<

Ahmed Faisal's Posts (22)

কবিতা

ছলনা জানে না আকাশ
আহমেদ ফয়সাল

নাটাই সুতোয় ঝুলছে বালক- উড়ছে আকাশে আকাশে
কল্পনার ফানুস তখন...
 
ঝিমুনি সন্ধ্যায় জ¦লে বাতি
কুপির আলো যৌবন চূড়া স্পর্শ করা পূর্বে
বেজে ওঠে সন্ধ্যা ঘন্টা
রাত নামে কল্পনার রঙ মেখে মেখে

যত ঘুড়ি উড়ে আকাশে তাদের ঠিকানা জানে-না আকাশ
নাটাই হাতে তুলো উড়ায় বালক
সেদিনের সেই সন্ধ্যায় সেও উড়িয়ে ছিল ঘুড়ি;

কল্পনার রঙনীলে মিলিয়ে যায় ফানুস
নাটাই হাতে বালক আওড়ায় স্মৃতি কবিতা
সন্ধ্যায় ঝরে- নীল রঙ মাখা ফানুস আর তুলো তুলো ঘুড়ি
ছলনা জানে না আকাশ ধরা দেয় বালকের দু’ হাতে

Read more…

কবিতা

ছলনা জানে না আকাশ
আহমেদ ফয়সাল

নাটাই সুতোয় ঝুলছে বালক- উড়ছে আকাশে আকাশে
কল্পনার ফানুস তখন...
 
ঝিমুনি সন্ধ্যায় জ¦লে বাতি
কুপির আলো যৌবন চূড়া স্পর্শ করা পূর্বে
বেজে ওঠে সন্ধ্যা ঘন্টা
রাত নামে কল্পনার রঙ মেখে মেখে

যত ঘুড়ি উড়ে আকাশে তাদের ঠিকানা জানে-না আকাশ
নাটাই হাতে তুলো উড়ায় বালক
সেদিনের সেই সন্ধ্যায় সেও উড়িয়ে ছিল ঘুড়ি;

কল্পনার রঙনীলে মিলিয়ে যায় ফানুস
নাটাই হাতে বালক আওড়ায় স্মৃতি কবিতা
সন্ধ্যায় ঝরে- নীল রঙ মাখা ফানুস আর তুলো তুলো ঘুড়ি
ছলনা জানে না আকাশ ধরা দেয় বালকের দু’ হাতে

Read more…

কবিতা

ছলনা জানে না আকাশ
আহমেদ ফয়সাল

নাটাই সুতোয় ঝুলছে বালক- উড়ছে আকাশে আকাশে
কল্পনার ফানুস তখন...
 
ঝিমুনি সন্ধ্যায় জ¦লে বাতি
কুপির আলো যৌবন চূড়া স্পর্শ করা পূর্বে
বেজে ওঠে সন্ধ্যা ঘন্টা
রাত নামে কল্পনার রঙ মেখে মেখে

যত ঘুড়ি উড়ে আকাশে তাদের ঠিকানা জানে-না আকাশ
নাটাই হাতে তুলো উড়ায় বালক
সেদিনের সেই সন্ধ্যায় সেও উড়িয়ে ছিল ঘুড়ি;

কল্পনার রঙনীলে মিলিয়ে যায় ফানুস
নাটাই হাতে বালক আওড়ায় স্মৃতি কবিতা
সন্ধ্যায় ঝরে- নীল রঙ মাখা ফানুস আর তুলো তুলো ঘুড়ি
ছলনা জানে না আকাশ ধরা দেয় বালকের দু’ হাতে

Read more…



আরেকটি বসন্তের প্রত্যাশা বাড়াবাড়ি নয়
সবে ফুটতে শুরু করেছে পলাশ। শিমুল শাখায় লাল ফুলের মুঞ্জুরি
জোড় বুলবুলির খুনসুটি দেখে মনে স্বাদ জাগতেই পারে!
আরেকটি বসন্তের জন্ম দিতে পারলেই
কেবল আরেকটি ফাগুনের জন্ম হবে।

লাল রঙে যেদিন মান্দার সেজেছিলো
সেদিন তারও গায়ে ছিল কাঁটা
তবুও মান্দারের রঙ্গিন ডগায় ডুব দেয় জোড় শালিক  
কৌতুহলী বুলবুলিদের তর সয় না!

