<

Asad Mannan's Posts (13)

খোলা চিঠি

এক সময় এ ফোরা মে বেশ কয়েকজন ভাল মানের কবি ছিলেন। তাদের কবিতা আর দেখিনা। আমিও ভাবছি 

এখানে আর কোনও পোস্ট দেব না। সবাই ভালো থাকবেন। সুন্দর কবিতা লিখবেন। কামনা করি।

Read more…

Poem on Father of the Nation

পিতা যিনি অগ্নিপুত্র / আসাদ মান্নান

চাঁদের ওলান ফেটে জ্যোৎস্না নয় রক্ত ঝরে বুকের জমিনে--
রক্তজলে ভেসে গেল দেশ কাল শোকাতুর সমুদ্র পাহাড়;
আদিগন্তব্যাপ্ত সেই চিরঞ্জীব মানবের আলোকিত মুখ
স্বপ্ন দেখে ঘুমন্ত মেঘের মতো ডানাহীন জলাঙ্গিনী নদীর নীলিমা;
নীলিমায় অবিরাম কে হাঁটে নির্জন নীল আগুন শিখায়?
তিনি এক অবিনশ্বর অগ্নিপুত্র-- স্বপ্নে আর জাগরণে সারাক্ষণ যিনিি
একার গভীরে হেঁটে জনারণ্যে জ্বালালেন আমাদের মুক্তির পিদিম।

বিষাক্ত নাগের মতো ফণা তোলে কতিপয় জারজ ঘাতক;
অভিশপ্ত কাল রাতে গুলিবিদ্ধ হলো হলো অই পূর্মিমার তাবৎ নিখিল:
গহন জঙ্গলে ঢুকে একা কাঁদে বাঙালির বিরহিনী তমাল জননী;
বাতাসে জীবন নেই,অবিশ্বাসে জ্বলে শুধু অদৃশ্য আগুন,
যে আগুনে আজও পোড়ে এই মাটি অই মেঘ উত্তর প্রজন্ম।

রক্তপাতে ভেসে গিয়ে মাতৃভূমি মা হলো যেদিন
সে-দিন আকাশে জ্বলে নক্ষত্রের সহোদর লক্ষ লক্ষ শহিদের মুখ:
দ্যাখো দ্যাখো সকল শহিদ এসে পরম নিশ্চিন্তে আজ
এক হয়ে শুয়ে আছে জনকের রক্তে ভেজা খাটে;
হৃদয়ের এই খাট পাতা আছে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল জুড়ে--
এ খাটে নির্ঘুম সুখে ঘুমোচ্ছেন বাঙালির মহান জনক;
মা ডাকে আদর করে -- আয় খোকা, আয় প্রিয় খোকা!

আমি ডাকি -- পিতা! বুকে গেঁথে একাত্তর
কফিনের ঢাকনা খুলে রক্তজলে ভিজে ভিজে এসো ...
নিবিড় শ্যামল জলে বহমান মধুমতি নদীর খেয়ায়
আবার নতুন স্বরে অগ্নিভেজা স্বপ্ন বুকে দুখিনী বাংলার
ঘরে ঘরে এসো ফের তুমি , পিতা! এসো যখন তখন
তুমুল খরার মাঠে অবিরাম বৃষ্টি হয়ে এসো--
মুক্তির আগুনজলে ধুয়ে দা্ও জননীর আত্মার অসুখ।

Read more…

 অদৃশ্য আগুনে পুড়ছে এই প্রিয় মাতৃভূমি বাঙালির প্রধান প্রেমিকা;

নিঃসঙ্গ গোলাপ তুই - তোর ওষ্ঠ্যে কী আগুন জ্বালাবি এবার!

আমার বুকের অগ্নি তোর অই অহংকারী পাপড়ির গোপন ডানায়

কী করে লুকিয়ে রাখবি? ওরে খোল তোর সব নিষিদ্ধ কাফন

বিবেকের লাশ নিয়ে আমি উড়ে দূরে যাই আমার নরকে।

এতটা কুয়াশা আগে কখনো দেখি নি?

শীত ? তাও ...

আগুনে তাড়াই শীত, কুয়াশাকে কী করে তাড়াই!

