত্যাশা।

Read more…

ব্লগ কেন বা ব্লগ কি?

ব্লগ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বার বার আহতবোধ করছি। ব্লগ নিয়ে বাংলাদেশে বা বাঙালিমানসে যে বিতর্কিত অবস্থান নিয়েছে সেটা রীতিমত অপরিহারযোগ্য একটি বিষয়। ব্লগ কি বা কেন? সে বিষয়টা যাদের কাছে এখনো পরিষ্কার না, তাদের জন্য ব্লগ বা ব্লগার মানে নাস্তিকবাদ! দু:খের বিষয় হচ্ছে এটা কেবলমাত্র আমাদের বাংলাদেশেই সম্ভব হয়েছে কারণ আমাদের ক্ষুদ্র মন-মানসিকতা, মুক্ত চিন্তার অভাবই এমন একটি কঠিন অবস্থানের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা আসলেই কি ব্লগ নিয়ে কতটা সচেতন, ব্লগের নিয়মতান্ত্রিক বিষয়গুলো বা ব্লগ সম্পর্কে কতটুকু জানার চেষ্টা করি!

 ২০০৫ সালের আগেও বাঙালি লেখক বা পাঠকের কাছে ব্লগ বা ব্লগার সম্পর্কে তেমন কোন ধারনা ছিলনা। তাছাড়া ব্লগের আদর্শগত বা মৌলিক বিষয় নিয়ে আমাদের কখনও মাথাব্যথা বা জানার কোন সুযোগও হয়ে ওঠেনি। যদিও ব্লগের জন্মটা ছিল একান্তই কিছু কিছু ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ কাজ বা গ্রুপ ফোরাম হিসাবে ওয়েবসাইটে একক বা গ্রুপের কাজগুলো প্রকাশের মাধ্যমে শেয়ার করা হতো। যাকে web log বলা হতো, যার উচ্চারণ (wee blog) হিসাবে প্রচলিত। ক্রমান্বয়ে তার সম্পাদিত রূপ নেয় blog হিসাবে এবং ওয়েবলগ্ সম্পাদনা করেন এমন লেখককেই ব্লগার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে আসছে। জাস্টিন হল সোয়ার্থমোর কলেজে অধ্যয়ন কালে ১৯৯৪ সালে তার নিজের লেখা বা জার্নাল ওয়েবলগ করার মাধ্যমে তার ব্লগার হিসাবে যাত্রা শুরু এবং তিনি আদি ব্লগারের একজন হিসাবে বিবেচিত। তাছাড়াও ব্লগ লেখক হিসাবে ৯০-এর দশকের আরো কিছু পরিচিত weblogger দের মধ্যে ক্যামেরুন বারেট- এর 'ক্যামওয়ার্ল্ড', ১৯৯৮ সালে  ব্রুস আবেলসন তার ওপেন ডায়রি প্রকাশনা, বা রেবেকা ব্লাড-এর যার যাত্রা শুরু হয় 'রেবেকা'স্ পকেট' নামে একক ব্লগ, ব্র্যাড ফিটজপ্যাট্রিক শুরু করেন তার লাইভ জার্নাল লেখার মাধ্যমে। এরকম অনেকেই আদি ব্লগার হিসাবে উল্লেখযোগ্য। মূলত তারা ব্লগে (weblog) নিজের লেখা প্রবন্ধ, বা পছন্দের বিভিন্ন বিষয় ও তাতে মন্তব্য বা প্রতিমন্তব্য প্রকাশের সহজ মাধ্যম সংম্পৃক্তকরনের কারণেই একজন সাধারণ পাঠক বা লেখকের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে।

 ২০০৫ সালে সর্বপ্রথম বাংলাব্লগ হিসাবে ব্লগের আদর্শ নিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সামওয়্যারইনব্লগ। তারপর ২০০৭ সালে সচলায়তন , ২০০৮ সাথে প্রথম আলোব্লগ এবং ধীরে ধীরে বাংলা ব্লগের জন্ম হতে থাকে ক্রমান্বয়ে। প্রথম দিকে বাংলা ব্লগে লেখালেখি শুরু করেন এমন পরিচিত লেখক কবির সংখ্যা খুবই অল্প ছিলো কিন্তু তার বিস্তার শুরু হয় বলতে গেলে ২০০৮ সাল থেকে এবং বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৯ তারিখে বাংলা ব্লগ দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালে যুদ্ধাপোরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের পক্ষে শাহবাগে আন্দোলনকে সামনে নিয়ে বাংলা ব্লগ বা ব্লগার সম্পর্কে রাতারাতি বাংলাদেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষ সহ সাধারণ মানুষের কাছে নতুনমাত্রা যোগ হয়। যার ফলশ্রুতিতে গণজাগরণ মঞ্চ বা প্রজন্ম চত্বরের অবতারণা এবং সেই আন্দোলনের মোড় নেয় স্বাধীনতা ও প্রগতিশীলতার পক্ষের শক্তি হিসাবে।  আবার ঠিক সেই সময়ই আন্দোলনকারী ব্লগার রাজীব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ব্লগে লেখালেখির কারণে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি খুন হন।

রাজিবকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার অপশক্তির পক্ষপাতিত্বের বিষয়টিও পরিষ্কার হয়ে যায় মানুষের কাছে। সেই মামলার অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, ইসলামধর্ম সম্পর্কে ব্লগে বাজে মন্তব্য করার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। যার সূত্রধরে লাইমলাইটে আসে হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠনটি। যাদের দাবী ব্লগার মানে নাস্তিক, এবং তারা নাস্তিক মুরতাদ ফতোয়া দিয়ে বাংলা ব্লগবাসী ও ব্লগারদের বিরুদ্ধে ফাঁসির দাবী নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে।

বাংলাদেশের এক শ্রেণীর প্রতিক্রিয়াশীল লোকজন তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে এরকম একটি সংকটময় সময়ের জন্ম দিয়েছে যাতে প্রগতি ও প্রতিক্রিয়াশীলদের নামে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। ব্লগের মত সুন্দর এবং স্বচ্ছ, কমিউনিটি প্লাটফর্ম এবং ব্লগারদের নিয়ে শুরু হয় বিবেকবর্ধিত সমালোচনার ঝড়। ব্লগারদের নাস্তিক ও মুরতাদ আখ্যায়িত করার স্পর্ধা দেখাতে পেরেছে একমাত্র অল্প কিছু ধর্ম সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াশীল ব্লগারদের কারণে, যারা ধর্ম বিদ্বেষী কিছু কটূক্তির মাধ্যমে মুক্তচিন্তার বিষয়টিকে কাজে লাগিয়েছেন, তারা অবশ্যই ব্লগের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ণ করেছেন। কারণ ব্লগ মুক্তচিন্তার সুযোগ করে দিয়েছে ঠিকই কিন্তু কোন ধর্ম, বর্ণ, জাতি বিদ্বেষী কটাক্ষ করার সুযোগ শুধু ব্লগে কেন পৃথিবীর গণতান্ত্রিক সমাজে এবং মানবাধিকার আইনেরও পরিপন্থী। একই ভাবে একক বা কোন ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে ব্লগারদের সরাসরি নাস্তিক বা মুরতাদ অপবাদ দেয়া মারাত্মক রকমের মানবতা বিরোধী অপরাধ।

ব্লগে যেমন রয়েছে মুক্তচিন্তা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার ব্যাপক সুযোগ তেমনি প্রতিটি ব্লগের নীতিগত কিছু কাঠামো রয়েছে ,তাছাড়াও সার্বিকভাবে ব্লগের যথারীতি নিয়মতান্ত্রিক আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তাই ব্লগারদের সেক্ষেত্রে সব সময় নিশ্চিত থাকা বাঞ্ছনীয়।

সবশেষে মনে রাখতে হবে আজকে যারা ফেইসবুকের ব্যবহারকারী তারাও ব্লগার, সেক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীলদের দেয়া ফতোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আপনিও একজন নাস্তিক! তাই ফতোয়া দেয়ার আগে জেনে নিন আপনার পরিবারে কতজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী, আপনার এবং আপনার সংগঠনের কার্যকলাপ কতটা ব্লগে প্রচারিত হচ্ছে।

ব্লগ ও ব্লগবাসীদের জয় হোক।

Read more…

তোমাকে নিরর্থক খুঁজেছি, বিনীত আবেদন করেছি

ছুঁতে পারিনি তোমাকে

নস্টাল হয়েছি আর বারবার ধর্না দিয়েছি

মৌরসি সীমান্তে।

মেয়েরা গতর বেচে, পুরুষেরা বিবেক

তারপরও

আমাদের পৃথিবী নিখাদ পুণ্যতীর্থ ।

 

মানুষ হতে পারিনি হয়েছি পলাতক ফেরারি।

 

জীবনকে মানিব্যাগে জমা রেখে

যোগাসনে ব্যস্ত কেটেছে সময়,

আমি তোমার কাছে পৌছতে পারিনি

বড্ড হয়েছে দেরি ।

চাঁদে দাগ আছে এ কথাটা শুনেছি আদিকালে

এবার দেখেছি চাঁদে তোমারই ছায়া

ও দাগ নয়, একান্তই বিস্ময়!

