<

Blog (ব্লগ)

Don't go around saying the world owes you a living. The world owes you nothing. It was here first. Mark Twain  

আমি মাঝে মাঝে আমার অস্তিত্ব নিয়ে ভাবি। মাঝে মাঝে মনে হয় আমিতো কেউ নই, আমার পৃথিবীতে আসা এবং চলে যাওয়ার মাঝখানে মহান সৃষ্টিকর্তার কোন বিশেষ কারণ থাকতে পারে, যাহা কিনা আমার জানার কথা নয়, নতুবা আমাকে আসার কোন মানে আমি দেখিনা। কিন্তু আমাকে দিয়ে বিধাতারও কোন কাজ হচ্ছে বলেও মনে হয়না। আমার দ্বারা মানবিক কোন কর্মও হচ্ছেনা যা আমার জন্মটা নিয়ে একটু গর্ব করি। সৃষ্টিকর্তা তার কোন মহৎ কর্ম সম্পাদনের জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন? আমার নিজের জন্য? এমনকি মানবকুলের জন্য অথবা আমার দেশের কোন ভাল কাজের জন্য? তাওতো কিছুই বুঝতে পারিনি অদ্যাবধি। প্রকৃত ভাল কাজের জন্য মহামানবেরা আসেন, আর জনস্বার্থের জন্য অথবা দেশও জাতির জন্য কোন কোন ভাল মানুষ।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন;

হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে
এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে।
হেথায় দাঁড়ায়ে দু বাহু বাড়ায়ে নমি নরদেবতারে—
উদার ছন্দে, পরমানন্দে বন্দন করি তাঁরে।
ধ্যানগম্ভীর এই-যে ভূধর, নদী-জপমালা-ধৃত প্রান্তর,
হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র ধরিত্রীরে—
এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে॥

ভারত বলতে তিনি উপমহাদেশের ঐশ্বরিক বিষয়টা নিয়ে কবিতা লিখেছেন। তাঁর চিন্তা  দর্শন ছিল সীমাবদ্ধ। কারণ তিনি মহামানব বলতে যাদের বুঝিয়েছেন তাঁদের কেউ আর পৃথিবীতে নেই। হয়ত আর আসবেনওনা। আসার দরকার নেই, বিশেষ করে এখন যারা মহামানব হিসাবে আসতে চাইবে তারা মহামানব হিসাবে বেঁচে থাকার কোন বিশেষ সুযোগ পাবেনা। আজ মহা-ভারতের আভ্যন্তরীণ সীমানাজুড়ে এখন সবাই মহা মানব অথবা সবাই মহা শয়তান! তাই অতি মহামানব এবং অতি মহা শয়তানের পৃথিবীতে মহামানবের বৈশিষ্ট্য নিয়ে কোন রকম উচ্চাশা করা বাঞ্ছনীয় নয়।

একজন পণ্ডিত দার্শনিকের কথাই যদি বলি, তার মতে; I am here for a purpose and that purpose is to grow into a mountain, not to shrink to a grain of sand. Henceforth will I apply ALL my efforts to become the highest mountain of all and I will strain my potential until it cries for mercy.  Og Mandino 

আমি উনার মত দার্শনিকওতো হতে পারিনি যে বড় বড় কথা বলে মানুষকে বোকা বানাতে পারি। অন্যের কথা যারা শুনে তারা বোকাই! কারণ আমার মতে সেই প্রকৃত বিজ্ঞ যে কিনা তার নিজের বিচারে নিজেকে পণ্ডিত মনে করে। ধার করা জ্ঞান নিয়ে জ্ঞানী হওয়া যায় কিন্তু পণ্ডিত হওয়া যায়না।

যাইহোক,কথাগুলো আপনাদের অপ্রাসঙ্গিকই মনে হবে কারণ আমি গোড়াতেই আপনাদের ধাঁধায় ফেলে দিয়েছি। আসলে আমি নিজেও ধাঁধার মধ্যে আছি। আমার মত মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন মানুষের জন্য ছোটখাটো ১৬কোটী মানুষের দেশে কতটা বাড়তি বোঝা সেটা আর কেউ না বুঝলেও আমার মত ভুক্তভোগীরা ঠিকই বুঝে। তারপর অতি ছোটখাটো সরকারী চাকুরীজীবী মানুষটি তার নিজের জন্য নিজেই একটি বোঝা। যারা মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব বা নিমাই সন্ন্যাসীর গল্প জানেন তাদের নিশ্চয় বুঝিয়ে বলতে হবেনা যে নিমাই কেন সন্ন্যাসী জীবন বেছে নিয়েছিলেন। আমার মতে নিমাই তার নিজের কাছে অত্যাচারিত হয়েছিলেন বলেই বাধ্য হয়েছিলেন সব ছেড়ে সন্ন্যাস নিতে, কিংবা অতিজ্ঞানী বলে সাধারণ সম্প্রদায়ের মাঝে তারজন্য জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

