<

Blog (ব্লগ)

ছটাক নাটক

এক.

আপনি সমুদ্রতটে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। এমন দৃশ্য সহজেই কল্পনা করা যায়। কিন্তু এর তাৎপর্য কী ? জার্মান ভাষায় ‘স্টাইন’ শব্দের মানে ‘পাথর’ (যা থেকে ইংরেজি শব্দ ‘স্টোন’-এর উৎপত্তি)। এই শব্দার্থগুলি জানা থাকলে অবশ্য অন্য একটা মানে ভেসে উঠতে থাকে -‘সাগরতটে একটি নুড়ি’। সিন্ধুতে বিন্দু। বালুকাবেলায় আঁক কাটা। সোজাসাপটা জীবনী বলার চেয়ে, এ ভাবে সূত্র ধরিয়ে দিলে দর্শকের অবমাননা হয় না, যথার্থ শিল্প-সৃষ্টি হয়, যেখানে অর্থ তৈরি হয় রসিকের পাঠের গৌরবে। টেবিলের ওপর একটা বাতিদান রাখলে সেটা মিশে যাবেই অন্য আসবাবের মশগুল ভিড়ে, কিন্তু সেটা যদি রাখা যায় এক বিশাল পাথরের উপর, কোনও জনহীন প্রান্তরে, তখন সেটা চোখে পড়বেই।’ বালুকাময় এক সাগরসৈকতে যেমন চোখে পড়তে পারে একটি ছোট্ট নুড়িও।

দুই.

এক ফাটাফাটি সুপুরুষ যুবক ফিদেল কাস্ত্রো স্বাধীন কিউবার দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন ১৯৫৯ সালে এবং ফিদেল কাস্ত্রো নিউ ইয়র্কে এসেছিলেন সে বছরেই আর মেয়েরা চাইলেই চুমু বিলোচ্ছিলেন। সময়টা ভিয়েতনাম যুদ্ধের, সারা বিশ্ব জুড়ে সচেতন মানুষের যুদ্ধবিরোধিতা শুরু, নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরির প্রতিবাদে বার্ট্রান্ড রাসেল-এর নেতৃত্বে ক্যাম্পেন ফর নিউক্লিয়ার ডিসার্মামেন্ট গড়া হয়েছে। সিভিল রাইট্স মুভমেন্টের সঙ্গে কখন মানুষের মনে মনে জুড়ে গেল ভিয়েতনামের যুদ্ধের প্রতিবাদ, শান্তিকামী মানুষদের মধ্যে শুরু হল ফ্রিডম রাইডারদের জন্য চাঁদা তোলা। কর্তৃপক্ষ বাধা দিলেন, আইন করলেন, রাজনৈতিক কারণে চাঁদা তোলা বা রাজনৈতিক আলাপ চলবে না। শুরু হয়ে গেল ফ্রি স্পিচ মুভমেন্ট। অন্য দিকে যৌবনকে মাতিয়ে রেখেছে বিট্ল্স-এর গান, জর্জ হ্যারিসন শিখছেন রবিশংকরের কাছে সেতারল। নিজের টিভি নেই তো কী হয়েছে, মানুষ সারা রাত বন্ধুর বাড়িতে জেগে বসে টিভিতে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী নিক্সন আর কেনেডির মধ্যে বিতর্ক দেখছে। ১৯৬১-তে আমেরিকার অন্ধকার দক্ষিণে চলেছে বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী বিপ্লব। এক দল দুঃসাহসী সাদা ও কালো স্বেচ্ছাসেবক এক সঙ্গে ওয়াশিংটন থেকে দক্ষিণের ইন্টারস্টেট বাসে চড়ে বসলেন। বর্ণবিদ্বেষীদের নির্মম আক্রমণ, রক্তপাত অগ্রাহ্য করে দলে দলে ‘ফ্রিডম রাইডার্স’ যেতে থাকলেন দক্ষিণে।

তিন. 

