<

Blog (ব্লগ)


---------------------------------
 আমাদের বাংলা আমার লেখা লেখির ব্লগ গুলার মধ্যে অন্যতম । যেহেতু ইহার সাথে আমার অনেক সুহৃদ , অগ্রজ , অনুজ ও সর্বপরি ডায়াস্পোর কবি বন্ধুরা জড়িত , এইখান কার খাদ্য , অখাদ্য এবং সুখাদ্য সব কিছুকেই আমি সরল বাংলায় ভালবাসি । অনেকটা ভক্তের মতো । গুরু ভক্তের মাথায় বাঢ়ি দিয়ে রক্তে রঞ্জিত করিয়াছেন , কিন্তু ভাক্ত ভাবে রক্তে রঙ্গিলা করিয়াছেন । সুতরাং এখানকার কবি সাহিত্যিক দের আঘাত , খুঁচা, দা ,বটি, ড্যাগার , বন্দুক সকলই গোলাপের মতো । তাই বলি কি,  হে কবি ও চিন্তামনিরা , মান্যবর আব্দুল গফফার চৌধুরী কে নিয়া আপনেরা যে বির্তকের গোলাপ ও কাঁটা ফলাইতেছেন , তা একেবারে ফেলনা নয় । উভয়ই বৃক্ষের জন্য অপরিহার্য।কিন্তু এতো রাজনীতি সংলগ্ন কেন? এতো বিভক্তি কেন?   

আমি কিন্তুক লেখক বা কবি এর কোনটাই নই। বিনয়ের জন্য বলছি না । আমার বাতিলত্ব বলছি । কৈশোরে যৌবনে পত্রিকার পাতায় কবিতা না লিখে লিখেছি ব্যাক্তিগত ডায়েরীতে । লিখতে লিখতে বুঝতে পেরেছি জীবন ও কবিতা জীবিতের পক্ষে লিখা সম্ভব নয় । প্রিয় কবি ‘দেলওয়ার হোসেন মঞ্জুর’  কাব্যিক দর্শন মতে জীবিত মানুষ কবিতা লিখতে পারে না । মানুষ কবিতা লিখে মৃত্যুর পর। তখন আমার ডায়েরির কবিতা গুলো হবে মৃত মানুষের কবিতা । প্রকৃত কবিতা । আমার অস্থিত্ব হবে প্রকৃত কবি । আমার আজকের বয়ান একজন অপ্রকৃত কবির বয়ান রূপে গণ্য হইলে নগন্য আমি ফুলসিরাত পার হয়ে যাই । যেহেতু এই তর্কযুদ্ধে আমার বয়ান রাখা এই জন্য দরকার হয়তো চাঠির জন্য কেউ অপেক্ষা করিতেছেন আমার ওয়াজের জন্য নয় । কিন্তু ভাই আমি যে তোমার চাঠির উপর বাসা , আমি উঠলে তো তুমি বাড়ি যাবা ? অতএব তুমি আমার বক্তিমা বোঝ আর না বোঝ , শোন আর না শোন , শ্রোতা  হইয়া থাক । আমি বক্তৃতা জাড়ি।

