<

কৌশিক's Posts (4)

আমাদের বাংলার জয় জয়কার মাতিয়ে তুলেছে যেন বাঙালি প্রাণ। ফেইসবুক সহ নানা মিডিয়াতে আমাদের বাংলার খবর পেয়ে বসে থাকতে পারিনি। দীর্ঘদিন পর আসতে বাধ্য হলাম। জীবনের সন্ধানে, কাজের তাগিদে ঘুরে বেড়াচ্ছি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যত্র। সময়ই করতে পারিনা। তবে খবর রাখি, খবর পেয়েও যাই আপনাদের দেয়া ভাসমান পত্রে। ভাল লাগছে আজ যখন দেখলাম এক বছরপূর্তি উৎসব হলো, মনে হলো বর্ণাঢ্য আয়োজন ছিল। কি আর করা আমরাতো চাইলেও যোগ দিতে পারবোনা। তবে সব সময় সাফল্য কামনা করি। কারণ আমাদের বাংলায় যারা আছেন কম বেশি আমার পরিচিত জনেরাও আছেন তাই সাফল্য শুধু নয়, সময় সুযোগে সাথেও আছি। 

আপনাদের জন্য সাধুবাদ। বিদেশে থেকেও এরকম বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আছেন, অথচ দেখুন আমরা দেশে থেকেও অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত। জয় হবেই নিশ্চয়। অপুরন্ত শুভেচ্ছা।

Read more…

Don't go around saying the world owes you a living. The world owes you nothing. It was here first. Mark Twain  

আমি মাঝে মাঝে আমার অস্তিত্ব নিয়ে ভাবি। মাঝে মাঝে মনে হয় আমিতো কেউ নই, আমার পৃথিবীতে আসা এবং চলে যাওয়ার মাঝখানে মহান সৃষ্টিকর্তার কোন বিশেষ কারণ থাকতে পারে, যাহা কিনা আমার জানার কথা নয়, নতুবা আমাকে আসার কোন মানে আমি দেখিনা। কিন্তু আমাকে দিয়ে বিধাতারও কোন কাজ হচ্ছে বলেও মনে হয়না। আমার দ্বারা মানবিক কোন কর্মও হচ্ছেনা যা আমার জন্মটা নিয়ে একটু গর্ব করি। সৃষ্টিকর্তা তার কোন মহৎ কর্ম সম্পাদনের জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন? আমার নিজের জন্য? এমনকি মানবকুলের জন্য অথবা আমার দেশের কোন ভাল কাজের জন্য? তাওতো কিছুই বুঝতে পারিনি অদ্যাবধি। প্রকৃত ভাল কাজের জন্য মহামানবেরা আসেন, আর জনস্বার্থের জন্য অথবা দেশও জাতির জন্য কোন কোন ভাল মানুষ।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন;

হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে
এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে।
হেথায় দাঁড়ায়ে দু বাহু বাড়ায়ে নমি নরদেবতারে—
উদার ছন্দে, পরমানন্দে বন্দন করি তাঁরে।
ধ্যানগম্ভীর এই-যে ভূধর, নদী-জপমালা-ধৃত প্রান্তর,
হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র ধরিত্রীরে—
এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে॥

ভারত বলতে তিনি উপমহাদেশের ঐশ্বরিক বিষয়টা নিয়ে কবিতা লিখেছেন। তাঁর চিন্তা  দর্শন ছিল সীমাবদ্ধ। কারণ তিনি মহামানব বলতে যাদের বুঝিয়েছেন তাঁদের কেউ আর পৃথিবীতে নেই। হয়ত আর আসবেনওনা। আসার দরকার নেই, বিশেষ করে এখন যারা মহামানব হিসাবে আসতে চাইবে তারা মহামানব হিসাবে বেঁচে থাকার কোন বিশেষ সুযোগ পাবেনা। আজ মহা-ভারতের আভ্যন্তরীণ সীমানাজুড়ে এখন সবাই মহা মানব অথবা সবাই মহা শয়তান! তাই অতি মহামানব এবং অতি মহা শয়তানের পৃথিবীতে মহামানবের বৈশিষ্ট্য নিয়ে কোন রকম উচ্চাশা করা বাঞ্ছনীয় নয়।

একজন পণ্ডিত দার্শনিকের কথাই যদি বলি, তার মতে; I am here for a purpose and that purpose is to grow into a mountain, not to shrink to a grain of sand. Henceforth will I apply ALL my efforts to become the highest mountain of all and I will strain my potential until it cries for mercy.  Og Mandino 

আমি উনার মত দার্শনিকওতো হতে পারিনি যে বড় বড় কথা বলে মানুষকে বোকা বানাতে পারি। অন্যের কথা যারা শুনে তারা বোকাই! কারণ আমার মতে সেই প্রকৃত বিজ্ঞ যে কিনা তার নিজের বিচারে নিজেকে পণ্ডিত মনে করে। ধার করা জ্ঞান নিয়ে জ্ঞানী হওয়া যায় কিন্তু পণ্ডিত হওয়া যায়না।