জনারণ্যে বাঙালির জন্মধ্বনি জন্মচিৎকার : জয়বাংলা;

ভয় নাই জাগো সব সঙ্গী-সাথী

কুয়াশা তাড়াতে হবে আশার আলোয়।

Read more…

যদি কোনদিন নির্বাচন হয় / আসাদ মান্নান

সমস্ত পৃথিবী জুড়ে যদি কোনদিন নির্বাচন হয়

আমি সর্বাধিক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হব-- আমার সপক্ষে থাকবে

আকাশ নক্ষত্র নদী তুমি আর তোমার চুম্বন;

বাগানের নিঃসঙ্গ গোলাপ -- সেও কিন্তু আমাকেই ভোট দেবে;

কেননা আমার কোনও সঙ্গী নেই,

যার কোনও সঙ্গী নেই তার কোনও শত্রুও থাকে না।

অই যে একটা পাখি --পাখিদের রাজা সেও কিন্তু আমাকেই ভোট দেবে;

কেননা আমার হাতে কোনদিন বন্দুক ছিল না, বন্দুক থাকে না

এবং আমার পিতা,পিতামহ,তারও পিতামহ এরা কেউ

শিকারী ছিল না, সৈনিক ছিলনা

অতএব পাখিরাও অতএব পশুরাও

আমাকে দেবেই দেবে মূল্যবান ভোট দেবে।

সমস্ত পৃথিবী জুড়ে যদি কোনদিন নির্বাচন হয়

আমি সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হব;আমার সপক্ষে আছে

রবীন্দ্রসঙ্গীত বোদলেয়র আসাদ মান্নান; আমার সপক্ষে আছে

মানুষের ব্যর্থতম স্বপ্নগুলো,লেলিহান দুঃখগুলো; আমার সপক্ষে আছে

পৃথিবীর তিনভাগ জল,তৃষ্ণাতুর উদ্ভিদের ছায়া --

সবশেষে তুমি আর তোমার চুম্বন।

নীলাভ নদীর জলে অই যে ক্ষুধার্ত সূর্য জ্বলে, সেও কিন্তু আমাকেই ভোট দেবে:

কেননা একদা একটি স্বপ্নের জন্য আমরা দু'জন

একই শয্যায় একই ঘুমে সারারাত ঘুমিয়েছিলাম

এবং সে ছিল আমাদের প্রথম ও শেষ স্বপ্ন

আমাদের একটি জাতীয় ভূমি চাই : ভালোবাসা,ভালোবাসা...

Read more…

অপরাহ্নের গান

অপরাহ্নের গান / আসাদ মান্নান

এই শেষ ফাল্গুনে

আমার ডাকের মধ্যে

কেউ যদি অন্য ডাক শোনে--

অন্য কোনও হৃদয়ের ডাক

তবে থাক;

আবার বসন্ত এসে

যদি ভালোবেসে

নিয়ে যায় অন্য দিকে--

অন্য কোনওখানে,

তবে বাতাসের কানে

বোমা মেরে চলে যাব তোমার বাগানে।

Read more…



যখন আষাঢ়ে তুমি মুঠোফোনে  সারারাত ব্যাভিচারে মাতো,
অসহ্য কামের মোহে এক টানাবর্ষণের গল্প বলে  যাও :
কী করে পদ্মার চরে র্পূনিমায় ভেসে ওঠে আশার বসতি,
হা করে তাকিয়ে থাকে রাতজাগা শিয়ালের চতুর ইশারা।

বরেন্দ্রের রুক্ষ্মমাটি ধীরে ধীরে খুলে ফেলে জরায়ুর মুখ;
নাচোলে আঁচল পেতে সাঁওতালি যে মেয়েটি কুড়োয় আগুন
তুমুল বৃষ্টির গন্ধ্যে তার গায়ে রঙ লাগে চিত্রা হরিণীর--
তখন রাত্রির প্রাণে ফেলে আসা যৌবনের কোলাব্যাঙ ডাকে।

কেন যে নতুন    করে সাধ জাগে! অসময়ে নগ্নতায় হাঁটি--
প্রেম কি রক্তের মত বহমান প্রকৃতির অদৃশ্য শিরায়?
কতটুকু শূন্যতায় এই বুক প্রেমিকের বক্ষ হতে পারে!
যতটা না হলে নয় তার বেশি ভালোবাসা খুব ভাল নয়।

আষাঢ়ে আনগ্ন তুমি শুয়ে থাকো রাতভর তমালতলায়-
মেঘের বালিশে শুয়ে কবি যাক ভেসে দূরে প্রেমের চিতায়।

Read more…

স্মৃতি জুড়ে বসে আছে জোবরা গ্রামে প্রীতিহীন ভীতির ক্যাম্পাস :

অদূরে উপত্যকায় পাহাড়ের ঘাড় ধরে নেমে আসে হিমেল কুয়াশা।

তোমাকে প্রথম দেখি করিডোরে, যেন একা বাগানের অনাথ কুসুম!