আ গা চৌ যাহা বলিয়াছেন যদি তিনি আ গা চৌ না হইয়া বলিতেন তাইলে আমার কোন অসুবিধা ছিল না । বিদ্যমান বাংলার রাজনৈতিক চিন্তাকুল শিরমনি আ গা চৌ কোন অ্যাকাডেমিক বক্তব্য রাখেন নাই । অ্যাকাডেমিক বক্তব্য এই রকম হইতে পারে না ।কোনপ্রকার দালিলিক উদ্ধৃতি সংযুক্তি টিকা টিপ্পনী সুত্র ও মুসাবিদা ব্যাতিরেখে তিনি এমুন বক্তব্য দিয়াছেন , তবে ইহা বক্তব্য, কিন্তু রাজনৈতিক । আমি উনার রাজনৈতিক বক্তব্য কে রাজনীতির কারণে সমর্থন করিতে পারি না । উনি যে রাজনীতি করেন সেই রাজনীতিকে উনি বিপদে ফেলিয়াছেন ।এইতো কিছুদিন আগে যে রাজনীতিবিদের মাথায় হাত রাখিয়া মানপত্র পাঠ করিলেন, উনাকেই তিনি বিপদ গ্রস্থ করিলেন। আমি এই জন্য তাঁর বক্তব্যকে হঠকারী এবং হুজুগে বলিতে বাধ্য । কেউ যদি এখন আ গা চৌ কে দেবতা মানিয়া আমার কল্লা বিক্র্য় করিতে চাহেন, তাইলে বলব হে সেকুলারিস্ট আপনিও পথ হারাইয়াছেন ।আওয়ামী  সেকুলারিজমের অর্থনয় ধর্মকে তুচ্ছ তাচ্ছিল করিয়া উহার অভ্যন্তরস্থ লাভা না মারিয়া উহাকে আগ্নেয় করিয়া তোলা। বিশেষত বঙ্গীয় অথবা ভারতীয় স্যাকুলারিজম যেখানে ‘ লা ফিদ্‌দীন’ নয় ‘লা-কুম দীনাকুম ওলিয়া দীনের’ উপ্রে প্রতিস্টিত। নাস্তিকতা নয় যারযার ধর্মের স্বাধীনতার উপর প্রতিষ্টিত । তাইলে আওয়ামী  স্যাকুলার রাজনীতির চিন্তানায়ক , যিনি নিজে নাস্তিক নন অথচ ধর্মহীনতার ভাষায় ইসলাম আল্লাহ ও মোহাম্মদ কে নিয়া স্থূল আলোচনায় মাতিলেন , কেন? উনি কি রাজনীতির ফল মৌলবাদের  বিষ বৃক্ষে ধরাইতে চাহিলেন ? তাইলে কি মুর্খজন বলিব , এখানেও এজেন্ডা কাজ করিতেছে ।  কোন কিছু হাসিলের মতলব চলিতেছে ?

আমরা যারা তাঁকে জানি ভালো করিয়া জানি তিনি একজন আল্লাবাদী মানুষ। তিনি আয়াতুল কুর্সি পড়িয়া মানুষের মাথায় ফুঁ দেন । আবার নন প্র্যেক্টিস মুসলমান । ক্যাজুয়েল ধার্মিক । উমরাহ পর্ব ইতিমধ্যে সমাপন করিয়াছেন , মুল হজ্বও করিয়াছেন। আকবরি বড় হজ্জের জন্য অপেক্ষায় আছেন । আল্লাহ হুকুমের মালিক । আল্লার হুকুম না হোয়াতে , দিন তারিখের সাথে না মিলাতে , শুক্রবারের আকবরির জন্য উতাল হইয়া আছেন । এই হেন লোক কেন আল্লার ছিফতি নামের সাথে দেব দেবীর নামের মিলন খুজবেন । খুঁজে পাইলেও কেন বলিয়া বেড়াইবেন । বরঞ্চ তিনি এড়াইবেন। এমন কুকাম তিনি কায়মনবাক্যে এড়িয়ে চলিবেন ! অথচ হেতায় তিনি ঝাপ দিলেন । মৌলবাদ কে নিবারন নয় উস্কানি দিলেন । যে মৌলবাদ কে তিনি বাংলাদেশের প্রথম সমস্যা বলিয়া চিহ্নিত করিয়া থাকেন । দুর্নিতি কে বলেন দ্বিতীয় । কিন্ত আমারমত অজ্ঞজন তিনির বক্তব্যে তালি দিলেও, বিজ্ঞজনেরা জানেন দুর্নীতিই আমাদের সকল অর্জন কে বিসর্জনের ভেলায় ভাসিয়ে দিতেছে । মৌলবাদ সেখানে অনেক অনেক পরের বিষয় ।কেন ফ্যাশন্যাবল কুমিনিষ্টের মতো কথা বলিলেন?  এই বয়সে তাঁকে ফ্যাসনেবল কমিউনিজমের ভুতে তাড়াবার কথা নয় । এই ফ্যাশন্যবল কমিউনিজমে কে উনিতো একাশি বছর গোঁ খেদানোর মতো তাড়াইয়া বেড়াইয়াছেন । তাইলে কি কথা , কি কথা ঐ যুবতির সাথে ? ধনতান্ত্রিক যুবতীর কোলে কামিনী নয় , মনেহয় কাঞ্চনের  দোলে দেখিয়াছেন? এখানে দুর্নীতি ও সভ্যসমাজের ইবনে খালদেদুনীয় ধোঁয়ায় কিছুই আচ্ছন্ন করিতেছে না । আর যদি কেও তোলেন তাঁতেও লাভের পাল্লা ভারী হওয়ার সম্ভাবনার চাইতে লোকসানের দিকে ঝুলিয়া যাওয়ায়র ঝোকই প্রবল ।