আপনারা ধাঁধা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন নাতো? শুনেন আমি আগেও বলেছি অতিকার ক্ষুদ্র একটি মানুষ আমি, যার সাতে-পাছে দৈন্যতা ছাড়া কিছুই নেই। বেঁচে থাকার মত কোন উপলক্ষ নেই, এমনকি মানবতার কল্যাণে কাজ করারও কোন ফুরসৎ বা সুযোগও নেই। এমনকি কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, খেলোয়াড় বা রাজনৈতিক ও নই।  তার আবার বেঁচে থাকা মানেইতো দৈন্যতা। পৃথিবী তার বাসযোগ্য স্থান হয় কেমন করে! আমি কি পৃথিবীতে এসেছি কেবোল নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অন্ন-সংস্থান যোগানোর জন্য? তাহলে আমার আর ছোটখাটো পিপীলিকার মাঝে পার্থক্য কি? পিপীলিকা অথবা কীট-পতঙ্গের কাজইতো জীবন রক্ষার্থে অন্নসংস্থানের জন্য ছুটাছুটি করা।

এবার বুঝেন, আমার জন্ম বাংলাদেশে। আমি গর্ব করি, এমনকি আমরা সবাই-ই কম বেশি গর্ব করে বলি যে- আমার দেশের মত দেশ হয়না। কিন্তু আমার গর্ব করার একটাই কারণ, আর সেটা হলো আমার জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে। ইউরোপ বা আমেরিকায় অথবা আফগানিস্তানেও হয়নি। যাতে আমি গর্ব না করে পারি?

এবার আপনাদের ধাঁধা থেকে মুক্তি দিচ্ছি, আমাদের বাংলার জন্মলগ্ন থেকে কবি ফারুক আহমেদ রনি বলে আসছেন- 'আপনি লিখছেন না কেন?' আমি তাঁকে কিছু বলার মত সুযোগটাও হয়ে ওঠেনি, যখনই একটু সময় পেয়েছি আমাদের বাংলায় এসে সবার লেখা পড়ি, মন্তব্য দেই এতেই আমার সাহিত্যের খোরাক হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ সেদিন উনার কাছ থেকে কড়া একটি ম্যাসেজ পেলাম- যেন আজই কিছু লিখতে হবে। আমি যতটা তাঁকে সমীহ করি তারচেয়ে বেশি ভয় পেয়ে গেলাম। তিনি ইংরেজি হরফে লিখলেও বক্তব্য ছিল- আমাদের বাংলা কি এগুবেনা, আমাদের বাংলার জন্য কি কিছু করতে পারিনা? আমাদের বাংলা কি- নিতান্তই মৌলিক বিচারের পরিপন্থী, ইত্যাদি? কঠিন সব কথা শুনে আমার শরীরের ২০৬টি হাড় ঠাণ্ডা হয়ে গেল নিমিষে! আমি যথারীতি অবাক হয়ে গেলাম। ফারুক আহমেদ রনি রীতিমত আমাকে ধমক দিয়ে কি লিখাতে চান? আমি কি লিখতে পারি? আমার কাছে লেখার মত সামর্থ্য কতটুকু? আমি ভাবতে থাকি, আমি গত প্রায় অর্ধযুগ থেকে কিছুই লিখিনা, ব্লগে ব্লগে সবার লেখা পড়ি, মন্তব্য করি। সবার লেখা পড়ে আর মন্তব্য দিয়ে যে টুকু কৃতিত্ব পাই সেটুকুও কি শেষ পর্যন্ত হারাবো? আমি কোন কোন সময় যথেষ্ট কঠিন ও যথাযোগ্য মন্তব্য করে ফেলি ঠিকই, কিন্তু আমার লেখাতে নিজের মন্তব্য দিতে গেলেতো উপহাস ছাড়া কিছু পাবেনা! আমার যেমন অনেক বন্ধু আছেন তেমনি অনেক শত্রুও আছেন। ব্লগকুলে আমাকে নিয়ে অনেক গল্প ইতোমধ্যে বন্ধুমহলে আলোচিত একটি বিষয়। আমি কি লিখতে পারি সে বিবেচনায় আমার মন্তব্য যথেষ্ট পজ্ঞার পরিচয় বহন করতে পারেনি এখনো। তবে যারা আমার সম্পর্কে খুববেশি ওয়াকিবহাল নন তারা আমার মন্তব্যকে প্রজ্ঞাময় বা যথেষ্ট আন্তরিকভাবে নিয়ে থাকেন। কিন্তু আমার কিছু বন্ধুদের মত আপনারাও যখন জেনে যাবেন তখন কিন্তু আমার দৌড় মসজিদ পর্যন্তই কান্ত হবে।

