<

এস ইসলাম's Posts (26)

কবি শফিকুল  ইসলাম

 উদভ্রান্ত যুগের শুদ্ধতম কবি শফিকুল ইসলাম। তারুণ্য ও দ্রোহের প্রতীক । তার কাব্যচর্চ্চার বিষয়বস্তু প্রেম ও দ্রোহ। কবিতা রচনার পাশাপাশি তিনি অনেক গান ও রচনা করেছেন। তার দেশাত্ববোধক ও সমাজ-সচেতন গানে বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে জাগিয়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার।

 শফিকুল ইসলামের জন্ম ১০ই ফেব্রুয়ারী, সিলেট জেলা শহরের শেখঘাটস্থ খুলিয়াপাড়ায়। তার পিতার নাম মনতাজ আলী। তিনি পেশায় একজন কাষ্টমস অফিসার ছিলেন। তার মাতার নাম শামসুন নাহার।

 শফিকুল ইসলাম সিলেট জেলার এইডেড হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও মদন মোহন মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও সমাজকল্যাণে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। এছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে এম,এ ইন ইসলামিক ষ্টাডিজ ডিগ্রী অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে শিক্ষাজীবনে অনন্য কৃতিত্বের জন্য স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হন।

 কর্মজীবনে একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা  কবি শফিকুল ইসলাম চাকরীসূত্রে বিসিএস(প্রশাসন) ক্যাডারের একজন সদস্য। তার কর্মজীবনের শুরু কুষ্টিয়া ডিসি অফিসে সহকারী কমিশনার হিসেবে।তিনি ঢাকার প্রাক্তন মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাবেক এডিসি। এছাড়া ও তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন  কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরে উপপরিচালক ছিলেন। তিনি স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব, অর্থমন্ত্রণালয়ের ইআরডিতে উপসচিব পদে ও বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। তিনি সরকারী কাজে  যে সব দেশ ভ্রমণ করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বৃটেন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইনও সিঙ্গাপুর।

 লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবনে স্কুল ম্যাগাজিনে লেখালেখির প্রচেষ্টা থেকে। থেকে। সেটি ছিল ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ। তখন কবি ক্লাস সেভেনে পড়েন। কাব্যচর্চা দিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৮০সালে সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সংসদের উন্মুক্ত চত্বরে কবিতা পাঠের মাধ্যমে প্রথম জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ।মদন মোহন কলেজে পড়াকালিন তার সম্পাদনায় ‘স্পন্দন’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা বের হয়। আর সেই ম্যাগাজিনে তার প্রথম লেখা বের হয়।সেটি ছিল একটি কবিতা। এরপর কলেজ ম্যাগাজিনে তার লেখা কবিতা ও গল্প প্রকাশিত হতে থাকে। চাকরীসূত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মকালীন সময়ে তার কবিতা ও গান বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।পরবর্তীতে স্থানীয়, জাতীয় ও অনলাইন পত্র-পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়।

 ছা্ত্রজীবনে ১৯৮১সালে তৎকালীন ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে দেশব্যাপী আয়োজিত সাহিত্য প্রতিযোগীতায় বাংলাদেশ পরিষদ সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত হন। এছাড়া আন্তর্জাতিক লেখক দিবস উদযাপন পরিষদ কর্তৃক লেখক সম্মাননা পদক ২০০৮প্রাপ্ত হন। সম্প্রতি তার জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ এই অনন্য কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি নজরুল স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হন।(মোবাইল ফোনে google play store -এ Tobuo Bristi Asuk / ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ লিখে search দিয়ে বইটি ডাউনলোড করা যাবে)। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য বিভিন্ন পদকে ভূষিত হন।

 আপাতদৃষ্টিতে তাকে অনেকে প্রেম ও বিরহের কবি হিসেবে আখ্যায়িত করলে ও তিনি যে একজন সমাজ-সচেতন কবি তা তার দহন কালের কাব্য ও প্রত্যয়ী যাত্রা কাব্যগ্রন্থ পাঠে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। সমাজের বিভিন্ন অসংগতি ও বৈষম্য যে তাকে সংক্ষুব্ধ করেছে, অনায়াসে তা উপলব্ধি করা যায়।

কবি শফিকুল ইসলামের হাতে প্রকৃতির সকল বৈচিত্র সমাহৃত হইয়া কবির হাতে নূতন রূপে রূপায়িত হইয়া উঠিয়াছে। তুণাঙ্কুর, ধুলিকণা, শিশিরকণাটি পর্যন্ত নব নব শ্রী ও সম্পদ লাভ করিয়াছে। কবি পাঠকের মনেও সৃজনী-মাধুরীর প্রত্যাশা করিয়া তাঁহার সৃষ্টিকে ব্যঞ্জনাময়ী করিয়াছেন- ছবির আদ্‌রা আঁকিয়া কবি পাঠককে দিয়াছেন তাহার নিজের মনের রং দিয়া ভরিবার জন্য। কবি কবিতাকে নব নব রূপ দান করিয়াছেন। তিনি নিজের সৃষ্টিকে নিজেই অতিক্রম করিয়া নূতন রূপসৃষ্টি করিয়াছেন। কবি নব নব ছন্দ আবিস্কার করিয়াছেন। তাঁহার বাগ-বৈভবে ও প্রকাশ ভঙ্গিমায় কবি মানসের যে একটি অভিনব রূপ তিনি প্রকাশ করিয়াছেন তাহা বিস্ময়কর।

তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ ঃ একুশে বইমেলায় বিভিন্ন সময়ে তার কাব্যগ্রস্থ প্রকাশিত হয়।এই ঘর এই লোকালয়(২০০০) প্রকাশিত হয় প্রবর্তন প্রকাশন থেকে । একটি আকাশ ও অনেক বৃষ্টি(২০০৪) প্রকাশিত হয় আমীর প্রকাশন থেকে।  তবু ও বৃষ্টি আসুক(২০০৭) ও শ্রাবণ দিনের কাব্য (২০১০) প্রকাশিত হয় আগামী প্রকাশনী থেকে । দহন কালের কাব্য(২০১১) ও প্রত্যয়ী যাত্রা(২০১২) প্রকাশিত হয় মিজান পাবলিশার্স থেকে। গীতি সংকলন ঃ মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর(২০০৮) প্রকাশিত হয় আগামী প্রকাশনী থেকে। এছাড়া রয়েছে আড়াই হাজারের অধিক গান নিয়ে ‘শফিকুল ইসলামের শ্রেষ্ঠ গীতিকবিতা’ নামের পাচ খণ্ড বিশিষ্ট গ্র্ন্থ। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন লেখক, সাহিত্যিক. অধ্যাপক, আমলা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক তার রচিত সাহিত্যকর্মের উপর আলোচনা ও গবেষণা করেছেন।

 সকল স্রষ্টার সৃজনীপ্রতিভা যে ভাবে ক্রমবিকাশ লাভ করে কবি শফিকুল ইসলাম প্রতিভার বিকাশও সেই ভাবেই হইয়াছে। প্রথম যৌবনে অন্তর্গূঢ় প্রতিভার বিকাশ-বেদনা তাঁহাকে আকুল করিয়াছে– তখন কুঁড়ির ভিতর কেঁদেছে গন্ধ আকুল হয়ে, তখন ‘কস্তুরীমৃগসম’ কবি আপন গন্ধে পাগল হইয়া বনে বনে ফিরিয়াছেন। প্রথম জীবনের রচনায় এই আকুলতার বাণী, আশার বাণী, উৎকন্ঠা, উচ্চাকাঙ্খা, সংকল্প, ক্ষণিক নৈরাশ্যে আত্মসাধনা, মহাসাগরের ডাক, বাধা বিঘ্নের সহিত সংগ্রাম ইত্যাদির কথা আছে।

বাস্তবিক কবি শফিকুল ইসলামের সমস্ত রচনার মধ্যে এই সীমাকে উত্তীর্ণ হইয়া অগ্রসর হইয়া চলিবার একটি আগ্রহ ও ব্যগ্র তাগাদা স্পষ্টই অনুভব করা যায়। যাহা লব্ধ তাহাতে সন্তুষ্ট থাকিয়া তৃপ্তি নাই, অনায়ত্তকে আয়ত্ত করিতে হইবে, অজ্ঞাতকে জানিতে হইবে, অদৃষ্টকে দেখিতে হইবে- ইহাই কবি শফিকুল ইসলামের কথা।

সাধারণ কবিদের মত তিনি ভাববিলাসিতায় ভেসে যাননি। ভাবের গড্ডালিকা প্রবাহে নিজেকে অবলুপ্ত করে দেননি। প্রকৃত কবির মত তার কবিতায় কাব্যিক মেসেজ অনায়াসে উপলব্ধি করা যায়। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগতে পারে কি সে মেসেজ? তার কাব্যসৃষ্টিতে সাম্য, মৈত্রী ও মানবতার নিগূঢ় দর্শন অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মত প্রবহমান। তার ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতায় কবি বলেছেনঃ-

“তারও আগে বৃষ্টি নামুক আমাদের বিবেকের মরুভূমিতে,
সেখানে মানবতা ফুল হয়ে ফুটুক-
আর পরিশুদ্ধ হোক ধরা, হৃদয়ের গ্লানি…”
(কবিতাঃ ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’)

পংক্তিগুলো পাঠ করে নিজের অজান্তে আমি চমকে উঠি। এতো মানবতাহীন এই হিংস্র পৃথিবীতে বিশ্ব মানবের অব্যক্ত আকাংখা যা কবির লেখনীতে প্রোজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে। এতো শুধু কবির কথা নয়, এতো একজন মহামানবের উদ্দীপ্ত আহ্বান। তার কবিতা পাঠে আমি অন্তরের অন্তঃস্থলে যেন একজন মহামানবের পদধ্বনি শুনতে পাই। যিনি যুগ মানবের অন্তরের অপ্রকাশিত আকাংখা উপলব্ধি করতে পারেন অনায়াসে আপন অন্তরের দর্পণে। তাই তিনি বিশ্ব মানবের কবি। বিশ্বমানবতার কবি।

বর্তমানে www.grontho.com, sheiboi.com, www.chorui.com, bengaleboi.com এবং www.noboboi.com, www.eakash.com সহ বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে এবং banglapdf.net, www.boighar.com, kazirhut.com, www.boilovers.comwww.boierdunia.in সহ বিভিন্ন ফোরাম থেকে তার রচিত বইসমূহ ডাউনলোড করা যায়।এছাড়া গুগোল প্লে-ষ্টোরে রয়েছে তার রচিত বইয়ের বিশাল ভাণ্ডার, যা তাৎক্ষণিকভাবে ডাউলোড করে পাঠ করা যায়। ফেসবুক গ্রুপ এবং ইউটিউবেও রয়েছে তার রচিত কবিতা আবৃত্তি ও গানের অসংখ্য ভিডিও। বর্তমানে www.rokomari.com থেকে অনলাইনে(Help: 16297 অথবা 01519521971 ফোন নাম্বারে) সরাসরি তার সকল বই  সংগ্রহ করা যায়।

-- লেখক : সাংবাদিক নিজাম ইসলাম

                                       

 

 

Read more…

কবি জীবনানন্দ দাশ ও তার ‘বনলতা সেন’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে একটি বহুল আলোচিত বিষয় । তার কাব্যে কারণে-অকারণে তরু-গুল্ম-লতা-পাতা ঝোপঝাড়ের এত বর্ণনা পাওয়া যায় যে তাকে কবি না বলে একজন অকৃত্রিম বনসংরক্ষক বা ফরেষ্ট গার্ড বলে ভ্রম হতে পারে। বাংলাভাষার কোন কবির সম্ভবত এত গাছপালার নাম-ধাম জানা নেই।

কবি তারই অকৃত্রিম পুরুষ বন্ধু বনলতা সেন বাবুকে নিয়ে রচিত ‘বনলতা সেন’ বাংলা সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠ সমকামী কবিতা !! বহুল আলোচিত কবিতা বলেই এর ব্যাপক বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন থেকে কবিতাটি একইভাবে পাঠ করা হচ্ছে। বেশীরভাগ পাঠক কবিতাটি সম্পর্কে পূর্ব-ধারণা নিয়ে কবিতাটি পাঠ করছেন। যার ফলে কবিতাটি তার বহুমাত্র্র্রিক ব্যাখা-বিশ্লেষণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’বনলতা সেন’কে ঘিরে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন নীচে তুলে ধরলামঃ-

বনলতা সেন কি নারী না পুরুষ কবিতটিতে তা স্পষ্ট নয়।”অন্ধকার বিদিশার নিশার মত চুল” এবং “শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মত মুখ” এবং “পাখীর নীড়ের মত চোখ” নারী/পুরুষ যে কারো থাকতে পারে। বরং দীঘল কেশ,কাজল-টানা চোখ এর কথা উল্লেখ থাকলে বনলতা সেন যে আসলেই একজন নারী তা নিশ্চিত হওয়া যেত।
পুরো কবিতায় বনলতা সেন কর্তৃক কোন রমণীয় পোষাক যেমন, শাড়ীর আচল, স্তন-আবরণী উড়না/উত্তরীয় এসবের বর্ণনা নাই। এছাড়া কোনরকম প্রসাধনী/অলংকার ব্যবহারের বর্ণনা নাই। বাঙালী নারী প্রসাধন-প্রিয়,বিশেষ করে সুন্দরী নারীরা এ ব্যাপারে আরো সচেতন। বনলতা সেন পুরুষ বলেই কি এসব কবির নজরে আসেনি ?

কবি কি সমকামী ছিলেন ? যতদূর জানা যায় কবির সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্ক ভাল ছিল না, তাই কি গৃহত্যাগী বিবাগী কবি তার পুরুষ বন্ধু বনলতা সেন বাবু’কে অন্ধকারে আকাঙ্খা করেন ?

 শুধু চুল,মুখ ও চোখের বর্ণনা নারী দেহের সৌন্দর্য বর্ণনার জন্য যথেষ্ট কিনা ? নারী দেহের আকর্ষণীয় প্রত্যঙ্গ যেমন, বিল্ব স্তন, পদ্মযোনী, গুরু নিতম্ব এসব বর্ণনার অনুপস্থিতি কি তার নারী-সৌন্দর্যের ঘাটতি কিংবা বনলতা সেন বাবু একজন পুরুষ একথার ইঙ্গিত দেয় না?

পাখীর নীড় বলতে আমরা দেখি, কুড়িয়ে আনা খড়কুটোর নিশ্চল নিষ্প্রাণ বিবর্ণ স্তূপ।কাজেই পাখীর নীড়ের মত চোখ বলতে চোখে-ছানিপড়া ভাবলেশহীন বৃদ্ধার চোখের কথাই মনে আসে।

 “অন্ধকার বিদিশার নিশার মত চুল” এবং “শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মত মুখ” সার্বজনীন উপমা কিনা? [সোনালী চুল ইংরেজদের প্রিয় এবং সরল মুখশ্রী অনেকের পছন্দ]
 “অন্ধকার বিদিশার নিশা” দ্বারা নিষ্প্রদীপ বিদিশা নগরীকে বুঝায় না। কাজেই ঘন-কালো চুলের উপমা হিসেবে এটা সঠিক নয়।
 অন্ধকারে বনলতার সাথে সাক্ষাৎ করে বনলতার সৌন্দর্য সম্পূর্ণ অবলোকন করা সম্ভব কিনা?