বলুন তো ? কি দরকার ছিল এইসব বলার ? প্রিয়া গাফাফার ভাই , বাঙ্গালীত্ব বুঝানোর জন্য কি এসব বলা আবশ্যক ছিল ?  হালেতুন নবীর পুঁথি পড়া বাঙ্গালী মুসলমান দেওবন্দ অতিক্রম করিয়া , মওদুদীবাদে বিচরণ করিতেছেন, সামনে তাঁদের প্রকৃত ইসলাম সালাফিজম আসিতেছে । সৌদি থেকে রিয়েল ইসলাম আসিতেছে । বাঙ্গালি মুসলিম মধ্যভিত্ত অক্ষর জ্ঞান  লাভ করাতে বঙ্গ ভাষায় বই পাড়া এমন কি বই লিখাও শিখিয়াছে । আর এই বইগুলো কিন্তু প্রো-ইস্লামিক। সুতরাং বাঙ্গালি মধ্যভিত্তের বাংলাদেশে ইসলাম নবিন ভাবে আসিতেছে । আপনাকে এখানে তাঁদের সহযাত্রি হওয়ার কথা , আপনি কেন তাঁদের যাত্রায় আঁখ মারিলেন । টিপ্পনী কাটিলেন । আপনি ভালো করিয়া জানেন বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ দিয়া বাংলাদেশের মৌলবাদ রুখা যাবে না । মৌলবাদ রুখতে হলে রাজনৈতিক দুর্নিতির মুলুত্‌পাঠন করতে হবে প্রথম । যেখানে আমলা ও রাজনীতিবিদ মুদ্রার দুই পিঠ হইয়া অবস্থান করিতেছেন । সত্য চরম বেয়াদবি হলেও সত্য ,কোন মোল্লা সুইস ব্যাংকে টাকা রাখে না । বছরে ছয় হাজার কোটি টাকা বিদেশে চালান করে না । ইয়াবা আমদানী করে না । ঈদের দিনে গার্মেন্টস বালিকার বেতন আটকাইয়া রাখে না । আপনা বালক বালিকা কে বিদেশে রপ্তানি করিয়া বৈদেশিক নিরাপত্তা বিঁধান করে না । তাইলে তাঁরা কি করতেছে? ইরানি স্টাইলে ইসলামি বিপ্লবের খোয়াব দেখিতেছে! কারণ তারা এই রাজনীতির উপ্রে বিশ্বাস হারাইয়াছে । তারা মুসলিম বাংলার চেতনা কে ধীরে ধীরে ‘মুসলিমলীগ-উলামা-বি এন পি’ ইত্যাদির ঘাট হইতে বিযুক্ত করিয়া আরো শানিত করিতেছে । যেই দেওবন্দি  মৌলানা মৌলবির আওয়ামীলীগের গুড়া পত্তন করিয়া ছিলেন , ইহারা আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে দাড়াইয়া পড়িতেছেন ।এর কারণ আওমীলিগের স্যাকুলারিজম নয় , ইহার কারণ হচ্ছে প্রশাসনিক দুর্নীতি । আর এই দুর্নিতিবাজ প্রশাসন আওমীলিগ কে নেস্তে নাবুদ করিয়া ছাড়িবে , ইহা বলার অপেক্ষা রাখে না । কারণ আওয়ামীলীগের হাতে ধর্ম নাই ।বি এন পির মতো ধর্মের জিগির তোলিয়া , এক হাতে কোরান আর এক হাতে বি এন পি লইয়া রাজনীতি করে । আওয়ামীলীগের হাতে মুক্তিযোদ্ধের চেতনা । আর এই চেতনা বিগত ত্রিশ একচল্লিশ বছরে মুসলিম মধ্যভিত্তের চেতনার রঙ্গে রঙিন হইয়াছে । আওয়ামীলীগার দের ধর্মকথা শুনিলে , আপনিও বুঝিতেন । ঐদিন আপনি যদি ডায়াসে না বসিয়া অর্ডিয়েন্সের লোক গুলান ডায়াসে উঠিয়া ইসলাম সম্পর্কে বক্তিমা দিতে বলিতেন , তাইলে বুঝিতেন , মুক্ত দুনিয়ার আওয়ামীলীগাররাও  তাঁদের ধর্মকে কি আবেগের মধ্যে রাখিয়াছেন ।