 

তুমি জানো কি

বোধের দোয়ার খুলে আজো আমি প্রতীক্ষায়

বিতাড়িত, অচল দেয়াল ঘড়ি!

স্মৃতির বিচূর্ণ অবকাশে নীলাভ শোক তাড়াতে তাড়াতে

আমি আজ নির্বিকার ভাস্বর।

তোমাকে ঘিরে পঞ্চতন্ত্র, তোমাকে ঘিরে

বেশ্যাপনা;

তবুও তোমার কলঙ্কিত যৌবন নিয়ে বিনম্র আয়োজন

আমি ছুতে পারিনি তোমাকে।

 

আজো আমি তোমার ওষ্ঠে লেপটে থাকা

ছেনাল সময়;

আমি কালপুরুষ হতে পারিনি,

বিবেক বিসর্জিত নাগরিক অন্ধকারে উন্মুখ

আমার বিকলাঙ্গ প্রত্যয়।

তোমার কাছে পৌছা হলোনা

বড্ড দেরি হয়েছে আমার।

Read more…

মিথিলা, শিলঙের চেরাপুঞ্জি থেকে ধেয়ে আসা

হিমবাতাসে আমি তোমার গন্ধ পেয়েছি

তুমি দুরন্ত মেঘের মত আমার আকাশজুড়ে

বিচরণ করছো, অথচ আমি তোমাকে

আবিষ্কার করতে পারিনি।

মিথিলা, তুমি আমার মালিকানায় অভীষ্ট

এবার নিসর্গের বাসনা চরিতার্থ হোক।

 

আধমরা আমাকে নিয়ে

বিকলাঙ্গ যৌবনে ফিরে আসবে

যাদুকরী মানবযন্ত্রের পূর্ণতা।

পাতাল ভ্রমণে যাবো আমরা

নিশ্চদ্র পাহারায় থাকবে ঘড়িরকাটা

মোহন লেবাসে বিনিয়োগ হবে

দেহতত্বের রসনা বিলাস।

 

পাঁজরে পাঁজরে স্বপ্নের জৌলুস

রক্তের শ্বেত কণিকায় মোহের আক্রমণ

ক্রমিক নতজানু উদাসীনতার পথে...

মিথিলা, তুমি বিগলিত হও

বিগলিত হও আমার ভালবাসা।

Read more…

এক পতাকা তোল

এক পতাকা তোল

Song: Ek Potaka Tolo (Music Anthem) এক পতাকা তোল
Artist & Cast: Sabina Yesmin, Fahmida Nabi, Ayub Bachchu, Bappa Majumdar, Fuad, Kona, Elita, Shuvo, Nirjhor, Lincoln, Johad & Emel
Music: Habib Wahid
Lyrics: Saiful
Script: Asif Akbar Khan & Amitabh Reza
Director: Amitab Reza & Half Stop Down
Production: Star Cineplex & Media Scape
 

বিশ্ব রের্কডে আমার দেশের পতাকা। জ্বল জ্বলে মানব পতাকা, আজ ডাক দিয়েছে বিশ্বাস আর চেতনার প্রত্যয়ে...

Read more…

 
"আজ নেই বর্গী নেই ইংরেজ নেই পাকিস্তানী হানাদার,
আজও তবু আমার মনে শূন্যতা আর হাহাকার?
আজও তবু কি লাখো শহীদের রক্ত যাবে বৃথা?
আজও তবু কি ভুলতে বসেছি স্বাধীনতার ইতিকথা?"