 বনলতা সেনের প্রতি কবির প্রেম কি একতরফা?
বনলতা কি শুধুই সৌন্দর্যময়ী না প্রেমময়ী? বনলতা সেন চরিত্রে প্রেম ও সৌন্দর্যের অসম সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হয়।
 জীবনানন্দের প্রতি বনলতা সেনের প্রকৃতই প্রেম নাকি একজন চরম হতাশাগ্রস্থ পুরুষের প্রতি সহানুভূতি?
 কবি বনলতা সেনকে কেন অন্ধকারে আকাঙ্খা করেন? [ ডঃ আকবর আলী, প্রাক্তন উপদেষ্টা,তত্ত্বাবধায়ক সরকার টিভি চ্যানেলে একই প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন]

 বনলতা কি বিবাহিতা না কুমারী? কবির সাথে এই সম্পর্ক কি পরকীয়া?
 কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিলেন বনলতা সেন, এই শান্তি কি শুধুই মানসিক নাকি দৈহিক যৌন তৃপ্তি?
 নাটোরের বনলতা সেন কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিলেন,তবে কবি আর কোথায় শান্তি পেতে ব্যর্থ হয়েছেন?
 হাজার বছরের ক্লান্ত কবি মাত্র দুদন্ড শান্তি পাওয়ার কথা অতৃপ্তির সাথে অভিমান-ভরে জানিয়েছেন। কবির এই অপূর্ণ প্রাপ্তির বেদনা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে। কবিতাটিতে প্রাপ্তির চেয়ে প্রত্যাশাই প্রধান্য পেয়েছে।
 নাটোরের বনলতা সেন এর সাথে কবির কি নাটোরেই দেখা হয়েছিল নাকি অন্য কোথাও…
 কবি যে সময়ের নাটোরের বনলতা সেন এর কথা বলেছেন সে সময়ে নাটোরে সেন বংশীয়া সম্ভ্রান্ত সুন্দরী রমণী বসবাস করতেন বলে জানা যায় না।

 “বনলতা সেন” কবিতা জুড়ে একজন পর্যটকের বর্ণনা প্রাধান্য পেয়েছে নাকি একজন প্রেমিকের উচ্ছাস প্রাধান্য পেয়েছে?
 কবি কি শুধুই ভ্রমণ-ক্লান্ত ছিলেন নাকি দেহে-মনে অতৃপ্ত ছিলেন?
 বনলতার সাথে কবির এই মিলন দুটি অসমবয়সী নর-নারীর মিলন কিনা,কারণ দীর্ঘ পথচলার শেষে কবি বনলতা সেনের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। আর সেজন্যই কি অসমবয়সী কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েই বনলতা সেন আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন?
 কবি কি শেষ পর্যন্ত একজন প্রত্যাখাত পুরুষ ? জীবনানন্দ ছিলেন দাশ বংশীয় আর বনলতা ছিলেন সেন বংশীয়া- এ জন্যই কি বননলতা অসবর্ণ সম্পর্কে সম্মত হননি।

 কবিকে বনলতা সেনের তির্যক প্র্রশ্ন– এতদিন কোথায় ছিলেন’? বনলতা সেন কি কবিকে সন্দেহ করতেন? মনে হয় অন্ধকারে সাক্ষাৎ করতে আসায় বনলতা সেন কবির উপর খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন।
 বনলতা সেন কবিকে খুব বেশী ভালবাসতেন বলে মনে হয় না। কারণ কবি এতদিন কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে ও কেমন ছিলেন জানতে চাওয়া হয়নি। কাজেই দীর্ঘ অদর্শনের পর নায়ক-নায়িকার আবেগময় সাক্ষাৎ এখানে অনুপস্থিত।
 বনলতা সেন কি কবিকে অনাগ্রহের সাথে বরণ করেছিলেন ,না হয় মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে সাদর অভ্যর্থনার বর্ণনা কবিতাটিতে অনুপস্থিত কেন?
 অন্ধকারে কবির উপস্থিতি টের পেয়ে ও বনলতা কেন প্রদীপ জ্বালেননি ? অন্ধকারের সাক্ষাৎ পর্বটি প্রচলিত নৈতিকতা-বিরোধী কিনা?

 “ডানায় রোদের গন্ধ মুছে ফেলে চিল”–’রোদের রঙ’ এর জায়গায় ‘রোদের গন্ধ’ লেখার মত ভুল তথ্য কি একজন কবির কাছ থেকে আদৌ প্রত্যাশিত ? কবি কি বর্ণান্ধ ছিলেন?
 তাছাড়া কবির চিন্তাধারায় যথেষ্ট অসামঞ্জস্যতা বিদ্যমান। হাজার বছর পথ হাটার কথা বলে পরক্ষণেই জলপথে সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগরের বর্ণনা দিয়েছেন। মনে হয় কবি চিন্তার খেই হারিয়ে ফেলেছেন।
 মালয় সাগরের আদৌ কোন ভৌগলিক অস্তিত্ব আছে কিনা? এখানে কবির ভৌগলিক জ্ঞানের দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়।

 কবির ভৌগলিক বর্ণনা প্রাচীন এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সীমিত — তাহলে এই বর্ণনা কিভাবে সকল দেশ কালের পুরুষের প্রতিনিধিত্ব করে? এটি এশিয়াবাসী হতাশাগ্রস্থ পুরুষের নারীর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ।
 বনলতা সেন কবিতায় সাগর,সবুজ ঘাসের দ্বীপ,হালভাঙা নাবিক,নদীর উল্লেখ থেকে সমুদ্রগামী জাহাজে দীর্ঘদিন নারীসঙ্গবর্জিত নাবিকদের কথা মনে আসে। এটি স্থলভাগের পুরুষের স্বগতোক্তি কখনো নয়। সার্বজনীন পুরুষ এখানে অনুপস্থিত।
 কবি মাত্র্র হাজার বছর পৃথিবীর পথে হেটেছেন– এ দ্বারা কবি হাজার বছরের পুরুষের কথাই বলেছেন,বক্তব্যটি সর্বকালের পুরুষকে ধারণ করেনি।
 কবিতাটিতে আদিম যুগের শিকারী ও শিকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। পুরুষ শিকারী তার নারী শিকারকে খুজে বেড়ায়। এখানে ও নারী পুরুষের অসম আচরণ পরিলক্ষিত হয়। অর্থ্যাৎ পুরুষ সকর্মক নারী অকর্মক/নিষ্ক্রিয়।
 ‘মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন’ থেকে বোঝা যায় কবি ও বনলতা সেন সম্ভবত খুব ঘনিষ্ট ছিলেন না, না হলে উভয়ে পাশাপশি না বসে মুখোমুখি বসেছিলেন কেন? অর্থ্যাৎ বনলতা সেন কবির থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।

 বনলতা সেন চরিত্রটি (সুন্দরী,অহংকারী,পুরুষবিদ্বেষী যিনি পুরুষকে দুদন্ড শান্তি দিয়েই ছুড়ে ফেলে দেন এবং স্থায়ীভাবে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক) যা সুন্দরী নারীদের বহুগামীতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেয়।
 জীবনানন্দ চরিত্রটি (ভীতু,হতাশাগ্রস্থ,অতিমাত্রায় নারীপ্রেমিক যিনি নারীকেই শান্তি-স্বরূপা বলে মনে করেন,ঈশ্বর কিংবা প্রকৃতি তাকে কোন শান্তি দিতে পারে না) যিনি নারীর নিকট কাতর আবেদন-নিবেদনে অভ্যস্ত এবং নারীকে স্থায়ীভাবে অধিকার করতে জানেন না।
 বনলতা সেন কবিতায় ধূসর জগত,অন্ধকার বিদিশার নিশা,থাকে শুধু অন্ধকার– এসব বর্ণনা থেকে বলা যায় এটি একটি বিবর্ণ বর্ণের কবিতা।

 তাই সবশেষে বলা যায় হাজার বছর ধরে অনোন্যপায় পুরুষ যে নারীর আকাংখা করে এসেছে তাকে না পেয়ে কল্পনায় কিছু সুখ খুজে নিয়ে বাচতে চেয়েছে। একজন কবি হযত হাজার বছর নারীর সন্ধান করে ক্লান্ত হয়ে বনলতা সেন এর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন কিন্তু একজন প্রকৃত নারীর সন্ধান লাভের জন্য পুরুষ জাতিকে হয়তো অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে বনলতা সেনই সর্বশেষ ও চূড়ান্ত কাম্য নারী হতে পারে না।।

ভিসিট: http://www.blogymate.com/blog/sfk505

Read more…

Download Book

Read the book Live

জীবনের নিঃসঙ্গ বন্ধুর পথ চলতে চলতে
আকস্মিক তার সাথে দেখা।
অজানা, অচেনা
তবু যেন কত পরিচিত,
যুগ জন্মান্তরের চেনা।
ভাবি এই বুঝি আমার ঠিকানা,
এখানেই বুঝি পথচলা শেষ।
এখানেই বুঝি ভালবাসার ছায়ায় বিশ্রাম
অবিরাম বিশ্রাম।


কিন্তু সব ভাবনা কি সত্যি হয়,
একদিন কাছে এসে ও কাছের মানুষ হারিয়ে যায়।
আবার এই আমি সেই আমি হয়ে যাই।
অসহায়,নিঃসঙ্গ,বিপন্ন।
লক্ষ্যবিহীন শুরু হয় আবার পথচলা।


যে যায় সেকি ফিরে আসে।
আসে না।
আসবে না একম ও তো বলা যায় না।
আসতে ও তো পারে।
এটি যুক্তির কথা।
বাস্তবতা এই–
তার সন্ধান আর মেলেনি।


ফিরে আসবে একথা ভেবে কল্পনায় সুখ
পাওয়া ও যেতে পারে।
বাস্তবে নয়।
তখন বুঝতে পারি, বেশ বুঝতে পারি
সে আর ফিরবে না…
অনন্তকাল প্রতীক্ষার নামই বুঝি ভালবাসা ।।

Read more…

কবি শফিকুল ইসলাম বিপ্লবী কবি। তার কাব্যের বিষয়বস্তু’ হচ্ছে সাম্যবাদী চেতনা। তার লক্ষ্য শোষণ বঞ্চনা নিপীড়ন নির্যাতনে নিষ্পেষিত মানুষের মুক্তি অণ্বেষা।

তার দুটি প্রতিবাদী কাব্যগ্রন্থ ‘দহন কালের কাব্য’ ও ‘প্রত্যয়ী যাত্রা’ কাব্যগ্রন্থসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সংকলনে প্রকাশিত কবিতা নিয়ে ‘কবি শফিকুল ইসলামের শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদী কবিতা’ নামে কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হল।

আজকে সীমাহীন শোষণ নির্যাতন নির্লজ্জ ও নির্দয়ভাবে তার মুখোশ উন্মোচন করে  প্রকাশ্যে অবাধে উদ্ধতভাবে তার  কালো থাবা বিস্তার করেছে।
প্রতিবাদ,বিবেকের আহ্বান,নৈতিক চেতনার বাণী কিছুরই ধার ধারছে না  কায়েমী স্বার্থবাদী পুজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা। 

তাই আজ বৈষম্যরিোধী, মানবতাবাদী, প্রতিবাদী জনগোষ্ঠীকে তাদের চেতনা আরো শাণিত করতে হবে। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিই পারে একজন আদর্শবাদী, ত্যাগী বিপ্লবী মানস তৈরী করতে।

তাই আজকের বিপ্লবীকে আরো বেশী বেশী প্রতিবাদী সাহিত্য অধ্যয়ন ও অনুশীলন করতে হবে। কবির সংগ্রামী চেতনা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, ছড়িয়ে দিতে হবে পথে-প্রান্তরে প্রতিটি প্রাণে প্রাণে।‘কবি শফিকুল ইসলামের শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদী কবিতা’ গ্রন্থটি আজকের দিনে তাই একান্ত প্রাসঙ্গিক।

visit:  http://www.blogymate.com/blog/sfk505

Read more…

A MASTER PIECE OF POETRY

tobu o ashuk-x300
“Tobu O Bristi Asuq” (Let There Be Rain)
(A MASTER PIECE OF POETRY)
Reviewed By Prof. A.Noor

“Tobu O Bristi Asuq” (Let There Be Rain) is a collection of 41 poems of variegated tastes and flavor mostly of personal trend and characteristics by Shafiqul Islam a young poet of great erudition bestowed with an attractive poetic vein .

Besides the poem which bears the title of the collection in the mid portion of it ‘Bohu din por Aaz’(Today after a long time) there is a poem ‘Akjon Beer Joddha’(A heroic fighter ).Two addressed to the mother two addressed to the dead father .One addressed to one ”D” one addressed to life and the rest are addressed to one Sulota with whom the speaker had a deep either secret or open correspondence /love but that Sulota is not within his reach though she does not seem to have married/loved another man but it is clear from the description of the speaker that she has left the speaker treading the fair love and intimacy of the speaker .

It seems to me that the poet wanted to compose a book absolutely on love the mental anguish of separation or desertion. But he has an intellectual negation to be identified in that condition and so he has inserted few poems of different types in the collection just to bedim that factual truth .How ever the poet has every right to do it.In the poem ‘Bohu din por Aaz’ , the poet addresses the rain after a long time as blessing as a symbol of life and freshness. The proposed rain may tend a new life and fruition to all the sandy region of the glob , all the drought inflicted areas of the world despite personal sorrows and suffering of the poet from the rain if it really comes down . The poet is eagerly awaiting the rain and mentally prepared to undergo all sorts of disadvantages from the rain .

At times a poet can not be easily detected .He speaks and narrates things from a distance. We have such an example of a piece of poetry in this collection of poems ,namely- ”D” (D for Diana) .The second poem addressed to a late lady of universal decency and decorum ,it may not be easy for the young and most readers of the poem who this lady is . It is known best to the poet himself but so far our observation looks in the past and from the description of the poet –
” In the bustle of this world
Once you had your harmonious tone
On the highways of this world
You let fall your invaluable footsteps”—

The poem might have been composed on the all-accepted ,all-loved lady ever born and ever entered the Buckingham palace as a bride and she is nobody but princess Diana who died in a miserable car accident in the last decade but having her all human and divine virtues that impressed our poet .The lady in question died as a result of psychological at war between haven and earth .She herself represented the heaven .She had an indomitable love for the people of the world and she proved her that glorious traits of love by traveling different countries and her so-called free but innocent mixing with them left her to a state of being neglected by her husband . She understanding her position ,although a mother of two sons, could not remain connected within the palace bereft of husband’s love and got family indifference .

The poet is cut to the quick to understand all of the members of the royal family for this cold behavior with her . He though belonging to another caste and creed, can not help showing his hearty sympathy for her ill-fate and consoling himself in the following sketch.
“But you in my heart
That the rare picture has drawn on it
neither in sun-shine nor in water
of the world
I know that will ever be effaced.
‘D’ now you are an inhabitant of the world hereafter-
One day you descended here wrongly
To our poor earth having loved us”.

The poem is in the spirit of an elegy and the poet has registered all his poetic strength to make her (Diana) ever living and ever adorable for her divine qualities among the crowds of simple /ordinary faces of women ornamenting high seats and positions among us — home and abroad but quite unworthy of being equal in status from the standpoints of ever immortal human virtues as possessed by the late ‘D’ princess Diana of England .

The third poem ,”Akjon Beer Jodda” a sketch on a political figure does not appear to me to be a new something .We are accustomed to coming across compositions like this one — this poem portrays the saddest story of a national hero who bought for the liberation of the motherland of the poet but he was mercilessly killed by his associates as an armless hero.
”In our heart
He is an ever victorious hero,
Returned from the war, enemy Overcoming hero”

The poet has written three poems absolutely of personal cadres on his mother and father. In the poem on his mother he portrays a mother as a perennial source of inspiration in the onward movement in the struggle of life. In two pieces of poetry composed on his departed father, the poet sorrily accepts the loss of his father whose kind behavior in the past disturbs his peaceful living at the moment .The poet had in his mind to write elegy. His portrayal of his parents indicates his possessive mind devoted to them.

There is another poem ‘The three losses’ upholding before the readers how the poet has crossed from his childhood to youth , bidding adieu to the sweet memories and objects of enjoyments and comports.There is a small poem ,”hea jiban ,Akdin Tumi Chhela”in the collection .It is a poem of high appreciation painting life from multifarious platforms like some philosophical poet’s interpreting life as a puzzling mystery .This poem teems with poetic fervor both in matter and manner and it surely makes the poet powerful and observing the fleeting but touching modes of life — an ever inexplorable riddle .