আমাকে চিন্তা ও বুদ্ধির স্বাধীনতার কথা বলিয়া লাভ নাই ।আমি ব্যাক্তিগত ভাবে কারো ভাবে গদগদ না ।খালি একুশে ফেব্রুয়ারীর গান গাইয়া আমার কলিজা ঠাণ্ডা হয় না, আমার কলিজার আগুন নিবারণের জন্য আরো অনেক গান শুনতে হয় গাইতে হয় । যাদের কলিজা একমাত্র আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো গানে ঠান্ডা হয় তাঁরা আপনার আখাস্তা নাখাস্তা কথা বার্তা শুনে চেং ফাল দিলেও বাংগালের জগতে স্যাকুরারিজম কায়েম হবে না । আমরা জানি কিভাবে উপর থেকে নিচের দিকে সভ্যতাকে গ্রহন যোগ্য করে তোলা হয় । যত ধর্ম,  দর্শন বা নীতি,  ইহা সমাজে প্রোথিত হয়েছে হয় রাষ্ট্রীয় আনুকুল্যে নতবা রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা দখল করে । ইউরোপে যে স্যাকুলার সমাজ বা সামাজিক মূল্যবোধ ছিল ইহা প্রাথমিক রাষ্ট্র কতৃক চাপিয়ে দেয়া হয়েছে । রাষ্ট্র দ্বারা ইহার চর্চা ও পরিচর্চার ফলে সেকুলারিস্ট সমাজের উদ্ভব ঘটেছে । ইউরোপে আগে স্যাকুলার সমাজ আসেনি , এসেছে প্রথম স্যাকুলার রাস্ট্র । তাই আগে স্যাকুলার রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করুন , তারপর তারপর সমাজ । যারা স্যাকুলার রাষ্ট্র প্রতিষ্টার আন্দোলনে আছে তাঁদের কে সাহায্য করার নামে বিপদ গ্রস্থ করিয়া লাভ নাই । আপনি প্রকৃতভাবে স্যাকুলার হলে স্যাকুলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আপনাকে যারা জামাই আদর করে তাঁদের কে স্যকুরাজিম বুঝান, তাইলে কাজের কাজ হবে , ঘরের ওয়াজ মাঠে করিয়া লাভ নাই । আগে ঘর ঠিক করিয়া বাদে দোয়ার ঠিক করবেন । আপনার বক্তৃতায় আওমীলিগের  কর্মিরা বেশী আহত হয়েছেন। আপনি জানেন আপনি অনেকটা তাঁদের আদর্শিক নেতা, আপনার বক্তব্য তাঁদের কে মর্মাহত করেছে । তাঁরা দল করিয়া টেকিয়াছেন , তাই ভিতরে ভিতরে আপনার উপ্রে ফুঁসিছেন । এর কারণ তাঁদের অজ্ঞতা নয় । এর কারণ হচ্ছে তাঁদের সম্পর্কে আপনার ধারনা গত অজ্ঞতা । মনে রাখবেন উনারা শেখ হাসিনা নান । শেখ হাসিনার প্রান শাহবাগীদের জন্য কাঁদলেও , শাহবাগীদের আন্দলন বুঝলেও আওয়ামীলিগ বুঝে নাই । ওখানে আওয়ামীলীগের লোক সেখানে গোন্ডামি করিয়াছে । আপনার সদ্য চর্চিত ইউরোপিয়ান স্যাকুলারিজম আওমীলিগের চর্চিত বিষয় হলে শাহবাগ তৈরীই হত না । শেখ হাসিনা দুঃখ করিয়া বলিতেন না ওরা ( মৌলবাদীরা ) আমাকে খুন না করা পর্যন্ত ক্লান্ত হবে না । তাইলে কি বুঝা যায় না যাদের উপ্রে ভরসা রেখে আপনি ভক্তব্য রেখেছেন সে আওমীলীগও শেখ হাসিনার মতো ক্ষণজন্মা নেত্রীকেও সুরক্ষা দিতে পারবেনা । যেমন বঙ্গবন্ধু কে পারে নি ।তবে হাঁ আওমীলিগের ভিতরে “ লাকুম দি নাকুম ওলিয়া দিনের” যে বাতাস আছে সেটাকে ঝড়ে রুপান্তরিত করে আরো অগ্রসর করা সম্ভব যদি আপনার এইসব বক্তৃতা জাতীকে না শুনিয়ে আওয়ামীগের কর্মিদের শোনান । আপনার বক্তৃতার পেছনের সুত্র সমূহ বাৎলে দেন,  এঁদের কে আত্মস্থ করতে বলেন । বাংলাদেশের সংখ্যালগুদের ভোটের জন্য না, সংখ্যা গুরুর মুক্তির জন্য প্রকৃত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রয়োজন । আমি নিজেও প্রায় দুই যুগের উপ্রে আওয়ামীলীগের সমর্থক, ১% আওয়ামীলীগার গণ প্রকৃত স্যাকুলারিজম ধারন করতে শেখেনি ।তাঁদের স্যাকুলারিজম মানে হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই , এই পর্যন্ত । আপনার নব্য বোধদয় দিয়া আগে আওমীলীগ কে নাব্য করুন , আমরা আপনার ঢোল এছা জোরে পিঠাইবো , আপনাকে আর নিজে নিজে এই বয়েসে কষ্ট করিতে হইবে না ।