শীতের সময় পড়ন্ত রোদের রংটা ঠিক গলন্ত সোনার মতো থাকে না, কেমন মরে আসে যেন। এই মরে-আসা আলোটার সঙ্গে আমার একটা লাভ-হেট সম্পর্ক আছে। এক এক সময় উপচে আসে বিরহ রস, আর এক এক বার সেই তীব্র বাদ পড়ে যাওয়ার জ্বলুনি মনে পড়ে যায়। যে জ্বলুনিতে হাজার বরফ ঘষেও আমি ঠাণ্ডা করতে পারিনি। আমি ওই রোদটার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে খুব নালিশ করতাম। নিজে নিজেই বকমবকম। রোজ বাড়ি ফেরার পর মা হাজার কাজের ঝামেলার মধ্যেও জিজ্ঞেস করত, ‘আজ এত তাড়াতাড়ি চলে এলে?’ আমি মুখ নামিয়ে বলতাম, ধুর, এত তাড়াতাড়ি আলো পড়ে আসে!

চার.

বেশি আগের কথা নয়। তখন আমাদের হাতে মোবাইল ছিল, কিন্তু মোবাইলে ইন্টারনেট ছিল না। পেনসিল বক্সের মতো মোবাইল, আর তার পাড়া কাঁপানো রিংটোন। এক বন্ধু কালার মোবাইল কিনেছিল, আমরা বলেছিলাম বাপের পয়সায় ফুটানি মারছো। মোবাইলে ক্যামেরা ছিল সাত রাজার ধন। কলেজ জীবনের প্রথম বারোয়ারি ডিজিটাল সিন্দুক । যেমন খাটের তলায় অযত্নে ফেলে রাখা অনেক পুরনো ট্রাঙ্কটার মতন। যার ধুলো ঝাড়া হয় না বহু দিন। অবহেলার ফাংগাস লেপে যাওয়া সেই ক্যাসেটের খয়েরি ফিতে। ‘তোমাকে চাই’-এর প্রথম প্রিন্ট। সম্প্রতি এক বন্ধুর ফোন পেলাম মধ্যরাতে। অচেনা নম্বর। ফিসফিসিয়ে বললাম, ‘হু ইজ দিস? এত রাতে?’ উত্তর এল, ‘ডোন্ট হুইসপার ভাই। স্টে ফ্রি! আমি তো লাঞ্চ করছি এখন। এফ-বি থেকে তোর নম্বরটা পেলাম। ভাবলাম হাই বলি। যাক গে, ঘুমো। চিয়ার্স। পরের দিন সকালে মোবাইলে এফবি অ্যাপ-এ প্রথম আপডেট। লাইক করতে পারছি না কেন কিছুতেই?

পাঁচ. 

সবুজ বুট’ হল এভারেস্টে ওঠার পথে শেষতম ও নবীনতম পথনির্দেশিকা। শেষতম উচ্চতার কারণে, এভারেস্টে ওঠার উত্তর-পূর্ব পথের শেষ প্রান্তে, প্রায় ৮৫০০ মিটার উঁচুতে এক চুনাপাথরের গুহায় এর অবস্থান। অভিযাত্রীরা চলাফেরার পথে নিত্য তাঁকে দেখতে পান। নিস্তব্ধ ঐশ্বরিক নিসর্গের মধ্যে ফেলে আসা মানুষকে বারবার দেখা বোধহয় একটু পীড়াদায়ক। পাহাড়ের নিয়ম কিন্তু অন্য রকম। ওখানে শরীর পচে না। ওখানে অতীত জমে থাকে, অবিকৃত। বছরের পর বছর। এ বছর এভারেস্ট-জয়ের ষাট বছর হল। সেই জয়পতাকা ওড়াবার অনেক আগে থেকেই, বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এভারেস্টে ওঠা অথবা নামার পথে। এঁদের বেশির ভাগেরই শরীর পড়ে আছে পর্বতের কোনও না কোনও খাঁজে। কেউ চোখের সামনে, কেউ চোখের আড়ালে। সবুজ বুট-এর মতো অনেকেই শুয়ে আছেন ল্যান্ডমার্ক হয়ে। সকলেই অবশ্য শুয়ে আছেন এমন নয়। এক অভিযাত্রী আধশোয়া অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন, বরফের চাঙড়ে হেলান দিয়ে। কোনও কারণে বরফ সরে গেছে, শক্ত দেহ ঠিক ওই অবস্থাতেই আছে। দেখলে মনে হয়, যে-কোনও মুহূর্তে উঠে পড়তে পারেন। কেউ পাশ ফিরে, যেন ঘুমোচ্ছেন, গা থেকে শুধু সরে গেছে কম্বল। পাহাড়ে সব কিছুই অন্য রকম।