রাঙা প্রভাতে এক ঝাঁক মৌমাছি-প্রজাপতি আর
ঘাস ফড়িং খোলা আঙ্গিনায় জড়ো হয়।
আরেকটি বসন্তের জন্মদিতে শালিক-বুলবুলিরা কোরাস তুলে...

কাব্য গ্রন্থ- এক মুঠো জোছনা

Read more…

গোধুলীর রঙ্গিন ঘুড়ি যখন আকাশে
আবির  সন্ধ্যা রঙতুলি হাতে সাজে তখন তুমিও ফিরো
বলো মা পানি দাও…

সুউচ্চ মিনারে বেজে ওঠে মুয়াজ্জিনের সুললিত কণ্ঠ
সন্ধ্যাঘন্টার তরঙ্গ বেঁধ করে নীড়ে ফিরে একদল কাক
বারো পালের দিঘীতেদিবসের শেষ স্নান সেরে পানকৌড়ি-
সঙ্গীর খুঁজে ওড়াল দেয়
বিকালের পথ ধরে সন্ধ্যা নামে, কাক পানকৌড়ি ফিরে
তুমি ফিরো না। ঠান্ডা পানির গ্লাস হাতে দাঁড়িয়ে মা-
খোকা মাঠ থেকে এখনি ফিরবে, বলবে পানি দাও…

তুমি আকাশে ওড়তে চেয়েছিলে
রঙ্গিন ঘুড়ির সুতো হাতে রেখে তোমার ওড়ার পথ রুদ্ধ করেছি
এখানে থেমে গেলে হয়তো ...

এই হাতে তোমাকে পাতালপুরিতে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমুতে গেছি
গিরগিটিদের সাথে ২৩ ঘন্টা কাটিয়ে তুমি কী অভিশাপ দাওনি
হয়তো দিয়েছো, হয়তো দাওনি
এতোগুলো উত্তর আর প্রশ্নের ভেতরের প্রশ্ন রেখে অতঃপর তুমি ওঠে আসলে

ক্ষমা করো জিহাদ- উড়ন্ত স্বপ্নগুলো এভাবে মলিন হবে
ঘুড়ির রঙ্গিন সুতো এভাবে কেটে যাবে
মায়ের হাতের গ্লাস ভেঙ্গে চূর্ণ হবে
… ভাবিনি, ভাবতে পারি না
Read more…

পথের ধুলো মাখামাখির স্বভাব বদলায়নি
মাটির পুত্র বলে জলের তলায় হেলান দিয়ে কত স্বপ্ন এঁকেছি
জীবন আলপনা ঘিরে!
কতটা পথ পার হলে ধুলোর প্রেম আর ধুলো মাখা জীবন
মেশে নদীর বুকে-
যেন শালিকের ওড়াওড়ি কাশবনে আর আমার ধুলো পথ

নদীর সিনায় মাথার রেখে দেখব বলে কত আয়েশ
কিন্তু আয়েশ মেটে না। সিনার টানে মোহিত হলেও মন থাকে
শীতল জলে, স্পর্শ পেয়ে ঘটে অনুভূতিরবহিঃপ্রকাশ-
কেবল দেখা হয় না

এভাবে প্রহর কাটে। ভাবি পৌষ কুয়শায় গা ভিজিয়ে দেখা মিলবে
সারি সারি মেঘের সিঁড়ি ভেঙ্গে ওঠবো হাতের ভেতর হাত রেখে
শিশির সিক্ত ঘাস মধুচন্দ্রিমার অপেক্ষায় জঠরে কলি পোষে। ধমনীর রক্তপান শেষে
পাপড়ি মেলে ধরতেই ছুটে আসে প্রজাপতি-
দেখি মখমল ডানায় জীবন আলপনার ছবি!
মৌ পোকার সুরে পাপড়ি মেলে ঘাষফুল। বুকের ভেতর গুজে সুর ভুলে
তুলে নেয় জীবনের স্বাদ

এইতো সে দিন; কাকন শোভিত হাতের রোমাঞ্চ মেখে ধুলো পথে 
চোখের কোণে চোখ- দেখা হয় না ঘাস ফুল, কথা বলে না পাপড়ি
মনের ভেতর মন- প্রজাপতির ডানায়  আলপনার জীবন খুঁজতে ভুলে যাই
অবিরাম গান গেয়ে যাওয়া মৌপোকার কথা মনে থাকে না
বহুদিনের সখীদের এড়িয়ে চলা নয়- এ যেন স্বপ্নের কাছে স্বপনের হার!