তোমাকে দেখার পর ভোর এসে চুমু খায় কুয়াশার নরম চিবুকে।

দিবসের সার অঙ্গে কামঘামরোদহীন প্রেম আসে গতানুগতিক;

পূর্ণিমার সরোবরে ডুব দিয়ে যেইমাত্র ধরতে যাব প্রিয় বাইন মাছ

তখনই পুরুত করে নিভে যায় অলৌকিক জলের আগুন .....।

জলের পকেটে আজ কোনও মুদ্রা নয়,শাদা লোনা ঢেউ আর কাদামাখা মেঘ :

মেঘের অন্তর থেকে ধীরে ধীরে লতিয়ে উঠেছে প্রেম আর অরণ্যের শিখা।

বন্ধুরা আশার মতো নক্ষত্রের জামা গায়ে অন্ধকারে পাহাড়ে উঠেছে;

আমি সে পাহাড়ে নয়, পাহাড়ের মতো অই মাংসের টিলায়

যখনই গিয়েছি উঠতে ঠিক তখনই কবিতা নামক এক মেয়ে জীন

আমাকে উড়িয়ে নেয় মহাশূন্যে; ...সারাক্ষণ মাথার ভেতর

ঘুরিয়েছে শব্দ দিয়ে তৈরি করা এক দীর্ঘ আগুনের ছড়ি;

এখনও সে কালো জীন - অই  মেয়ে জীন  বুকের বাঁ-ধারে বসে অবিরাম সে ছড়ি ঘুরায়:

মনে হয় মুক্তি নেই অই মায়াবী  খপ্পর  কোনোদিন মুক্তি পাবো না।

সমুদ্রকে বুকে নিয়ে মৌনতার পিঠে চড়ে যে হাঁটে অরণ্যে একা

কে তাকে অরণ্য থেকে তুলে নেবে যৌবনের উড়ন্ত  চিতায়!

হৃদয়ের সব পাতা ঝরে গেছে হেমন্তের রাত জাগা  হিমে; তবু

স্মৃতিকে জড়িয়ে ধরে গোধূলির অবসন্ন  বিবর্ণ আলোর ছায়া :

অদৃশ্য স্মৃতির পাখি পাহাড়ের টিলা ছেড়ে ঘর বাঁধে উত্তরায়-

বসন্ত ফুরিয়ে গেলে গাছে নাকি ফুলও থাকে না;

কে যেন আড়াল থেকে কানে কানে বলে , জল নেই পুরনো নদীতে:

শুন্যতার মহাদ্বীপে তুমি কোন হুরির আশায় অন্ধকারে কান পেতে বসে আছো?

বরং ঘুমের মধ্যে একা একা বসে থাকো বিরহের সুনীল চেয়ারে।

বন্ধুরা বিদ্রুপ করে : তুমি যে রাধার জন্য বৃন্দাবনে গাধার মতন

স্মৃতিকে বহন করে পাড়ি দিলে ভীতির জঙ্গল, সে জঙ্গলে

রাধা যে জননী সেজে ভাত রাঁধে; সে এখন কবিতা পড়ে না;

আমি বন্ধুদের বলি : আমি যে কীর্তন করি সে কীর্তনে রাধা নেই।

Read more…

তোমার দিকে ছুড়ে দিলাম হাজার গোলাপ...

গোলাপ, সে তো গোলাপ শুধু নয়:

অন্য কিছু; অনেক কিছু।

হাত বাড়িয়ে ঘুরে  ঘুরে দাঁড়াও ;

দূরে দেখো : আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে-

পাহাড়পুরে শিলাখণ্ড- শিলাবৃষ্টি;

বৃষ্টি, সে তো বৃষ্টি শুধু নয়:

অন্য কিছু, অনেক কিছু।

গোলাপ, সে তো গোলাপ শুধু নয়...

বৃষ্টি, সে তো বৃষ্টি শুধু নয়

অনেক কিছু... অন্য কিছু...

Read more…

এত মুখ হা করে তাকিয়ে আছে / আসাদ মান্নান

এত মুখ হা করে তাকিয়ে আছে!

আমি কোন মুখে চুমো খাবো?

যে চুমোতে অগ্নি নেই তাকে আমি চুম্বন বলি না।

নদীকে উলঙ্গ করে তার অঙ্গে যারা আজ মরুভূমি লুকিয়ে রেখেছে,

যতই গোলাপ হাতে তারা আজ নদীতে সাঁতার দিক,... দিতে থাক

আমি ভাই উহাদের প্রেমিক বলি না।

দিন কাটে ঘাটে ঘাটে

রাত যায় নগরীর পরকীয়া খাটে :

রাধার রমণ অঙ্গে জ্বর ওঠে তুমুল তৃষ্ণায়;

তবু ঝড় নেই বৃন্দাবনে গোলাপের ঠোঁটে।

আশার আগুনে জ্বেলে ভালোবাসা কুয়াশায় তোমাকে ছুঁয়েছি--

আমাকে জাগিয়ে তুমি কেন আজ ঘুমিয়ে পড়েছ?

