<

Blog (ব্লগ)

গত দুইদিন ধরে হোয়াটস এপে আমাদের বাংলা গ্রুপে কবিতা বিষয়ক একটি মনোজ্ঞ আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। সিনিয়র কবিদের ছোট ছোট আলোচনা পড়ছিলাম মনোযোগ দিয়ে। কিন্তু ফোনে লেখালেখি আমার অসহ্য লাগে বিধায়, প্রিয় সব বয়োজৈষ্ঠ্য কবি ও মানুষদের সাথে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নিজের দুয়েকটা কথা যোগ করার আস্পর্ধা দেখাতে পারিনি। তাই আমাদের বাংলা ব্লগকেই বেছে নিলাম কম্পিউটার ব্যবহার করে নিজের মতামতটি যোগ করার। 

প্রথমেই বলে নিই এটা কবিতা বিষয়ক কোন নিবন্ধ/প্রবন্ধ নয়। স্রেফ হোয়াটস এপের ছোট্ট পরিসরের বিকল্প হিসেবে মন্তব্য যোগ করছি এখানে। যদিও ভয় আছে, গ্রুপের সবাই আমার মন্তব্যটি দেখবেন কি না। আর মন্তব্য প্রতিক্রিয়া বলে খুব বড় লিখার উৎসাহও পাচ্ছি না। দেখা যাক, কতটুকু হয়।  যাহোক, সূচনা শেষ। এবার মূল কথাটি পেড়ে ফেলা যাক।

আলোচনাটা শুরু হয়েছে কবিতার বৈশিষ্ট্য নিয়ে, তার প্রয়োগ নিয়ে। অল্প সময়েই সেটা গড়িয়ে গেল কবিতার পরিধি, তার সংজ্ঞা এবং কবিদের সম্পর্কে। লক্ষনীয় যে, আলোচনাটা কিন্তু কবিরাই করেছেন। সুতরাং আমরা যা পাবো বলে ধরে নিতে পারি খুব সহজেই, তা হলো ময়রার নিজের মিষ্টির প্রশংসার মতো। এবং তাই হয়েছে ( এটা স্রেফ মজা করে লিখলাম)। তবে সচরাচর যা ঘটে তাই ঘটলো, কবিরা কবি সম্প্রদায়কে স্রষ্টা, এবং কবিতাকে মিস্টিক সৃষ্টি / ইন্দ্রজাল / অধরা কিছু যার থই/ তল পাওয়া যায় না, বিশেষ মুহূর্তে র চমতকৃত শব্দগুচ্ছ বলে মিস্টিফাই করেছেন। অর্থাৎ কবিদের স্বভাবসুলভ লোভনীয় সব শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে আমাদের পাঠককুলকে আবিষ্ট করেছেন। না, এর বিপরীত দুয়েকটা কথাও এসেছে। মকসুদ ভাই সোজাসুজিই বলেছেন, কবিতাকে কবিতাই ভাবি, অন্য কিছু ভাবতে ইচ্ছে করে না। (হুবহু কোট করা সম্ভব না বিধায় বিরত থাকছি, তবে যারাই হোয়াটস এপে আমাদের বাংলা গ্রুপে আছে, তারাই, আমি নিশ্চিত, চমৎকার আলোচনাটি উপভোগ করেছেন,করছেন)

আমার মনে হয়, কবিতা বিষয়ক আলোচনা বেশিরভাগই গুলিয়ে যায়; কবিতা কি থেকে কথা শুরু হয়ে অজান্তেই কথা গড়াতে থাকে এর উপযোগীতায়। সংজ্ঞাটি পর্যবসিত হয় তার আঙ্গিক আলোচনায়, পরিধি প্যাঁচিয়ে যায় তার বৈশিষ্ট্যের সংগে। এবং এমনটা না হয়ে উপায়ও নেই। কিন্তু কিছু কথা বোধহয় সোজাসুজি বলা যায়। কবিতার সংজ্ঞা নিয়ে অনেক জল ঘোলাটে হয়েছে বিশ্বসাহিত্যে। কবিরা, অকবিরা, সমালোচকরা এবং কবিতাপাঠকরাও সে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং জল ক্রমাগত ঘোলা হয়েছে। মজার ব্যাপারটা এখানেই, ঘোলা জল ইচ্ছেমত ঘোলা করা যায়। চাইলে বহুবহু বিখ্যাত মনীষীর/কবির কোটেশন যোগ করা যাবে, সেও আজকে থাক। তবে জল ঘোলা হওয়ার সুবাধে কবিতা পেয়েছে তার মিস্টিক খ্যাতি, কবি পেয়েছেন স্রষ্টার তকমা। কিন্তু সৃষ্টিশীল যে কোন কাজের কাজীই কি পেতে পারেন না স্রষ্টার উপমা? চিত্রকর, ভাস্কর, গল্পকার, বৈজ্ঞানিক - মানে, কে নয়?