চলবে....................................

Email me when people comment –

You need to be a member of আমাদের বাংলা to add comments!

Join আমাদের বাংলা

Image result for পà§à¦°à§‡à¦®à¦¾à¦¨à§à¦¤

 

 

 

আমার ভালোবাসার ভাগান ভরেনি এখনো ফুলে ফুলেজাগে

নতুন প্রশ্ন  জাগে মোহনা ভালোবাসা কাকে বলে

তুমিতো জানো জগৎ সংসারে আমি বড় অসুখি

মাতৃহীন জীবনে প্রেমের মায়া আর বুঝবো কি

সুখে…

Read more…
Comments: 0

ইচ্ছে

আমার প্রথম কবিতা ছিলআনকোরা হাতের চাপে ক্লান্ত,শেষ কবিতা হয়ে উঠুকউজ্জ্বল এক নক্ষত্র ।প্রথম ভালবাসা ছিল ইচ্ছেনদীশেষ ভালবাসা হোক সমুদ্রসাক্ষী।
Read more…
Comments: 0
Faruk Ahmed Roni liked গাজি শেখ ফরিদ's blog post প্রেমান্ত
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked Moynur Rahman Babul's blog post স্বদেশ আমার মা আমার
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked Moynur Rahman Babul's blog post ভয়
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "বাসনা "
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked Avijit Roy's blog post তুলসী মালা
Apr 24
Faruk Ahmed Roni liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "অভিমান"
Apr 24
গাজি শেখ ফরিদ updated their profile photo
Apr 24
গাজি শেখ ফরিদ updated their profile photo
Apr 24
Avijit Roy liked Avijit Roy's blog post চিহ্ন
Apr 16
Avijit Roy liked Avijit Roy's blog post তুলসী মালা
Apr 14
Sarwar-E Alam updated their profile photo
Feb 13
পীযূষ কান্তি দাস commented on Moynur Rahman Babul's blog post এও তো প্রেম
"সুন্দর গল্প ।
ভালো লাগলো ।"
Jan 17
পীযূষ কান্তি দাস commented on বকুল দেব's blog post সে তুমি , আমার বাবা
"বাবা তুমি জ্বেলেছিলে
সত্যের আগুন এই মনে ,
তোমার আলোয় ভাসছি আমি
প্রতিদিন আর প্রতিক্ষণে ।
এই ভাবে পারি যেন
থাকতে অবিচল ,
প্রনাম জেনো লক্ষ -কোটি
আশীর্বাদে পাই বল ॥"
Jan 17
পীযূষ কান্তি দাস liked পীযূষ কান্তি দাস's blog post "অভিমান"
Jan 16
Moynur Rahman Babul liked Moynur Rahman Babul's blog post এও তো প্রেম
Jan 15
পীযূষ কান্তি দাস commented on ইকবাল হোসেন বাল্মীকি's blog post ক্ষুদে গল্পঃ-১, কিছু সত্যকাণ্ড শুনে লঙ্কাকাণ্ড করিবার ইচ্ছা হয় - ইউ এন ও সমাচারঃ
"বা বা ভালা লাগল"
Jan 15
GAUTAM NATH updated their profile photo
Dec 8, 2017
এস ইসলাম updated their profile photo
Nov 17, 2017
sayeem Mohammad shoab shared their blog post on Facebook
Oct 9, 2017
sayeem Mohammad shoab updated their profile photo
Oct 9, 2017
More…