Read more…

ভালোবাসা

ভালোবাসা / আসাদ মান্নান।

ভালোবাসা এ শব্দটি আজ রাতে একটা পাখি হয়ে উড়ছে;
সে এখানে বসছে ওখানে বসছে
কেউ তাকে আশ্রয় দিচ্ছে না
কেউ তাকে আশ্রয় দিলো না;

ভালোবাসা বাঁচতে চায়
ভালোবাসা বাঁচাতে চায়
ভালোবাসা ভালোবেসে অমরতা চায়;

চারিদিকে দস্যুতার এত আগ্রাসন!
চারিদিকে দানবের এত আস্ফালন!

ভালোবাসা, ও আমার নিরীহ প্রেমের পাখি!
অই দস্যৃদের দানবিক থাবা থেকে
আজ রাতে
তোমাকে কী দিয়ে আমি নিরাপদ আবাসন দেবো!
যেখানে আমার কোনও ঘর নেই
তমালের ছায়া নেই
যমুনার তীর থেকে উড়ে যাচ্ছে মানববসতি
সেখানে কী করে তুমি আজ রাতে এই বুকে অমরতা পাবে!

Read more…

কবির নীলিমা

কী করে নিখোঁজ হয়ে ভাল আছে কবির নীলিমা!

নদী কি সমুদ্র ছাড়া নদী হয়? মনের কলিমা

বনের ভেতর থেকে তুলে নিচ্ছে গোলাপপ্রতিমা।

আমি কা'কে ছেড়ে কার হাতে তুলে দেব আগুনের নিঃস্ব অনুরাগ।

সে আছে বুকের নিচে, যেন এক বৃষ্টি ভেজা তমাল ময়ূরী;

সব সুখ ঘুম নিদ্রা সংগোপনে হরণ করেছে কার?

কোথাও দেখি না কেন তাকে আর!

কেন সে এমন করে সারাক্ষণ চৈতন্যের চরে

দুধেল গাভির মত টেনে নেয় পূর্ণিমার ঘরে

চারিদিকে এত রঙ এত আলো চোখে কেন তবু অন্ধকার!

Read more…

১.

আগুনের জুতো পায়ে শিশু হেঁটে পার হচ্ছে  বরফের নদী;

পাহাড়ে ঝর্ণার ঘরে মহাশুন্য থেকে উড়ে আসে কালো জলপরী:

অসীমের অভিসারী তরী যৌবন সাঁতারে নেমে ডুবে যায়-

কুয়াশার ম্লান চরে ডানাহীন পড়ে থাকে মেঘের বলাকা।

নদীজলে নদী নেই;চুল খুলে বহে যায় অচেনা জোয়ার;

স্রোতে ভেসে অন্ধকার বড়শি দিয়ে গেঁথে রাখে চাঁদের ওলান :

কেউ যায় বৃন্দাবনে ,কেউ ছোটে মদনের নির্ঘুম ডেরায়-

বরফের নিচে শুয়ে শুয়ে শিশু দ্যাখে : স্বপ্নে ওড়ে আগুনের ঘুড়ি।

জলের পোশাক পরে ফেনা থেকে জন্ম নিচ্ছে দিগম্বর নদী:

আগুনে সমুদ্র হাসে, দিগন্তে মাতাল হয়ে পড়ে আছে নেশাতুর রাত।

আগুনের হাত ধরে যে-কিশোর পাড়ি দেয় অথই যমুনা

নৈঃশব্দ্যের জামা গায়ে সে এখন বসে আছে নগরমহলে।

নদীর ভেতর দিয়ে নদী বহে যায় নিরন্তর জলহীন স্রোতে:

পেছনে দাঁড়ালো এসে পারহীন অতীতের নদীবর্তী প্রিয় নারীমুখ।

Read more…

প্রেমিক ভুলে বনে গেলে খায় না তারে বাঘে;

অহংকারে ভালোবাসা অন্ধকারে জাগে :

মেঘের উপর চাদেঁর মতো ভালোবাসা ছাতা,

একটি মেয়ের বুকে যেমন একটি ছেলের মাথা।

প্রেমিক ভুলে বনে গেলে হরিণী তার পায়ে

লুটিয়ে পড়ে- আদর করে খায় চুমু তার পায়ে।

Read more…