কথা হচ্ছে - কেন কবিতা পেয়েছে এমন রহস্যময়তার সুখ্যাতি? কেন মনে করা হয় কবিতার কোন সংজ্ঞা হয় না? উত্তরটা অনেক ক্ষেত্রেই আরো রহস্যময় করে দেবার চেষ্টা করা হয় যা ক্রমাগত উর্দ্ধ গতি হয়ে স্বর্গীয় বস্তুতে পর্যবসিত হয়, আর একবার স্বর্গে  পৌঁছে গেলে তাকে নামাবে, সাধ্য কার? আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো কবিতার সংজ্ঞা হয়, হয় নানারকম সংজ্ঞা, নানাজনের সংজ্ঞা। এই নানান রকমের সংজ্ঞা হয় বলেই তাকে অধরা ভাবার কোন কারণ নেই, কেননা, এরকম নানান মুনির নানা মতের সংজ্ঞা নিয়ে বিভ্রন্তি আছে আরো বহুবিধ বিষয়ের, যে সব বিষয়ক নিছক জাগতিক। নিছক আপনি যদি রাষ্ট্র বিষয়ের সংজ্ঞাই খোঁজেন, দেখবেন নানান মুনিরা কিভাবে কলকল করে উঠছে নানান প্রান্ত থেকে। এরকম ভাল কি, সৎ কি, অসৎ কি, পাপ কি, পূণ্য কি, মানুষ কি, সমাজ কি - এরকম হাজারটা জিনিসের উদাহরণ পাবেন, যার ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য, তাই বলে এসবকে আমরা মিস্টিফাই করি না। সংজ্ঞা নিয়ে এই যাগযজ্ঞের একমাত্র এবং প্রধানতম কারণ, কবিতা এবং এ সব বিষয় ফলিত বিজ্ঞানের কোন শাখা নয়, একে মাইক্রোস্কোপের নীচে রেখে, ডাটা কালেক্ট করে, পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাহ্যিক আকার দেবার উপায় নেই।। দেশ-কাল-ব্যক্তি-সমাজ-সময় ভেদে এসবের রূপরেখা পাল্টায় বলেই এ সব জিনিসের সংজ্ঞা নানান রূপ নেয়, তাতে অবশ্য কোন ক্ষতি-বৃদ্ধি হয় না, কাজ চলে যায়। কেননা, কিছু নির্দিষ্ট ফ্যাক্টর বিবেচনায় এও সত্য, ওও সত্য। 