In “three fourths of water and one in hand” the poet leaves heavy sighs and despair on life being utterly dissatisfied with the go of the world. Life hangs very heavy with the poet finding no other way to survive from his mentally emerging state .He is confirmed that his sweet dreams will never be realized and his is a life mean for shedding tears in the sea with unquenching thirst for getting the object in mission .

Our review over the poems of the collection discovers that the cost of the poems forming an overwhelming majority disturbs or tortures the speaker in season or out of season ceaselessly in the surname of either the Nandita or all the time in the name of Sulota — a woman whom the speaker liked or loved heart and soul . The speaker can not help being a puppet at the witchery of her past mixing or mutually loving each other and at the moment standing aside and suffering the pain of separation .

There is ample weakness of the speaker towards Sulota whom he helplessly requested to come back to him and thereby save him from being destroyed in the piece “Sulota, yet there is time”.
“Sulota, yet there is time
yet come back to this breast.
If otherwise out of one heart’s groaning
This world in a second
will be a sad isolated island”
To the speaker, Sulata is a peerless woman for him to like and love . In fact Sulota can not be forgotten and speaker is not in a state of losing .Sulota in oblivion she is a young woman a great excellence and hence the speaker can not but describe Sulota’s physical beauty with those of the greatest object of nature ever known to him .Sulota’s physical beauty is innocently portrayed by the poet in the following touches in the poem “The cloud of the sky too at a time”.
“The modulation of her tone
As if it were the greatest music of the world
Her youthful strong built body
As if it were the greatest
sculptures in the world” .

The aforesaid similes with which the poet draws Sulota’s divine beauty undoubtedly speaks of the poets wide range of knowledge as well as his vast possession of pure literary terms to describe things of aesthetic beauty and we find a ground to appreciate his so-called grave geniality .

In the second page of the front cover the concluding sentence is ‘The poetic collection has contained a set of poems full of memories of the past love , and separation enriched with conscience and illumining on this assertive statement supplied by the poet we can certainly say that ‘Tabu O Brishti Asuq ‘ is a collection of poems mostly on deserted love and moan of separation .

As regards the choice of words I like to say that the poet was conscious enough to use the fit and concrete word to the matter he had chosen to highlights ,Credit goes to him for guarding him against the use of popularly cheap or slang words which are found in our folk songs or poems .The poet has a mentionable control over his expressions and he seems to be in search of new and never images and illustrations .I also say that his expressions are of his own but I do not preach that he is classic in mode but I claim that if he has not succeeded in all the poems, surely has not failed in all of them .Some of the expressions are ,no doubt, the triumphed and the height of blank verse at the hand of a mounting poet in the horizon of Bangla poetry.

“Tobu O Bristi Asuq” (Let there be rain)
Written By Shafiqul Islam
Published By
Agamee Prokashoni,36 Bangla Bazar,Dhaka-1100.
Phone-7111332,7110021Mobile-01819219024

Read more…

49152665

জীবনের নিঃসঙ্গ বন্ধুর পথ চলতে চলতে
আকস্মিক তার সাথে দেখা।
অজানা, অচেনা
তবু যেন কত পরিচিত,
যুগ জন্মান্তরের চেনা।
ভাবি এই বুঝি আমার ঠিকানা,
এখানেই বুঝি পথচলা শেষ।
এখানেই বুঝি ভালবাসার ছায়ায় বিশ্রাম
অবিরাম বিশ্রাম।

কিন্তু সব ভাবনা কি সত্যি হয়,
একদিন কাছে এসে ও কাছের মানুষ হারিয়ে যায়।
আবার এই আমি সেই আমি হয়ে যাই।
অসহায়,নিঃসঙ্গ,বিপন্ন।
লক্ষ্যবিহীন শুরু হয় আবার পথচলা।

যে যায় সেকি ফিরে আসে।
আসে না।
আসবে না একম ও তো বলা যায় না।
আসতে ও তো পারে।
এটি যুক্তির কথা।
বাস্তবতা এই–
তার সন্ধান আর মেলেনি।
ফিরে আসবে একথা ভেবে কল্পনায় সুখ
পাওয়া ও যেতে পারে।
বাস্তবে নয়।

তখন বুঝতে পারি, বেশ বুঝতে পারি
সে আর ফিরবে না…
অনন্তকাল প্রতীক্ষার নামই বুঝি ভালবাসা ।।

visit:  http://www.prothom-aloblog.com/blog/sfk808

Read more…

tobu o ashuk-x300

পর্যালোচনায়- ডঃ আশরাফ সিদ্দিকী
সাবেক মহাপরিচালক,
বাংলা একাডেমী।

‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ কবি শফিকুল ইসলামের  শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। তার কবিতা  আমি ইতিপূর্বে  পড়েছি । ভাষা বর্ণনা প্রাঞ্জল এবং তীব্র  নির্বাচনী। “তবুও  বৃষ্টি  আসুক” গ্রন্থে  মোট ৪১ টি কবিতা  রচিত হয়েছে। প্রথম  থেকে শেষ  পর্যন্ত এ গ্রন্থ  পাঠ  করে  পূর্বেই  বলেছি, মন অনাবিল তৃপ্তিতে ভরে যায়।

বইটির প্রথম কবিতায় মানবতাহীন এই হিংস্র পৃথিবীতে কবির চাওয়া বিশ্ব মানবের সার্বজনীন আকাংখা হয়ে ধরা দিয়েছে। কবি বলেছেন–
‘তারও আগে বৃষ্টি নামুক
আমাদের বিবেকের মরুভূমিতে
সেখানে মানবতা ফুল হয়ে ফুটুক,
আর পরিশুদ্ধ হোক ধরা,হৃদয়ের গ্লানি…
(কবিতা:“তবুও  বৃষ্টি  আসুক”)

প্রকৃতি ,প্রেম,নারী ,মুক্তিযোদ্ধা, মা এবং  সুলতা নামের এক  নারী  তার হৃদয়  ভরে রেখেছে। তাকে  কিছুতেই  ভোলা যায় না। মা তার  কাছে  অত্যন্ত  আদরের ধন। মাকে তার বারবার  মনে পড়ে।

মনে পড়ে  সুন্দরী  সুলতাকে, যে তার হৃদয়ে  দোলা দিয়েছিল। বেচারা তার জীবন, মৃত্যুহীন মৃত্যু  । তাই  তিনি  এখন ও  সুলতাকে  খুঁজেন । যার জন্য তিনি  অনন্তকাল  প্রতীক্ষায়  আছেন।  এই  প্রিয়তমা  তার হৃদয়-মন ভরে  আছে।  নদীর জল ও  তীরের মত  এক  হয়ে  মিশে  আছে । এই  প্রেম  বড়ই  স্বর্গীয় ,বড়ই  সুন্দর । একে ভোলা যায় না। প্রকৃতি  আর  সুলতা  কখন   একাকার  হয়ে  যায়  হৃদয়ে।

কাব্য গ্রন্থটি পড়ে আমার খুব ভাল লেগেছে। বইটির ছাপা অত্যন্ত সুন্দর। ধ্রুব এষের প্রচছদ  চিত্রটি  অত্যন্ত  প্রশংসনীয়।
——————–
[গ্রন্থের নাম- ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ লেখক- শফিকুল ইসলাম। প্রচ্ছদ- ধ্রুব এষ। প্রকাশক- আগামী প্রকাশনী,৩৬ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০। ফোন- ৭১১১৩৩২,৭১১০০২১। মোবাইল- ০১৮১৯২১৯০২৪।

Read more…

গীতিকবিতা-(০১)

সেদিনের সেই তুমি কত বদলে গেছ
আমার পৃথিবী আজও তেমনি আছে,
যেমন দেখেছ॥

কোথায় সেই সুর, সেই গান
প্রাণে প্রাণে এত মান অভিমান,
মনে হয় যেন তুমি আজ
সবই ভুলে গেছ॥

সেইসব দিন আজও আমায়
আকুল করে ডাকে,
যেতে যেতে পথে এখনও
আমি দাড়াই থমকে॥

আজ ও আমি যে গানে গানে
স্মরণ করি দিনগুলি মনে মনে,
জানিনা তুমি আজ
কোন পথে চলেছ॥

গীতিকবিতা-(০২)

ভুলে আছি ভাল আছি,
সেদিনের কথা আর তুলো না,
দূরে আছি, বেশ আছি
আমায় কাছে ডেকনা॥

রাতের স্বপ্ন প্রভাতে জাগরণে
তুমি আর জাগায়ো না মিছে স্মরণে,
নতুন করে আমি আর
দুঃখ পেতে চাইনা॥

স্বপন দেখতে ভাল লাগেনা এখন
স্বপন দেখলে বাড়ে জ্বালা অকারণ,
মিলনের সুখ তো আমার
কখনো প্রাণে সয়না॥

গীতিকবিতা-(০৩)

একদিন জানবে
হঠাৎ চলে গেছি পৃথিবী ছেড়ে,
বুকভরা অভিমান নিয়ে
এই বুকের ভেতরে॥

কতটা দুঃখ হতাশা নিয়ে
জীবনটা দিয়েছি আমি কাটিয়ে,
কেউ না জানুক
তুমি তো জানো ভালো করে॥

তুমি তো জানো কার কারণে
এতটা অসুখী আমি এই জীবনে,
কতটা কষ্টে
জীবন দিয়েছি পার করে॥

Read more…


[সারাবিশ্বে প্রকাশ্যে কিংবা লোকচক্ষুর অন্তরালে যারা আজ ও জনতার মুক্তি সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন, সেইসব অমিত আশাবাদী অসমসাহসী সংগ্রামী মানুষদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত]

পথ যত হোক বন্ধুর ,বন্ধু যেওনা থামি
আসবেই আসবে সুন্দর আগামী।।

আধার দেখে চমকে উঠনা ত্রাসে
আধার রাতের শেষে সূর্য হাসে-
আজ মাভৈ বানী শোনাই তোমায় আমি।

সত্যের পথ কখনও সংক্ষিপ্ত নয়
সত্যের পথ কখনও নিষ্কন্টক নয়-
জানে এ কথা পৃথিবীর সব মুক্তিকামী।

মাঝপথে তুমি থমকে দাড়িয়ে পড়না
সামনে আছে শুনে মৃত্যুর সম্ভাবনা-
মৃত্যুহীন কোন জীবন নেই এ কথা জানো তুমি।

দ্বিধাহীন চিত্তে যারা দিয়ে গেছে জীবন
তারাই পৃথিবীতে এনেছে নব জীবন-
প্রমাণ দিয়েছে তারা জীবনের চেয়ে সত্যই দামী।

দীর্ঘ পথের ক্লান্তি সইতে না পেরে
অনেকেই এ পথ হয়ত দেবে ছেড়ে-
শত বাধা বিঘ্নে বুকে আশা জ্বালিয়ে রেখো তুমি।

সত্যের পথে নেই কোন যাত্রা বিরতি
অবিশ্রান্ত পথ চলাই আনবে মুক্তি-
নতুন দিনের আমন্ত্রণ আজ জানাই তোমায় আমি।।

[গ্রন্থের নাম-"দহন কালের কাব্য"লেখক- শফিকুল ইসলাম। প্রচ্ছদ-আসলাম। প্রকাশক- মিজান পাবলিশার্স ৩৮/৪বাংলাবাজার,ঢাকা-১১০০। ফোন-৯৫১২৯৪৬,৭১১১৪৩৬। মোবাইল- ০১৫৫২৩৯১৩৪১।

Read more…


[শোষণ বঞ্চনা বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনতার সংগ্রাম চলছে,চলবে।কখনো প্রকাশ্যে কখনো অলক্ষ্যে।কখনো তীব্র কখনো মন্থর গতিতে। থেমে গেলে চলবে না।এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে বিপ্লবীর মৃত্যু আছে, বিপ্লবের মৃত্যু নেই। মানুষের মুক্তির অন্তর্নিহিত আকাংখা বিপ্লবকে চিরজীবি করে রাখবে। ]

সম্মুখে বাধা আছে, পথ বন্ধুর
তবু জানি যেতে হবে বহুদূর...॥

পায়ে ফুটুক যতই কাটা
থামলে চলবেনা এ পথ হাটা
সীমিত সময়,পথ অনেক দূর...॥

চলতে পথে শত কুমন্ত্রণা
হাসিমুখে সয়ে যত যন্ত্রণা
করতে হবে মোকাবিলা শত্রুর॥

সত্যের পথ কুসুমিত নয়
জেনেই বিপ্লবীর চলতে হয়
বিপ্লবী মন পরোয়া করেনা মৃত্যুর॥

[গ্রন্থের নাম-”দহন কালের কাব্য”লেখক- শফিকুল ইসলাম। প্রচ্ছদ-আসলাম। প্রকাশক- মিজান পাবলিশার্স ৩৮/৪বাংলাবাজার,ঢাকা-১১০০। ফোন-৯৫১২৯৪৬,৭১১১৪৩৬। মোবাইল- ০১৫৫২৩৯১৩৪১।

Read more…


--রুদ্র মোহাম্মদ ইদ্রিস
(বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার কবি শফিকুল ইসলামের অমর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত পংক্তিমালা)

তোমার ভালবাসার সুরভি
বিমোহিত করেছে আমায়,আমাদের।
বহুদিন পর অনুর্বর মৃত্তিকা ভেদ করে
উঠে আসছে নতুন আলো।
এখানে এখোন গোলাপের চাষাবাদ অবিরত
আশাহত পথিকের সামনে কে যেন দাড়িয়ে আছে
টর্চ হাতে।

আমরা তাকে এতটা চিনি না-
যারা চিনেছে তারা বলেছে শব্দভূক।
নাক্ষত্রিক রোদে শোভন অন্ধকার ভেদ করে
অসীম সাগরে সে এক নাবিক।

তোমাকে ভালবাসা যায়
খুব কাছের মনে হয় তোমাকে,
এসো তবে আজ হল্লা করি।
আউডার আড়াল থেকে বেড়িয়ে আসছে রমণীরা
সুলতার হাত ধরে,
তার সম্মানে আড্ডা হবে আজ॥

কবির জীবন ও কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ-
http://www.facebook.com/sfk505

Read more…


রুদ্র মোহাম্মদ ইদ্রিস

যখন সপ্তর্ষিমন্ডলের দিকে তাকাই
মনে হয় সেখানেও তুমি -
সগর্বে হাটছ সুলতার হাত ধরে
দ্রাঘিমার আরো উপরে-

যে হাত ছুঁয়েছে সুলতার মুখ - গ্রীবা
সে হাত স্পর্শ করেছে হিমাদ্রী।

দিনে দিনে তোমার র্কীতিস্তম্ভ
জমে উঠেছে অন্তহীন বিস্ময় নিয়ে
জ্যোতিষ্কের কক্ষপথে - তুমি অমর পথের যাত্রী।

এক সবুজ আঁচল রমণী হাটে
কবিতার পাতায় পাতায়
টর্চ হাতে - কষ্টের রাতে...

হে কবি তুমি আর সুলতা যখন
বসো পাশাপাশি মুখোমুখি
অবাক তাকিয়ে রয়
একপাশে হিমাদ্রী - অন্যপাশে সপ্তর্ষি ।।

Read more…


রুদ্র মোহাম্মদ ইদ্রিস
(শ্রদ্ধেয় স্যার কবি শফিকুল ইসলামকে নিবেদিত)

একটি নক্ষত্র অস্তমিত হলে
আমরা তার প্রস্থান পানে চেয়ে রইলাম দীর্ঘ সময়
আরো কিছু আলোক রশ্মির প্রয়োজন ছিল।

একটি সাদা বক নিজস্ব ভাষায় ডেকে নিয়ে স্বজাতিদের
ফিরে গেলো নীড়ে।

আমরা যারা নক্ষত্রের অনুজ
অর্ধমৃত অন্তরাত্মা পুড়ে
ইটভাটার ভেতর ভেতর যেমন
ঘুরপাক খায় অগ্নিরাশি।

আমাদের আহত শরীরে ক্ষতের প্রলেপ দিতে
কিছু কৃষ্ণ হাত এগিয়ে আসে
সম্মিলিত আলোর বর্ণচ্ছটায়
ওদের অস্তিত্ব ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যায় বাতাসে।

হাসতে হাসতেই আমরা বলি
হে নক্ষত্র মানব - আপনি ভালো থাকবেন,
অন্তত কাকদের কর্কশধ্বনি আর
শুনতে হবে না আপনাকে ।।

Read more…


তবুও বৃষ্টি আসুক...