আকাশ দেখবো বলে হাত ধরাধরির ক্ষণগুলো পালিয়ে যায়
নাকের উষ্ণ বাতাসে মাতাল হৃদপিঞ্জর ঢেউ
যেন রঙ্গিন মনিটরের উত্তাল সাগর। আবির রঙ সাজে আকাশ
গোধূলির পথ ধরে পশ্চিমে হারিয়ে যায়- জলের বুকে আলপনা এঁকে

Read more…

আমার জন্মের নয় বছর পূর্বে-
নিরিহ বৃদ্ধ-বাউল শিল্পী আর শত যুবকের রক্ত খেয়েছো ঘাতক স্টেনগান
শত অবলার ধনপানে তৃপ্ত হয়ে ঢেকুর তুলেছো-
কেউ কেউ প্রতিবাদ করেছে বটে তবে রূপাদি রুদ্রমূর্তি- নরপিচাস তুই বিলীন হবি
তোর চেলাচান্ডারা আস্তুাকুড়ে মরবে

সেদিনের (১৯৭১) কথা ডাকবাংলোর নির্বাক রান্না ঘর আর
ইটমোড়ানো সড়কটি কাব্যকথায় বলে
খেজুরের মরা পাতা, কাঁঠালতলার নূড়ীপাথর, লেকের বদ্ধ জলরাশি বলে-আমি যেন একটি পক্ষের কথা বলি।
অন্য সবার কথা না রাখলেও নূড়ীপাথর তোমার কথা রেখেছি-
শহীদ রক্তের কসম আজ থেকে আমি একটি পক্ষের!

বিজয়ের বেয়াল্লিশ বছর শেষে শুনি-
নিচক স্বার্থসিদ্ধির ঘেরাটোপে পড়ে কেউ কেউ নিরপেক্ষতার বাণী ঝুলিয়ে রেখেছে!

সে এক বোশেখ দিনের বেদনার গল্প। রূপাদি’র ক্ষতবিক্ষত দেহ, বুক-মুখে নখের আঁচড়
পেটে বেনোয়েটের খোঁচা। উঠোনের ধবল মাটিতে আঁকা-বাঁকা রক্তের
ধূসর  আলপনা- এসব শুনার পর আমি কী নিরপেক্ষ থাকতে পারি?

ক্ষমতার প্রশ্নে এখানে নিরপেক্ষ লোকের বড় মহামারি
শহীদের রক্তরাঙ্গা পতাকা আর মানচিত্র কুঁড়ে কুঁড়ে খেতে নিরপেক্ষতার দোহাই দাও
কিন্তু একমাত্র প্রবাসী বাউল কমর উদ্দিনের মৃত্যুর প্রশ্নে
জিসি দেব, মনীর চৌধুরীর ফিনকি দেয়া রক্ত
আমেনা-মোমেনা ও আব্দুল মান্নানদের প্রাণহীন দেহ...
ওহ্ সেদিনের নির্মমকথাগুলো শোনার পর আর নিরপেক্ষ থাকতে পারি না

রশিদ-লতিফের অপরাধ কী ছিল? হিন্দু হওয়া কী অপরাধ ঘোষ পরিবারের?

তোমরা মানুষকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করো কেবল ভোটের সময়
নিরপেক্ষতার মুখোশ খসে পড়ার ভয়ে ডেরা ছেড়ে বের হওনা
অথচ মুক্তির মিছিলের ওইসব তরুণরা-
যারা ধর্মকে ধর্ম বলে জানে, মানুষকে বলে মানুষ
যারা পতাকার জন্য জীবন বাজি রাখে, মানচিত্র আগলে রাখতে পাহারা দেয়- দিনের পর দিন
সখিনাদের সম্ভ্রম রক্ষায় জীবন বিলায় অকাতরে- তাদের তোমরা নাস্তিক বলো।

যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাইলে- আমি নাস্তিক
ভাইয়ের রক্তের বদলা নিতে গেলে- আমি একটি পক্ষের
রূপাদির কথা বলতে গেলে- বিধর্মী
মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানালে- নিরপেক্ষ নই!