এই কথাগুলো একজন শিল্পীর, কিন্তু প্রশ্নবোধক হয়ে বিদ্ধ করছে আমার মত কোটি কোটি মানুষের বক্ষ! আজ বিজয়ের দিন আমি লিখতে বসে বারবার হতাশার কথা আসছে, বারবার বিদগ্ধ মনটা মুচড়ে উঠছে, কিন্তু কে...ন? কার কাছে তার উত্তর আছে? বাংলাদেশ এখন পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত, স্বাধীন একটি দেশ, সে দেশে ৪২ বছর পর আজো গাইতে হয় এমন গান! আজকের বিজয়ের দিনে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ৭১-এর দিনগুলোর কথা। আজো একই ভাবে বাঙালিদের রক্ত ঝরছে। "আজো সেই পুরনো শকুন খামচে ধরেছে জাতির পতাকা!" সেই ৭১-এর রাজাকার, আলবদরদের উত্তরসূরিরা দেশটাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিজয়ের দিনে মানুষের বুকে কেবলই হাহাকার, আহাজারি। তারপরও আওয়ামীলীগ সরকারকে সাধুবাদ দিতে হয় কারণ আমরা বিজয়ের পুরো স্বাদ না পেলেও ৪২ বছর পরে হলেও কিছুটাতো লাঘব করার সুযোগ হয়েছে। আমরা জানি এই সরকার না হলে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখতে পেলামনা। এক জনের ফাঁসির মাধ্যমে আমরা বিজয় গৌরবকে অভিবাদন জানাতে পারছি।

আজ ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালির বিজয় শব্দটার মধ্যে অর্ন্তনিহত রয়েছে আমাদের বিশ্বাস, ত্যাগ, রক্ত, স্বজন এবং সম্ভ্রম হারানোর বিষাদময় অবক্ষয়ের একটি দলিল আর বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম অধ্যায়। আমরা আজ ৪২ বছর পরও বিজয়ের আনন্দে আন্দোলিত হই, আমরা যূথবদ্ধ হই উৎসব আনন্দে। কিন্তু ইতিহাসের পর্যালোচনায় আমরা কতটুকু তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারছি? প্রশ্নটা এখন আমাদের মাঝে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ এবং বিষধর ফলার মত বিদ্ধ করে; এক চল্লিশ বছর পর আমাদের উত্তরসূরি অথবা বর্তমান প্রজন্মের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে, সেটাই এখন ভাববার বিষয়। মহান বিজয়ের পটভূমিকে নির্মল ইতিহাস পর্যালোচনায় নৈতিকভাবে তার যথার্থ মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রাখার কথা বিবেচিত করতে পারছিনা? বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস বলতে আমরা রক্ষ আর যুদ্ধের ভেতর দিয়েই অর্জন করেছি আমাদের স্বাধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি আর আমাদের ঐতিহ্যের সর্বশেষ অর্জন ভৌগলিক সীমানা। শত শত বছরের ইতিহাস নিয়ে পর্যালোচনা করলেও আমরা দেখতে পাই আমাদের রক্তক্ষয়ী বীরত্বের ইতিহাস যেন ধীরে ধীরে রূপকথার উপাখ্যানে পরিণত হচ্ছে! পৃথিবীতে নানা সংস্কৃতির মধ্যে বাঙালি ও বাংলা-সংস্কৃতির ঐতিহ্য যে দিক নির্দেশনার পরিচয় বহন করে। সেটা কি আমরা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছিনা? আমরা আমাদের ইতিহাসকে বিপর্যস্ত করছি, অপমান করছি, রক্তহোলির মধ্যদিয়েই গৌরবের মাসকে আবারো রক্তাক্ত করছি! এমন ধিক্কার আমরা কাকে দেবো?

আজকের বিজয়ের দিনে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ৭১-এর দিনগুলোর কথা। আজো একই ভাবে বাঙালেদর রক্ত ঝরছে। "আজো সেই পুরনো শকুন খামচে ধরেছে জাতির পতাকা!" সেই ৭১-এর রাজাকার, আলবদরদের উত্তরসুরীরা দেশটাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিজয়ের দিনে মানুষের বুকে কেবলই হাহাকার, আহাজারি।