যাইহোক,কথাগুলো আপনাদের অপ্রাসঙ্গিকই মনে হবে কারণ আমি গোড়াতেই আপনাদের ধাঁধায় ফেলে দিয়েছি। আসলে আমি নিজেও ধাঁধার মধ্যে আছি। আমার মত মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন মানুষের জন্য ছোটখাটো ১৬কোটী মানুষের দেশে কতটা বাড়তি বোঝা সেটা আর কেউ না বুঝলেও আমার মত ভুক্তভোগীরা ঠিকই বুঝে। তারপর অতি ছোটখাটো সরকারী চাকুরীজীবী মানুষটি তার নিজের জন্য নিজেই একটি বোঝা। যারা মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব বা নিমাই সন্ন্যাসীর গল্প জানেন তাদের নিশ্চয় বুঝিয়ে বলতে হবেনা যে নিমাই কেন সন্ন্যাসী জীবন বেছে নিয়েছিলেন। আমার মতে নিমাই তার নিজের কাছে অত্যাচারিত হয়েছিলেন বলেই বাধ্য হয়েছিলেন সব ছেড়ে সন্ন্যাস নিতে, কিংবা অতিজ্ঞানী বলে সাধারণ সম্প্রদায়ের মাঝে তারজন্য জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

আপনারা ধাঁধা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন নাতো? শুনেন আমি আগেও বলেছি অতিকার ক্ষুদ্র একটি মানুষ আমি, যার সাতে-পাছে দৈন্যতা ছাড়া কিছুই নেই। বেঁচে থাকার মত কোন উপলক্ষ নেই, এমনকি মানবতার কল্যাণে কাজ করারও কোন ফুরসৎ বা সুযোগও নেই। এমনকি কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, খেলোয়াড় বা রাজনৈতিক ও নই।  তার আবার বেঁচে থাকা মানেইতো দৈন্যতা। পৃথিবী তার বাসযোগ্য স্থান হয় কেমন করে! আমি কি পৃথিবীতে এসেছি কেবোল নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অন্ন-সংস্থান যোগানোর জন্য? তাহলে আমার আর ছোটখাটো পিপীলিকার মাঝে পার্থক্য কি? পিপীলিকা অথবা কীট-পতঙ্গের কাজইতো জীবন রক্ষার্থে অন্নসংস্থানের জন্য ছুটাছুটি করা।

এবার বুঝেন, আমার জন্ম বাংলাদেশে। আমি গর্ব করি, এমনকি আমরা সবাই-ই কম বেশি গর্ব করে বলি যে- আমার দেশের মত দেশ হয়না। কিন্তু আমার গর্ব করার একটাই কারণ, আর সেটা হলো আমার জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে। ইউরোপ বা আমেরিকায় অথবা আফগানিস্তানেও হয়নি। যাতে আমি গর্ব না করে পারি?

এবার আপনাদের ধাঁধা থেকে মুক্তি দিচ্ছি, আমাদের বাংলার জন্মলগ্ন থেকে কবি ফারুক আহমেদ রনি বলে আসছেন- 'আপনি লিখছেন না কেন?' আমি তাঁকে কিছু বলার মত সুযোগটাও হয়ে ওঠেনি, যখনই একটু সময় পেয়েছি আমাদের বাংলায় এসে সবার লেখা পড়ি, মন্তব্য দেই এতেই আমার সাহিত্যের খোরাক হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ সেদিন উনার কাছ থেকে কড়া একটি ম্যাসেজ পেলাম- যেন আজই কিছু লিখতে হবে। আমি যতটা তাঁকে সমীহ করি তারচেয়ে বেশি ভয় পেয়ে গেলাম। তিনি ইংরেজি হরফে লিখলেও বক্তব্য ছিল- আমাদের বাংলা কি এগুবেনা, আমাদের বাংলার জন্য কি কিছু করতে পারিনা? আমাদের বাংলা কি- নিতান্তই মৌলিক বিচারের পরিপন্থী, ইত্যাদি? কঠিন সব কথা শুনে আমার শরীরের ২০৬টি হাড় ঠাণ্ডা হয়ে গেল নিমিষে! আমি যথারীতি অবাক হয়ে গেলাম। ফারুক আহমেদ রনি রীতিমত আমাকে ধমক দিয়ে কি লিখাতে চান? আমি কি লিখতে পারি? আমার কাছে লেখার মত সামর্থ্য কতটুকু? আমি ভাবতে থাকি, আমি গত প্রায় অর্ধযুগ থেকে কিছুই লিখিনা, ব্লগে ব্লগে সবার লেখা পড়ি, মন্তব্য করি। সবার লেখা পড়ে আর মন্তব্য দিয়ে যে টুকু কৃতিত্ব পাই সেটুকুও কি শেষ পর্যন্ত হারাবো? আমি কোন কোন সময় যথেষ্ট কঠিন ও যথাযোগ্য মন্তব্য করে ফেলি ঠিকই, কিন্তু আমার লেখাতে নিজের মন্তব্য দিতে গেলেতো উপহাস ছাড়া কিছু পাবেনা! আমার যেমন অনেক বন্ধু আছেন তেমনি অনেক শত্রুও আছেন। ব্লগকুলে আমাকে নিয়ে অনেক গল্প ইতোমধ্যে বন্ধুমহলে আলোচিত একটি বিষয়। আমি কি লিখতে পারি সে বিবেচনায় আমার মন্তব্য যথেষ্ট পজ্ঞার পরিচয় বহন করতে পারেনি এখনো। তবে যারা আমার সম্পর্কে খুববেশি ওয়াকিবহাল নন তারা আমার মন্তব্যকে প্রজ্ঞাময় বা যথেষ্ট আন্তরিকভাবে নিয়ে থাকেন। কিন্তু আমার কিছু বন্ধুদের মত আপনারাও যখন জেনে যাবেন তখন কিন্তু আমার দৌড় মসজিদ পর্যন্তই কান্ত হবে।