জানি গাফফার ভক্তগন বেজার হইবেন , কারণ আমার এই বক্তব্য খানা উনার বিপক্ষে চলিয়া যাইতেছ বলে । আপনাদের সোজা কথা উনি উনার মতামত ব্যাক্ত করার অধিকার রাখেন । কিন্তু আমি বলব সবে সব অধিকার রাখলেও ফলাইতে নাই। এবং আমি আবারও বলছি গাফফার ভাই যে অবস্থানে আছেন  সে অবস্থান থেকে এই মুহুর্থে এইসব বক্তিমা পাব্লিক পেলেছে দেওয়ার কোন যুক্তিযুক্ততা নাই । উনি হুমায়ুন আজাদও না জাফর ইকবালও না । উনি স্বাধীন প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী না উনি আওয়ামী পরিবারের বুদ্ধিজীবী । তাই তাঁকে অনেক আওয়ামী দ্বায়ীত্ব নিয়া কথা বলতে হবে । সাধারন প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীর দায় থাকে বহন করতে হবে কেন ? লন্ডনের রাজনৈতিক সভায়  মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে তাঁদের কাউকেতো দেখা যায় না। উনিই একমাত্র বুদ্ধিজীবী যিনি বুদ্ধির শুভা বর্ধন করিয়া থাকেন ।তিনি কোন ভাবেই দলীয় দায় এড়াতে পারেন না। কারণ তিনি দলীয় বুদ্ধিজীবী । নাকি সে দিন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী উনাকে লক্ষ করিয়া যে উক্তি করিয়াছিলেন তা উনাকে স্বরন করিয়ে দেয়া প্রয়োজন? তিনি আওয়ামী রাজনীতিতে অনেক দুঃখের কারণছিলেন যাহা নেত্রি নিজ মুখে জন সম্মুখে বলিয়াছেন! এই দুঃখ জনক কাজের মধ্যে এইরখম হঠকারিতার ফিরিস্তি নিশ্চয় রহিয়াছে ?
 
তারপরও যদি কেউ বলেন যে ব্যাক্তি আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মত ও চিন্তা প্রকাশের কি স্বাধীনতা নেই ? তাইলে বলবে হাঁ ব্যাক্তি আ গা চৌ তাঁর মত ও চিন্তা প্রকাশের স্বাধীনতা রাখেন।কিন্তু এই মত ও চিন্তা প্রকাশের অর্থ নয় ভরা মজলিশে পাগলের হাতে দা ধরিয়ে দেয়া । এতে করে নিজেকে কেবল বিপদ গ্রস্থ করা নয় সমস্ত মজলিস কে সংকটাপন্ন করিয়া তোলা । তাই যখন মৌলবাদের পাগলা কে চিকিৎসা করিয়া সুস্থ করিয়া তোলা, অথবা চিকিৎসার অতীত হইলে টার্মিনেইট করা জাতীয় কর্তব্যের আওয়তায় পড়ে তখন তাঁর হাতে অস্র তো্লিয়া দেয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ ? অন্তত তাঁর পক্ষে উহা সুভনিয় দেখায় না ।