বন্ধুরা, জীবনকে জানতে পারিনি কারণ জানার চেষ্টাও করিনি, করার সুযোগ হয়নি। কবিরা জীবনকে যেভাবে ধারণ করেন সে রকমতো আমি পারিনা। কারণ আমার আগে পিছে ফাইল আর ফাইল, আমাদের সরকার বদলে যাবার সাথে সাথে আমার জায়গা বদলে, এইভাবে গত দুইযুগ থেকে অফিস, অফিসের চেয়ার-টেবিল, ফাইল থেকে শুরু করে খাট পালঙ্ক এমনকি শহর, নগর, গ্রাম থেকে গ্রাম বদলাতে বদলাতে আমি এখন পার্বত্য অঞ্চলে। তাহলে বুঝতেই পারছেন। আমার দৌড়ের শেষ নেই। আমাদের মত হাবারামদের চড়াই-উৎরাই কতটা বেগবান। সরকার আবার বদলাবে, আবার দৌড়াবো আর কোন এক মফস্বল শহরে..

এমনি করে একদিন হয়ত দেখা যাবে আমাকে আপনারা আর খুঁজে পাচ্ছেননা আমাদের বাংলায়। আমি হারিয়ে গেছি অনেক দুরে... চর থেকে সমুদ্রের শেষ সীমানায়, যেখানে আকাশ আর সমুদ্র মিশে গেছে এক হয়ে!

আমার শান্তি একটি জায়গায়, কবিদের কবিতায় তোড়জোড় বাক্যব্যয়ের মাধ্যমে মন্তব্য করা। তাতেই আমি মহা সুখী। আমার সুখ এতটুকু। আমার জন্মের পুণ্যের কাজ এতটুকুই। বিধাতা যদি এইটুকুর জন্য আমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে থাকেন তাহলে আমি মেনে নিলাম বিধাতার সদিচ্ছাটা যথেষ্ট বিবেচিত।

লেখাটি আমি একান্তই শুরু করেছি প্রাত্যহিক আমাদের জীবন-ব্যবস্থা নিয়ে আলোকপাত করতে, তাই হবে।

চলবে...

E-mail me when people leave their comments –

You need to be a member of আমাদের বাংলা to add comments!

Join আমাদের বাংলা

Comments

  • লেখায় ভাললাগা জানাই। চলুক.....

  • কৌশিক দা জীবন যুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকাটাই বড় কথা। সন্ন্যাসী হওয়া সহজ কিন্তু সমাজ ধর্ম পালন অনেক কঠিন। আর এ কঠিন কাজটাই আপনার আমার মতো মানুষরা করছি। হতাশ হবেন না..এই যে এতো সুন্দর করে লিখছেন ...আপনার মতো আরও কতো মানুষের মনের কথাগুলো লিখছেন এটাই বা কজন পারে...  

  • কৌশিক দা লিখাটা মন দিয়ে পড়েছি... চলবে লিখেছেন তাই অপেক্ষায় থাকলাম আর পড়বো...লিখাটা আমাদের অনেক দূর নিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা...