বহুদিন পর আজ
বাতাসে বৃষ্টির আভাস
সোঁদা মাটির অমৃত গন্ধ-
এখনই বুঝি বৃষ্টি আসবে
সবারই মনে উদ্বেগ-
তাড়াতাড়ি ঘরে ফেরার ব্যস্ততা।
তবু আমার মনে নেই বৃষ্টি ভেজার উদ্বেগ
আমার চলায় নেই কোনো লক্ষণীয় ব্যস্ততা।

দীর্ঘ নিদাঘের পর
আকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির সম্ভাবনা
অলক্ষ্য আনন্দ ছড়ায় আমার তপ্ত মনে -
আর আমি উন্মুখ হয়ে থাকি
বৃষ্টির প্রতীক্ষায় -
এখনই বৃষ্টি নামুক
বহুদিন পর আজ বৃষ্টি আসুক।

দীর্ঘ পথে না থাকে না থাকুক বর্ষাতি -
বৃষ্টির জলে যদি ভিজে যায় আমার সর্বাঙ্গ
পরিধেয় পোশাক-আশাক-
তবুও বৃষ্টি আসুক -
সমস্ত আকাশ জুড়ে বৃষ্টি নামুক
বৃষ্টি নামুক মাঠ-প্রান্তর ডুবিয়ে।
সে অমিতব্যয়ী বৃষ্টিজলের বন্যাধারায়
তলিয়ে যায় যদি আমার ভিটেমাটি
তলিয়ে যাই যদি আমি
ক্ষতি নেই।

তবুও বৃষ্টি নামুক
ইথিওপিয়ায়, সুদানে
খরা কবলিত, দুর্ভিক্ষ-পীড়িত
দুর্ভাগ্য জর্জরিত আফ্রিকায়-
সবুজ ফসল সম্ভারে ছেয়ে যাক
আফ্রিকার উদার বিরান প্রান্তর।

তার ও আগে বৃষ্টি নামুক
আমাদের বিবেকের মরুভূমিতে
সেখানে মানবতা ফুল হয়ে ফুটুক,
আর পরিশুদ্ধ হোক ধরা, হৃদয়ের গ্লানি।

মানুষের জন্য মানুষের মমতা
ঝর্ণাধারা হয়ে যাক
বৃষ্টির সাথে মিলেমিশে -
সব পিপাসার্ত প্রাণ ছুঁয়ে ছুঁয়ে
বয়ে যাক অনন্ত ধারাজল হয়ে।

বহুদিন পর আজ
অজস্র ধারায় অঝোরে বৃষ্টি নামুক
আজ আমাদের ধূলি ধূসরিত
মলিন হৃদয়ের মাঠ-প্রান্তর জুড়ে ॥
Read more…

‘উদভ্রান্ত যুগের শুদ্ধতম কবি শফিকুল ইসলাম’
–নিজাম ইসলাম।

তারুণ্যের প্রতীক কবি শফিকুল ইসলাম। তার কাব্যচর্চার বিষয়বস্তু প্রেম ও দ্রোহ। কবিতা রচনার পাশাপাশি তিনি অনেক গান ও রচনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার। ১০-ই ফেব্রুয়ারী সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণকারী কবি শফিকুল ইসলাম প্রাক্তন মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এডিসি ও বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব। তিনি অর্থনীতি, সমাজকল্যাণ ও ইসলামিক ষ্টাডিজ-এ স্নাতকোত্তর। সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য 'বাংলাদেশ পরিষদ সাহিত্য পুরষ্কার' ও 'নজরুল স্বর্ণ পদক' প্রাপ্ত হন। প্রশাসনের ব্যস্ততম ও দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে ও তার এই নিরন্তর কাব্য সাধনা আমাদের যুগপৎ অনুপ্রাণিত ও বিস্মিত করে।

কবি শফিকুল ইসলাম একজন সার্থক কবি। সার্থক কবির সকল লক্ষণই তার কাব্য সৃষ্টিতে বর্তমান।যাহা যথার্থ কবিতা, দিব্য কল্পনা যাহাকে জন্ম দিয়াছে, অকৃত্রিম ছন্দ সৌন্দর্য তাহাকে বাহিরে ভূষিত করে এবং ভাবের গভীরতা তাহাকে অন্তরে পরিপূর্ণ করিয়া থাকে। তাহার আনন্দ কল্যাণকে আবাহন করে এবং সৌন্দর্যে তাহা জগতের নিত্যসুন্দর অনির্বচনীয় শব্দার্থসমূহের সমতুল হয়। সাধারণভাবে সংক্ষেপে সংকেত স্বরূপে বলা যাইতে পারে যে, কবিতা অনির্বচনীয় সঙ্গীতের যত সদৃশ এবং যে কবিতায় পাঠক মানবজীবনের প্রসারতা যত অধিক অনুভব করেন তাহা তত শ্রেষ্ঠ। যিনি কথার সাহায্যে একটি সুন্দর চিত্র অঙ্কিত করেন তিনি কবি; কিন্তু উচ্চতর কবি তিনি, যিনি শুধু চিত্রাঙ্কনে পরিতুষ্ট না হইয়া তাঁহার ছন্দের মর্মে মর্মে সঙ্গীতের অপূর্ব অপরূপ ঝঙ্কার গুলি আনিতে পারেন। যিনি জীবনের একটি সামান্যতম সত্যকে পরিস্ফুট ও সুন্দর করিয়া তুলিতে পারেন তিনি কবি, কিন্তু উচ্চতর কবি তিনি, যাঁহার কবিতায় সমগ্র জীবনের সুগম্ভীর বিজয়গীতি শ্রুত হয়। যিনি সত্য ও ছন্দের সাহায্যে পাঠকের মনে আনন্দ সৃজন করেন তিনি কবি, কিন্তু উচ্চতর কবি তিনি, যাঁহার আনন্দ এত স্বাভাবিক ও যথেষ্ট যে পাঠক কণামাত্র আস্বাদন করিয়া বুঝিতে পারেন, আমি আগন্তুক মাত্র, আমার অপেক্ষা কবির নয়ন অশ্রুতে অধিক সমাকীর্ণ। আমার অপেক্ষা কবির হাস্য আনন্দে অধিক উদ্ভাসিত।

উচ্চতর কবির এই সমস্ত লক্ষণই আমরা কবি শফিকুল ইসলামের যথেচ্ছ দৃকপাত দেখিতে পাই। আমরা প্রসঙ্গক্রমে কবি শফিকুল ইসলামের যে সমস্ত পদ ও শ্লোক উদ্ধৃত করি তাহাতেই প্রমাণ করে, কবির কাব্য ছন্দের ঝঙ্কারে কি অপূর্ব সুললিত- তাহা যেন সঙ্গীতের আবেশে আপনা-আপনি গলিয়া পড়িতেছে। তাহা রসে মাধুর্যে অনির্বচনীয়।

কিন্তু আমরা যে কবির জন্য উচ্চতম কবির সিংহাসন দাবি করিতেছি, যে কোন লক্ষণে নির্ভর করিয়া? আমাদের মনে হয় উচ্চতম কবি তিনি,- যাহাঁর কাব্য অতিমাত্র ব্যাপক, যাহা নিজে শান্তং শিবম্‌ অদ্বৈতম্‌। যাহার শিক্ষা- নাল্পে সুখমস্তি, যো বৈ ভূমা তৎ সুখম্‌। যাহা বিশ্বপ্রকৃতি ও বিশ্ব মানবের সহিত একাত্ম, যাহার মধ্যে জগতের নাড়ীস্পন্দন স্পন্দন স্পষ্ট অনুভূত হয়, যাহা সামান্যতা পরিহার করিয়া ভূমানন্দের অন্তরঙ্গ আত্মীয়রূপে প্রকাশিত হইয়া উঠে, যাহা মানবের মনকে আমিত্ব পরিহার করিয়া বিশ্বের দিকে প্রসারিত করিয়া দেয়, যাহা বিশ্বের ভিতর দিয়া মানব-মনকে বিশ্বেশ্বরের চরনপদ্মের অভিমুখীন করে।

বিখ্যাত ফরাশী সমালোচক স্যাঁৎ বিউবও প্রকারান্তরে এই কথাই বলিয়াছেন যে, ঈশ্বর, প্রকৃতি, প্রতিভা, কলাচাতুর্য, প্রেম ও মানবজীবন – প্রধানত এই ছয়টি শ্রেষ্ঠ কবিতার মূল উপাদান।
বিশ্বকাব্যের অনাদি কবির লীলায় আমরা দেখিতে পাই ইথারীয়েলEthereal-কে টেনজিবল Tangible- এর মধ্যে, Spiritস্পিরিট-কে Matterম্যাটার- এর মধ্যে, অসীমকে সীমার মধ্যে ধরিয়া প্রকাশ করা। শ্রেষ্ঠ কবির গীতি কবিতাতেই সম্ভবপর। তাহাতে মানব-মনের সকল কালের ও সকল অবস্থার চিত্র পরিস্ফুট করিয়া তোলা যায়। কবি শফিকুল ইসলামের বেলায়ও তার ব্যতিক্রম নয়।

[ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার প্রাক্তন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার কবি শফিকুল ইসলামের হাতে(ছবিতে সর্ববামে) নজরুল স্বর্ণপদক তুলে দিচ্ছেন সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলার ডঃ এ এস এম মেশকাত উদ্দিন]

কবি শফিকুল ইসলামের হাতে প্রকৃতির সকল বৈচিত্র সমাহৃত হইয়া কবির হাতে নূতন রূপে রূপায়িত হইয়া উঠিয়াছে। তুণাঙ্কুর ধুলিকণা শিশিরকণাটি পর্যন্ত নব নব শ্রী ও সম্পদ লাভ করিয়াছে। কবি পাঠকের মনেও সৃজনী-মাধুরীর প্রত্যাশা করিয়া তাঁহার সৃষ্টিকে ব্যঞ্জনাময়ী করিয়াছেন- ছবির আদ্‌রা আঁকিয়া কবি পাঠককে দিয়াছেন তাহার নিজের মনের রং দিয়া ভরিবার জন্য।কবি কবিতাকে নব নব রূপ দান করিয়াছেন। তিনি নিজের সৃষ্টিকে নিজেই অতিক্রম করিয়া নূতন রূপসৃষ্টি করিয়াছেন। কবি নব নব ছন্দ আবিস্কার করিয়াছেন। তাঁহার বাগবৈভবে ও প্রকাশ ভঙ্গিমায় কবি মানসের যে একটি অভিনব রূপ তিনি প্রকাশ করিয়াছেন তাহা বিস্ময়কর।

কবি শফিকুল ইসলাম তার কাব্যগ্রন্থ "তবুও বৃষ্টি আসুক" থেকে শুরু করে "শ্রাবণ দিনের কাব্য" "মেঘ ভাঙা রোদ্দুর" "দহন কালের কাব্য" "প্রত্যয়ী যাত্রা" ও "একটি আকাশ ও অনেক বৃষ্টি" সহ আরো কিছু কাব্যগ্রন্থে জগতবাসীর সৌভাগ্যক্রমে কবি প্রিয়ার কাঁকনস্পর্শে হাজার গীতে কবির কল্পনাটি ফাটিয়া পড়িয়াছে, নয়ন-খড়গে প্রেমের প্রলাপের বন্ধন ছিন্ন হইয়া গিয়াছে। এই প্রেম সমস্ত বিশ্বপ্রকৃতি ও বিশ্বমানবকে বুকে করিয়া ভূমার দিকে পরম আনন্দে বহন করিয়া লইয়া গিয়াছে।

সকল স্রষ্টার সৃজনীপ্রতিভা যে ভাবে ক্রমবিকাশ লাভ করে কবি শফিকুল ইসলাম প্রতিভার বিকাশও সেই ভাবেই হইয়াছে। প্রথম যৌবনে অন্তর্গূঢ় প্রতিভার বিকাশ-বেদনা তাঁহাকে আকুল করিয়াছে– তখন কুঁড়ির ভিতর কেঁদেছে গন্ধ আকুল হয়ে, তখন ‘কস্তুরীমৃগসম’ কবি আপন গন্ধে পাগল হইয়া বনে বনে ফিরিয়াছেন। প্রথম জীবনের রচনায় এই আকুলতার বাণী, আশার বাণী, উৎকন্ঠা, উচ্চাকাঙ্খা, সংকল্প, ক্ষনিক নৈরাশ্যে আত্মসাধনা, মহাসাগরের ডাক, বাধা বিঘ্নের সহিত সংগ্রাম ইত্যাদির কথা আছে।

বাস্তবিক কবি শফিকুল ইসলামের সমস্ত রচনার মধ্যে এই সীমাকে উত্তীর্ণ হইয়া অগ্রসর হইয়া চলিবার একটি আগ্রহ ও ব্যগ্র তাগাদা স্পষ্টই অনুভব করা যায়। যাহা লব্ধ তাহাতে সন্তুষ্ট থাকিয়া তৃপ্তি নাই, অনায়ত্তকে আয়ত্ত করিতে হইবে, অজ্ঞাতকে জানিতে হইবে, অদৃষ্টকে দেখিতে হইবে- ইহাই কবি শফিকুল ইসলামের কথা।
সাধারণ কবিদের মত তিনি ভাববিলাসিতায় ভেসে যাননি। ভাবের গড্ডালিকা প্রবাহে নিজেকে অবলুপ্ত করে দেননি। প্রকৃত কবির মত তার কবিতায় কাব্যিক মেসেজ অনায়াসে উপলব্ধি করা যায়। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগতে পারে কি সে মেসেজ? তার কাব্যসৃষ্টিতে সাম্য, মৈত্রী ও মানবতার নিগূঢ় দর্শন অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মত প্রবহমান। তার ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতায় কবি বলেছেনঃ-

“তারও আগে বৃষ্টি নামুক আমাদের বিবেকের মরুভূমিতে,
সেখানে মানবতা ফুল হয়ে ফুটুক-
আর পরিশুদ্ধ হোক ধরা, হৃদয়ের গ্লানি…”
(কবিতাঃ ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’)

পংক্তিগুলো পাঠ করে নিজের অজান্তে আমি চমকে উঠি। এতো মানবতাহীন এই হিংস্র পৃথিবীতে বিশ্ব মানবের অব্যক্ত আকাংখা যা কবির লেখনীতে প্রোজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে। এতো শুধু কবির কথা নয়, এতো একজন মহামানবের উদ্দীপ্ত আহ্বান। তার কবিতা পাঠে আমি অন্তরের অন্তঃস্থলে যেন একজন মহামানবের পদধ্বনি শুনতে পাই। যিনি যুগ মানবের অন্তরের অপ্রকাশিত আকাংখা উপলব্ধি করতে পারেন অনায়াসে আপন অন্তরের দর্পনে। তাই তিনি বিশ্ব মানবের কবি। বিশ্বমানবতার কবি।

বৈদিক যুগে ইতরার পুত্র মহীদাস যেমন তূর্যকন্ঠে আহ্বান করিয়াছেন- চরৈবেতি, চরৈবেতি- চলো, চলো– শফিকুল ইসলামও তেমনি করিয়া ক্রমাগত সীমা অতিক্রম করিয়া সকল বাধা উত্তীর্ণ হইয়া সুদূরের পিয়াসী হইয়া চলার বাণী ঘোষণা করিয়াছেন।