উনি মৌলবাদ কে উস্কানী দিচ্ছেন বলছি এই কারণে যে , উনার বক্তব্যের অনু-বিশ্লেষনে না গিয়েও বলা যায় উনি কেবল ইসলামের মাঝে অসংগতি দেখতে পেলেন, আর কোন ধর্মে দেখতে পেলেন না যা বাঙ্গালী জাতীয় পরিচিতির ক্ষেত্রে হানি কর ।
উনারতো না জানার কথা নয় ,বাঙ্গালিত্বের প্রধান উপাদান যে বাংলা ভাষা , মধ্য যুগের মুসলমানদের কারনেই বিকশিত হয়েছে । গ্রীক সভ্যতার জ্ঞান বিজ্ঞান যেমন বাগদাদের মুসলমান বুদ্ধিজীবী গণ রক্ষা করিয়াছিলে এবং ইউরোপিয়ান পুনঃজাগরণে পরোক্ষ ভাবে সহায়ক শক্তিহয়েছিলেন , বাঙ্গালি মুসলমানেরা বাংলা ভাষা কে ফার্সি ও সংস্কৃতি উভয়ের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করে বাংলা ভাষার পুনজাগরণ ঘঠিয়েছিলেন ।
এই মুসলমানেরা কিন্তু মৌলবাদী বা নিপিড়ক শাসক মুসলমান ছিলেন না । এরা ছিলেন ধর্মান্তরিত মুসলমান । এরা বিজাতী স্বংস্কৃতির কাছে আত্ম সমর্পন না করে, সংশ্লেষের মাধ্যমে বাংলা ভাষার জীবন ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। সারা মধ্যযুগে হাতে গুনা কয়জন হিন্দু পুথিকর ছাড়া তেমন কবির দেখা মেলা ভার। অথচ মুসলিম রাজসভায় ফার্সিজানা হিন্দু আমত্যদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এইসব আমত্যদের উত্তরসুরিরা কিন্তু মুসলমান বাঙ্গালির স্বার্থে গেলে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছেন, আবার মুসলমান স্বার্থের বিপক্ষে গেলে বঙ্গভঙ্গ করেছেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালায় প্রতিষ্টার বিরোধিতা করেছেন । এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না হলে কি একুশে ফেব্রুয়ীরি হতো? গাফফার চৌধুরী কি গান লিখতে পারতেন? আজও সেই হিন্দু মৌলবাদ কৌশল বদল করে বাঙ্গালী মুসমানদের কোন ভালো কাজ কে স্বীকৃতি দিতে চায় না। বাঙ্গালী মুসলমানদের শ্রেস্ট অর্জন অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ যেন টেকায় পড়ে সাহায্য করেছিল , না হলে এই সভ্য দুনিয়ায় আমাদের কে ওরা কাঁটাতাঁর দিয়ে গেরাও দিতে পারতো না । বাংলাদেশের সাথে মার্জ হোয়াতো দুরের কথা। কারণ এরা বাঙ্গালি মুসলমানদের বাঙ্গালী মনে করে কি না সন্ধেহ রহিয়াছে। তাই বলা যায় বাঙ্গালি মুসলমানদের বাঙ্গালীত্ব টিকিয়ের রাখার জন্য , পলিটিক্যাল ইসলাম একমাত্র হুমকি নয় , ভারতীয় হিন্দু মৌলবাদও একটি অন্যতম প্রধান হুমকি, যার সাথে বঙ্গভূমি আন্দোলনের মৌলবাদীদের যুগসুত্র রহিয়াছে। মৌলবাদের উভয় ধারাকে মোকাবেলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ইহা গফফার চৌধুরী জানেন, কিন্তু জেনেও খুঁচা টা কবেল ইসলাম কে-ই দিলেন।
   