বাংলার অর্থনীতি, শিল্প আর বাণিজ্যকে ধ্বংস করেছিল ব্রিটিশ বেনিয়ারা সাথে সাথে তারা ষড়যন্ত্র করেছিল বাঙালি সংস্কৃতির অবকাটামোকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য। করেছিলও তাই। আমরা বারবার বাংলাভাষা, কৃষ্টি আর স্বাধিকার আদায়ের পক্ষে অস্ত্রের মুখামুখি হয়েছি, প্রতিনিয়ত সংগ্রাম আর যুদ্ধ চলছে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে। অথচ এক সময় বাংলার অর্থনীতি আর শিল্প-বাণিজ্যকে আকৃষ্ট করেছিল পাশ্চাত্যের দেশগুলোকে যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসাবে ফরাসি পরিব্রাজক বার্নিয়ার লিপিবদ্ধ করেছিলেন বাংলার শিল্প-বাণিজ্যের ইতিহাস।
ব্রিটিশরা বাংলা দখল করার একশো বছর আগে ১৬৫৮ সালে ভারতবর্ষে এসেছিলেন ফরাসি পরিব্রাজক বার্নিয়ার, ১২ বছর তিনি কাটিয়েছিলেন ভারতবর্ষে একজন চিকিৎসক হিসাবে সুযোগ পেয়েছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের হেরেমে প্রবেশের সাথে সাথে পেয়েছিলেন ভারতবর্ষে বাণিজ্য করার অনুমোদন। ক্ষমতার লড়াই তিনি কাছ থেকে দেখেছেন, শুধু তা-ই নয়, একজন ইউরোপীয় হিসেবে তৎকালীন ভারতবর্ষকে দেখেছেন নতুন এক দৃষ্টিতে। সাথে সাথে এসেছিলেন বাংলায়ও, তারপর দেশে ফিরে তাঁর ভারতীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখেন 'ট্রাভেল ইন দ্য মুঘল এম্পায়ার'। তিনি লিখেছেন, “বাংলার মত পৃথিবীর অন্য কোথাও বিদেশী বণিকদের আকৃষ্ট করার জন্য এত বেশী রকমের মূল্যবান সামগ্রী দেখা যায় না... বাংলায় এতো বিপুল পরিমাণ সূতী ও রেশমি পণ্যসামগ্রী রয়েছে যে, কেবল হিন্দুস্থান বা মোগলদের সাম্রাজ্যের জন্য নয় বরং পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এবং ইউরোপের বাজারসমূহের জন্য বাংলাকে এ দুটি পণ্যের সাধারণ গুদামঘর বলে অভিহিত করা চলে। আমি মাঝে মাঝে বিস্ময়াভিভূত হয়েছি যে, কেবলমাত্র ওলন্দাজ বণিকেরা বিভিন্ন প্রকারের ও মানের সাদা এবং রঙ্গিন সুতিবস্ত্র বিপুল পরিমাণে, বিশেষ করে জাপান ও ইউরোপে রফতানি করে থাকে, তা নয়। ইংরেজ, পর্তুগীজ ও দেশীয় বণিকেরাও এসব দ্রব্য নিয়ে প্রচুর ব্যবসা করে থাকে...” বাংলা ছিল বরাবরই ঈর্ষণীয় অবস্থানে এবং তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানীদের কাছেও বাংলা ছিল সমান ঈর্ষা এবং লোভনীয় ভূখণ্ড। যার পরিপ্রেক্ষিতে দিতে হয়েছে ত্রিশ লক্ষ বাঙালির আত্মাহুতি। বাংলা ভাষা ও একটি সার্বভৌম ভূখণ্ডের জন্য পাকিস্তানীদের বিপক্ষে বাঙালিদের সর্বাত্মক বিসর্জনের মাধ্যম বিজয় ছিনিয়ে আনা একটি ঐতিহাসিক অর্জন।
সেদিন একাত্তরের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েছিল নিতান্তই নিরস্ত্র বাঙালিরা কিন্তু আত্মায়-প্রাণে ছিল দেশ ও জাতির জন্য অপূর্ণ ভালবাসার আর নেতৃত্বের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা যার বিনিময়ে দীর্ঘ নয় মাস রক্ত-সংগ্রামের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর বাংলার আকাশে উদিত হয়েছিল বিজয়ের লাল সূর্য। পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিস্ময়কর বিজয়ের সূচনা হয়েছিল। এই বিজয়কে কেন্দ্র করে বাঙালির অহংকার। আজ সেই বিজয়ের দিন। সেই মহান বিজয়ের আজ ৪২তম ঐতিহাসিক বিজয় বার্ষিকী। দুর্ভাগ্যের বিষয় আজ ৪২ বছর পরেও যেন আমাদের সংশয় থেকেই যাচ্ছে, আমরা বিজয়ের মহিমাকে ধারণ করতে পারছিনা, আমরা নিতান্তই কঠিন অবক্ষয় আর হতাশার ভেতর দিয়ে স্মরণ করতে হয় দিনটিকে। ডিসেম্বর আসলেই আমাদের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভাজিত হয় বাংলাদেশ ও বাঙালির হৃদয়-প্রাণ। আমরা বিজয়ের পরম তৃপ্তি বা স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারিনা। এখনো আমাদের শরীরে বিসর্জিত রক্তের দাগ, আমরা মুছতে পারছিনা। আমাদের উপর এখনো পাশ্চাত্যের বিভ্রান্তিকর রাহু বাঙালিকে দ্বি-খণ্ডিত করে রাখছে! পলাশীর সেই যুদ্ধ আর বিপর্যয়ের মূল নায়ক মীর জাফর আর জগৎশেঠকে আমরা কোথায় পাবো? কিন্তু গোলাম আজম আর নিজামীরা আমাদের মাঝেই বীরত্বের মহান গর্বে বুক ফুলিয়ে বলতে পারে- আমরা মীর জাফর আর জগৎশেঠের বংশধর আমরা এখনো আছি, আমরা থাকবো। আমাদের কেউ কিছুই করতে পারবেনা। তাই হচ্ছে, এখনো বাংলার মাটি ও ঘাস রক্তে রাঙা হয়। বাংলাদেশ আজো ষড়যন্ত্রের স্বীকার! কারা করছে এই ষড়যন্ত্র, কেন করছে? বিবেকের কাছে আমরা ধারস্থ হলে তার উত্তর পাওয়া যাবে? কিন্তু আমরা বিবেকবর্জিত বাঙালিয়ানার পরিচয় দিচ্ছি দিনের পর দিন। সংগ্রাম, যুদ্ধ, লুঠতরাজ আর সম্ভ্রমহানির মধ্যদিয়ে অর্জিত বিজয়কে আমরা এখনো মূল্যায়ন করতে পারছিনা। আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে ঠিকয়ে রাখতে পারছিনা। এখনো আমাদের ভেতরে শঙ্কা, ভয় আর ভীতি।
 