ষোল কোটি জনতাকে সাক্ষি রেখে, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের
বৃক্ষ-লতা, পাহাড়-নদী শোন- আমি নিরপেক্ষ নই…
আমি রূপাদির পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে
আমোনা-মোমেনাদের পড়শী, বাউল কমর উদ্দিনের স্বজন

আমি নিরপেক্ষ নই- আমি মুক্তির মিছিলের যুদ্ধা

Read more…



তখনও ভোর হয়নি, পূব আকাশের সোনালী কিরণ
লোকান্তরের আবডালে, অজানারÑপ্রতিক্ষারÑপ্রহরে
আঁধার তাড়াতে ব্যস্ত জননীÑ শিউরে কুঁপি খোঁজছেন
অবুঝ শিশু অজানা সংকেতে কেঁদে ফেলে

বিরক্তি নিয়ে জননীর তিরস্কার
‘তুই কইলজাটা খাইলাইতরেÑ কিতা যে খরতাম’

মেঘহীন আকাশ, কান ফাটা গর্জন
হত বিহব্বল মানুষের আর্তনাদ, বাঁচাও বাঁচাও
জননী প্রাণ বাঁচাতে পরান ফেলে দিলেন
ঘন্টা খানেক পর স্ব-জ্ঞানে ফেরে পুনরায় ...

আজও কোমরে পুটলি, খোঁজে ফেরেন
পরান বলে শব্দ আওড়ান, পাড়ার দলছুট
ছেলের দল পাগলী বলে ক্ষেপায়; তবুও
জননী দমে নেই, থেমে নেই তাঁর অন্তিম যাত্রা...

এখনও শব্দ আওড়ানÑ পরান কই বাবা।

Read more…



ক্যানভাস থেকে সকালটি হারিয়ে যাবার কথা ছিল না!
অন্য অনেক সকালের মতো আলাদা- তাই
এক আজলা শিউলী নিয়ে বাজি ধরতে রাজি।

হৈমন্তের দখিন বাতায়ন শীতল স্পর্শে সিক্ত হলেও সে সকালে
ডাকেনি কাক। চোখে পড়েনি ফিঙ্গের ওড়াওড়ি। ঘুঘর ডানা চাপটায়
যে দিবসের সূচনা- তারাও ছিল অন্যখানে। অনেক সখ্যতা থাকা সত্ত্বে
জোড় শালিকের দেখা মেলেনি। শালিকবিহীন ভোরে-
জোর চূড়–ইয়ের লাফঝাঁপ দেখা ছিল অলীক স্বপ্ন

সকাল গড়ায়, সূর্যের আড়াআড়ি কিরণে ভর করে আসে দুপুর
হাজার হাজার রোবটের মাঝে কেবল আমি
এক যাযাবর
একজন সন্যাসী
এক প্রেমিক

রোদপুড়া বিকেল ছাদ সন্ধ্যা নামার প্রত্যাশা করে
এখানেও সহস্র রোবটের বিচিত্র আবাস
প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় সূর্য ও সন্ধ্যার মাঝখানে
এক চিলতে ছাদে সন্ধ্যা নামতে ভয় পায়
অভয়ে রাত নামে টুপ করে। আধফালি চাঁদ আকাশে ঝুলছে- তবুও
ফাঁকে ফাঁকে নৃত্যপর জোৎস্নার অলীক নৃত্য চোখে পড়ে না।

অতএব জীবনানন্দনের পথ ধরে ছুটে চলি শালিকের বেশে-
কোন এক ধানের দেশে।   

Read more…



অনেক গল্পই বলা হয়নি
ইচ্ছের গল্পেরা প্রতিনিয়ত তাড়া দেয়Ñ যেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাদের কথা বলি
বলি বলি করে অনেক গল্প অব্যক্ত থাকে। সময়ের পালা বদলে হারিয়ে যায়
নতুন করে জন্ম নেয়া গল্পরা একদিন এভাবে হারিয়ে যাবেÑ

আজ ইচ্ছে করছে ধরণীর সব ইচ্ছের জানালায় ঘুরে বেড়ানো
তোমার ডান হাতের ভেতর ওম খোঁজবে আমার বাম হাত
স্বপ্নচোখ নীল আকাশ খোঁজবে। গ্রীলের প্রতিবন্ধকতা বেধ করবে তোমার দূরদৃষ্টি
অফুরান সময় পেলে কোন ধূসর জানালার পাশে- আমার গল্পগুলো বলা হবে
-যদি বিকেলের সূর্য তাড়া না দেয়
-যদি সন্ধ্যার তারা তাড়িয়ে না দেয়
আর যদি প্রেম জোৎ্সনার দুধল রূপের সাথে আকাশের মিলন ঘটে
তাহলে হয়ত বলতে পারিÑ তোমাকে পাওয়ার আরেক গল্প

তুমি হারিয়ে গেলে সেগল্পও কী শোনবে?