আরেকটা মজার প্রবণতা লক্ষকরছি ! সেটা হচ্ছে গফফার চৌধুরী রক্ষা ও বাঁচাও বিবৃতি বাজী । কেন ? উনাকে কি কেউ আক্রমন করছে ? উনাকে যারা আক্রমন করছে লেখা লেখির মাধ্যমে , সেটা কি তাঁদের অধিকারের মধ্যে পড়েনা । সে ব্যক্তি চিন্তায় চেতনা মৌলবাদী হলেও তাঁর কি মত প্রকাশ ও নিজ পক্ষ অবল্বনের  অধিকার নেই ? সে অধিকার ধমন করা কি প্রগতিশীল ফ্যাসিবাদ নয় ?না কি বটবৃক্ষের কোলে আগাছার লাফিয়ে উঠার মত আত্মপ্রকাশ ? কোনাটা ? বন্ধুগন, তৃণমূল বৃক্ষ হও , তবু আগাছা হইয়ো না ।  নিজের অবয়বের ক্ষুদ্রতায় লজ্জার কিছু নেই কিন্তু কৃত্রিম ঠ্যাং লাগিয়ে উচ্চাতা প্রকাশ থেকে বিরত থাকা নিজ নিজ মঙ্গলের জন্য অতীব উত্তম । আর যদি রাজনীতি করতেই চান , তাইলেতো মাট পড়ে আছে নেমে পড়ুন । শিল্পী সাহিত্যিকারা কি সরাসরি রাজনীতি করেন নাই ? রাজনীতি কে স্বঘোষিত এম্বার্গেশন দিয়ে আবার রাজনীতি করা কি স্ববিরোধিতা নয় । বলি কি , আপনাদের প্রতিভা আছে, সরাসরি নেমে পড়ুন , তাহলে আউল ফাউলদের সাথে আপনাদের ঘুরাঘুরি করতে দেখে মর্মাহত হতে হবে না । আসল জায়গায় আপানাদের দেখতে পাবো , প্রান জোড়াব । রাজনীতি কিন্তু অত্তখারাপ না , যতটা আপনেরা খারাপ ভাবিয়া থাকেন । কারণ আমাদের সক্কলের অন্তরে কিন্তু একজন ম্যাকিয়াভেলীর বসবাস ।

Email me when people comment –

You need to be a member of আমাদের বাংলা to add comments!