আমাকে ভুল বোঝবার কোন কারণ নেই। রাষ্ট্র কিংবা সমাজের সাথে কবিতাকে এক পাতে বিবেচনা করার মতো গাঁড়ল আমি নই। এ প্রসংগ আনতে হলো, কেননা, প্রায়শই কবিতার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই বলে আমরা এটাকে বিশেষ কিছু ভাবতে থাকি - এর মূলটি দেখাই আমার লক্ষ্য ছিল। তাহলে উল্লেখ্য ঐ সব জিনিস হতে কবিতার পার্থক্য কোথায়?  কবিতার সৃষ্টিমুখর একটি কাজ - এ বাক্যে। আর সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় যেহেতু মানুষের এমন এক প্রত্যংগ অংশগ্রহণ করে, যাকে না চাইলেও রহস্যজনক আখ্যায়িত করতে হয়, অন্ততঃ এখন পর্যন্ত করতে হচ্ছে। মানে আমি মানব মতিষ্কের কথাই বলছি। কখন কিভাবে একজন মানুষের মস্তিষ্কে একটা কোন সৃজনশীল কর্ম উসখুস করে ওঠে, তা যেহেতু ব্যাখাতীত, তাই এ সুযোগেই সৃষ্টিকর্ম হয়ে ওঠে রহস্যজনক। খেয়াল করবেন, আমি কেবল কবিতার কথাই বলছি না, বলছি যে কোন সৃষ্টিকর্মের কথা। সুতরাং এ দাবীতে কবি যদি স্রষ্টা হয়ে ওঠেন, তার কর্মটি যদি অতীন্দ্রীয় হবার মর্যাদা পায়, তবে এ সকল বিশেষণ পাবেন সৃষ্টির অন্যান্য শাখাও। এবং তা কেবল চিত্র, কথাসাহিত্য কিংবা সংগীতের ক্ষেত্রেই নয়,  বিজ্ঞানের মত কাঠখোট্টা বলে খ্যাত  বিষয়ের ক্ষেত্রেও। ছাব্বিশ বছরের তরুণ আইনস্টাইন যখন প্যাটেন্ট অফিসে বসে লিখা মাত্র কয়েকপাতায় বদলে দেন সমগ্র পদার্থবিজ্ঞানের হাজার বছরের প্রচলিত সব ধারণা, তখন এবং এখনও, আমাদের কাছে তা মিরাকলেরই শামিল - এবং প্রসংগত উল্লেখ্য যে, আইস্টাইন কবি ছিলেন না।  কিংবা সালভাদর ডালির ছবিগুলোর দিকে ভাল করে তাকিয়ে বলুন দেখি, এ সব ধারণার উৎসারনই বা কোথা হতে? অথবা কাফকার কথাই নিন - মেটামরফসিসের ওপেনিং বাক্যটিতে যখন আমাদেরকে দুম করে ফেলে দেন এক পরাবাস্তবতার জগতে, এক সকালে গ্রেগর সামসা ঘুম থেকে জেগে দেখে সে একটা পোকায় পরিণত হয়েছে - সে ধারণাটার উৎসারনই বা কোথায়? কবি এবং কবিতা ছাড়া এরকম সহস্র উদাহরণ দিয়ে কি আমি সবিনয়ে বলতে পারি, কোন বিচারে এসব পাবে না স্রষ্টা-ইন্দ্রজাল-মানব প্রজাতির সবচে উৎকৃষ্ট মানবের উৎকৃষ্ট সৃষ্টি, স্রষ্টার প্রতিদ্বন্দ্বী - এ জাতীয় সব গালভরা বুলির বিশেষণ? চাইলে দিতে পারি, যেমন দিতে পারি কবিতাকে, এবং এ মর্মে বলতে বাধ্য হচ্ছি, কবিতা - এ আর আলাদা ঐশ্বরিক কিছু নয়। যদি অন্য সব সৃষ্টি ঐশ্বরিক হয়, তবে কবিতাও ঐশ্বরিক, কিংবা এ না হলে, সেও নয়।

তবে কি কবিতাকে ছোট করতে চাচ্ছি? না। এবং বড়ও করতে চাচ্ছি না সব কিছু ছাপিয়ে। একে দেখতে চাই অন্য অনেক সৃষ্টির মতই একটি সৃষ্টি প্রক্রিয়া হিসেবে। কবিতার ঐশ্বরিক তকমা পাওয়ার পিছনে অবশ্য একটা সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায়। কবিতার সৃষ্টিই হয়েছিল স্রষ্টার প্রশংসা বাক্য লিপিবদ্ধ করার জন্য, সাধারণ মানুষকে আবিষ্ট করার জন্য তাই দরকার হয়েছিল এমন এক ভাষার প্রকরণ, যার চাল ভিন্ন, শরীর ভিন্ন। আর যারাই এ বিষয়ে পারদর্র্শী  হয়ে উঠেছিলেন, সাধারণ মুখের ভাষা করে তুলেছিলেন একটু চাঞ্চল্যকর, বর্ণনা করছিলেন এমন সব বিষয়ের - যা সম্পর্কে আমজনতা জানতো না, তারা হয়ে উঠছেন স্রষ্টার প্রতিনিধি, বিশেষ কিছু। কবি হয়ে উঠলেন নবীর মতো। এবং স্বীকার করে নেয়াই ভালো, কবিতার জন্ম তাই বিশেষ গোষ্ঠীর - প্রায়শই যারা সমাজের শক্তিশালী ও প্রভাবশালী গোষ্টি- হাতিয়ার, জনগনকে মোহাবিষ্ট করে নানান নিয়ম কানুন প্রচারের মাধ্যম।