-জানি শুনবে না। সে গল্পও থাকবে অব্যক্ত
জমা পড়বে ধূসর এ্যালবামে

Read more…



তাহলে সব কিছু নিরব হয়ে যাক-

ওই কুসুম গরম জলের আরাম ফোয়ারা ভিজিয়ে দিক গোলাপ অঙ্গ
ফোটা ফোটা জল শুষে নিক রূপ-যৌবন! দখিন দুয়ার সরব বসন্ত কোলাহলে
কোকিল না গাইলে কি বসন্ত আসতে দেরী?
তাহলে সব কিছুর সূচনা দেরিতে হোক

শীত কুয়াশার চাদর পশ্চিম মাঠে ফেলে রাখাল খোঁজে ওম
আঁচলের তলায় জায়গা পাওয়ার ছলে মাঘশীতে নিরব রাত্রিতে
অমিত বনিতা করে।
নীলিমায় সরব চাঁদ শয্যায় কুলবধূ মধুমাখা চুমুপ্রেম
বর্ষিতকালেÑ এসো সব প্রথম থেকে শুরু করি
হাসনা হেনার গন্ধ শুষেÑ
ছাতিমডালে সোয়ার হওয়ার ঝুঁকি এবার নেয়া যাক।

রাত নিরব হলে তবেই সরব হুতুম পেঁচা। উত্তর পুকুরের দক্ষিণ কোণো বাঁশঝাড়ে
জোড় পেঁচার খুনসুটি প্রত্যক্ষ করতেই রাত জেগে আড়াআড়ি চোখে থাকায় আধফালি চাঁদ
লজ্জায় পুড়ে যাওয়ার আগে ডানা ঝাপটায় নর হুতুম। এসব গায়ে মেখে কি লাভ
সব কিছু সরব হওয়ার আগে-
এসো কোলাকুলি করি, সব সরব হওয়ার আগে
এসো পূণ্যস্নান করি।

Read more…


(ভ্রমন সাহিত্যিক শাকুর মজিদের জন্মদিনে)


কাঁশবনে ছুঁয়ে যাওয়া মন হারায় শালিক নীড়ে
উড়ন্ত বালুকণা নদের শান্ত জলে সুরসুরি কাটে
পড়ন্ত বিকেলে দুরন্ত জোড় শালিক নৃত্যে
ইচ্ছেরা আমার কথারা ফিরে ফিরে আসে।

মনে পড়ে বৈশাখের ধূলো ঝড়,
শিমুল তুলার উড়ন্ত নৃত্য
মনে পড়ে সেই বালক দিন
দুরন্ত শৈশবÑ নান্দনিক অবয়বের প্রিয় মুখ
বালুচরের কাঁশফুল আর শৈল্পিক বুননের বালুঘর!

সময়ের বাঁকে পথ ফুরিয়েছে ঢের
দিক বদল করেছে নদী
বালুচরে কাঁশবন নেই, কত দিন দেখিনা
জোড় শালিক নৃত্য, পরম যতেœ গড়া হয়নি বালুঘর।

তবুও শরৎ আকাশে শিল্পীর ছোঁয়া লাগে
বালক জীবন ফিরিয়ে দেয় মেঘেরা
শিমুল তুলার ছন্দে ফিরে আসে বৈশাখী বিকেল
চোখে ভেসে ওঠে শৈশবের সেই প্রিয়মুখ
জীবন তরি বদলেছে কেবল তাঁর অবয়ব।

Read more…

সমুদ্রের নীল জল-আকাশ-সবুজ অরণ্য
শ্যাওলায় ঢাকা পাথর আর
নদীর বাঁকে থাকা কাঁশবন, উড়ন্ত শরৎ শালিক বলেÑ
নষ্ট হয়ে যাচ্ছি

বনফুল-তাল মাথার বাবুই, শরৎ আকাশের
বক শাদা মেঘেরাও বলে...
ধান ক্ষেতে খেলায় মত্ত একঝাঁক চুড়–ই
মেঠোর পথের ধুলোকণা-ঘাস ফুলেরা অবঙ্গা করে
নষ্ট হয়ে যাচ্ছি বলেÑ হাসনা হেনা গন্ধের ভাগ দেয় না!