বন্ধুরা, জীবনকে জানতে পারিনি কারণ জানার চেষ্টাও করিনি, করার সুযোগ হয়নি। কবিরা জীবনকে যেভাবে ধারণ করেন সে রকমতো আমি পারিনা। কারণ আমার আগে পিছে ফাইল আর ফাইল, আমাদের সরকার বদলে যাবার সাথে সাথে আমার জায়গা বদলে, এইভাবে গত দুইযুগ থেকে অফিস, অফিসের চেয়ার-টেবিল, ফাইল থেকে শুরু করে খাট পালঙ্ক এমনকি শহর, নগর, গ্রাম থেকে গ্রাম বদলাতে বদলাতে আমি এখন পার্বত্য অঞ্চলে। তাহলে বুঝতেই পারছেন। আমার দৌড়ের শেষ নেই। আমাদের মত হাবারামদের চড়াই-উৎরাই কতটা বেগবান। সরকার আবার বদলাবে, আবার দৌড়াবো আর কোন এক মফস্বল শহরে..

এমনি করে একদিন হয়ত দেখা যাবে আমাকে আপনারা আর খুঁজে পাচ্ছেননা আমাদের বাংলায়। আমি হারিয়ে গেছি অনেক দুরে... চর থেকে সমুদ্রের শেষ সীমানায়, যেখানে আকাশ আর সমুদ্র মিশে গেছে এক হয়ে!

আমার শান্তি একটি জায়গায়, কবিদের কবিতায় তোড়জোড় বাক্যব্যয়ের মাধ্যমে মন্তব্য করা। তাতেই আমি মহা সুখী। আমার সুখ এতটুকু। আমার জন্মের পুণ্যের কাজ এতটুকুই। বিধাতা যদি এইটুকুর জন্য আমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে থাকেন তাহলে আমি মেনে নিলাম বিধাতার সদিচ্ছাটা যথেষ্ট বিবেচিত।

লেখাটি আমি একান্তই শুরু করেছি প্রাত্যহিক আমাদের জীবন-ব্যবস্থা নিয়ে আলোকপাত করতে, তাই হবে।

চলবে...

Read more…

আমরা চাই আওয়ামিলীগ সরকার আবার ক্ষমাতায় আসুক, এটাই আমাদের একমাত্র বিকল্প কিন্তু সরকার কতটা ভাবছে? ভাল কি করেছি সেটা বিষয়না, ভাল করলে জনগণ অবশ্যই মুল্যায়ন করবে কিন্ত জাতি দেখে খারাপ কতটা হচ্ছে? হ্যাঁ খারাপের পরিমানতো বেড়ে চলেছে অথচ কিছু বলা যাবেনা। কিন্ত কেন? কোনটাসা রাজনীতি কি মানুষ বুঝেনা। বিএনপি এখন রাজাকার নিয়ন্ত্রিত দল এবং অবিশাস্য হলেও সত্য যে বিএনপি-এক সুযোগ করে দিচ্ছে স্বয়ং সরকারই। না হলে কি এমন। এবার আওয়ামিলীগ ভুল করলে জাতি ক্ষমা করবেনা। আমরা চাই সময় থাকতে জাতির কাছে ফিরে আসুক সরকার। আমাদের কোন বিকল্প নেই। সরকার এবং দলকে সবচে বেশি নষ্ট করছে ছাত্রলীগ!! এটাই সত্য!

সরকারকে স্তব্ধ করে দেয়ার পিছনে ছাত্রলিগ সবচে বড় ফ্যাক্টর!

Read more…