আমাদের বিশ্বাস আমরা সত্যিকারের বিজয়ের স্বাদ নিতে পারবো একদিন, আজ এই বিজয়ের দিনে স্মরণ করি ৩০ লাখ শহীদদের, সাথে সাথে স্মরণ করতে হয় মিলন, নুরহোসেন সহ অসংখ্য প্রাণ, সর্বশেষ বিসর্জিত প্রাণ ২০১৩ সালের বিজয়ের ৪২ বছর পরের এই ডিসেম্বর মাসে। বর্তমান সরকার আওয়ামীলীগ সরকার, যে আওয়ামীলীগের ডাকে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, আজ সেই আওয়ামীলীগ সরকার দেশ পরিচালনা করছে অথচ আজো রাস্তায় আমাদের রক্ত দিতে হচ্ছে! আমরা জানি স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিকে রোধতে আওয়ামীলীগ সরকারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে কিন্তু সাথে সাথে সরকারের প্রতি আমাদের সর্বশেষ চাওয়া; মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার যেন ক্ষুণ্ণ না হয় এবং ৭১ এর রাজাকারদের শাস্তি যেন কার্যকর হয়, যেমন একটি দিয়ে শুরু হয়েছে। বিজয়ের শুভেচ্ছা।

 

Read more…

যিশুর কষ্ট

 আমি যিশুর সমকক্ষ নই, যিশুকে আমার

সমকক্ষ ভাবতেও চাইনা, কিন্তু যিশুর হাতে

বিদ্ধ প্রতিটি পেরেকের কষ্ট মাতম আমি

অনুধাবন করেছি। কারণ যিশুর মত নীল

কষ্টের রঙে আমার অস্থিরত্বকে রাঙিয়েছি।;

 

অযাচিত কৌশলে বৈষম্যের সাথে আপোষ

করতে পারিনি তাই নিঃসঙ্গ প্রতারণায়

এঁটে দিয়েছি বিভীষিকার অসম দেয়াল।

মানুষ জানে কি জীবনের প্রজ্ঞা অথবা

জরাজীর্ণ আর্বতে লোকায়িত মনস্কাম?

 

গভীর উন্মত্ততার ভেতর থেকে আমার

উচ্ছ্বাসকে মায়াকানন ভেবে প্রতিহিংসার

বিষপ্রয়োগে আমাকে ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে।

যিশু কখনই জানতে পারবেননা, আমার সুশৃঙ্খল

কষ্ট তাঁর মমত্ববোধকে প্রভাবিত করেছে।

 

মানুষ যিশুর জন্য উদার হতে পারেনি

যিশু জানতেন, এমন দৃষ্টান্ত কেবল মানুষই

রাখতে পারে মানুষের জন্য!