শত শত বার শুনেছি। যন্ত্রণাময় কথার রেশ কাটতে
না কাটতেই কেউ একজন এসে বললোÑ
আমি নষ্ট হয়ে গেছি!

মান ভরা হৃদয়ের হুংকারÑ
এই ভাত শোভিত থালা, ফসল ভরা মাঠ
পুকুর-নদী, খাল-বিল-ঝিল নষ্ট হয়ে যায়নি?

এক যুগ আগে কবি বলেছেনÑ
‘সব কিছু নষ্টদের দখলে যাবে’।

Read more…

শৈশবের রঙ-ছড়ানো দুপুরে

অলস আষাঢ় বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে শুকোয়

বলতে তুমি- শিয়াল মামার বিয়ে

‘পণ্ডিতের ভাগ্নের বন্ধু, কী ভাগ্য বলো!

’রেগে যেতে তুমি

বন্ধু মনে পড়ে খুব ...

Read more…

ঝির ঝির বৃষ্টিতে জ্যৈষ্ঠের এগারতম দিনের সূচনা,
তিরতির জল গড়ায় উঠোন-মাঠ-ঘাটে
বসন্তের কোকিল মোহনীয় ভঙ্গিতে সুর তুলে

বাদল দিনে কদম ফুলে ফুলে শোভিত
যুগল বুলবুলির টোকাটুকি লাফ-ঝাঁপ, মেঘের আবডালে
সূর্যের লুকোচুরি লুকোচুরি খেলায় শিহরীত প্রভাত

প্রভাতের মনোরঞ্জণে ব্যস্ত প্রকৃতি
কদম ফুলের খুশবু ছড়ায় উতল হাওয়া
কোকিল-বুলবুলিদের উড়ন্ত নৃত্য, পাগলপারা
সুর মাতে বরণে-স্মরণে, ঝিঙ্গেফুলে সেজেছে আঙ্গিনা,

প্রকৃতি তাঁর প্রেম ভুলেনি
প্রেমময় দিনের স্মৃতি খুঁজে এখানে
ওখানে, আগাম পুষ্পে পুষ্পিত কদম, ঝিঙ্গেফুলের পাপড়ির
বর্ষণে শিহরীত কবিআত্মা; চোখ-মুখে মুগ্ধতা ছড়ায়

আমরা ভুল করে ভুলি
১৪১৫ বাংলায়, তবুও তাঁর সৃষ্টিকর্ম
নির্মোহ ভাবে উঁকি দেয় জ্যৈষ্ঠের এগারতম দিনে,
বছর বছর মোহনীয় কলরবে সাঁজে, নব বারতায়Ñ

প্রকৃতির ঘোষণা
আজ কবির জন্ম দিন, দ্রোহের বাণী ছড়াও, সাম্যের
বাণী ছড়াও, গেয়ে ওঠোÑ
‘তোরা সব জয়োধ্বনি কর’

Read more…

ঘরভরা কার্তিকের মিঠেল রোদ
তারও আগে শীতল কুয়াশা, বুকদীর্ণ বাতাস
দখল করে এক চিলতে বিছানা।
কাক ডাকতে না ডাকতে বের হই
পথের বাঁকে সবুজ কচুপাতায় রূপালি শিশিরকণা গুণতে!

কার্তিকের হীমভোরে উষ্ণ মিলনে ধরা দেয়Ñ
শিশির-কচুপাতা। ‘ফ্ল্যাসব্যাক’এ যাওয়ার সুযোগ না রেখে
হৃদপিঞ্জর চুম্বনস্রোতে ভাসে!
 যুগলবন্ধীর আঁচড়কাটা খুনসুটি রেস কাটিয়ে নীড়ে ফিরি

ঘরভরা রোদে আলনায় জমে থাকা ধুলো
পূবালীর অমলিন দর্পণে ধরা পড়ে বড় বেমানানভাবে
এতো অযতœ-অবহেলার জন্মক্ষণ স্মৃতিপটে ধরা পড়ে না!