ফুল যখন ফুটিয়া উঠে, তখন মনে হয় ফুলই যেন গাছের একমাত্র লক্ষ্য, যেন সে বন-লক্ষ্মীর সাধনার চরম ধন। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে সে ফল ফলাইবার একটা উপলক্ষ মাত্র। খন্ডের মধ্যে সময়ের তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায় না। বর্তমান হইতেছে ক্ষুদ্র খন্ড ক্ষুদ্র-ভূত ও ভবিষ্যতের মধ্যে হাইফেন মাত্র। একাকী তাহার মধ্যে কোন তাৎপর্য নাই। কিন্তু সমগ্র জীবন জীবন-অতীত বর্তমান ভবিষ্যত মিলাইয়া যে সমগ্র জীবন তাহার মধ্যে তাৎপর্য পাওয়া যায়। অনাদি কাল হইতে বিচিত্র বিস্মৃতি অবস্থার মধ্য দিয়া জীবনদেবতা কবিকে এই বর্তমান অবস্থায় উপনীত করিয়াছেন। কবি কাজ করিয়া যান, কিন্তু সেই কাজের মধ্যে খন্ড-পরস্পরার মধ্যে তিনি কোনো তাৎপর্য খুজিয়া পান না। কেবল তাঁহার অন্তর্যামী, যিনি তাঁহার ভূত ভবিষ্যত ও জন্ম-জন্মান্তর মিলাইয়া তাঁহাকে চালনা করিতেছেন, তিনিই তাঁহার সমগ্র জীবনের স্বার্থকতা বুঝিতে পারেন।

জীবনদেবতা জীবনের ক্ষুদ্র স্বার্থ হইতে কখনো কখনো জীবনকে অন্য দিকে লইয়া যান, তখন লোকে ভাবে যে তাহার জীবন বুঝি ব্যর্থ হইয়া গেল, কিন্তু জীবনদেবতাই আবার সেই জীবনকে স্বার্থকতার মধ্যে ফিরাইয়া লইয়া আসেন, সমস্ত বিফলতার মধ্য দিয়া তিনি চরমের দিকে লইয়া যান। কবি তখন নিজের মিলন ও বিরহের মধ্যে বিশ্বের মিলন ও বিরহ দেখিতে পান, তিনি জীবন দেবতার প্রেম দিয়া তাঁহার বিশ্ব প্রেমের রাগিণীর সাধনা করেন। যখন তিনি নিজের জীবনের সার্থকতা খুঁজিয়া পাইবেন, তখন জীবন দেবতার সহিত তাঁহার সম্পূর্ণ মিলন ঘটিবে– তাঁহাদের মধ্যে কোনো বিভিন্নতা থাকিবে না, তখন কবি নিজের মধ্যেই জীবনের সুন্দরকে খুঁজে পাইবেন, তাঁহাকে আর অন্যত্র খুঁজিতে হইবে না। কারণ পূর্ণ সার্থকতা লাভ হইলে অন্বেষণের বিরাম হইবে এবং অন্বেষণ-বিরতির অর্থ-ই পূর্ণ সার্থকতা লাভ। কবি শফিকুল ইসলামের বেলায় ও এর প্রত্যেকটা কথাই যথার্থ।
—————————
ভিজিট করুনঃ–
http://www.facebook.com/sfk505

Read more…


“অন্ধকারের বনলতা সেন ও আলোকিত সুলতা”
–ডঃ সৈয়দ এস আর কাশফি

বাংলা সাহিত্যে কবি জীবননান্দ দাশের কাব্যনায়িকা বনলতা সেন। তাকে নিয়ে অতীতে অনেক মাতামাতি হলে ও বিষয়টি এখন থিতিয়ে পড়েছে। প্রাচীন যুগের আবহে যে বনলতাকে তিনি উপস্থাপন করেছেন সে পরিবেশ আজ আর নেই। আজ আর কেউ অন্ধকারে দয়িতার সাথে সাক্ষাৎ করতে যায় না। প্রেম আজ আর কোন গোপনীয়তার ধার ধারে না। তরুণ-তরুণীর প্রেম আজ প্রকাশ্য দিবালোকে প্রতিষ্ঠিত। এ জন্য সন্ধ্যার অন্ধকারের অপেক্ষা করতে হয় না। তাই আজ আধুনিক যুগের কাব্য নায়িকা সুলতার জয়জয়কার সর্বত্র।

কবি শফিকুল ইসলামের “তবুও বৃষ্টি আসুক” অনন্য সুন্দর কাব্যগ্রন্থে ‘সুলতা প্রসঙ্গ’ অনন্য কাব্যরস সৃষ্টি করেছে। কবির ব্যাকুল মন সুলতার মাঝেই অন্তহীন প্রেম খুঁজে বেড়িয়েছে ও আশা নিরাশার দ্বন্ধে আন্দোলিত হয়েছে । এখানে কবির কাব্য প্রেয়সী সুলতা এক অনিন্দ্য মাধুরীময় নারী। প্রেমিক যখন হৃদয়ভরা প্রেম নিয়ে তার প্রেমাস্পদকে খোঁজেন তখন ঐ অপরূপা তুলনাহীনার জন্য তার মনে জন্ম নেয় হাজারো আশা নিরাশার গুঞ্জরণ। তেমনি “তবুও বৃষ্টি আসুক” কাব্যে কবির মনে সুলতার জন্যে জন্ম নিয়েছে আশা নিরাশার দ্বন্ধ এবং তাকে পাওয়ার ব্যাকুল আগ্রহ। যেমন তিনি গভীর দরদমাখা বাক্যে বলেছেনঃ–
“সুলতা তুমি এসে আমাকে
মুক্ত করে আলোতে নিয়ে যাও
অনন্তকাল আমি তোমারই প্রতীক্ষায় আছি”।
(সুলতা, আজ তুমি কোথায় জানি না)

কবি জীবনানন্দ দাশের মনে যেমন আঁচল ফেলেছিল একজন বনলতা সেন,কবি ফখরুখ আহমেদের মনে যেমন ঠাঁই নিয়েছিল একজন দিলরুবা । কবি র‌্যাবোর মনে যেমন প্রেমের জোয়ার এনেছিল একজন আফেলিয়া এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মনে যেমন ঝংকার তুলেছিল একজন নীরা তেমনি কবি শফিকুল ইসলামের মনে কবিতার ডানা মেলে উড়ে চলেছে একজন সুলতা। হৃদয়ের একান্ত আপন সুলতা । ভালবাসার একান্ত আপন সুলতা। কবি জীবননন্দ দাশ যেমন বলেছেনঃ–
“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে
সিংহল সমূদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি, বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি,আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক,চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন
আমারে দূ-দন্ড শাস্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন”।

তেমনি কবি শফিকুল ইসলাম বলেছেনঃ–
“সুলতা বহুদিন পর আজ
তোমার উদ্বেগভরা কোমল হাতের স্পর্শ পেলাম।
আমার তপ্ত ললাটে কোমল হাত ছুয়ে
তুমি পরখ করে নিলে আমার জ্বরের মাত্রা।
আর তোমার যাদু-স্পর্শে আমি যেন তখন থেকেই
একটু একটু করে আরোগ্য হয়ে উঠলাম।”
(সুলতা, বহুদিন পর আজ)

দিলরুবার প্রতি কবি ফখরুখ আহমেদ যেমন বিমোহিত এবং তার ব্যাকুল মনের সুরঃ–
“বল কোন শাহবাদে অপরূপ সওদাগরজাদী
গোলাপ কুড়িঁর মতন মেলেছে রূপের মুক্তাদল
অমা অন্ধকার যার কেশপাশে রয়েছে বিবাদী”।

তেমনি সুলতার জন্য কবি শফিকুল ইসলামের মানসপটে ও আঁখির আঙিনায় এমনি এক অপরূপ আদল জন্ম নিয়েছে যা এ পৃথিবীর হাজারো মুখ দেখেও বিস্মৃত হয়না, হবার নয় এবং একজন একান্ত সুলতাই অন্তরে জাগ্রত থাকে এবং বারবার তাকেই ফিরে পেতে চায়। এমনি এক অপরূপা তুলনাহীনা সে । তাইতো কবি ব্যাকুল উচ্চারনঃ–
“ভালবাসা চিরদিনই অপরাজেয়”
এই ধ্রুব সত্যের সত্যতা রক্ষার জন্য
না হয় তুমি ফিরে এসো।
সুন্দর একটি পৃথিবীর নামে
আমি তোমাকে আহ্বান করছি-
একটি মুমূর্ষু হৃদয়কে বাঁচানোর নামে
আমি তোমাকে আহ্বান করছি,
একটি সুন্দর আগামীর নামে
আমি তোমাকে আহ্বান করছি,
তুমি ফিরে এসো-
আর কোন দ্বিধা নয়
চলে এসো তুমি
এই ভালবাসাকে ভালোবেসে”
(সুলতা, এখনও সময় আছে)

কবি র‌্যাবো ,একজন অফেলিয়া যিনি তার কাব্য প্রেয়সী তারই প্রেমে হয়েছিলেন আকুল। মানসপটে অহরহ দেখতে পেতেন শান্ত আর কালো কালো ঢেউয়ের ওপরে নত্রেরা যেখানে ঘুমায়,সেখানে বিশাল কুমুদীর মতো সাদা অফেলিয়া ভাসে ,ভেসে চলে খুব ধীরে ধীরে ,শুয়ে তার দীর্ঘ ওড়নায় । তেমনি কবি শফিকুল ইসলামের মনের গভীরেও সুলতার প্রতিচছবি যা ভোলা যায়না । তিনি ভোলেন না । বিস্মৃতির আচড় থেকে সুলতা বহু বহু দুরেই থেকেই যায় । তাইতো কবির উচ্চারনঃ–
“সুলতা তোমার কাছে
আমার অনেক অপরিশোধিত ঋণ
তোমার রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো আমার
জীবনে অমূল্য সম্পদ”।
(সুলতা তোমার কাছে)

“তবুও বৃষ্টি আসুক” কাব্যে সুলতা এমন এক অপরূপা নারী যা কবি শফিকুল ইসলামের সমগ্র কাব্যমন জুড়ে জড়িয়ে আছে । জড়িয়ে আছে কবির চোখের কার্নিশ, জুড়িয়ে আছে কবির মনের প্রান্তর । আঁখির আঙিনা থেকে মনের উঠান সর্বত্র শুধূ সুলতার আদল কবিকে করেছে মুগ্ধ । তাই কবির মননে মগজে একমাত্র সুলতা। শুধুই সুলতা ,হৃদয়ের ভাজে ভাজে কেবলই সুলতা।তাই কবির সহজ উচ্চারনঃ–
“আমার দুচোখ জুড়ে সারাক্ষণ
তোমারই মুখচছবি ভাসে
আমার বুক জুড়ে তুমি শুধু তুমি”
(প্রিয়তমা বল কি করে)

কবি জীবনানন্দ দাশ বনলতা সেনের সৌন্দর্য বর্ননায় বলেছিলেনঃ–
“চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা
মুখ তার শ্রাবন্তির কারুকার্য”…
(বনলতা সেন)
এখানে জীবনান্দ দাশ বনলতা সেনের চুলে ও মুখে সৌন্দর্য খুঁজে বেড়িয়েছেন এবং উপমায় তা প্রকাশ করেছেন । অন্যদিকে কবি শফিকুল ইসলাম সুলতার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বলেছেনঃ–
“তোমার দেহের প্রতিটি বাঁক
অঙ্গের ভাজে জমে থাকা এতটুকু মেদ
সবই আমার মুখস্থ
সারাক্ষণ তোমার সৌন্দর্য আমি আবৃত্তি করি”।
(প্রিয়তমা বল কি করে)

অন্য এক জায়গায় তিনি আরো বলেনঃ–
“এখনও মনে পড়ে যেন
অবিকল তার চেহারা,
সেই হুবহু মুখের আদল
ভ্রু-ভঙ্গিমা ,পটল চোরা চোখ
গোলাপ পাপড়ির মত
রাঙা ঔষ্ঠরেখা,
শাওন -মেঘ কালো চুলের বন্যা,
সবই মনে পড়ে
দাড়ি-কমা ,সেমিকোন
প্রতিটি যতিচিহ্ন সহ।
তার প্রতিটি কথা যেন
বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতার
এক একটি পংক্তি,
তার কন্ঠস্বরের উত্থান পতন
যেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সংগীত,
তার যৌবনভরা সুগঠিত দেহ
যেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য”।
(আকাশের মেঘও এক সময়)

এখানে কবির হৃদয়ে এমনি এক প্রেমিক পুরুষ খুঁজে পাওয়া যায় যিনি সুলতার সৌন্দর্যের দরিয়ায় আকন্ঠ ডুবে । সুলতার সৌন্দর্য আঁখির পেয়ালা ভরে পান করেছেন । একজন কবি হাফিজ যিনি তার প্রিয়ার গালের একটি তিলের জন্য সমরকন্দ কিংবা বোখারা অনায়াসে বিলিয়ে দিতে পারেন । সেই প্রিয়ার বিরহে কবির হাল কতটা বেহাল হয়ে পড়েছিল সে উচ্চারন আমরা জোরালোভাবে পাইনা কিন্তু “তবুও বৃষ্টি আসুক” কাব্যে ঠিকই খুঁজে পাওয়া যায় । একজন সুলতাকে না পাওয়ায় কবির ব্যাকুল হৃদয় কতটা বিদগ্ধ কতটা বিহ্বল । তাইতো তার অন্য রকম উচ্চারনঃ–
“তুমি তো জাননা
তুমিহীন সুস্থ্য জীবনে আমি কতটা অসুস্থ
তুমি জাননা
তোমার সান্নিধ্য সুখের অভাবে
আমি কতটা অসুখী
তুমিহীন আমার জীবনে
নেমে আসে মৃত্যুহীন মৃত্যু।”
(সুলতা, বহুদিন পর আজ)

তিনি আরো বলেছেনঃ–
“সুলতা যে দিন তুমি
আমায় ছেড়ে চলে গেলে
তখন থেকে এ ঘর
আমার কাছে কারাগার
আমার সমস্ত দিন
কখন নিরবিচ্ছিন্ন অন্ধকার রাতে
পর্যবসিত হয়ে যায়
তুমিহীনতায়”
(সুলতা তোমার মত)

কবি শফিকুল ইসলামের উপরের কাব্যাংশ পারস্যের বিখ্যাত কবি মাওলানা রুমীর কয়েকটি পংক্তিকে মনে করিয়ে দেয়। সেগুলোঃ–
(১) প্রেম মহব্বতে ব্যথা কষ্ট কেশ দূর হয়। প্রেম মহব্বতে অসুখ সুখ হয় ।
(২) প্রেম মহব্বতে জেলখানা ফুলবাগান মনে হয়। মহব্বতের অভাবে ফুল বাগানও কন্টকময় জঙ্গল বলে মনে হয় ।
(৩) প্রেম মহব্বতে অসুস্থ সুস্থ হয় । প্রেম মহব্বতে আজাব রহমত হয়।

সুলতার প্রতি কবি শফিকুল ইসলামের ভালবাসা অন্তিমে আধ্যাত্মিক প্রেমের মূল উপকরণে বিলীন হওয়াকে মনে করিয়ে দেয়। যে প্রেমে সুফীগণ খোদার সঙ্গে আপন সত্তায় মিলন ঘটান অনেকটা সেরকম প্রেমের ঝংকার কবি শফিকুল ইসলামের কবিতায় পাওয়া যায় । যেমনঃ–
“তুমি বিশাল আকাশ হয়ে
আমার পৃথিবী ঘিরে আছ,
তুমি নদীর স্রোতধারার মতো অবিচেছদ্য
ঢেউয়ের মতো অবিভাজ্য আমার জীবনে,
আমার জীবন আর তুমি
নদীর জল আর তীরের মতো
এক হয়ে মিশে আছ।
আমার প্রেম আর কবিতার মতো
এক হয়ে মিশে আছো তুমি
আমার চিত্তে”।
( প্রিয়তমা, যখন দেখি তুমি নেই)
সর্বদিক থেকে সুলতা একটি সার্থক কাব্য চরিত্র যা কালোত্তীর্ণ ও কাব্য মধুর।