  • কৌশিকদা, পৃথিবীতে আসার মধ্যে কোন রহস্য নেই যেমন নেই বেঁচে থাকার মধ্যে, আমি নিশ্চিত বাকিটুকু রহস্য আছে আপনার লেখায় আপনার মধ্যে। শুভেচ্ছা।

  • ভালো, যথেষ্ট গোছানো। নিয়মিত হবার শুভ কামনা।

  • কৌশিকদা ভাল লাগলো।

  • মুগ্ধ হলাম আপনার লেখাটি পড়ে। আপনার লেখাটির মাঝেইতো যে দর্শন সেটাকেইতো জানতে হবে আগে। আপনার জন্ম কেন? লেখাটির মাঝে যে দর্শন দেখতে পাচ্ছি, সেইতো বড় কথা।

  • দাদা, অনেক ভাল লেগেছে। এমন সুন্দর আপনার নিজেকে নিয়ে বিচার। তবে আপনার কথাগুলো স্পর্শকাতর। যে কাউকে মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ট।

  • শেষ পর্যন্ত আপনাকে পেয়ে ভাল লাগছে। অনেক ভাল লাগলো লেখাটি। নিয়মিত পড়তে চাই। শুভেচ্ছা

  • চমৎকার একটা লেখা কৌশিকদা। ভাল লাগলো। আরো পড়ার অপেক্ষায় থাকবো

This reply was deleted.

Image result for পà§à¦°à§‡à¦®à¦¾à¦¨à§à¦¤

 

 

 

আমার ভালোবাসার ভাগান ভরেনি এখনো ফুলে ফুলেজাগে

নতুন প্রশ্ন  জাগে মোহনা ভালোবাসা কাকে বলে

তুমিতো জানো জগৎ সংসারে আমি বড় অসুখি

মাতৃহীন জীবনে প্রেমের মায়া আর বুঝবো কি

সুখে…

Read more…
Comments: 0

ইচ্ছে

আমার প্রথম কবিতা ছিলআনকোরা হাতের চাপে ক্লান্ত,শেষ কবিতা হয়ে উঠুকউজ্জ্বল এক নক্ষত্র ।প্রথম ভালবাসা ছিল ইচ্ছেনদীশেষ ভালবাসা হোক সমুদ্রসাক্ষী।
Read more…
Comments: 0
Faruk Ahmed Roni liked গাজি শেখ ফরিদ's blog post প্রেমান্ত
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked Moynur Rahman Babul's blog post স্বদেশ আমার মা আমার
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked Moynur Rahman Babul's blog post ভয়
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "বাসনা "
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked Avijit Roy's blog post তুলসী মালা
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "অভিমান"
Apr 24
গাজি শেখ ফরিদ updated their profile photo
Apr 24
গাজি শেখ ফরিদ updated their profile photo
Apr 24
Avijit Roy liked Avijit Roy's blog post চিহ্ন
Apr 16
Avijit Roy liked Avijit Roy's blog post তুলসী মালা
Apr 14
Sarwar-E Alam updated their profile photo
Feb 13
পীযূষ কান্তি দাস commented on Moynur Rahman Babul's blog post এও তো প্রেম
"সুন্দর গল্প ।
ভালো লাগলো ।"
Jan 17
পীযূষ কান্তি দাস commented on বকুল দেব's blog post সে তুমি , আমার বাবা
"বাবা তুমি জ্বেলেছিলে
সত্যের আগুন এই মনে ,
তোমার আলোয় ভাসছি আমি
প্রতিদিন আর প্রতিক্ষণে ।
এই ভাবে পারি যেন
থাকতে অবিচল ,
প্রনাম জেনো লক্ষ -কোটি
আশীর্বাদে পাই বল ॥"
Jan 17
পীযূষ কান্তি দাস liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "অভিমান"
Jan 16
Moynur Rahman Babul liked Moynur Rahman Babul's blog post এও তো প্রেম
Jan 15
পীযূষ কান্তি দাস commented on ইকবাল হোসেন বাল্মীকি's blog post ক্ষুদে গল্পঃ-১, কিছু সত্যকাণ্ড শুনে লঙ্কাকাণ্ড করিবার ইচ্ছা হয় - ইউ এন ও সমাচারঃ
"বা বা ভালা লাগল"
Jan 15
GAUTAM NATH updated their profile photo
Dec 8, 2017
এস ইসলাম updated their profile photo
Nov 17, 2017
sayeem Mohammad shoab shared their blog post on Facebook
Oct 9, 2017
sayeem Mohammad shoab updated their profile photo
Oct 9, 2017
More…