আমাদের ভাগ্য ভাল, কবিতা এসব স্টুপিডিটির হাত থেকে রেহাই পেয়েছে। যদিও আরো বহুকাল থমকে ছিল দর্শন প্রচারে, সমাজতত্ত্ব প্রচারে এবং জীবনতত্ত্ব প্রচারে। তাতে প্রচারকার্য কতটা সফল হয়েছে জানি না, তবে লিখিত হয়েছে কবিতার নামে প্রচুর শব্দ-বাক্য, দিস্তার পর দিস্তা, বইয়ের পর বই, যার বেশিরভাগই কবিতা হয়ে ওঠেনি, কবিতার মতো দেখতে হয়ে উঠেছিল এবং বিভ্রান্ত করেছে কবিতা বিষয়কেই। এবং একসময় চমকে উঠে দেখি, কবিতা তার নিজস্ব পথ খুঁজে পেয়েছে - হয়ে পড়ছে দায়হীন - তাও যদি কিছু থেকে থাকে, তবে কেবলি কবির আজ্ঞাধীন- তখনই কবিকে দেখি প্রকৃত স্রষ্টা হয়ে উঠতে। আধুনিক কবিতা থেকে তাই স্রেফ আনন্দ ছড়ানোর শর্ত ভিন্ন আর যে কোন প্রাপ্তির প্রত্যাশা কবিতাকে বিব্রত করে তুলতে বাধ্য- এবং যে আনন্দের মাপকাঠি রাষ্ট্র কিংবা গুরু কর্তৃক নির্ধারিত নয়।

তবে কি কবিতার কোন দায় নেই? আছে। এবং তা অন্য যে কোন সৃষ্টিশীল কাজের থেকে অতিরিক্ত কিছু নয়। ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি/ সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি‘ - এ চরণ আমাদেরকে কতটা ভাল করে তুলেছে জানি না, তবে তাতে উত্তম কবিতা তৈরী হয়েছে বলে আত্নতুষ্টির কোন সুযোগ নেই। ‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ,/চুনি উঠল রাঙা হয়ে।/আমি চোখ মেললুম আকাশে,/জ্বলে উঠল আলো/পুবে পশ্চিমে।/গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম "সুন্দর',/সুন্দর হল সে।’ (আমি (শ্যামলী) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) - আমার দৃষ্টিতে এখান থেকেই শুরু হয় কবিতা, এ দায়ই কবির একমাত্র দায়। চেনা জিনিসকে অন্য করে, চেনা ভাবকে অন্য ভাবে দেখান। কবি বললেই গোলাপ হয়ে উঠে সুন্দর, তার আগে সে নেহায়েত গোলাপ - একটি ফুল মাত্র যার কাজ কেবলি পরাগায়ন ঘটিয়ে একটা উদ্ভিদ প্রজাতির বংশরক্ষা করা। গাঁয়ের লোক যাকে কালোমেয়ে বলে থাকে, কবি বলেন কৃষ্ঞকলি। গাঁয়ের লোকের সাথে কবির এই-ই পার্থক্য। এবং সে পার্থক্য এমন সাদামাটা শোনালেও সামান্য সে নয় মোটেই। কবির এ অসাধারণত্ব কোন গায়েবী থাকে আসে না, আসে বোধ-মনন-মেধার একটা সমানুপাতিক মিশ্রণ থেকে; যাতে নিয়মিত শাণ দিতে হয়, না হলে কবি হয়ে পড়েন কবিয়াল, কবিতা হয়ে পড়ে কবিতার ভান। তাকে যতেই ঐন্দ্রজালিক আখ্যা দেওয়া হোক, এক বিন্দু খ্যাতি তার বাড়ে না; যা বাড়ে তার নাম বিড়ম্বনা।