কার্তিক দুপুরের উষ্ণতা আমায় ভুলতে বলে
শীত সকালের কথা, কুয়াশা বুকবিদীর্ণ বাতাস আর
জমাট রাত্রিগুলো; ভুলতে বলে শিশির...
নাহ্ শিশিরকণা-কচুপাতার একরাশ উষ্ণ চুম্বন কীভাবে ভুলি?
কীভাবে ভুলিÑ একত্রিত দিনরাতের হাজারও খুনটুশি
দুপুর কিংবা একেকটি সকালের কথা!

পারিনি। আজও পারা হলো না...

Read more…

নিরপেক্ষ নই

ডাক বাংলোর রান্না ঘর, ইটমোড়ানো সড়কটি

কাব্যকথায় বলে যায়। খেজুর গাছের মরা পাতাগুলো

কাঁঠালতলার নূড়ীপাথর, লেকের বদ্ধ জলরাশি বলে

আমি যেন একটি পক্ষের কথা বলি।

 

অন্য সবার কথা না রাখলেও কাঁঠালতলার নূড়ীপাথর

তোমার কথা আমি রেখেছি। শহীদের রক্তভেজা এমাটির কসম

আমি একটি পক্ষের!

বিজয়ের বেয়াল্লিশ বছর শেষে শুনি

নিচক স্বার্থসিদ্ধির ঘেরাটোপে পড়ে কেউ কেউ

নিরপেক্ষতার বাণী ঝুলিয়ে রেখেছে!

 

মনে পড়ে সেই বোশেখ দিন। রূপাদি’র ক্ষতবিক্ষত দেহ

বুক-মুখে নখের আঁচড়, পেটে বেনোয়েটের খোঁচা

উঠোনের ধবল মাটিতে আঁকা-বাঁকা রক্তে

ধূসর  আলপনা দেখার পর

আমি কী নিরপেক্ষ থাকতে পারি ?

 

ক্ষমতার প্রশ্নে এখানে নিরপেক্ষ লোকের বড় মহামারি

শহীদের রক্তরাঙ্গা পতাকা আর মানচিত্র কুঁড়ে কুঁড়ে খেতে

নিরপেক্ষতার দোহাই দাও। কিন্তু একমাত্র প্রবাসী বাউল

কমর উদ্দিনের মৃত্যুর প্রশ্নে, জিসি দেব, মনীর চৌধুরীর ফিনকি দেয়া রক্ত

আমেনা-মোমেনা ও আব্দুল মান্নানদের প্রাণহীন দেহ দেখেÑ

নিরপেক্ষ থাকতে পারি না।

 

রশিদ-লতিফের অপরাধ কী ছিল

হিন্দু হওয়া কী অপরাধ ঘোষ পরিবারের?

 

তোমরা মানুষকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করো কেবল

ভোটের সময়! নিরপেক্ষতার মুখোশ খসে পড়ার ভয়ে

ডেরা ছেড়ে বের হওনা। অথচ মুক্তির মিছিলের ওইসব তরুণরা

যারা ধর্মকে ধর্ম বলে জানে, মানুষকে বলে মানুষ। যারা পতাকার

জন্য জীবন বাজি রাখে, মানচিত্র আগলে রাখতে পাহারা দেয়Ñ দিনের

পর দিন। সখিনাদের সম্ভ্রম রক্ষায় জীবন বিলায় অকাতরেÑ

তাদের তোমরা নাস্তিক বলো।

 

যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাইলেÑ আমি নাস্তিক

ভাইয়ের রক্তের বদলা নিতে গেলেÑ আমি একটি পক্ষের

রূপাদির কথা বলতে গেলেÑ বিধর্মী

মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানালেÑ নিরপেক্ষ নই!

 

ষোল কোটি জনতাকে সাক্ষি রেখে, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের

বৃক্ষ-লতা, পাহাড়-নদী শোনÑ আমি নিরপেক্ষ নই...

আমি রূপাদির পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে

আমোনা-মোমেনাদের পড়শী, বাউল কমর উদ্দিনের স্বজন

 

আমি নিরপেক্ষ নইÑ আমি মুক্তির মিছিলের যুদ্ধা

আমি নিরপেক্ষ নইÑ আমি প্রগতির পক্ষে

আমি নিরপেক্ষ নইÑ আমি হায়েনাদের যম

 

আমি নিরপেক্ষ নই, আমি বেজন্মা নই

 

Read more…

চিত্রকল্প

চিত্রকল্প

আকাশনীলে ভেসে ভেসে সাদা-কালো মেঘ ফুঁড়ে
এক ঝাঁক গাঙচিল খুঁজে নীড়
নদীজল ভাঙ্গে পাতিহাঁস অফুরাণ আনন্দে ডানা ঝাপটায়
... তাদের জীবন রস দেখে স্বাদ জাগে মনে
ভাঙ্গবো নদের জল, কাটবো সুরসুরি আর
মেঘ ফুঁড়ে কুড়িয়ে আনবো রঙধনু রঙ!