Join আমাদের বাংলা

ইচ্ছে

আমার প্রথম কবিতা ছিলআনকোরা হাতের চাপে ক্লান্ত,শেষ কবিতা হয়ে উঠুকউজ্জ্বল এক নক্ষত্র ।প্রথম ভালবাসা ছিল ইচ্ছেনদীশেষ ভালবাসা হোক সমুদ্রসাক্ষী।
Read more…
Comments: 0
Sarwar-E Alam updated their profile photo
Feb 13
পীযূষ কান্তি দাস commented on Moynur Rahman Babul's blog post এও তো প্রেম
"সুন্দর গল্প ।
ভালো লাগলো ।"
Jan 17
Moynur Rahman Babul posted blog posts
Jan 17
পীযূষ কান্তি দাস commented on বকুল দেব's blog post সে তুমি , আমার বাবা
"বাবা তুমি জ্বেলেছিলে
সত্যের আগুন এই মনে ,
তোমার আলোয় ভাসছি আমি
প্রতিদিন আর প্রতিক্ষণে ।
এই ভাবে পারি যেন
থাকতে অবিচল ,
প্রনাম জেনো লক্ষ -কোটি
আশীর্বাদে পাই বল ॥"
Jan 17
Hasan is now a member of আমাদের বাংলা
Jan 16
পীযূষ কান্তি দাস posted blog posts
Jan 16
পীযূষ কান্তি দাস liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "অভিমান"
Jan 16
Moynur Rahman Babul liked Moynur Rahman Babul's blog post এও তো প্রেম
Jan 15
পীযূষ কান্তি দাস commented on ইকবাল হোসেন বাল্মীকি's blog post ক্ষুদে গল্পঃ-১, কিছু সত্যকাণ্ড শুনে লঙ্কাকাণ্ড করিবার ইচ্ছা হয় - ইউ এন ও সমাচারঃ
"বা বা ভালা লাগল"
Jan 15
পীযূষ কান্তি দাস is now a member of আমাদের বাংলা
Jan 15
Moynur Rahman Babul posted a blog post
        অনেক কথা ছড়ায় ছড়ায়বলিতে পারিনা খুলেকিজানি মারে, পুলিশ ধরেমামলার খড়গ ঝুলে । মোল্লার কথা বলিব কিছুকিন্তু ধর্মে ভয়দেবতার বলি ঠাকুরের কাজেতবু পুরোহিত রয় । নেতার খেলাপ যদি বলা হয়আমার ছড়ায় কিছুহয়তো নেবে তার হুকুমেচেলাচামুণ্ডা পিছু । পুলিশের কথা বল…
Jan 5
GAUTAM NATH updated their profile photo
Dec 8, 2017
GAUTAM NATH posted a blog post
আমার প্রথম কবিতা ছিলআনকোরা হাতের চাপে ক্লান্ত,শেষ কবিতা হয়ে উঠুকউজ্জ্বল এক নক্ষত্র ।প্রথম ভালবাসা ছিল ইচ্ছেনদীশেষ ভালবাসা হোক সমুদ্রসাক্ষী।
Dec 8, 2017
GAUTAM NATH is now a member of আমাদের বাংলা
Dec 8, 2017
Moynur Rahman Babul posted a blog post
আমি মানুষটা আসলেই একটু হিসেবী। নাঃ, এই হিসেবীর অর্থ কীপ্টা নয়। কৃপণ হবো কেন ? আমার কীসের অভাব ? আসলে আমার হিসাব মিলাতে হয় অন্যখানে। আমার যেকোন কৃতকর্মে আমি একেবারেই ব্যর্থ হতে চাইনা। হইও না। এটা আমার ধাতে নেই। কুষ্ঠিতে নেই। যা করি, যে টুকু করি অর্থা…
Dec 3, 2017
Moynur Rahman Babul posted a blog post
পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকেলক্ষি আর বিমলারনজিৎ তার বিপরীতেএকদম একেলা।রোজদিন যেতে আসতেচোখাচোখি হয়ভদ্রতায় খাতির করেহ্যায় হ্যালো কয়।লোডশেডিং প্রতিদিনহয় দুই ফ্ল্যাটেসেসময় বিমলারাবারান্দায় হাটে।খোলা চুলে হাটাহাটিরনজিৎ দেখেবের হয় চাদর গায়েখুসবো মেখে।খুসবোতে মা…
Nov 26, 2017
এস ইসলাম posted a blog post
কবি শফিকুল  ইসলাম উদভ্রান্ত যুগের শুদ্ধতম কবি শফিকুল ইসলাম। তারুণ্য ও দ্রোহের প্রতীক । তার কাব্যচর্চ্চার বিষয়বস্তু প্রেম ও দ্রোহ। কবিতা রচনার পাশাপাশি তিনি অনেক গান ও রচনা করেছেন। তার দেশাত্ববোধক ও সমাজ-সচেতন গানে বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে…
Nov 26, 2017
এস ইসলাম updated their profile photo
Nov 17, 2017
Moynur Rahman Babul posted a blog post
কলম ঘষে সুকুমারলিখে যান ছড়ামাসুল তাকে দিতে হয়বড় বেশী চড়া।ছড়ায় লিখা ভাষাগুলোলিখা হয় কড়াপুলিশ র‌্যাব খোঁজে তারেনিয়ে হাতকড়া।তেল মারার নীতি নাই লেখা সব ছড়াসত্যকথায় ছন্দগুলোচোখ ছানাবড়া।কড়া ভাষা সুকুমারেরছন্দঘর গড়ালেখা জোখায় দিতে হয়দাম তার চড়া।চড়া দামের ছ…
Nov 3, 2017
Moynur Rahman Babul posted a blog post
পঁচিশ বছর আগের স্মৃতি আজও মনে পড়ে-প্রতিদিন গোধূলী বেলায় তুমিধূলিমাখা পথ ধরেধূলার বেষ্টনীতে ধোঁয়ারঙে মিশেউত্তর মুলাইমের কাঁচাপথে হেঁটে যেতে...আমার নানাবাড়ী উত্তরমুলাইম গ্রামজন্মে বাবার মুখ দেখবোনা বলেগর্ভে নিয়েই মা চলে এসেছিলেন তার বাবার আলয়ে জন্ম,…
Oct 26, 2017
More…