যিশুর মত কষ্টের প্রলেপ মেখে;

আমার ভেতরেও রক্তাক্ত হৃদপিণ্ড আছে বলেই

আমিওতো মানুষ, আমি যিশু হতে পারিনি।

Read more…

কালের শোণিতে মিথিলার দ্বৈরথ যৌবন

তাপোদাহে পোড়ে বিমূর্ত শরীর

কলঙ্কের অভিশাপ নিয়ে নিসর্গের পথে

ক্ষয় হয় নাগরিক জীবন।

ভালবাসার পাপাচারে  প্রোথিত হয়

জ্যোৎস্নার মায়া,

মিথিলা তোমাকে খোঁজে পরিত্যক্ত স্বভাব।

 

মিথিলার ভরপুর যৌবনের

প্রহর কাটে অদৃশ্য আয়োজনে

কলঙ্ক ছুঁয়নি তারে, ছুঁয়েছে মরণব্যাধি।

এবার কোথায় পালাবে? পশ্চিমে ভরাডুবি,

পুবে ভ্রান্ত-বিলাস স্মৃতি

কোথাও যাবার নেই,

চারিদিকে বিস্ময়ের আধিপত্য!

 

মিথিলার কাঙ্ক্ষিত বাসনায় উষ্ণআবেগ

তাই দেখে অলৌকিক ঈশ্বরও হাসেন-

মিথিলা, তুমি এখানেই আবাস গড়ো

গড়ে তুলো অবান্তর বিশ্বাসের স্বর্গকেল্লা।

Read more…

কালরাতে বিশ্বাস ভাঙার শব্দে নক্ষত্রগুলো কেঁপে ওঠেছিলো

ডানা মেলে  ওড়ে বেড়াচ্ছে মাছেরা, মরুভূমিতে  নৃত্য করছে

সঙ্গমকান্ত হরিণী। কালরাত ছিল অমাবস্যার আশ্চর্য এক ধবল রজনী

কামে উদগত আমার শরীরে চুম্বনে চুম্বনে বিষদাঁত ফুটিয়েছে

তিনজন বনেদি বেশ্যা, লউয়ের নহর দেখেছি বুকের উলান দিয়ে।

 

স্বপ্নের পাঁচিল ঘিরে চূর্ণস্মৃতি আমাকে হটচকিয়ে গেছে

অবাক বিস্ময়ে নতজানু আমার প্রত্যাশার বিদগ্ধ আয়োজন

দিগন্ত আলোড়িত করে শবদেহগুলো হেঁটে গেছে কবরস্থানে

মানুষ নামের অনুগত বানরগুলো মমতায় লীন হয়ে

প্রভুত্ব বরন করেছে বিস্মরণ উত্তরণে।

 

বিশ্বাস ভেঙেছে কালরাতে, অমাবস্যার ধবলরাতে।

যন্ত্রণার বিষাদ নিয়ে নিঃসঙ্গতা যাপন করেছে বৃক্ষরাজি

দৃশ্যমান প্রান্তরজুড়ে স্পন্দনহীন নীরবতা

আমাকে খবর দিয়ে গেছে একটি বিমূর্ত গণিকালয়ের,

মধুচন্দ্রিমার ফুলেল শয্যা বিচূর্ণ করেছে বিশ্বাসঘাত প্রহর।

 

বৃষ্টি জমেছিল হাতের তালুতে, মলিন আকাশ থেকে

কালোরাত থুবড়ে পড়েছে ভয়ংকর অস্থিরতায়।

এমনই বিশ্বাস ছিল, এমনই ছিল ব-পরিভ্রমণ জাগতিক মায়া,

জগত সাক্ষি রেখে সুনসান নগরী উদাস ফেলে

ঢলাঢলি শূণ্যতাকে ঘিরে মসজিদের মিনারে বেধেছে পাখিরা বাসা।

 