রঙ কুড়াতে গিয়ে চৈত্র দিনের অনেক বিকেল কুড়িয়েছি
কখনো রঙ্গিন ঘুড়ির ডানার ঝুলে
কখনো রোদপুড়া অলস সন্ধ্যা
কিংবা ঘাস ফড়িংয়ের সাথে মিতালী করে
বসন্ত হাওয়ায় চঞ্চল হরিণীর গন্ধ খুঁজেছি।

গন্ধ নিতে গিয়ে হুল ফুটিয়েছে মৌ পোকা
রঙে রঙ্গিন হওয়ার বাসনায় ছাই ঢেলে
বেদনার নীল রঙÑ
ললাটে অংকন করে শব যাত্রার চিত্রকল্প।



 

Read more…

ভাললাগে তাই

আহমেদ ফয়সাল

ফুল ও কলি ভাললাগে। চতুর পবনে সোহাগ মাখা দোলাদুলি

মৌ মৌ গন্ধ, গায়ে গায়ে জড়ানো ¯িœøগ্ধতা লজ্জামিশ্রত সুরভী

শিশির ভেজা পল্লবের সোনালী ঢেউÑ ভাললাগে

 

শিউলী ছড়ানো জলে জলে

আনন্দের মিশ্রণে অনিন্দন পাত্রেÑ অপার্থিব সুখ!

চোখ বুঝে ঠায় মেনে নেই, জীবনমান জ্ঞানহীন সময়ে

ঝরা ফুল গাঁথা মালার আবেগ-আবেশ সবই ভাললাগে

 

কোকিল সুরে মোহিত সকাল, রবির ছড়ানো স্বর্ণ বিকেল

বকুল সন্ধ্যায় ডাহুকের ডাক, নীড়ে ফেরা পাখির কোলাহল

বুকে বুকে কোলাকুলি, বাঁচার আকুতিÑ ভাললাগে

 

ষোল-ছাব্বিশ।

এক বিকেলে বিদায় লগ্নে নিকুঞ্জ নিবাস মাখে গোধুলীর রঙ

আলো-আঁধারের সঙ্গম লগ্নে চোখে-চোখ, বাকহীন কথার ঝাঁপি

দুটি হস্ত একত্রিত হওয়ার মুহূর্ত, লজ্জিত মৃদু স্বরে বলাÑ আসি

সবই ভাললাগেÑ তাই ভালবাসি।

Read more…

আমার কবিতা

কেমন করে সত্য বলি

আহমেদ ফয়সাল

যে কথা বলতে গেলে কষ্ট লাগ

েযে কথা শুনতে গেলে সহ্য হয় না

সে কথা বলতে বলো

যে কথা লিখতে বড় কষ্ট হয়

যে লেখা পড়তে র হৃদয় কাঁপ

েসে কথা লিখতে তুমি আমায় বলো!

একবারও ভাবোনাÑ পড়তে যদি হৃদয় কাঁপে

লিখতে গেলে কী হবে...

এ কেমন অনুরোধ তোমার

এ কেমন আদেশ বলো!

আগ্নেগিরির শিখা দেখে ভয় পাই না

সাগরে পাহাড় ঢেউয়ে ডিঙ্গি দোলে

সূচালো দাঁতওলা হাঙ্গরেরা

মুখ খিঁচিয়ে বিজলী হাসে

তবুও আমি পিছপা হই না। ছুটে যাই নীলদিগন্তেÑ

যেখান থেকে লিখতে তোমার আদেশ আসে

তুমিই জানো, এসব কথা বলতে গেল

েলিখতে গেলে সাহস লাগে

তুমিই বলো বাঁকা পথে পা মাড়াসনে- ওপথে কাঁটা আছে

এবার বলো কেমন করে সত্য বলি

তুমিই বলো কেমন করে সত্য লিখি

হ্যা হ্যা বলে যাব, যত নিটুর তাও আমি লিখে যাব

সত্য আমায় বলতে হবে

সত্য কথা লিখতে হবে।

Read more…