আরো জানতে ভিজিট করুনঃ–
http://www.somewhereinblog.net/blog/sfk505

Read more…

কবি জীবনানন্দ দাশ ও তার ‘বনলতা সেন’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে একটি বহুল আলোচিত বিষয় । তার কাব্যে কারণে-অকারণে তরু-গুল্ম-লতা-পাতা ঝোপঝাড়ের এত বর্ণনা পাওয়া যায় যে তাকে কবি না বলে একজন অকৃত্রিম বনসংরক্ষক বা ফরেষ্ট গার্ড বলে ভ্রম হতে পারে। বাংলাভাষার কোন কবির সম্ভবত এত গাছপালার নাম-ধাম জানা নেই।

তারই রচিত ‘বনলতা সেন’ বাংলা সাহিত্যে একটি বহুল আলোচিত কবিতা। বহুল আলোচিত বলেই এর ব্যাপক বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন থেকে কবিতাটি একইভাবে পাঠ করা হচ্ছে। বেশীরভাগ পাঠক কবিতাটি সম্পর্কে পূর্ব-ধারণা নিয়ে কবিতাটি পাঠ করছেন। যার ফলে কবিতাটি তার বহুমাত্র্র্রিক ব্যাখা-বিশ্লেষণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’বনলতা সেন’কে ঘিরে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন নীচে তুলে ধরলামঃ-

বনলতা সেন কি নারী না পুরুষ কবিতটিতে তা স্পষ্ট নয়।”অন্ধকার বিদিশার নিশার মত চুল” এবং “শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মত মুখ” এবং “পাখীর নীড়ের মত চোখ” নারী/পুরুষ যে কারো থাকতে পারে। বরং দীঘল কেশ,কাজল-টানা চোখ এর কথা উল্লেখ থাকলে বনলতা সেন যে আসলেই একজন নারী তা নিশ্চিত হওয়া যেত।
পুরো কবিতায় বনলতা সেন কর্তৃক কোন রমণীয় পোষাক যেমন, শাড়ীর আচল, স্তন-আবরণী উড়না/উত্তরীয় এসবের বর্ণনা নাই। এছাড়া কোনরকম প্রসাধনী/অলংকার ব্যবহারের বর্ণনা নাই। বাঙালী নারী প্রসাধন-প্রিয়,বিশেষ করে সুন্দরী নারীরা এ ব্যাপারে আরো সচেতন। বনলতা সেন পুরুষ বলেই কি এসব কবির নজরে আসেনি ?

পাখীর নীড় বলতে আমরা দেখি, কুড়িয়ে আনা খড়কুটোর নিশ্চল নিষ্প্রাণ বিবর্ণ স্তূপ।কাজেই পাখীর নীড়ের মত চোখ বলতে চোখে-ছানিপড়া ভাবলেশহীন বৃদ্ধার চোখের কথাই মনে আসে।

 “অন্ধকার বিদিশার নিশার মত চুল” এবং “শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মত মুখ” সার্বজনীন উপমা কিনা? [সোনালী চুল ইংরেজদের প্রিয় এবং সরল মুখশ্রী অনেকের পছন্দ]
 “অন্ধকার বিদিশার নিশা” দ্বারা নিষ্প্রদীপ বিদিশা নগরীকে বুঝায় না। কাজেই ঘন-কালো চুলের উপমা হিসেবে এটা সঠিক নয়।
 অন্ধকারে বনলতার সাথে সাক্ষাৎ করে বনলতার সৌন্দর্য সম্পূর্ণ অবলোকন করা সম্ভব কিনা?

 বনলতা সেনের প্রতি কবির প্রেম কি একতরফা?
বনলতা কি শুধুই সৌন্দর্যময়ী না প্রেমময়ী? বনলতা সেন চরিত্রে প্রেম ও সৌন্দর্যের অসম সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হয়।
 জীবনানন্দের প্রতি বনলতা সেনের প্রকৃতই প্রেম নাকি একজন চরম হতাশাগ্রস্থ পুরুষের প্রতি সহানুভূতি?
 শুধু চুল,মুখ ও চোখের বর্ণনা নারী দেহের সৌন্দর্য বর্ণনার জন্য যথেষ্ট কিনা ? নারী দেহের আকর্ষণীয় প্রত্যঙ্গ যেমন, বিল্ব স্তন, পদ্মযোনী, গুরু নিতম্ব এসব বর্ণনার অনুপস্থিতি কি তার নারী-সৌন্দর্যের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় না?
 কবি বনলতা সেনকে কেন অন্ধকারে আকাঙ্খা করেন? [ ডঃ আকবর আলী, প্রাক্তন উপদেষ্টা,তত্ত্বাবধায়ক সরকার টিভি চ্যানেলে একই প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন]

 বনলতা কি বিবাহিতা না কুমারী? কবির সাথে এই সম্পর্ক কি পরকীয়া?
 কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিলেন বনলতা সেন, এই শান্তি কি শুধুই মানসিক নাকি মনোদৈহিক?
 নাটোরের বনলতা সেন কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিলেন,তবে কবি আর কোথায় শান্তি পেতে ব্যর্থ হয়েছেন?
 হাজার বছরের ক্লান্ত কবি মাত্র দুদন্ড শান্তি পাওয়ার কথা অতৃপ্তির সাথে অভিমান-ভরে জানিয়েছেন। কবির এই অপূর্ণ প্রাপ্তির বেদনা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে। কবিতাটিতে প্রাপ্তির চেয়ে প্রত্যাশাই প্রধান্য পেয়েছে।
 নাটোরের বনলতা সেন এর সাথে কবির কি নাটোরেই দেখা হয়েছিল নাকি অন্য কোথাও…
 কবি যে সময়ের নাটোরের বনলতা সেন এর কথা বলেছেন সে সময়ে নাটোরে সেন বংশীয়া সম্ভ্রান্ত সুন্দরী রমণী বসবাস করতেন বলে জানা যায় না।

 “বনলতা সেন” কবিতা জুড়ে একজন পর্যটকের বর্ণনা প্রাধান্য পেয়েছে নাকি একজন প্রেমিকের উচ্ছাস প্রাধান্য পেয়েছে?
 কবি কি শুধুই ভ্রমণ-ক্লান্ত ছিলেন নাকি দেহে-মনে অতৃপ্ত ছিলেন?
 বনলতার সাথে কবির এই মিলন দুটি অসমবয়সী নর-নারীর মিলন কিনা,কারণ দীর্ঘ পথচলার শেষে কবি বনলতা সেনের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। আর সেজন্যই কি অসমবয়সী কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েই বনলতা সেন আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন?
 কবি কি শেষ পর্যন্ত একজন প্রত্যাখাত পুরুষ ? জীবনানন্দ ছিলেন দাশ বংশীয় আর বনলতা ছিলেন সেন বংশীয়া- এ জন্যই কি বননলতা অসবর্ণ সম্পর্কে সম্মত হননি।

 কবিকে বনলতা সেনের তির্যক প্র্রশ্ন– এতদিন কোথায় ছিলেন’? বনলতা সেন কি কবিকে সন্দেহ করতেন? মনে হয় অন্ধকারে সাক্ষাৎ করতে আসায় বনলতা সেন কবির উপর খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন।
 বনলতা সেন কবিকে খুব বেশী ভালবাসতেন বলে মনে হয় না। কারণ কবি এতদিন কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে ও কেমন ছিলেন জানতে চাওয়া হয়নি। কাজেই দীর্ঘ অদর্শনের পর নায়ক-নায়িকার আবেগময় সাক্ষাৎ এখানে অনুপস্থিত।
 বনলতা সেন কি কবিকে অনাগ্রহের সাথে বরণ করেছিলেন ,না হয় মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে সাদর অভ্যর্থনার বর্ণনা কবিতাটিতে অনুপস্থিত কেন?
 অন্ধকারে কবির উপস্থিতি টের পেয়ে ও বনলতা কেন প্রদীপ জ্বালেননি ? অন্ধকারের সাক্ষাৎ পর্বটি প্রচলিত নৈতিকতা-বিরোধী কিনা?

 “ডানায় রোদের গন্ধ মুছে ফেলে চিল”–’রোদের রঙ’ এর জায়গায় ‘রোদের গন্ধ’ লেখার মত ভুল তথ্য কি একজন কবির কাছ থেকে আদৌ প্রত্যাশিত ? কবি কি বর্ণান্ধ ছিলেন?
 তাছাড়া কবির চিন্তাধারায় যথেষ্ট অসামঞ্জস্যতা বিদ্যমান। হাজার বছর পথ হাটার কথা বলে পরক্ষণেই জলপথে সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগরের বর্ণনা দিয়েছেন। মনে হয় কবি চিন্তার খেই হারিয়ে ফেলেছেন।
 মালয় সাগরের আদৌ কোন ভৌগলিক অস্তিত্ব আছে কিনা? এখানে কবির ভৌগলিক জ্ঞানের দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়।

 কবির ভৌগলিক বর্ণনা প্রাচীন এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সীমিত — তাহলে এই বর্ণনা কিভাবে সকল দেশ কালের পুরুষের প্রতিনিধিত্ব করে? এটি এশিয়াবাসী হতাশাগ্রস্থ পুরুষের নারীর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ।
 বনলতা সেন কবিতায় সাগর,সবুজ ঘাসের দ্বীপ,হালভাঙা নাবিক,নদীর উল্লেখ থেকে সমুদ্রগামী জাহাজে দীর্ঘদিন নারীসঙ্গবর্জিত নাবিকদের কথা মনে আসে। এটি স্থলভাগের পুরুষের স্বগতোক্তি কখনো নয়। সার্বজনীন পুরুষ এখানে অনুপস্থিত।
 কবি মাত্র্র হাজার বছর পৃথিবীর পথে হেটেছেন– এ দ্বারা কবি হাজার বছরের পুরুষের কথাই বলেছেন,বক্তব্যটি সর্বকালের পুরুষকে ধারণ করেনি।
 কবিতাটিতে আদিম যুগের শিকারী ও শিকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। পুরুষ শিকারী তার নারী শিকারকে খুজে বেড়ায়। এখানে ও নারী পুরুষের অসম আচরণ পরিলক্ষিত হয়। অর্থ্যাৎ পুরুষ সকর্মক নারী অকর্মক/নিষ্ক্রিয়।
 ‘মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন’ থেকে বোঝা যায় কবি ও বনলতা সেন সম্ভবত খুব ঘনিষ্ট ছিলেন না, না হলে উভয়ে পাশাপশি না বসে মুখোমুখি বসেছিলেন কেন? অর্থ্যাৎ বনলতা সেন কবির থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।

 বনলতা সেন চরিত্রটি (সুন্দরী,অহংকারী,পুরুষবিদ্বেষী যিনি পুরুষকে দুদন্ড শান্তি দিয়েই ছুড়ে ফেলে দেন এবং স্থায়ীভাবে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক) যা সুন্দরী নারীদের বহুগামীতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেয়।
 জীবনানন্দ চরিত্রটি (ভীতু,হতাশাগ্রস্থ,অতিমাত্রায় নারীপ্রেমিক যিনি নারীকেই শান্তি-স্বরূপা বলে মনে করেন,ঈশ্বর কিংবা প্রকৃতি তাকে কোন শান্তি দিতে পারে না) যিনি নারীর নিকট কাতর আবেদন-নিবেদনে অভ্যস্ত এবং নারীকে স্থায়ীভাবে অধিকার করতে জানেন না।
 বনলতা সেন কবিতায় ধূসর জগত,অন্ধকার বিদিশার নিশা,থাকে শুধু অন্ধকার– এসব বর্ণনা থেকে বলা যায় এটি একটি বিবর্ণ বর্ণের কবিতা।

 তাই সবশেষে বলা যায় হাজার বছর ধরে অনোন্যপায় পুরুষ যে নারীর আকাংখা করে এসেছে তাকে না পেয়ে কল্পনায় কিছু সুখ খুজে নিয়ে বাচতে চেয়েছে। একজন কবি হযত হাজার বছর নারীর সন্ধান করে ক্লান্ত হয়ে বনলতা সেন এর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন কিন্তু একজন প্রকৃত নারীর সন্ধান লাভের জন্য পুরুষ জাতিকে হয়তো অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে বনলতা সেনই সর্বশেষ ও চূড়ান্ত কাম্য নারী হতে পারে না।।

————————————–
আরো জানতে ভিজিট করুন … http://www.prothom-aloblog.com/blog/sfk808

Read more…

–ডঃ সৈয়দ এস আর কাশফি
“সুলতা বনাম বনলতা সেন”
(একটি তুলনামূলক কাব্য বিশ্লেষণ)

কবি শফিকুল ইসলামের কবিতায় তার কাব্য প্রেয়সী সুলতার যে নান্দনিক ও শৈল্পিক সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায় তা সামগ্রিক ও কাব্যময়। কবি জীবনানন্দ দাসের বনলতাসেনের মতো কোন খন্ড চিত্রকল্প নহে। বর্ণনা এখানে সফল, কাব্যময় এবং জীবন্ত। জীবনানন্দদাস বনলতা সেনের মুখশ্রী ও চুলে কাব্য সৌন্দর্য্য খোঁজে ফিরেছেন। যা নিতান্তই খন্ড চিত্র। যেমন তিনি বলেছেনঃ–
“চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য”…
এখানে বনলতা সেনের সফল সৌন্দর্য বর্ণনা আমরা খোঁজে পাইনা। প্রায় অন্ধকারের মত তার চুল দেখার ঝাপসা আকুতি ও কাল্পনিক শ্রাবস্তীর মতো তার মুখের আদল। অন্যপক্ষে সুলতা প্রসঙ্গে কবি শফিকুল ইসলামের কাব্যময় উচ্চারণঃ–

“সুলতা, তুমি আমার
বাগানের মধ্যে সদ্য প্রস্ফুটিত
তাজা গোলাপদেখার অনুভূতি।
…………………
সুলতা তুমি আমার আধার আকাশে
একটি চাঁদের মত
একটি নিটোল নিভাজ স্বপ্ন,
একটি সজীব কবিতা,
চির ঝংকৃত সুরে একটি ছন্দ দ্যোতনা,
শিল্পীর আকা যেন একটি জীবন্ত ছবি”…
[কবিতাঃ সুলতা তুমি আমার]
(শ্রাবণ দিনের কাব্য)

পাঠক মাত্রই জানেন সৌন্দর্য বর্ণনায় তাজা প্রস্ফুটিত গোলাপের উপমা একটি সফল উপমা। তাজা গোলাপ দেখার মতো রূপময় অনুভূতি পৃথিবীর আর কোন সুন্দর সৃষ্টিতে খুঁজে পাবেন না। একমাত্র প্রেয়সীর দৈহিক সৌন্দর্য ছাড়া। এখানে কবি শফিকুলের বর্ণনা তার কাব্য প্রেয়সী প্রস্ফুটিত তাজা গোলাপ দেখার অনুভূতি যা সুন্দরতম সুন্দর। তার মনে কাব্য প্রেয়সী সুলতা তুলনাহীনা অপরূপা ও সৌন্দর্য ময়তায় ভরপুর। কবির দৃষ্টিতে সুলতা তেমনি এক সুন্দরী প্রতিমা ।