কবিতা থেকে সমাজ কি পেতে পারে? পেতে পারে ‘ক্যাম্পে’ কিংবা ‘আমরা হেঁটেছি যারা’ (উভয়েই জীবনানন্দের কবিতা) হতে পাওয়া বোধ, এবং এই যথেষ্ট। কবিতা যেন না নেয় সমাজ বদলানোর দায়, না হয়ে ওঠে হাতিয়ার কিংবা এমনি কোন দায়িত্ব। তাতে কি বিপদ ঘটে, তা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন জীবনানন্দ তার কবিতার কথায়: “ ... চিন্তা, ধারণা, মতবাদ, মীমাংসা কবির মনে প্রাককল্পিত হয়ে কবিতার কঙ্কালকে যদি দেহ দিতে চায়, কিংবা সেই দেহকে দিতে যদি চায় আভা, তাহলে কবিতা সৃষ্টি হয় না - পদ্য লিখিত হয় মাত্র - ঠিক বলতে গেলে পদ্য আকারে সিদ্ধান্ত, মতবাদ ও চিন্তার প্রক্রিয়া পাওয়া যায় শুধু... (পৃষ্ঠা - ৮)।”

আর এই বেলা, কবি ও কবিতা সম্পর্কে  আমার বিস্ময়াবোধটি দেখি এভাবে:  যেসব অভিজ্ঞতা আমাদের কাবু করে, শিরশির করে তোলে ঘাড়ের রোম, কিংবা আপাত নিস্তরংগ যে সব পরিস্থিতি পেলব কোন স্মৃতি হয়ে ঢুকে পড়ে আমাদের বোধে, তাই-ই যখন দেখি কবিতায়, বাক্য-রেখা-ছন্দের আদল নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় দাঁড় করিয়ে দেন কবি, তখুনি আমরা বিস্মিত হয়ে রবীন্দ্রনাথের গবুচন্দ্রের মতো বলে উঠি-‘ এ কথা ছিল মোর মনে...’ এবং এ ভাবেই কবি হয়ে পড়েন আমার/আমাদের সন্তু, আমাদের বাতিঘর। 

বিশ্বের সব কবিরা ভাল থাকুক।

পাদটীকা: হোয়াটস এপে চমৎকার আলোচনাটিতে অংশগ্রহণ করা আমার সকল প্রিয় কবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, আপনাদের ভাবনা পড়ে আমরা ঋদ্ধ হই প্রতিনিয়ত - এ কথা জানিয়ে রাখা যাক।

সংযোজন: জীবনানন্দের রচনাবলীকে অনলাইনে আনার একটা কাজ আমরা হাতে নিয়েছি। উদ্যেগটি সম্পর্কে  আরো বিস্তারিত জানাবো শিগগীরই। সে সাইটটি হতে তার ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধটি পড়া যাবে এ লিংকে:http://jibonanondo-rachanaboli.info/%E0%A6%95/%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE/। সবাইকে প্রবন্ধটি আবারো পড়ার নিমন্ত্রণ জানাই। 

Email me when people comment –

You need to be a member of আমাদের বাংলা to add comments!