Read more…
Posted by Soumitra Dev

ইকবাল হোসাইন

৭ অক্টোবর মঙ্গলবার। আপেক্ষায় আছি দিনটির। কারণ এই দিনেই খ্যাতিমান কবি নির্মলেন্দু গুণের আলোচিত কবিতা 'নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ' অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটির ‌‌'প্রেসক্রিটিক শো' হবে। সরকারি অনুদানে নির্মিত তরুন পরিচালক মাসুদ পথিকের এই চলচ্চিত্রের কথা শুনে আসছি বহু দিন থেকে। তাই এত আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা। অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চলে গেলাম পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে। বিকেল পাঁচটার দিকে শুরু হলো সিনেমা। যত দেখি ততই মুগ্ধ হই। চলচ্চিত্রটির সংলাপ, ভাষা, চিত্রায়ন, লোকেশন, সব যেন জীবন্ত। সংলাপ শুনে মাঝে মধ্যেই দর্শকদের সঙ্গে নিজেও হাততালি দিলাম। আর মনে মনে বললাম এই এক চলচ্চিত্র দিয়েই মাসুদ পথিক স্থান করে নেবে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে।  আমি বাড়িয়ে বলছি না। আমার দেখা সেরা চলচ্চিত্রের মধ্যে স্থান পাবে 'নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ'।
ব্রাত্য চলচ্চিত্র নিবেদিত ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ ছবিটিতে অভিনয় করছেন কবির চরিত্রে নির্মলেন্দু গুণ এবং কবির তরুণ বয়সের চরিত্রে সৈয়দ জুবায়ের, নেকাব্বরের চরিত্রে জুয়েল জহুর, বাদল শহিদ এবং নায়িকা ফাতেমা চরিত্রে সিমলা। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রবীর মিত্র, মামুনুর রশীদ, অসীম সাহা, রেহানা জলি, এহসানুর রহমান, বেগম মন্টু, হাসি বুবু, শেখ সাহেদ আলী, হাসান আরিফ, ফারহানা শুচি, মহসিন খোন্দকার, মাসুম, বাহার, মিতুল, হিমু, অমল এবং কবি সৌমিত্র দেবসহ পনেরো জন কবি।
চলচ্চিত্রটির গানের কথা না বললেই নয়। বিশেষ করে, ‘ইশটেশান’ ‘ভূমিহীনের পালা’, ‘সোহাগী বউ গো’ ‘তোর সবুজ জলে মুখ ধুয়ে যাই যাবার আগে’ গানগুলো মানুষের মুখে মুখে ফিরবে বহু দিন।
গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী মমতাজ, বারী সিদ্দিকী, বাদল শহীদ, সাইম রানা, প্রিয়াঙ্কা গোপ, বেলাল খান, পড়শী, দিদারুল করিম, ইমন তালুকদার ও বাপ্পীরাজ। গানের কথা লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ, অসীম সাহা, সাইম রানা, মাসুদ পথিক ও অতনু তিয়াস। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রিন্স মাহমুদ, অসীম সাহা, মুশফিক লিটু, সাইম রানা, মাসুদ পথিক, মাহমুদ সেলিম ও বেলাল খান।
দর্শকের সারিতে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিক্ষা সচিব কবি কামাল চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব কবি আসাদ মান্নান, অধ্যাপক ড.সৌমিত্র শেখর প্রমুখ। আরও ছিলেন নাট্যজন হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, সাইমন জাকারিয়া প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধের কাহিনীভিত্তিক ছবিটিতে গ্রামীণ এক সহজ সরল পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার বঞ্চিত হওয়ার কাহিনী চিত্রায়িত হয়েছে। বর্গা চাষী নেকাব্বর জড়িয়ে পরে ষাটের দশকের কৃষক আন্দোলনে। স্থানীয় জোতদারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে জোতদারের লোক তার এক মাত্র সম্বল গরুটিকে মেরে ফেললে জোতদারের বাড়িতে প্রতিকার চাইতে যায়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। তারই জের ধরে গ্রামে পুলিশ আসে। পালিয়ে তরুন কবি নির্মলেন্দু গুনের সঙ্গে ঢাকা শহরে চলে যায় নেকাব্বর। সেখানে বিপ্লবী চিন্তা চেতনার কবিদের সঙ্গে পরিচিত হয়। তার পর আবার ফিরে যায় গ্রামে। এদিকে শুরু হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধে যোগ দেয় নেকাব্বর। এভাবেই নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে সিনেমার কাহিনী

চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে মাসুদ পথিক বলেন, এই ছবির অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। বাংলাদেশের কৃষক সংগ্রামের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গ্রামবাংলার মানুষের জীবনাচার ও বাস্তব চিত্রের মর্মগাথা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে চিত্রায়ণের চেষ্টা করা হয়েছে ছবিতে। ছবিটি সরল কাহিনির ওপর ভিত্তি করে এগোলেও চলচ্চিত্রের ভাষা ও শৈলীগত নৈপুণ্যের দিকটি সার্থক করার চেষ্টা করেছি।
ছবিটির আবহ সংগীত পরিচালনা ও শব্দ সম্পাদনার কাজ করেছেন ড. সাইম রানা। চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রিন্স মাহমুদ, মুশফিক লিটু, বেলাল খান, অসীম সাহা প্রমুখ।

Read more…