জীবনানন্দ দাসের বনলতা সেনে সে রকম কোন জোরালো বর্ণনা আমরা খোঁজে পাই না। জীবনানন্দ দাস বনলতা সেনের মুখে দেখেছেন শ্রাবস্তীর কারুকার্য যা কাল্পনিক ও অনেকটাই পুরনো। অন্য পক্ষে কবি শফিকুল ইসলাম সুলতার মুখে এমন এক জ্যোতি দেখেছেন যা প্রাণের কাছাকাছি, ভালবাসা মাখা ও কালোত্তীর্ণ। সে জন্যেই সে জ্যোতির অনুপস্থিতিতে কবি হয়েছেন আর্ত, বিমর্ষ ও ক্লান্ত। জীবনানন্দ দাস বনলতা সেনের মুখশ্রী দেখে ক্ষনিকের জন্য আমোদিত হলেও তা ছিল নিতান্তই ক্ষনিকের ভালবাসা। ভালবাসা নহে এবং প্রেম ও নহে। তাই সে মুখশ্রী দেখতে না পেলে কবির হৃদয়ের কি আকুতি বনলতা সেনে তা আমরা পাই না। কিন্তু কবি শফিকুল ইসলামের সফল কাব্য সুরঃ–
“সুলতা একদিন যে মুখে
এক অপার্থিব আলো দেখেছিলাম
যে আলোর মোহে
পতঙ্গ আগুনের উত্তাপ ভুলে গিয়ে
ঝাপিয়ে পড়ে প্রাণ দেয়।
সুলতা সেই মুখে আজ
এ কোন কালো মেঘের ছায়া।”
[কবিতা : সুলতা একদিন যে মুখে]
(শ্রাবণ দিনের কাব্য)

হেলেন বিশ্বের সুন্দরী শ্রেষ্ঠা। তার সৌন্দর্য দেখে ট্রয় নগরীর বৃদ্ধরাও অভিভুত হয়ে যেত। সে নারী মাত্র নয়। সে অমর দেবীর অবিকল প্রতিমূর্তি।। হেলেন কাম সৌন্দর্য ও ঔজ্জ্বল্যের প্রতীক। অন্যদিকে কবি শফিকুল ইসলামের সুলতা এক অপরূপা নারীর মূর্তির প্রতীক যিনি দেবী না হয়েও কবির মনে দেবীর আসনে অধিষ্ঠিতা। রক্ত মাংসের নারী হয়েও পূঁজার বিগ্রহ রূপে কবির মনকে করেছে আন্দোলিত। দিয়েছে প্রশান্তির অনাবিল ছোঁয়া। ক্ষণকালের জন্য নহে অনন্তকালের জন্য। তাই কবির সফল উচ্চারণঃ–
“তোমাকে বাদ দিলে
ভালো লাগার মত এই পৃথিবীতে
আমার আর কিছুই নেই”।
[কবিতা: সুলতা এই জীবনে]
(তবুও বৃষ্টি আসুক)

বনলতা সেনে কবি জীবনানন্দ দাস বনলতা সেনের অভাবের বিরহ যন্ত্রনার কোন সুর তোলেন নি। তার মানে বনলতা সেনকে ভালবাসেন বলে মনে হয় না যদিও আঁধারে সঙ্গিনী হিসেবে তার মনে পাওয়ার আকাঙ্খা অত্যন্ত প্রবল। এটাকে প্রেমের আকুতি বলা যায় না কিংবা ভালবাসার প্রার্থনাও বলা যায় না। এখানে কবি জীবনানন্দ দাসের ব্যর্থতা।
কবি শফিকুল ইসলাম প্রেমের এক সফল কবি। তিনি অঝোর শ্রাবণ ধারায়, রিমঝিম বৃষ্টিতে, আলো আঁধারের কাব্যময় খেলায় ও চেতনার চন্দ্রিমায় তার কাব্য প্রেয়সী সুলতাকেই কি চান। তার কালোত্তীর্ণ সব কবিতাগুলোর পরতে পরতে, ছন্দে, উপমায় ও কাব্য অলংকারে সুলতার অপরূপ রূপের বর্ণনা প্রগাঢ় ও চিত্রময়। কবির মন সুলতাকে জগতের সকল উপমার উর্ধ্বে অন্য এক অনন্য উপমায় খুঁজে ফিরছেন। সেই জন্য দৃঢ় উচ্চারণঃ–
“তোমার উপমা শুধু তুমি
তুমি আছ সব সৌন্দর্যের মাঝখানে
সৌন্দর্যের রাণী হয়ে সগৌরবে মহিয়সী”
[কবিতা : সুলতা যখন তোমায় দেখি]
( শ্রাবণ দিনের কাব্য)

কবি পুর্নেন্দু পত্রী তার কাব্য-প্রেয়সী নন্দিনীর রূপে বিমোহিত হয়ে যেমন বলেছিলেনঃ–
“কেন্দ্রে আছ তোমাকেই
সূর্যরশ্মি আছে ঘিরে
নন্দিনী পুরনো হলে
পৃথিবী পাবে শ্বাশ্বতীরে।”

তেমনি কবি শফিকুল ইসলামের কাব্য প্রেয়সী সুলতা ও অনন্ত মাধুরীময়, অপরূপা ও কাব্য মাধুর্যমন্ডিত যা কখনই পূর্ণ হবার নয়, হয় না। কবির মনে সে চিরদিনই সুলতা, চির যৌবনা সুলতা, চিরকাব্যময় সুলতা, হৃদয়ের সুলতা, প্রাণের সুলতা ও স্বপ্নের সুলতা এক কথায় ভালবাসার সুলতা। যা কবির মনে চিরদিনই প্রেমের পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে নিশিদিন। তাই কবির কাব্যময় উচ্চারণঃ–
“তোমার রূপের আলোয়
আমার বিশ্বভূবন উদ্ভাসিত–
তুমি ছাড়া আমার সবই অন্ধকার”।
[কবিতা : সুলতা যখন তোমায় দেখি]
( শ্রাবণ দিনের কাব্য)

অন্যদিকে কবি জীবনানন্দ দাস বনলতা সেনকে যদিও নাটোরে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন তবু সে তার চোখে অপরূপা ও তুলনাহীনা নহে। বিদিশা নগরীর শ্রাবস্তীর মতন এক নারীকে অন্ধকারে আকাঙ্খা করেন। এই আকাঙ্খা কখনও কাব্যিক নয় এবং শিল্পমাধুর্য বর্জিত। ভালবাসা না পাওয়ার স্বস্তি তিনি বনলতা সেনের আবেদনময়ী সৌন্দর্যে খুঁজে ফিরেছেন দুদন্ডের প্রশান্তির জন্য। কবি জীবনানন্দ দাস বলেছেনঃ–
“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশিথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধুসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।”
[কবিতাঃ বনলতা সেন]
(বনলতা সেন ও মহাপৃথিবী)

পাঠক একটু মনযোগ দিয়ে খেয়াল করুন; কবি জীবনানন্দ দাস হাজার বছর ধরে সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগরে বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে পথ হেঁটেছেন কার জন্য? বনলতা সেনের জন্য? নাকি অন্য প্রেয়সীর জন্য? যদি বনলতা সেনের জন্য হতো তাহলে সে তার অন্তরে চিরন্তন প্রেমের এক উজ্জ্বল উন্মাদনা ছড়িয়ে দিত যা হতো অনন্তকালের দু-দন্ডের জন্য নয়। কারণ যাকে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে পেয়েছেন সে শুধু হবে দু-দন্ডের সঙ্গিনী সে হতে পারে না। কারণ প্রগাঢ় ভালবাসায় যাকে পাওয়া যায় সে মনে চিরন্তন প্রেমের পরশ বুলিয়ে দেয় যা কোন প্রেমিক কখনই ভুলে যেতে পারে না। দু-দণ্ড কেন হাজার বছরে ও যা ভুলে যাবার নয়। সুতরাং একথা সু-স্পষ্ট যে বনলতা সেনকে তিনি কখনই খোঁজেন নাই। পথ হাঁটার ক্লান্তিম মুহুর্তে দু-দন্ডের শান্তির জন্য ক্ষণকালের সঙ্গিনী করেছিলেন। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় কিভাবে বনলতা সেন কালোত্তীর্ণ কবিতা। অন্তত কবির ভাষ্যে সে দু-দন্ডের সঙ্গিনী ক্লান্তিময় পথে।

অন্যদিকে কবি শফিকুল ইসলাম সাফ সাফ বলে দিয়েছেন তিনি সুলতাকেই খুঁজছেন, সুলতার কাছেই যাবেন এবং চিরতরে তার কাছেই থেকে যাবেন, এমনকি কোনদিনই তাকে ছেড়ে যাবেন না। প্রেমের সফল কালোত্তীর্ণ উচ্চারণ এর চেয়ে আর কি বা হতে পারে। তার প্রেমময় উচ্চারণঃ–
“সুলতা তোমার কাছে যাবো
বর্ষার খরস্রোতা ভরা নদী সাতরে
আমি তোমার কাছে যাবো
রৌদ্রদগ্ধ মরুভূমির তপ্ত ধু ধু বালিরাশি
নগ্নপদে পার হয়ে
তোমার কাছে যাবো।
……………………..
সুলতা,সত্যি সত্যি দেখো একদিন
সব লোকলাজ দ্বিধাদ্বন্দ ছুড়ে ফেলে
আমি তোমার কাছেই চলে আসবো চিরতরে
হঠাৎ করে তোমাকে চমকে দিয়ে,
তোমাকে ছেড়ে আর কোথাও
ফিরে যাব না, যাব না”
[কবিতা সুলতা তোমার কাছে যাব]
(শ্রাবণ দিনের কাব্য)

এবার আসা যাক বনলতা সেন ও সুলতা কাব্য চরিত্রের তুলনামূলক রূপক ও উপমার চারণভূমিতে। বনলতা সেনের উপমার বাগান বড় বেশী পুরনো ও ভয়াবহ। জীবনের উত্তাল ফেনায়িত হতাশায় কবি জীবনানন্দদাস বনলতা সেনকে দেখেছেন এবং সৌন্দর্যের রূপময় বর্ণনায় শুধুমাত্র চুল ও মুখশ্রীর কথা উল্লেখ করেছেন যা একটি অসম্পূর্ণ বর্ণনা ও প্রাচীন যুগের উপমা। আধুনিক যুগের চেনাজানা কোন সফল উপমা নহে। যা আত্মস্থ করতে গেলে পাঠককে ইতিহাসের দূরতম কুয়াশার পথ হাঁটতে হবে যা সাধারণ পাঠকের পক্ষে সম্ভব নয়। বিশেষ এক শ্রেণীর পাঠক ছাড়া ঐসব দূর্বোধ্য উপমা কেউই বুঝতে সক্ষম হবেন না।

অন্যদিকে সুলতা প্রসঙ্গে কবি শফিকুল ইসলামের উপমার বুনন বড় বেশী কাব্যময়, সুন্দর, আধুনিক ও চির পরিচিত। কবি শফিকুল ইসলামের সুলতাকে খুঁজতে পাঠককে দূর অন্ধকারের বিদিশা নগরীতে যেতে হবে না। আমাদের চির পরিচিত চেনা শহরেই তার মায়াবী দৃষ্টির ছোঁয়া খুঁজে পাওয়া যাবে। কবিও তাকে তার চেনা শহরেই খুঁজে ফিরেছেন, পেয়েছেন। এই চেনা শহরেই দেখেছেন সুলতার ভাস্কর্যমন্ডিত পদচিহ্ন যা বৃষ্টি জলে মুছে গেলেও কবির হৃদয় থেকে মুছে যায়নি। এমনই এক প্রেমময়ী নারী সুলতা।

এবার আমি দৃষ্টি ফিরিয়ে নেব কাব্য চরিত্র সুলতা ও বনলতা সেন নারী চরিত্র হিসেবে কোনটি সফল সেই দিকে। জীবনানন্দ দাসের বনলতা সেনের নারী চরিত্র ব্যর্থ ও দু-দন্ডের সঙ্গীনি মাত্র। নারী চরিত্রের আর কোন বৈশিষ্ট্য আমরা বনলতা সেনে পাই না। সবই যেন ধূম্রজাল ও ক্ষণিকের জন্য। অন্যদিকে কবি শফিকুল ইসলামের সুলতা এক অনন্যা নারী মূর্তির প্রতীক। তাই তো কবির সাহসী উচ্চারণঃ–
“সুলতা, তোমার শাড়ীর আঁচল
আমার বিজয় পতাকা।
সুলতা, তোমার হৃদয় আমার স্বদেশ
সুলতা, তোমার মুখশ্রী আমার সংবিধান”।
[কবিতা: সুলতা এই শহরের]
(শ্রাবণ দিনের কাব্য)

এখানে কাব্যপ্রেয়সী সুলতা অপরূপা এক নারী মূর্তির রূপক যা কবিকে সারাক্ষণ অনুপ্রেরনা দেয় কর্মে, বিজয়ে ও চিন্তায়। কবি শফিকুল ইসলামের কাব্যপ্রেয়সী সুলতা এমনই এক সফল নারী যা কবির জীবনে সকল সময়ের স্বপ্ন, অহোরাত্রির আনন্দ ও জীবনভর প্রশান্তির ছোঁয়া। যাকে হারালে যেন কবির সব কিছুই হারিয়ে যাবে এমনকি বাঁচার আকুতিও। এখানে সুলতা চরিত্রের কাব্যিক সফলতা।

কে সেরা, সুলতা না বনলতা সেন ?
ভিজিট করুন–

http://www.somewhereinblog.net/blog/sfk505

Read more…

A MASTER PIECE OF POETRY


“Tobu O Bristi Asuq” (Let There Be Rain)
(A MASTER PIECE OF POETRY)
Reviewed By Prof. A.Noor

“Tobu O Bristi Asuq” (Let There Be Rain) is a collection of 41 poems of variegated tastes and flavor mostly of personal trend and characteristics by Shafiqul Islam a young poet of great erudition bestowed with an attractive poetic vein .

Besides the poem which bears the title of the collection in the mid portion of it ‘Bohu din por Aaz’(Today after a long time) there is a poem ‘Akjon Beer Joddha’(A heroic fighter ).Two addressed to the mother two addressed to the dead father .One addressed to one ”D” one addressed to life and the rest are addressed to one Sulota with whom the speaker had a deep either secret or open correspondence /love but that Sulota is not within his reach though she does not seem to have married/loved another man but it is clear from the description of the speaker that she has left the speaker treading the fair love and intimacy of the speaker .

It seems to me that the poet wanted to compose a book absolutely on love the mental anguish of separation or desertion. But he has an intellectual negation to be identified in that condition and so he has inserted few poems of different types in the collection just to bedim that factual truth .How ever the poet has every right to do it.In the poem ‘Bohu din por Aaz’ , the poet addresses the rain after a long time as blessing as a symbol of life and freshness. The proposed rain may tend a new life and fruition to all the sandy region of the glob , all the drought inflicted areas of the world despite personal sorrows and suffering of the poet from the rain if it really comes down . The poet is eagerly awaiting the rain and mentally prepared to undergo all sorts of disadvantages from the rain .

At times a poet can not be easily detected .He speaks and narrates things from a distance. We have such an example of a piece of poetry in this collection of poems ,namely- ”D” (D for Diana) .The second poem addressed to a late lady of universal decency and decorum ,it may not be easy for the young and most readers of the poem who this lady is . It is known best to the poet himself but so far our observation looks in the past and from the description of the poet –
” In the bustle of this world
Once you had your harmonious tone
On the highways of this world
You let fall your invaluable footsteps”—

The poem might have been composed on the all-accepted ,all-loved lady ever born and ever entered the Buckingham palace as a bride and she is nobody but princess Diana who died in a miserable car accident in the last decade but having her all human and divine virtues that impressed our poet .The lady in question died as a result of psychological at war between haven and earth .She herself represented the heaven .She had an indomitable love for the people of the world and she proved her that glorious traits of love by traveling different countries and her so-called free but innocent mixing with them left her to a state of being neglected by her husband . She understanding her position ,although a mother of two sons, could not remain connected within the palace bereft of husband’s love and got family indifference .

The poet is cut to the quick to understand all of the members of the royal family for this cold behavior with her . He though belonging to another caste and creed, can not help showing his hearty sympathy for her ill-fate and consoling himself in the following sketch.
“But you in my heart
That the rare picture has drawn on it
neither in sun-shine nor in water
of the world
I know that will ever be effaced.
‘D’ now you are an inhabitant of the world hereafter-
One day you descended here wrongly
To our poor earth having loved us”.