Join আমাদের বাংলা

Comments

  • সাগর ইচছে ছিল লেখাটি পড়ে লেপটপে বসে মন্তব্য দেবো কিনতু বসা হচছেনা, মোবাইল থেকে অামার বাংলা লেখা হয়না। টাইপিং সমস্যা হয়। তবে সবচেয়ে বড় কথা লেখাটি চমৎকার, উপভোগ্য। আমি লিংকটা শেয়ার করেছিলাম...
  • প্রিয় সাগর, অনেক ধন্যবাদ তোমাকে চমৎকার একটি আলোচনা পরিবেশনের জন্য।
    ওয়াটসয়াপে যেভাবে বিষয়টির অবতারণা হয়েছে এবং ক্ষনকাল চলেছে তা থেকে এতোটা উদ্বিগ্ন হবার কথা নয়, আমার চিন্তায়। তবে তোমার এই শৈল্পিক উদ্বিগ্নতা অন্যের জন্য কতোটা প্রয়োজনীয় জানিনা, কিন্তু আমি কিঞ্চিত হলেও হৃদ্য হয়েছি। আমি মাত্র ১৫ বছর হিলো বিলেতে। সে দিক থেকে আমি বিলেতের কাব্য চচর্চায় অন্য অনেকের তুলনায় জুনিয়র।তুমি আমার চেয়েও সম্ভবত। এই অর্থে আমি সিনিয়র। ওয়াটসাপে মন্তব্যগুলো যেভাবে শুরু হয়ে বিস্তার করেছে তার শুরুতে আমি। কোথাও কোনো বিতর্ক যাতে না বাধে সে দিকে আমি সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানে যেনো মনে হচ্ছে অন্য রকম! কবি সমাজ বললের দায় নেবেনা, কেবল বিনোদনের দায় নেবে! কবি স্রষ্ঠা হলে আর কেউ স্রষ্ঠা হবেনা, তা কেনো! কবি কবিতার ক্ষেত্রে, বৈজ্ঞানিক তার আবিষ্কারে, চিত্রকর তার ভুবনে এভাবে সকল সৃষ্টি ক্ষেত্রে যার যেটুকু অবদানই হোক তার জন্য তিনি স্রষ্ঠা- আমি এভাবে বুঝি। কিন্তু তুমি বা কেউ যদি অন্য রকমভাবে বোঝো কিংবা বোঝেন তা হতেই পারে।
    যাই হোক, তোমার আলোচনাটি সবাই পড়ুক, এটা আমার আগ্রহ।
  • বাবলু ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নের উত্তর কিন্তু খুব শুরুতেই আমার লেখায় আছে। আমি লিখেছি: ..... 

    ‘নিজের মতামতটি যোগ করার। প্রথমেই বলে নিই এটা কবিতা বিষয়ক কোন নিবন্ধ/প্রবন্ধ নয়। স্রেফ হোয়াটস এপের ছোট্ট পরিসরের বিকল্প হিসেবে মন্তব্য যোগ করছি এখানে।’

    সুতরাং কবিতা বিষয়ে এটা আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ হিসেবে পরিগণিত করারই কথা, কোন বিজ্ঞজনের পর্যালোচনা তো অবশ্যই নয়।  তা কাম্যও নয়, কেননা আমার লেখাতেই আছে: আধুনিক কবিতা থেকে তাই স্রেফ আনন্দ ছড়ানোর শর্ত ভিন্ন আর যে কোন প্রাপ্তির প্রত্যাশা কবিতাকে বিব্রত করে তুলতে বাধ্য- এবং যে আনন্দের মাপকাঠি রাষ্ট্র কিংবা গুরু কর্তৃক নির্ধারিত নয়।

    আর অবশ্যই সবার নিজস্ব মতামতের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আমার আছে। এ ব্যাপারে আমি কেন, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও শেষ কথা বলে যেতে পারেন না, সে এখতিয়ারও কারো নেই। 

    কবিতার পেছনে পথ হাঁটাই আমার কাছে গন্তব্য পৌঁছানোর মতো মনে হয়। আপনার উদ্দীপনাকে সাধুবাদ।

    আপনার মতো  হোয়াটস এপের আলোচনারত অন্যান্য কবিদের  প্রতিক্রিয়া পেলেও ধন্য মনে হতো নিজেকে।

    ভালো থাকবেন বাবলু ভাই। 

  • আপনার বিশদ আলোচনাটি পড়ে আমার ক্ষুদ্র মনে যে কথাটি উঁকি মারছে তা হচ্ছে-কবিতা কী - এই প্রশ্নটি কার ? কে কাকে কবিতা কী তা বোঝাচ্ছে ? নাকি কোনো বিজ্ঞজন কবিতা বিষয়ে তাঁর উপলব্দির কথা স্ববিস্তারে বলে যাচ্ছেন তা আগে পরিস্কার হওয়া দরকার । প্রশ্নকারীকে কোনো উত্তরদাতা বুঝিয়ে দেবার পর তিনি কী বুঝলেন, নাকি কিছুই বুঝলেন না তা তাঁর একান্ত নিজস্ব ব্যাপার । কবিতা নিয়ে বিজ্ঞজনের পর্যালোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া । কবিতা বুঝে ওঠার প্রয়াশ অনন্তকাল ধরেই চলতে বাধ্য যেহেতু কেউই এ পর্যন্ত কবিতার সংজ্ঞাকে ফ্রেমবন্দি করে যান নি । সুতরাং পাঠক আমিও কবিতা বিষয়ক আলোচনায় কেবলই চোখ বুলাই । কখনো কিছু বুঝি, ভালো লাগে, কিছু কিছু আবার কিছুই বুঝি না । আমি কবি নই বলে না বোঝার ব্যর্থতা কেবল নয় । কবিতা বোঝার মতো পর্যাপ্ত মননশীলতারও ঘাটতি আমার তার পেছনে কাজ করতে পারে । কবিতা আমি ভালোবাসি । এবং তার চেয়েও বড় সত্য অনেক কবিতার মর্মার্থ অনুধাবনেও আমি অক্ষম । তাই বলে আমি থেমে নেই কবিতার পেছনে পথ হাঁটার উদ্দীপনায় । চলুক কবিতা বিষয়ে আপনাদের সারগর্ভ আলোচনা এমনিভাবে আরো কিছু । ধন্যবাদ সাগর ভাই আপনাকে ।

This reply was deleted.

Image result for পà§à¦°à§‡à¦®à¦¾à¦¨à§à¦¤

 

 

 

আমার ভালোবাসার ভাগান ভরেনি এখনো ফুলে ফুলেজাগে

নতুন প্রশ্ন  জাগে মোহনা ভালোবাসা কাকে বলে

তুমিতো জানো জগৎ সংসারে আমি বড় অসুখি

মাতৃহীন জীবনে প্রেমের মায়া আর বুঝবো কি

সুখে…

Read more…
Comments: 0

ইচ্ছে

আমার প্রথম কবিতা ছিলআনকোরা হাতের চাপে ক্লান্ত,শেষ কবিতা হয়ে উঠুকউজ্জ্বল এক নক্ষত্র ।প্রথম ভালবাসা ছিল ইচ্ছেনদীশেষ ভালবাসা হোক সমুদ্রসাক্ষী।
Read more…
Comments: 0
Faruk Ahmed Roni liked গাজি শেখ ফরিদ's blog post প্রেমান্ত
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked Moynur Rahman Babul's blog post স্বদেশ আমার মা আমার
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked Moynur Rahman Babul's blog post ভয়
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "বাসনা "
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked Avijit Roy's blog post তুলসী মালা
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "অভিমান"
Apr 24
গাজি শেখ ফরিদ updated their profile photo
Apr 24
গাজি শেখ ফরিদ updated their profile photo
Apr 24
Avijit Roy liked Avijit Roy's blog post চিহ্ন
Apr 16
Avijit Roy liked Avijit Roy's blog post তুলসী মালা
Apr 14
Sarwar-E Alam updated their profile photo
Feb 13
পীযূষ কান্তি দাস commented on Moynur Rahman Babul's blog post এও তো প্রেম
"সুন্দর গল্প ।
ভালো লাগলো ।"
Jan 17
পীযূষ কান্তি দাস commented on বকুল দেব's blog post সে তুমি , আমার বাবা
"বাবা তুমি জ্বেলেছিলে
সত্যের আগুন এই মনে ,
তোমার আলোয় ভাসছি আমি
প্রতিদিন আর প্রতিক্ষণে ।
এই ভাবে পারি যেন
থাকতে অবিচল ,
প্রনাম জেনো লক্ষ -কোটি
আশীর্বাদে পাই বল ॥"
Jan 17
পীযূষ কান্তি দাস liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "অভিমান"
Jan 16
Moynur Rahman Babul liked Moynur Rahman Babul's blog post এও তো প্রেম
Jan 15
পীযূষ কান্তি দাস commented on ইকবাল হোসেন বাল্মীকি's blog post ক্ষুদে গল্পঃ-১, কিছু সত্যকাণ্ড শুনে লঙ্কাকাণ্ড করিবার ইচ্ছা হয় - ইউ এন ও সমাচারঃ
"বা বা ভালা লাগল"
Jan 15
GAUTAM NATH updated their profile photo
Dec 8, 2017
এস ইসলাম updated their profile photo
Nov 17, 2017
sayeem Mohammad shoab shared their blog post on Facebook
Oct 9, 2017
sayeem Mohammad shoab updated their profile photo
Oct 9, 2017
More…