The poem is in the spirit of an elegy and the poet has registered all his poetic strength to make her (Diana) ever living and ever adorable for her divine qualities among the crowds of simple /ordinary faces of women ornamenting high seats and positions among us — home and abroad but quite unworthy of being equal in status from the standpoints of ever immortal human virtues as possessed by the late ‘D’ princess Diana of England .

The third poem ,”Akjon Beer Jodda” a sketch on a political figure does not appear to me to be a new something .We are accustomed to coming across compositions like this one — this poem portrays the saddest story of a national hero who bought for the liberation of the motherland of the poet but he was mercilessly killed by his associates as an armless hero.
”In our heart
He is an ever victorious hero,
Returned from the war, enemy Overcoming hero”

The poet has written three poems absolutely of personal cadres on his mother and father. In the poem on his mother he portrays a mother as a perennial source of inspiration in the onward movement in the struggle of life. In two pieces of poetry composed on his departed father, the poet sorrily accepts the loss of his father whose kind behavior in the past disturbs his peaceful living at the moment .The poet had in his mind to write elegy. His portrayal of his parents indicates his possessive mind devoted to them.

There is another poem ‘The three losses’ upholding before the readers how the poet has crossed from his childhood to youth , bidding adieu to the sweet memories and objects of enjoyments and comports.There is a small poem ,”hea jiban ,Akdin Tumi Chhela”in the collection .It is a poem of high appreciation painting life from multifarious platforms like some philosophical poet’s interpreting life as a puzzling mystery .This poem teems with poetic fervor both in matter and manner and it surely makes the poet powerful and observing the fleeting but touching modes of life — an ever inexplorable riddle .

In “three fourths of water and one in hand” the poet leaves heavy sighs and despair on life being utterly dissatisfied with the go of the world. Life hangs very heavy with the poet finding no other way to survive from his mentally emerging state .He is confirmed that his sweet dreams will never be realized and his is a life mean for shedding tears in the sea with unquenching thirst for getting the object in mission .

Our review over the poems of the collection discovers that the cost of the poems forming an overwhelming majority disturbs or tortures the speaker in season or out of season ceaselessly in the surname of either the Nandita or all the time in the name of Sulota — a woman whom the speaker liked or loved heart and soul . The speaker can not help being a puppet at the witchery of her past mixing or mutually loving each other and at the moment standing aside and suffering the pain of separation .

There is ample weakness of the speaker towards Sulota whom he helplessly requested to come back to him and thereby save him from being destroyed in the piece “Sulota, yet there is time”.
“Sulota, yet there is time
yet come back to this breast.
If otherwise out of one heart’s groaning
This world in a second
will be a sad isolated island”
To the speaker, Sulata is a peerless woman for him to like and love . In fact Sulota can not be forgotten and speaker is not in a state of losing .Sulota in oblivion she is a young woman a great excellence and hence the speaker can not but describe Sulota’s physical beauty with those of the greatest object of nature ever known to him .Sulota’s physical beauty is innocently portrayed by the poet in the following touches in the poem “The cloud of the sky too at a time”.
“The modulation of her tone
As if it were the greatest music of the world
Her youthful strong built body
As if it were the greatest
sculptures in the world” .

The aforesaid similes with which the poet draws Sulota’s divine beauty undoubtedly speaks of the poets wide range of knowledge as well as his vast possession of pure literary terms to describe things of aesthetic beauty and we find a ground to appreciate his so-called grave geniality .

In the second page of the front cover the concluding sentence is ‘The poetic collection has contained a set of poems full of memories of the past love , and separation enriched with conscience and illumining on this assertive statement supplied by the poet we can certainly say that ‘Tabu O Brishti Asuq ‘ is a collection of poems mostly on deserted love and moan of separation .

As regards the choice of words I like to say that the poet was conscious enough to use the fit and concrete word to the matter he had chosen to highlights ,Credit goes to him for guarding him against the use of popularly cheap or slang words which are found in our folk songs or poems .The poet has a mentionable control over his expressions and he seems to be in search of new and never images and illustrations .I also say that his expressions are of his own but I do not preach that he is classic in mode but I claim that if he has not succeeded in all the poems, surely has not failed in all of them .Some of the expressions are ,no doubt, the triumphed and the height of blank verse at the hand of a mounting poet in the horizon of Bangla poetry.

“Tobu O Bristi Asuq” (Let there be rain)
Written By Shafiqul Islam
Published By
Agamee Prokashoni,36 Bangla Bazar,Dhaka-1100.
Phone-7111332,7110021Mobile-01819219024

Read more…

“একটি বেদনা-ভরা প্রেমের কাব্য”
–অধ্যাপক কৃপাল নারায়ণ চৌধুরী

কবি শফিকুল ইসলামের ‘শ্রাবণ দিনের কাব্য’ একটি মহৎ প্রেমের কাব্য। বইটি এবারের বইমেলায় প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। এই কাব্যের প্রতিটি কবিতায় কবির প্রেমিক হৃদয়ের গভীর অনুভুতির সার্থক প্রকাশ ঘটেছে। কবিতাগুলোর মধ্যে হৃদয়ের হাহাকার স্পষ্টই প্রতীয়মান হয়। তিনি বইটির উৎসর্গ পত্রে লিখেছেনঃ–
“….যাকে ভালবেসে
একদিন এই জীবনকে
বড় বেশী ভালবেসেছিলাম,
যাকে হারিয়ে আজ এই জীবনের চেয়ে
মৃত্যুই বেশী সুমধুর বলে মনে হয়,
যার বিচ্ছেদ-যাতনায় তিক্ত গরল ও আজ
অমৃতের অধিক অমৃতময় বলে মনে হয়।”

কাব্যলক্ষ্মী সুলতাকে কবি একদিন হৃদয় থেকে ভালবেসেছিলেন। কিন্তু সেই সুলতা কবিকে কিছু না বলে হারিয়ে গেল।কবির ভাষায়ঃ–
“শহরের গলি-ঘুঁজিতে তোমাকে খুজি
কোথায় হারিয়ে গেলে বলত কিছু না বলে!
কোথায় আমার সেই চেনা কন্ঠ ?
সমস্ত শহর আজ আশ্রয় কেন্দ্র
ঘোষিত হলেও কেন আমি নিজেকে আজ
আশ্রয়হীন অসহায় ভাবি?
কোথায় সেই ভালবাসা-ঝরা মায়া-ভরা দৃষ্টি
যার নীচে একদিন আমি নিজের বিবাগী মনের
অতলান্ত আশ্রয় খুজে পেয়েছিলাম।”
(সুলতা এই শহরের)

কবির সবগুলো কাব্যেই প্রকৃতি নানাভাবে উপমায় স্থান লাভ করেছে। “শ্রাবন দিনের কাব্যে” প্রকৃতির প্রভাব আরো বেশী বাস্তবতা নিয়ে ধরা দিয়েছে। মেঘ বৃষ্টি কান্না যেন একসূত্রে গাথা। সবার কাছে বসন্ত ঋতু প্রিয় হলে ও কবির কাছে প্রিয় ঋতু হলো বর্ষা। কবির ভাষায়ঃ–
“সবার কাছে বসন্ত ঋতু
একান্ত প্রার্থীত একটি ঋতু
আমার প্রিয় ঋতু বর্ষা।
বর্ষা বাদলের সাথে তবেই
আমি আমার হৃদয়ের কান্না
মিশিয়ে নিতে পারি,
মিলিয়ে নিতে পারি
বাদলের রিমঝিম সুরের সাথে
আমার মনের অব্যক্ত কান্নার সুর।
আজ আমার জীবন জুড়ে বর্ষা
আজ আমার ভুবন জুড়ে বর্ষা।
আমি চাই আজ আমার প্রকৃতি জুড়ে
সারাক্ষণ বর্ষা নেমে আসুক”
(সবার কাছে বসন্ত ঋতু)

কবি সুলতাকে গভীরভাবে ভালবেসেছিলেন বলেই তার বিচেছদ বেদনায় কবি কাতর হয়েছেন। সুলতার সান্নিধ্য কবির জীবনে অপরিহার্য ছিল। কবি বলেনঃ–
“তোমার স্নেহ-ঝরা আচলে সস্নেহে
ললাটের ঘাম কতবার
তুমি মুছিয়ে দিয়েছ,
আমাদের রোগজীর্ণ ললাটে
যখনই তুমি সস্নেহ হাত রেখেছ
মুহুর্তে আরোগ্য হয়ে গেছে
আমাদের দুরারোগ্য ব্যাধি…”
(সুলতা-সু এভাবে ঝড়ের বেগে)

তাই কবি সুলতাকে না যাওয়ার জন্য অনুনয় করেছেন। একই কবিতায় তার অপরিহার্যতার কথা বলতে গিয়ে কবি বলেছেনঃ–
“তুমি চলে গোটা পৃথিবীটা
আমাদের অসুস্থ হয়ে পড়বে
তোমার শুশ্রুষাবিহীন।
ঝড়ে বিধ্বস্ত সাজানো বাগানের মত
সবকিছু আমাদের এলোমেলো
তছনছ হয়ে যাবে।”
(সুলতা-সু এভাবে ঝড়ের বেগে)

কবি তার প্রিয়াকে উদ্দেশ্য করে ঐ কবিতায় আরো বলেছেনঃ–
“তুমি আমাদের চৈত্রের খরতাপে
শান্তিদায়িনী স্নেহশীতল ছায়াবৃক্ষ,
তুমি আমাদের অনৈক্যের সংসারে
সংহতির একটি বিশাল বৃক্ষ।”
(সুলতা-সু এভাবে ঝড়ের বেগে)

কবি সুলতাকে স্মৃতি থেকে মুছতে পারছেন না কিছুতেই। ঘরের সমস্ত আসবাবপত্রে প্রিয়ার স্পর্শ অনুভব করেন কবি। তাই তিনি প্রিয়াকে বলেছেনঃ
“তুমি ছিলে তুমি আছো
এই ঘর এই আঙিনায়
একথাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে ধরা দেয়
এই মনে বারবার”
(আমার ঘরের বিছানায় আর)

সুলতাকে হারানোর বেদনায় কবির হৃদয় ভেঙে গেছে। তাই এই কাব্যের প্রতিটি কবিতাতেই প্রিয়া হারানোর অব্যক্ত কান্না গুমরে মরেছে। সেই কান্না বর্ষার অবিশ্রান্ত ধারার মত। তাই কবি হৃদয়ের কান্নার সাথে বর্ষার কান্না একাকার হয়েছে বলেই কবির প্রিয় ঋতু বর্ষা। ‘সুলতা সবার প্রিয় ঋতু’ কবিতায় কবি বলেছেনঃ–
“সুলতা সবার প্রিয় ঋতু বসন্ত
জানো আমার প্রিয় ঋতু বর্ষা…
বর্ষার ধারাজলের সাথে
আমার কান্না একাকার হয়ে
প্রকাশের পূর্ণতা খুজে পায়”
(সুলতা সবার প্রিয় ঋতু)

কবি যখন একাকী থাকেন ,যখন কোন অবসরে থাকেন,তখন কবি প্রিয়াকে সমস্ত সত্তায় অনুভব করেন। ‘সুলতা আজ অবসরে’ কবিতায়ঃ–
“সুলতা তুমি মিশে আছো
আমার সত্তায়,অস্তিত্বের ভাজে ভাজে,
আমার শিরা উপশিরায়, প্রতিটি রক্ত কণিকায়
অবিচেছদ্যভাবে,
আমার প্রতিটি নিশ্বাসে তুমি আছো।”
(‘সুলতা আজ অবসরে’)

তাই কবির সুলতাকে আবার দেখতে ভীষণ ইচছা করে। ‘সুলতা কতদিন তোমাকে দেখিনা’ কবিতায়ঃ–
“সুলতা কতদিন তোমার
মায়াভরা মুখখানা দেখিনা,
জীবনের অন্ধকার আকাশে
মূর্ত একখানি আশার মত
কতদিন তোমার চাদমুখ ভাসে না।”
(‘সুলতা কতদিন তোমাকে দেখিনা’)

কবি শুধু তার প্রিয়াকে নয়,প্রিয়ার নামের সাথে ও একাত্ম হয়ে গেছেন। ‘সুলতা তুমি শুধু’ কবিতায়ঃ–
“সুলতা ঐ নামের উচ্চারণে
আমার উষ্ণ হৃদয়ে বয়ে যায়
মুহুর্তে এক ঝলক সুবাতাস…
সুলতা আমার ইষ্টনাম,
যে নামের উচ্চারণ মাত্রে
সঞ্জিবনী মন্ত্রের মত মুহুর্তে
মৃত্যুপথযাত্রী আমাকে
ফিরিয়ে আনে জীবনের দিকে।”
(‘সুলতা তুমি শুধু’)

‘সুলতা যেদিন আমি থাকবনা’ কবিতায় কবি বলেছেন, যেদিন তিনি পৃথিবীতে থাকবেন না, প্রকৃতির সবখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবেন। কবির না পাওয়ার বেদনা অনুরণিত হবে নিঃশব্দে ঝরে যাওয়া ফুলের মাঝে,ঝরে যাওয়া শিশিরের মাঝে,হঠাৎ ছুটে আসা দমকা হাওয়ার মাঝে।

কবি একদিন স্বপ্নের চারাগাছ রোপন করেছিলেন। কবির সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় এই পৃথিবী তার কাছে অর্থহীন মনে হয়েছে। ‘আজ মনে হয়‍‘ কবিতায়ঃ–
“এই বিশাল ভূপৃষ্ঠে আমি
একদিন স্বপ্নহীন ভূমিহীন
মানুষে পরিণত হব।
মাথার উপরে আচছাদনহীন আমি
খোলা আকাশের নীচে দাড়িয়ে
দেখবো একদিন
তিলে তিলে নিজস্ব চেতনার জমিতে
যে বসতি আমি গড়ে তুলেছিলাম
তার সবই আজ নিশ্চিহ্ন।”
(‘আজ মনে হয়‍‘)

সুলতা কবির জীবনে কতটুকু প্রভাব ফেলেছে তা বুঝা যায়, ‘সুলতা তুমি আমার’ কবিতায়ঃ–
“সুলতা তুমি আমার
বাগানের মধ্যে সদ্য প্রস্ফুটিত
তাজা গোলাপ দেখার অনুভূতি,
সুলতা তুমি
সদ্য ঘুমভাঙা চোখে রোদে-উজ্জল
প্রথম সকাল দেখার অনুভব,
নতুন দিনের আমন্ত্রণ।”
(‘সুলতা তুমি আমার’)

কবি শফিকুল ইসলামের ‘শ্রাবণ দিনের কাব্য’ গ্রন্থটি একটি উন্নতমানের প্রেমের কাব্য। এই কাব্যের প্রতিটি কবিতায় কবি-প্রিয়া সুলতার প্রতি গভীর ভালবাসার প্রকাশ ঘটেছে। কবি প্রিয়াকে জীবন থেকে হারিয়ে ফেলেছেন। এই হারানোর বেদনায় কবি-হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তাই কবির বস্তুজগত এবং কবি হৃদয়ের কান্না একাকার হয়েছে। প্রিয়া-বিচেছদ কবি সইতে পারছেন না। তাই তার কাছে এ জীবন অর্থহীন মনে হয়। তাই তিনি একান্তভাবে মৃত্যুকে কামনা করেছেন।

‘শ্র্রাবণ দিনের কাব্য’ গ্রন্থখানা একটি বিরহী হৃদয়ের প্রতিচছবি। কবির এই কাব্যখানা পড়লে যে কোন পাঠকের কাছেই মনে হবে কাব্যটি একটি বেদনা-ভরা প্রেমের কাব্য।

কাব্যগ্রন্থটি পড়তে ভিজিট করুনঃ–
http://www.somewhereinblog.net/blog/sfk707

Read more…